পিএমইন্ডিয়া
আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার। আমাদের জীবনে কিছু তারিখ এমন থাকে যা মনে রাখার জন্য ক্যালেন্ডার দেখার প্রয়োজন পড়ে না। আজ, ২৬ জুলাই, এমনই একটি তারিখ। আজ ‘কার্গিল বিজয় দিবস’। এই দিন আমাদের গর্বে ভরিয়ে দেয়।| এই দিন আমাদের বীর যোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় সাহসের কথা স্মরন করায়। কার্গিলের উঁচু-উঁচু শিখর, কঠিন আবহাওয়া, শত্রুর চ্যালেঞ্জ, এমন প্রতিটি পরিস্থিতি ছিল আমাদের সৈনিকদের সামনে, কিন্তু তাদের অদম্য সাহস প্রতিটি চ্যালেঞ্জের চেয়ে বড় ছিল। তাঁরা ভারতমাতার রক্ষার জন্য নিজেদের সবকিছু উৎসর্গ করেছেন। আজ ‘কার্গিল বিজয় দিবস’-এ আমি সমস্ত বীর শহীদ এবং বীর সৈনিকদের সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।
বন্ধুরা, আজকের ভারত তার বীরদের শুধু মনে রাখে না, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের কাহিনী পৌঁছে দেয়। এই অনুভূতি থেকেই এই বছর একটি বিশেষ ‘শৌর্যবিজয় যাত্রা’ বের করা হয়েছে। ১৪ জুলাই দিল্লির ‘ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল’ থেকে শুরু হওয়া এই মোটরসাইকেল যাত্রা দ্রাসের কার্গিল ‘ওয়ার মেমোরিয়াল’ পর্যন্ত পৌঁছবে। এর বার্তা হলো- “One Ride, One Nation, One Salute.” এই যাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে দেশের জন্য দেওয়া বলিদান কখনো ভোলা যায় না।
বন্ধুরা, আজ ভারত তার সৈনিকদের সাহসের পাশাপাশি তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকেও নিরন্তর শক্তিশালী করে তুলছে। কয়েকদিন আগে ভারতীয় নৌ-বাহিনীতে আইএনএস মহেন্দ্রগিরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ভারতেই ডিজাইন করা হয়েছে, ভারতেই তৈরি হয়েছে। এতে ৭৫ শতাংশের বেশি স্বদেশী উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আত্মনির্ভর ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রতীক। এই মাসেই ডিআরডিও পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেটেরও সফল পরীক্ষা করেছে। এই সাফল্যের পিছনে আমাদের বৈজ্ঞানিক ও ইঞ্জিনীয়ারদের সম্মিলিত পরিশ্রম রয়েছে। দুই-তিন দিন আগেই ডিআরডিও কুশা ক্ষেপণাস্ত্রেরও সফল পরীক্ষা করেছে।
বন্ধুরা, আজ প্রতিরক্ষা উৎপাদন হোক, প্রতিরক্ষা রপ্তানি হোক বা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতা – ভারত নিরন্তর নতুন উচ্চতার দিকে এগোচ্ছে। এই মাসের শুরুতে আমি ইন্দোনেশিয়ায় গিয়েছিলাম, যেখানে ব্রাহ্মোস এবং অস্ত্র মিসাইলের জন্য একটি বড় চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উপর বিশ্বের আস্থা বাড়ছে। আসুন, এই ‘কার্গিল বিজয় দিবস’-এ আমরা আমাদের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, এবং একটি সুরক্ষিত, সক্ষম ও আত্মনির্ভর ভারত গঠনের জন্য আমাদের সংকল্প আরও দৃঢ় করি।
