Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী কৃষি উন্নতি মেলায় ভাষণ দিয়েছেন


প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নতুন দিল্লির পুসা ক্যাম্পাসে আইএআরআইমেলার ময়দানে আয়োজিত কৃষি উন্নতি মেলা পরিদর্শন করেছেন। তিনি এই মেলার থিমপ্যাভেলিয়ন এবং জৈবিক মেলা কুম্ভ-ও ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী এদিন দেশের ২৫টিকৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া, জৈব কৃষি পণ্যেরবিপণনের জন্য তিনি একটি ই-মার্কেটিং পোর্টালেরও উদ্বোধন করেন। তিনি এই অনুষ্ঠানেকৃষি কর্মন পুরস্কার এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় কৃষি প্রোৎসাহন পুরস্কার প্রদানকরেন।

এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এইধরনের কৃষি উন্নতি মেলা নতুন ভারত গড়ে তোলার পথ সুগম করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণভূমিকা নেয়। তিনি বলেন, আজ নতুন ভারতের দুই অগ্রদূত কৃষক এবং বিজ্ঞানীদের সমাবেশেযুগপৎ কথা বলার সুযোগ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক ও বিজ্ঞানীদের দেশে কৃষিরূপান্তরের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী কৃষি ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতির স্বীকৃতিতে পুরস্কার প্রাপকরাজ্য মেঘালয়ের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার পর থেকে কৃষি ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য কৃষকদেরকঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মানসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন যে, আজ আমাদের দেশেখাদ্যশস্য, ডালশস্য, ফল, সব্জি এবং দুধের রেকর্ড উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু তবুও আজকেরদিনেও কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যেসবকারণে কৃষকদের আয় কমে এবং তাঁদের ক্ষতি এবং ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ে, সেগুলি মোকাবিলায়বর্তমান চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এইসব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সরকার একসার্বিক দৃষ্টিভঙ্গীতে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা এবং তাঁদের জীবনসহজতর করে তোলাই এই কাজের লক্ষ্য।

এই লক্ষ্যে কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ১১ কোটিসয়েল হেলথ্‌ কার্ড কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ইউরিয়ার ওপর নিমেরপ্রলেপ লাগানোর ফলে সার বাবদ কৃষকদের ব্যয় কমেছে এবং ফসলের উৎপাদন বেড়েছে।

শ্রী মোদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার মাধ্যমে কৃষি বিমারপ্রিমিয়াম হ্রাস করা হয়েছে, বিমার ঊর্দ্ধ সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে এবং বিমা বাবদকৃষকদের দাবি মতো অর্থ প্রদানের পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঁচাইযোজনার মাধ্যমে দেশের সব জমিতে সেচের কথা ভাবা হয়েছে বলে তিনি জানান। দেশের বকেয়াসেচ প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ করার জন্য ইতিমধ্যেই ৮০,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।

কিষাণ সম্পদ যোজনা নামে এক কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের জন্য ক্ষেত থেকেবাজার পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খল জোরদার করা এবং আধুনিক কৃষি পরিকাঠামো সৃষ্টি করারউদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বাজেটে ঘোষিত ‘অপারেশন গ্রিনস্‌’প্রকল্পের মাধ্যমে সব্জি, ফল বিশেষ করে টমেটো, পেঁয়াজ ও আলু চাষিরা উপকৃত হবেন।

কৃষক কল্যাণের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি আদর্শ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। রাজ্যগুলিকেএই আইনগুলি রূপায়ণের জন্য বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান যে, কৃষকদের জন্য আধুনিক বীজ, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহএবং সহজে বিপণনের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে চলেছে।

তিনি বলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত বিজ্ঞাপিত ফসলের ন্যূনতম সমর্থন মূল্যসংশ্লিষ্ট ফসলগুলির উৎপাদন ব্যয়ের কমপক্ষে দেড় গুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উৎপাদনব্যয়ের হিসাবের জন্য শ্রম, কৃষি যন্ত্রপাতি ভাড়া, বীজ ও সারের মূল্য, রাজ্যসরকারকে প্রদেয় রাজস্ব, কার্যকর পুঁজির ওপর সুদ এবং লিজ প্রাপ্ত জমির ভাড়ার মতোবিষয়গুলিকে বিবেচনা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি বিপণনের ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে সার্বিকপদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রামীণ খুচরো বাজারগুলিকে পাইকারি এবং বিশ্ব বাজারেরসঙ্গে যুক্ত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিককেন্দ্রীয় বাজেটে গ্রামীণ খুচরো কৃষি বাজারের কথা অনুমোদন করা হয়েছে। ২২,০০০গ্রামীণ হাটকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো সহ উন্নীত করা হবে এবং কৃষি পণ্য বিপণন কমিটি ওই-ন্যাম মঞ্চের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী কৃষক উৎপাদক সংগঠন গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। তিনিবলেন, কৃষক উৎপাদক সংগঠনগুলিকে সমবায় সমিতির ধরণে আয়করের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে।এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি বিপণন সংস্কারের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় সংযুক্ত হবে।কারণ, জৈব কৃষি পণ্যের জন্য এর সঙ্গে একটি ই-মার্কেটিং পোর্টালের ব্যবস্থা করাহবে।

শ্রী মোদী বলেন, সবুজ বিপ্লব ও শ্বেত বিপ্লবের পাশাপাশি আমাদের জৈব বিপ্লব,জল বিপ্লব, নীল বিপ্লব এবং মিষ্টি বিপ্লবের ওপর জোর দিতে হবে। কৃষি বিজ্ঞানকেন্দ্রগুলি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মৌমাছি পালন কিভাবে কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে,প্রধানমন্ত্রী তার কথাও উল্লেখ করেন। অনুরূপভাবে, তিনি সৌরকৃষির সুবিধার কথাওবলেন। গত তিন বছরে দেশের কৃষকদের মধ্যে ২.৭৫ লক্ষ সৌর পাম্প বিতরণ করা হয়েছে বলেতিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন কম্পোস্ট এবং পশু মল থেকে জৈব গ্যাস উৎপাদনেরলক্ষ্যে গোবর ধন যোজনা প্রসঙ্গেও উল্লেখ করেন।

শস্যের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো ক্ষতিকারক প্রভাবের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেপ্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলিকে না পুড়িয়ে তার পরিবর্তে যন্ত্রের মাধ্যমে মাটিতেমিশিয়ে দেওয়া হলে, তা মাটির উর্বরতার পক্ষে উপকারি ভূমিকা নিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে কৃষি ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থারলক্ষ্যে কাজ করছে।

কৃষি উন্নতি মেলার মতো এ ধরনের অনুষ্ঠান দেশের দূরদূরান্তে আয়োজন করার ওপরপ্রধানম্নত্রী জোর দেন। তিনি এই ধরনের অনুষ্ঠানের প্রভাব বিশ্লেষণের কথাও বলেন।

PG/PB/ SB……