পিএমইন্ডিয়া
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। ফেসবুকে একগুচ্ছ জ্ঞাপনীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ তারিখে আমি আয়ারল্যান্ড সফর করব। প্রায় ৬০ বছর পর ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রী আয়ারল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। আয়ারল্যান্ডে আমি শ্রী এন্ডা কেনি, আয়ারল্যান্ডের তাওইসীচ-এর সঙ্গে বৈঠক করব। আমরা আগামীদিনে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে অর্থনৈতিক এবং দু’দেশের মানুষে মানুষে সম্পর্ক জোরদার করার আশা করি। আয়ারল্যান্ডে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গেও আমি মতবিনিময় করব।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে আমার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমার বিগত সফর এবং এ বছরের গোড়ায় রাষ্ট্রপতি ওবামার ভারত সফরের ভিত্তিতে অর্জিত সাফল্যের ওপর পর্যাপ্ত কৃতিত্ব অর্জনের লক্ষ্যেই এই সফর নির্ধারিত। আমি এক ঐতিহাসিক উপলক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছি যখন রাষ্ট্রসঙ্ঘ তার ৭০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে। ভারত রাষ্ট্রসঙ্ঘকে বিরাট গুরুত্ব দিয়ে থাকে। গত জুলাই মাসে আমি রাষ্ট্রসঙ্ঘের আলোচ্যসূচি এবং সংস্কার সম্পর্কে ভারতের স্বপ্নের রূপরেখা ব্যাখ্যা করে ১৯৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে চিঠি লিখেছিলাম। বহু দেশের কর্ণধার চিঠির জবাবে আমাদের সেই দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন।
নিউ ইয়র্কে আমি ২০১৫-র পরবর্তী সকলকে সামিল করে উন্নয়নের নতুন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক গ্রহণ উপলক্ষে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সকলকে সামিল করে উন্নয়নমূলক শীর্ষ বৈঠকে ভাষণ দেব। এমন এক সংস্কৃতি থেকে আমার সেখানে যাওয়া, যে সংস্কৃতির মূল কথা হল, সম্প্রীতিকে শ্রদ্ধা করা। আর তাই এই মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। সকলকে সামিল করে উন্নয়নের প্রশ্নে ভারতের স্বপ্নের সঙ্গে এবং আমাদের দিশারী কর্মসূচিগুলির সঙ্গে নতুন ঐ লক্ষ্যগুলির ঘনিষ্ঠ সাযুজ্য আছে।
আমি রাষ্ট্রপতি ওবামা আয়োজিত শান্তিরক্ষা বিষয়ক এক শীর্ষ সম্মেলনেও যোগ দেব। ভারত রাষ্ট্রসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ইতিহাসগত ভাবেই বৃহত্তম শরিকদের একজন। রাষ্ট্রসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ১ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় সেনা এ পর্যন্ত যোগ দিয়েছে যা অন্য যেকোন দেশের থেকে বেশি। আমাদের শান্তিরক্ষী সেনা যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্তিরক্ষার দিকটি সুনিশ্চিত করছে সেজন্য আমরা গর্বিত। শান্তির জন্য যেসব নরনারী তাদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, আমি তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাব। আর শান্তিরক্ষার প্রয়াসকে কিভাবে আরও কার্যকরী করে তোলা যায় সে সম্পর্কে আমি নিজের ভাবনা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেব। এ বছর নিউ ইয়র্কে ভারত জি-৪ গোষ্ঠীভুক্ত নেতাদের এক শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করবে যেখানে মূল বিষয়টিই হবে রাষ্ট্রসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার। রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৭০তম বার্ষিকী সংস্কার নিয়ে আলোচনায় গতি আনার উপযুক্ত মুহূর্ত। সাম্প্রতিককালে রাষ্ট্রসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ শেষ পর্যন্ত ২০ বছরেরও বেশি পরে একটি নথি গ্রহণ করেছে যেটি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার ভিত্তি বলে বিবেচিত হবে।