আমার প্রিয় দেশবাসী, মন কি বাত এর গত পর্বে আমি আপনাদের ক্যাচ দা রেইন অভিযানের বিষয়ে বলেছিলাম। আমি অনুরোধ করেছিলাম বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা সংরক্ষণের এই অভিযানকে জনআন্দোলনে পরিণত করুন। ক্যাচ দা রেইন অভিযানের বার্তা অত্যন্ত সহজ, যেখানে বৃষ্টি হবে, যখন বৃষ্টি হবে, জলকে সেখানেই সংরক্ষণ করুন। সেজন্য চৌঠা জুলাই থেকে দেশজুড়ে এক বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৃষ্টির জল সঞ্চয়, গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জ, পুরাতন জলধারার পুনরুজ্জীবন এবং বৃক্ষরোপণকে নতুন গতি দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই আনন্দিত যে গ্রাম হোক বা শহর, পঞ্চায়েত কিংবা সামাজিক সংস্থা – প্রতিটি জায়গাতেই মানুষ বেশি বেশি করে অংশগ্রহণ করেছেন। বহু পুরনো পুকুর থেকে ময়লা পরিষ্কার করা হচ্ছে, অনেক কূপ ও জলাশয়কে নতুন জীবন দান করা হচ্ছে। বন্ধ হয়ে থাকা বোরওয়েলের মাধ্যমে এখন গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জ করা হচ্ছে।
বন্ধুরা, মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলায় প্রায় দেড় হাজার পুকুর খনন করা হয়েছে। নরসিংহপুর এ অমৃত সরোবরের সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের নাসিকে বৃহৎ মাত্রায় জল সংরক্ষণের শক্তি গড়ে উঠেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের নন্দ্যালে সব গ্রাম পঞ্চায়েত এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং পুরনো পুকুরগুলিকে আবারো ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়েছে। আমাদের শহরগুলিও পিছিয়ে নেই। ছত্তিশগড়ের কোরবা, ওডিশার ভুবনেশ্বর এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগরমে এই অভিযানের উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল দেখা যাচ্ছে। আসুন, আমরাও আমাদের আশেপাশের কোন একটি নালা, কূপ বা জলাশয়ের দায়িত্ব নিই। জলের প্রতিটি ফোঁটা সংরক্ষণ করি। আজকের সংরক্ষিত প্রতিটি ফোঁটা আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় মূলধন।
আমার প্রিয় দেশবাসী, সম্প্রতি ব্রিটেনের গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমস শুরু হয়েছে। প্রত্যেক দেশবাসী ভারতীয় দলকে নিরন্তর নিজেদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তাদের কামনা এই যে সকল ক্রীড়াবিদ ও অ্যাথলিট যেন অসাধারণ ক্রীড়াপ্রদর্শন করেন এবং মানুষের হৃদয় জিতে নেন। বন্ধুরা, আমাদের যুবারা ইদানিংকালে ক্রীড়াক্ষেত্রে বেশ কিছু চমৎকার সাফল্য অর্জন করেছেন। পি ভি সিন্ধু ব্যাডমিন্টনে জাপান ওপেন খেতাবজয়ী প্রথম ভারতীয় হয়েছেন। তার এই সাফল্যে সারাদেশ গর্বিত। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলও লন্ডনে লর্ডস স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম টেস্ট ম্যাচ জিতেছে। এটি এক ঐতিহাসিক জয়। আমাদের টিম ২৭০ রানের বিরাট ব্যবধানে এই খেলায় জয়লাভ করেছে। কিন্তু বিষয়টা শুধু এটুকুই নয়। লর্ডসের দীর্ঘ ইতিহাসে মহিলা ক্রিকেট দলের এটিই ছিল প্রথম টেস্ট ম্যাচ। 1983 তে এই মাঠেই ভারত নিজেদের প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতেছিল। আজ আমাদের নারীশক্তি এখানে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে।
