পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ১৮ জানুয়ারি ২০২৪
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিকসিত ভারত সংকল্প যাত্রার ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য উপকারভোগী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ ছাড়াও, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরাও যুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যাত্রার দুই মাস পূর্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, “যাত্রার বিকাশ রথ এখন বিশ্বাস রথে পরিণত হয়েছে এবং কাউকেই যে আর পিছিয়ে পরতে দেওয়া হবে না এই আস্থা মানুষের মধ্যে এসেছে।” ভোক্তাদের উচ্ছ্বাস ও চাহিদা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই যাত্রা ২৬ জানুয়ারির পরও চালিয়ে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
১৫ নভেম্বর ভগবান বিরসা মুন্ডার আশীর্বাদ নিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রা এখন এক গণ-আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৫ কোটি মানুষ এতে যুক্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৮০ শতাংশ পঞ্চায়েত-এর আওতায় পরে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এতদিন বিভিন্ন কারণে সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত মানুষদের কাছে পৌঁছানো বিকসিত ভারত সংকল্প যাত্রার মূল উদ্দেশ্য। আর মোদি এমন অবহেলিত মানুষদেরই পূজা করেন ও গুরুত্ব দেন।”
ভিবিএসওয়াই-কে তিনি শেষ মাইল পর্যন্ত সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার এক মহান মাধ্যম বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত যাত্রায় ৪ কোটির বেশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ২.৫ কোটি যক্ষা স্ক্রিনিং, ৫০ লাখ সিকল সেল অ্যানিমিয়া স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে। ৫০ লাখ আয়ুষ্মান কার্ড, ৩৩ লাখ নতুন প্রধানমন্ত্রী কিষান উপভোক্তা, ২৫ লাখ নতুন কিষান ক্রেডিট কার্ড, ২৫ লাখ বিনামূল্যের গ্যাস সংযোগ এবং ১০ লাখ নতুন স্বনিধি আবেদন সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলি কেবল সংখ্যা নয়, প্রতিটি সংখ্যা মানে একেকটি জীবন, যারা এতদিন সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সম্পর্কিত নতুন রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে জানান, গত ৯ বছরে সরকারের প্রচেষ্টায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “গত ১০ বছরে স্বচ্ছ সিস্টেম তৈরি, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং জন-অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে আমাদের সরকার অসম্ভবকেও সম্ভব করেছে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কথা বলেন। এ প্রকল্পে ৪ কোটিরও বেশি দরিদ্র পরিবার পাকা বাড়ি পেয়েছেন এবং এর ৭০ শতাংশ মহিলাদের নামে নথিভুক্ত হয়েছে। এতে শুধু দারিদ্র্য দূর হয়নি, নারীর ক্ষমতায়নও ঘটেছে। ঘরের আকার বড় করা হয়েছে, নির্মাণে মানুষের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, এবং কাজের গতি ৩০০ দিন থেকে ১০০ দিনে নামানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এখন তিনগুণ দ্রুত হারে পাকা বাড়ি তৈরি করে দরিদ্রদের হাতে তুলে দিচ্ছি। এ ধরনের পদক্ষেপ দেশে দারিদ্র্য কমাতে বিরাট ভূমিকা নিয়েছে।”
অবহেলিতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির উদাহরণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় লিঙ্গের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, “এই সরকারই প্রথমবার তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের সমস্যা কে গুরুত্ব দিয়েছে। ২০১৯ সালে আমাদের সরকার তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার সুরক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন করে। তাঁরা সমাজে সম্মানজনক স্থান পেয়েছেন এবং বৈষম্যের অবসান ঘটেছে। হাজার হাজার মানুষকে তৃতীয় লিঙ্গ পরিচয়পত্রও দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত দ্রুত বদলাচ্ছে। আজ মানুষের আত্মবিশ্বাস, সরকারের প্রতি আস্থা এবং নতুন ভারত গড়ার সংকল্প সর্বত্র দৃশ্যমান।” বিশেষভাবে পিছিয়ে পড়া জনজাতি গোষ্ঠীর মহিলাদের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