এই সফরকালে বিভিন্ন বিশ্ব নেতার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হবে। এছাড়া, শীর্ষস্থানীয় লগ্নিকারী ও আর্থিক ক্ষেত্রের সংস্থার সঙ্গেও আমার মতবিনিময় হবে। ফরচুন ৫০০ তালিকার প্রধান সংস্থাগুলি ভারতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সুযোগ নিয়ে আলোচনার জন্য আমি যে ভোজসভার আয়োজন করেছি সেখানে উপস্থিত থাকবে। গত বছর থেকেই আমরা মার্কিন বাণিজ্য ক্ষেত্রের নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে আসছি, আর তার ফলাফল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে আমি ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর পশ্চিম উপকূল সফর করব যেখানে আমার নানান কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা। প্রায় ৩৩ বছর পর ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রী নতুন সূচনা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির পীঠস্থান বলে পরিচিত পশ্চিম উপকূল সফরে যাচ্ছেন।
টাউন হল-এ ফেসবুকের সদর দপ্তরে শ্রী মার্ক জুকেরবার্গ-এর সঙ্গে আমার এক প্রশ্নোত্তরমূলক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা। আমরা বিশ্বজোড়া কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব এবং ভারত সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও কথা বলব, বিশেষ করে, অর্থনীতি ও সমাজ সম্পর্কিত বিষয়ে। এটা এমনই একটা টাউন হল যেটা আপনার মিস করা উচিত হবে না। আমি ইতিমধ্যেই আপনাদের ফেসবুকের মাধ্যমে অথবা ‘নরেন্দ্র মোদী মোবাইল অ্যাপ’-এর মাধ্যমে আপনাদের প্রশ্নগুলি আমার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছি। এছাড়াও, আমি গুগল-এর অ্যালফাবেট ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক কিছু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন প্রত্যক্ষ করব এবং টেসলা মোটর সংস্থা পরিদর্শন করব। আমি ইউ এস ডক এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সংক্রান্ত রাউন্ড টেবল বৈঠকে ভাষণ দেব।
তবে, যে অনুষ্ঠানটি আমি অত্যন্ত উৎসাহিত সেটা হল, ‘ভারত-মার্কিন স্টার্ট আপ কানেক্ট’। ভারত নানা ধরনের ক্ষেত্রে স্টার্ট আপের এক প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে আর আমরা এটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা স্টার্ট আপ ক্ষেত্রে আমাদের উদ্ভাবন ক্ষমতা কেমন সেটা সারা বিশ্বকে দেখাতে চাই। এই অনুষ্ঠানে ভারতের নানা ধরনের স্টার্ট আপের একটি গোষ্ঠী তাদের উদ্ভাবন তুলে ধরবে এবং আমেরিকার গতিশীল স্টার্ট আপ শিল্পের সঙ্গে অংশীদারিত্বে যুক্ত হবে।
স্যান জোস-এ, আমি ২৭ সেপ্টেম্বর সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করব। প্রবাসী ভারতীয়রা ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে জোরদার করতে চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখেনি। আমরা প্রবাসী ভারতীয়দের সাফল্য সম্পর্কে অত্যন্ত গর্বিত, কেননা, দু’দেশের সমাজেই এর বিরাট অবদান রয়েছে। আমি নিশ্চিত যে, আমার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর সফল হবে এবং বিশ্বের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম দুই গণতন্ত্রের মধ্যে বন্ধনকে আরও গভীর করে তুলবে।”
PG/DM/S
My visit to Ireland, a first by a PM in almost 60 years, will focus on improving people-to-people & economic ties. http://t.co/IEn2zqxAsE
— Narendra Modi (@narendramodi) September 20, 2015
My USA visit will build on the substantial ground covered during my visit last year & President Obama's visit to India earlier this year.
— Narendra Modi (@narendramodi) September 20, 2015
In New York, I will take part in summits, bilateral meetings & meetings with top investors. http://t.co/nWJwVLuhoA
— Narendra Modi (@narendramodi) September 20, 2015
My visit to West Coast will focus on start-ups, innovation & technology and how to further support them in India. http://t.co/rQotIQhBeF
— Narendra Modi (@narendramodi) September 20, 2015
Indian diaspora has been a source of immense strength for us. Will interact with Indian community in San Jose. http://t.co/rPWm9L54Fn
— Narendra Modi (@narendramodi) September 20, 2015