বন্ধুরা, কিছু ক্ষুদ্র প্রয়াস এমনও হয় যা অত্যন্ত অর্থবহ হয়ে ওঠে। কেরালার এর্নাকুলমের সাউথ চিত্তুরে ক্রীড়া বিষয়ক এমনই এক প্রয়াসের কথা আমি জানতে পেরেছি। এখানে একটি স্কুলে সংস্কৃত ক্লাব রয়েছে। সেখানকার এক শিক্ষক অভিলাষজি অত্যন্ত অভিনব পদ্ধতিতে সংস্কৃতকে জনপ্রিয় করে তুলছেন। এই প্রজেক্টটিকে “অক্ষরকন্দুক” নাম দেওয়া হয়েছে। এতে সংস্কৃত অক্ষরগুলিকে ফুটবল খেলায় ব্যবহৃত শব্দগুলির সঙ্গে যুক্ত করে সহজ ভাবে বোঝানো হয়। তাতে শেখার আনন্দও পাওয়া যায়, পাশাপাশি খেলার সঙ্গে মানুষের সংযোগও বাড়ে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, গত রবিবার বিক্রম 1 এর সফল উৎক্ষেপণের ফলে প্রতিটি দেশবাসী গৌরবান্বিত হয়েছেন। আমরা সকল দেশবাসী স্পেস সেক্টরের এই ঐতিহাসিক ক্ষণের সাক্ষী হয়েছি। এটি প্রাইভেট সেক্টর দ্বারা নির্মিত ভারতের প্রথম রকেট। আমাদের যুবা ইনোভেটরসরা সেই কাজ করে দেখিয়েছেন যা কল্পনা করাও দুঃসাধ্য ছিল। তারা অবিশ্বাস্য দক্ষতা, আবেগ ও ধৈর্যের নিদর্শন রেখেছেন। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আমাদের স্পেস সেক্টর বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য বন্ধ ছিল। এই সেক্টরে আগ্রহী বহু যুবা নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শন করার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। যুবাদের কল্যাণের লক্ষ্যে আমরা স্পেস সেক্টরকে প্রাইভেট সেক্টরের জন্য উন্মুক্ত করি। আজ তার ফলাফল সারা পৃথিবী দেখতে পাচ্ছে।
বন্ধুরা, আমাদের যুবা বন্ধুরা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও ভারতের নাম উজ্জ্বল করছেন। Science Olympiads পৃথিবীর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা গুলির মধ্যে একটি। এতে বড় মাত্রায় ছাত্র ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে থাকে। এই মাসেই physics, chemistry, biology এবং mathematics এর olympiad হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় ভারতীয় দলের প্রদর্শন অনবদ্য ছিল। Physics Olympiad-এ আমাদের পাঁচ জন ছাত্র-ছাত্রী সকলেই স্বর্ণ পদক জিতেছে, আর ভারত প্রথম স্থান অর্জন করেছে। বিগত এক দশকে অনুষ্ঠিত প্রত্যেক ফিজিক্স অলিম্পিয়াড এ আমাদের দেশের ছাত্র ছাত্রীরা স্বর্ণ বা রৌপ্য পদক অবশ্যই জিতেছে। কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড এও আমাদের সকল ছাত্র ছাত্রীরা স্বর্ণ পদক জিতেছে। এটা এখনো পর্যন্ত সবথেকে ভালো পারফরম্যান্স ছিল। Biology olympiad এও আমাদের সব ছাত্র ছাত্রীরা পদক জিতেছে, যার মধ্যে একটি স্বর্ণ পদকও অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে, mathematics Olympiad-এ আমাদের ছাত্র ছাত্রীরা দুটো স্বর্ণ পদক আর রৌপ্য পদক নিজ নামাঙ্কিত করে। আমার দেশের যুব শক্তির উপর আমি গর্বিত। এটা দেখে আনন্দ হচ্ছে যে ভারতে অলিম্পিয়াড আর