তিনি স্বনির্ভর গোষ্ঠী আন্দোলনকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপের কথাও বলেন। গোষ্ঠীগুলিকে ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, জামানত ছাড়া ঋণের সীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ করা হয়েছে, যার ফলে ১০ কোটি নতুন মহিলা স্বনিযুক্তি গোষ্ঠি বা এসএইচজিতে যুক্ত হয়েছেন। তাঁরা ৮ লক্ষ কোটির বেশি সহায়তা পেয়েছেন। তিন কোটি মহিলা এখন কিষাণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। দু কোটি লাখপতি দিদি ও নামো ড্রোন দিদি তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে। ইতিমধ্যেই ১ হাজারের বেশি নামো ড্রোন দিদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
গ্রামীণ অর্থনীতি আধুনিকীকরণ ও কৃষক ক্ষমতায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার এফপিও তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে ৮ হাজারটি এমন সংস্থা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন রোগের জন্য ৫০ কোটি টিকাদানের ফলে দুধ উৎপাদনে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে।
ভারতের যুবসমাজের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, যাত্রাকালীন প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা হয়েছে এবং খেলোয়াড়দের সম্মানিত করা হয়েছে। তিনি আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, যুবসমাজ মাই ভারত পোর্টালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকসিত ভারত গড়ার জাতীয় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে।
পটভূমি
২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর শুরু হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে বিকসিত ভারত সংকল্প যাত্রার ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি পাঁচবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে (৩০ নভেম্বর, ৯ ডিসেম্বর, ১৬ ডিসেম্বর, ২৭ ডিসেম্বর এবং ৮ জানুয়ারি) তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন। এছাড়া ১৭-১৮ ডিসেম্বর বারাণসী সফরে টানা দু’দিন সরাসরি ভোক্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি প্রধান প্রধান প্রকল্পগুলির শতভাগ সুবিধা যেন নির্ধারিত সময়ে প্রত্যেক উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করা।
এখন পর্যন্ত বিকসিত ভারত
সংকল্প যাত্রায় ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। এটি বিকসিত ভারতের অভিন্ন স্বপ্নকে সামনে রেখে গোটা জাতিকে একত্রিত করতে পারার সাফল্যের প্রমাণ।
**
SSS/RS
Delighted to witness the positive transformations brought about by the Viksit Bharat Sankalp Yatra in the lives of many. https://t.co/8sqml7BTYZ
— Narendra Modi (@narendramodi) January 18, 2024
विकसित भारत संकल्प यात्रा में चलने वाला विकास रथ, विश्वास रथ में बदल चुका है। pic.twitter.com/Lu8xA42HqQ
— PMO India (@PMOIndia) January 18, 2024
विकसित भारत संकल्प यात्रा जैसा अभियान Last Mile Delivery का सबसे बेहतरीन माध्यम है। pic.twitter.com/hqMMVGiW2r
— PMO India (@PMOIndia) January 18, 2024
विकसित भारत संकल्प यात्रा, एक जनआंदोलन में बदल गई है। pic.twitter.com/8rCVLlAajr
— PMO India (@PMOIndia) January 18, 2024
हमारा प्रयास है... pic.twitter.com/xGnfUBLyQU
— PMO India (@PMOIndia) January 18, 2024
हमारी सरकार ने साल 2019 में ट्रांसजेंडर्स के अधिकारों को संरक्षण देने वाला कानून बनाया: PM @narendramodi pic.twitter.com/zqvY7SR3oz
— PMO India (@PMOIndia) January 18, 2024
भारत बदल रहा है और बहुत तेजी से बदल रहा है। pic.twitter.com/gwqPYqrDrE
— PMO India (@PMOIndia) January 18, 2024