hackathon এর সংস্কৃতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমার বিশ্বাস, দেশের একাধিক যুবক এরকম ফোরামে নিজেদের আগ্রহ দেখাবে এবং ভারতের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরবে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, যখন প্রতিভাও থাকে এবং কিছু করার আবেগও থাকে, তখন যেকোনো পথ হয়ে ওঠে সহজ। কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী মাদুর ‘বগু’ নিয়ে যে প্রচেষ্টা চলছে তা এরই প্রতিফলন। এটি উলু খাগড়া এবং খড় দিয়ে তৈরি করা হয়। এই চাটাইটি বানানোর প্রক্রিয়া বহু বছর পুরোনো। এরজন্য কাশ্মীরের জলাভূমি অঞ্চলের ঘাস ও উলু খাগড়া কাটা হয়ে থাকে। রোদে শুকানোর পর ছাঁটাই করা হয়, আর তারপরে শুরু হয় হাতে বোনার কাজ। দুজন কারিগরের মোটামুটি চার দিন সময় লাগে এই চাটাই বুনতে। এই মাদুর অনন্য এবং ইকো ফ্রেন্ডলিও। এর একটি বড় বিশেষত্ব হলো গরমে এই মাদুর থেকে শীতলতা পাবেন, আর শীতকালে উষ্ণতা। প্রথমদিকে এটি কাশ্মীরের ঘরে ঘরে দেখা যেতো, কিন্তু বিগত কিছু বছরে এর ব্যবহার কমতে শুরু করে। এইসময় শ্রীনগরের গুলাম হোসেনজি এবং তাঁর মেয়ে তানজিলাজি একটি সংকল্প গ্রহণ করেন। দুজনে ‘বগু’ শিল্পের ঐতিহ্যকে নতুন জীবনদান করতে বদ্ধপরিকর। গুলাম হোসেনজি খুবই সাধারণ পরিবারের। এই কাজ করতে গিয়ে উনি নানা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হন। কিন্তু বগু সংরক্ষণের ওনার এই সংকল্প অটুট ছিল। দেখতে দেখতে ওনার এই প্রচেষ্টার সঙ্গে আরও অনেক মানুষ যুক্ত হতে শুরু করেন। গুলাম হোসেনজি এই কৌশলের যথেষ্ট বিকাশ ঘটালেন। এই মিশনে স্থানীয় ভাবে তিনি সরকারী সাহায্যও পান। আজ দ্রুত ক্রমবর্ধমান বগুর জনপ্রিয়তা, দেশের অন্যান্য প্রান্তেও পৌঁছে যাচ্ছে। এই প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আমি গর্বিত। আজ আমাদের সবার লোকাল প্রোডাক্টস এর উপর বিশ্বাস আছে। আমরা vocal for local এর মন্ত্রে এগিয়ে চলেছি। সেক্ষেত্রে কাশ্মীরের বগু আপনাদের ঘরের একটি অংশ হোক, এই ব্যাপারে আপনারা একবার অবশ্যই ভাবুন।
বন্ধুরা, আমাদের দেশে চা শুধুমাত্র একটি পানীয় নয়, এটি ঘনিষ্ঠতাও বাড়ায়। সকালের শুরু হোক, বন্ধুদের সাথে দেখা সাক্ষাত হোক বা পরিবারের সাথে কিছু সময় কাটাবার হোক, চা প্রতিটি মুহূর্তের অঙ্গ হয়ে যায়। আর আপনারা তো ভালো করেই জানেন চায়ের সাথে আমার সম্পর্ক কি। কিন্তু আজ আমি যে চায়ের কথা বলছি, সে শুধুমাত্র স্বাদই দেয় নি, বরং অনেক বোনেদের জীবনে আত্মনির্ভরতার সুগন্ধ ও মিশিয়ে দিয়েছে। উত্তর প্রদেশের বিজনৌর জেলার লখীওয়ালা গ্রামে self help group এর সঙ্গে যুক্ত মহিলারা ‘বিদুর প্রেরণা স্বদেশী হার্বাল টী’ তৈরী করেছেন। এতে লেমনগ্রাস, গুলঞ্চ, যষ্টিমধু, তুলসী, কাঁচা হলুদ, দারচিনি, এলাচ এবং মৌরীর মত প্রাকৃতিক জিনিস মিশ্রিত আছে। নিজস্ব অপূর্ব স্বাদ ও গুণের জন্য এই চা খুব অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের মাঝে বিশেষ পরিচিতি বানিয়ে নিয়েছে। প্রয়াগরাজের ‘মহাকুম্ভ’ এবং দিল্লীর ‘International Food Festival’- এ এই হার্বাল চা খুব প্রশংসিত হয়েছে। বিদেশ থেকে আগত অতিথিরাও এর প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন।
বন্ধুরা, সবচেয়ে প্রেরণামুলক হল এর শুরু হওয়াটা। এই সম্পূর্ণ প্রচেষ্টা শুধুমাত্র এক লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু হয়েছিল। আজ এই brand দেশের বড় বড় সংস্থাগুলির কাছে পৌঁছে গেছে। এই প্রচেষ্টা আমাদের বলে যে যখন স্থানীয় জ্ঞান, প্রকৃতি এবং মহিলাদের আত্মবিশ্বাস একসাথে হয়, তখন এক ছোট প্রচেষ্টাও বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়ে যায়।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আজ দেশ জুড়ে ‘এক পেড় মা কে নাম’ (একটি গাছ, মায়ের নামে) অভিযানের মাধ্যমে লোকেরা প্রকৃতির প্রতি নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। যখন সমাজ এই ভাবনার সাথে যুক্ত হয়, তখন অতি সুন্দর এবং প্রেরণাদায়ক উদাহরণ সৃষ্টি হয়। বন্ধুরা, আহমেদাবাদে জন- অংশীদারিত্বের অদ্ভুত শক্তি দেখা গিয়েছে। ভাড়ু এলাকায় এক ঘন্টার মধ্যে সাড়ে তিন লক্ষের ও বেশি গাছ রোপণ করা হয়েছে । এতে পঁচিশ হাজারেরও বেশি মানুষ সম্মিলিত ছিলেন। স্কুলের শিশুরা, NCC Cadets, স্বয়ংসেবক এবং সাধারণ নাগরিক, প্রত্যেকে এই অভিযানে অংশ নেন। আগামী বছরগুলিতে এই গাছগুলোই এক ঘন নগর অরণ্যের রূপ নেবে। এই প্রচেষ্টা কে Guinness Book of World Records এ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। বন্ধুরা, ‘এক পেড় মা কে নাম’ অভিযানের ফলে উত্তরপ্রদেশেতে ও জনশক্তির অদ্ভুত উদাহরণ দেখা গেছে। সেখানে একদিনে, বারোই জুলাই তে, পঁয়ত্রিশ কোটিরও বেশি গাছ লাগানো হয়। উত্তরপ্রদেশের সাংসদ হওয়ায় আমার জন্য ও এটি বিশেষ গর্বের বিষয়।
আমার প্রিয় দেশবাসী, গাছ শুধুমাত্র মানুষের জন্যই হয় না, অগণিত জীবজন্তুরও বাসা। গুজরাটের গির-এর জঙ্গলে, প্রায় ষাট বছর বাদে ‘Indian Grey Hornbill’ আবার বাসা বাঁধছে। এটা গির-এ বছরের পর বছর ধরে হয়ে চলা সংরক্ষণ এবং পুনর্স্থাপনের প্রচেষ্টার ফল। Hornbill কে জঙ্গলের কৃষক বলা হয়। এরা ফল খেয়ে বীজ গুলি দূরবর্তী স্থানে পৌঁছায়। সেই বীজ থেকেই জঙ্গলে নতুন গাছ জন্ম নেয়। এই ভাবে একটি পাখী জঙ্গল কে বার বার সবুজ রাখতে সাহায্য করে। আমি আপনাদের সবাই কে বলব, আমরা সবাই যেন আমাদের জীবনের কোন বিশেষ সুযোগকে প্রকৃতির সাথে অবশ্যই যুক্ত করি। একটি গাছ মায়ের নামে লাগাই। আজকে লাগানো একটি ছোট্ট চারা, আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ প্রকৃতি, স্বচ্ছ হাওয়া ও সুন্দর ভবিষ্যতের উত্তরাধিকার হতে পারে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আমরা সবাই জানি আজ প্লাস্টিক দূষণ সমগ্র পৃথিবীর পরিবেশের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। Single use plastic এর আবর্জনা অনেক বছর ধরে প্রকৃতির ক্ষতি করতে থাকে, এইজন্য প্লাস্টিকের ঠিক মত ব্যবস্থাপনা খুব জরুরী। বন্ধুরা, বিহারের সীতামঢ়ী থেকে ‘Waste to Wealth’ এর দারুণ উদাহরণ সামনে এসেছে।
এখানে আবর্জনা recycle করে তার থেকে চমৎকার বসার বেঞ্চ তৈরী করা হচ্ছে। একটা বেঞ্চ তৈরী হতে প্রায় চল্লিশ কিলো single use plastic ব্যবহার হয়। এটি মজবুত, টেঁকসই এবং আরামদায়ক হওয়ার সাথে সাথে eco- friendly ও হয়। এগুলি সরকারি স্কুল , পার্ক এবং সার্বজনিক স্থানে লাগানো হয়। এর মাধ্যমে লোকেদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি সচেতনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রচেষ্টায় স্থানীয়দের সাথে সাথে জেলা প্রশাসনের ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এর ফলে স্থানীয় ভাবে রোজগারের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। সীতামঢ়ীর এই প্রচেষ্টা আমাদের বলে, ‘Reduce, Reuse ও Recycle’ আজ কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং আমাদের জীবনের এক অঙ্গ হতে চলেছে।
বন্ধুরা, আপনাদের মনে থাকবে গতবার ‘মন কি বাত’- এ আমি ‘গণেশ উৎসবের’ কথা বলেছিলাম। আমি অনুরোধ করেছিলাম যে, আমাদের দেশের মাটি দিয়ে তৈরী গণেশ প্রতিমারই পুজো করা উচিত। Plaster Of Paris (POP) দিয়ে তৈরী যে গণেশ প্রতিমা, বা বিদেশ থেকে যেসব গণেশ প্রতিমা আনা হয়, তার বদলে আমাদের দেশের মাটি দিয়ে তৈরী গণেশজীকেই ঘরে প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এই বিষয়ে অনেকেই আমাকে বার্তা পাঠিয়েছেন এবং মতামত জানিয়েছেন। লোকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা আমার অনুরোধ মেনে নিয়েছেন। তাঁরা স্থানীয় মাটি দিয়ে তৈরী গণেশ প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা লিখেছেন মন কি বাত- এ আগেই এই আলোচনা হওয়ায় তাঁদের ঠিক সময় ঠিক পদক্ষেপ নিতে সুবিধে হয়েছে। আমি আবারও একবার অনুরোধ রাখছি, এইবার গণেশ পুজোয় দেশের মাটি দিয়ে তৈরী গণেশজী কে নিজেদের ঘরে প্রতিষ্ঠা করুন, পুজো করুন। আপনার এই প্রচেষ্টা ও একপ্রকার প্রকৃতি পুজাই হবে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, এবার আমি আপনাদের এমন এক ব্যক্তির সম্বন্ধে বলব, যাঁর সম্পর্কে শুনে আপনাদের খুব গর্ব বোধ হবে। এমন একজন ব্যক্তি যিনি science ও innovation এর ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করছেন। বিশ্বে যাঁর পরিচিতি তৈরী হচ্ছে। কিন্তু তারপরে ও তিনি নিজের শিকড়ের সাথে গভীর ভাবে যুক্ত। সুযোগ পেলেই তিনি নিজের মাটিকে সম্মান করতে ভোলেন না। সেই ব্যক্তি হলেন- মণিপুরের Dr. Ronaldo Laishram জী।
ওঁর নাম রোনাল্ডো, কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে উনি একজন astrophysicist. উনি জাপানে কাজ করেন, আর young galaxy র এক বিশাল সমষ্টি খোঁজ করছেন যে দল উনি তারও একজন। আপনারা জানতে চাইবেন যে উনি আসলে কী করেছেন। আসলে উনি এই পুরো সমষ্টির নাম মণিপুরের এক সুন্দর লেক এর নাম এর সঙ্গে জুড়ে দিয়ে নাম রেখেছেন loktak proto- cluster। লোকটাক মিষ্টি জলের এক বিশাল বড় ঝিল। লোকটাক লেকে ভাসমান জলজ উদ্ভিদ মিলে এক অনন্য landscape তৈরী হয়। দেখলে মনে হয় বিশাল সমুদ্রের মধ্যে ছোট ছোট দ্বীপ ভেসে বেড়াচ্ছে। একই রকম ভাবে universe এ এই young galaxy এক বিশাল কাঠামো নির্মাণ করছে। আজ মণিপুরের লোকটাক কেবল দেশের মানচিত্রেই নয়, বরং এই বিশাল মহাকাশে তার নিজের সৌন্দর্যের বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছে। এই প্রাপ্তি সমস্ত ভারতবাসীর গৌরব বাড়াচ্ছে। এর থেকে আমাদের যুব বন্ধুরা শিখতে পারেন যে নিজের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত থেকেও নতুন উচ্চতা ছুঁতে পারা যায়। এ এমনি এক শিকড়ের অস্তিত্ব যা নক্ষত্রের দুনিয়াকে ঝলমলে করে তুলতে পারে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, কিছুদিন বাদেই, ৭ই অগাস্ট আমাদের দেশ National handloom day পালন করবে। এই সুযোগে আমরা আমাদের বয়ন শিল্পী ভাইবোনদের কৌশল ও সৃজনশীলতার উৎসব পালন করবো। আমাদের এই বন্ধুরা চলে আসা পরম্পরা কে আরো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
বন্ধুরা, হাতে বোনা এইসব পোষাক কোন না কোন ক্ষেত্রে সমাজ ও তার সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষের কাহিনী সামনে নিয়ে আসে।এরা সেই মানুষ, যাঁরা গর্বের সঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক পরম্পরা কে সযত্নে লালন করার কাজে যুক্ত রয়েছেন। আজকের দিনে আমার অনুরোধ যে আমরা হস্তশিল্প কে উৎসাহ দিয়ে আমাদের বয়নশিল্পী বন্ধুদের সম্মান জানাবো। আসুন আমরা vocal for local এই ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করি।
বন্ধুরা, আজ দেশে হ্যান্ডলুম কে যেভাবে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, তাতে বড় অংশের মানুষের জীবন আরও উন্নত হচ্ছে।পোচমপল্লী থেকে পটনা আর কুথমপল্লী থেকে কচ্ছপর্যন্ত এর বহু উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায়। আজ এমন বহু মানুষ ও গোষ্ঠী আছেন যাঁরা আমাদের হ্যাণ্ডলুমের এই গৌরবময় ঐতিহ্য কে এক নতুন উৎসাহ ও পরিচিতি দান করছেন। কেউ পোচমপল্লী ইক্কত এর সুন্দর পরম্পরা কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ মহিলা বয়নশিল্পীদের যুক্ত করে wool products বানাচ্ছেন। কিছু মানুষ কেরলামের ঐতিহ্যবাহী কসাউ কলাকে সংরক্ষণ করছেন। এর ফলে আমাদের মা বোনদের আয়ও হচ্ছে।
বন্ধুরা, আর একটি বিষয় যা আমি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে চাই, তা হল খাদি। আমরা সবাই জানি যে খাদি মহাত্মা গান্ধীর খুব প্রিয় ছিল। গত কয়েক বছরে খাদি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত বারো বছরে এর বিক্রি ছয়গুণ বেড়ে গেছে। বিক্রির এই অংক এখন আট হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আপনাদের সকলের কাছে আমার অনুরোধ আগামী উৎসবে খাদির কোন না কোন দ্রব্য, হ্যাণ্ডলুমের কোন না কোন দ্রব্য, হ্যাণ্ডিক্র্যাফটের কোন না কোন দ্রব্য অবশ্যই কিনুন।
আমার প্রিয় দেশবাসী, যদি আপনাদের জিজ্ঞেস করা হয় যে ভারতে কত প্রকারের musical instrument আছে, তাহলে আপনারা চিন্তায় পড়ে যাবেন। এটা এইজন্য যে আমাদের এখানে অনেক বাদ্যযন্ত্র আর তার সঙ্গে যুক্ত পরম্পরা রয়েছে। এরকমই এক instrument ত্রিপুরার চৌঙ্গপ্রেঙ্গ। এটা এখানকার আদিবাসী সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয়।বাঁশের তৈরী এই বাদ্যযন্ত্রে তিনটি তার আছে। এর থেকে যে সুর বেরোয় তা অতি সুমধুর, যার সঙ্গে অনেকটা সরোদের মিল পাওয়া যায়। কিছু কারণে এর জনপ্রিয়তা যুব প্রজন্মের মধ্যে কমে যাচ্ছিল। সেজন্য সূরজ কুমার দেব বর্মা তাকে আবার জনপ্রিয় করে তোলার সংকল্প নিয়েছেন। আজ তাঁর চেষ্টার ফল পাওয়া যাচ্ছে। তিনি চৌঙ্গপ্রেঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে ওখানকার অন্য ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রও বাজাচ্ছেন। ককবোরক লোকগান-বাউল গান-বাংলা লোকগান এতে খুব ভালো লাগে। আমি এখন আপনাদের একটি ছোট ক্লিপ শোনাতে চাইছি। এই সুর আপনারা কখনো ভুলতে পারবেন না।
#music#
বন্ধুরা, আমার বিশ্বাস এই সুর শুনে আপনাদের খুব ভালো লেগেছে। আমার অনেক গর্ব দেববর্মাজীকে নিয়ে। পারস্পরিক সঙ্গীত কে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য তাঁর এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
আমার অনুরোধ আপনারাও আপনাদের আশেপাশের এরকম ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের কথা social media তে অবশ্যই শেয়ার করুন। আপনার এই প্রচেষ্টা অন্যকেও ঐতিহ্যবাহী ভারতীর সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত করবে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, কাল ২৭ শে জুলাই ভারতরত্ন ডঃ এ পি জে আব্দুল কালামের প্রয়াণ দিবস। ডঃ কালামের ব্যক্তিত্ব নানান প্রেরণার স্বরূপ, কিন্তু তাঁর মনের সবচেয়ে কাছে এক শিক্ষকের ভূমিকা। তিনি শিশু ও যুবকদের বড় স্বপ্ন দেখার জন্য উৎসাহ দিতেন। ঘটনাচক্রে এই সপ্তাহেই আমরা গুরু পূর্ণিমা পালন করবো। আমাদের মা বাবা আমাদের প্রথম গুরু। স্কুলের শিক্ষক যারা আমাদের অক্ষর পরিচয় করান। গুরু পূর্ণিমা এই সব গুরুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর সুযোগ। আমি দেশের সব শিক্ষক ও গুরুজনদের সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।
বন্ধুরা, কয়েকটি সপ্তাহ পরেই আমরা আমাদের স্বাধীনতার মহোৎসব পালন করবো। ১৫ই অগাস্ট সমস্ত ভারতবাসীর কাছে গর্বের দিন। এই দিন সেইসব অসংখ্য বীরদের স্মরণ করার দিন, যাঁরা ভারতমাতার স্বাধীনতার জন্য নিজেদের সমস্ত কিছু সমর্পণ করেছিলেন। তাঁদের ত্যাগ আর তপস্যার জন্য আজ আমাদের হাতে তেরঙা। এই তেরঙায় রয়েছে আমাদের সংবিধানের আদর্শ।
বন্ধুরা, গত কয়েক বছরে হর ঘর তিরংগা অভিযান অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে সারা দেশকে এক অসাধারণ আদর্শে যুক্ত করেছে।প্রতি ঘর প্রতি রাস্তায় তেরঙার উৎসব দেখা যায়। এই বছর ও হর ঘর তিরংগা অভিযান কে সম্পূর্ণ উৎসাহের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। নিজেদের ঘরে পুরো সম্মানের সঙ্গে তেরঙা ওড়াতে হবে।
বন্ধুরা, প্রতি বছর ১৫ই অগাস্ট এর আগে আপনারা আমাকে অনেক পরামর্শ ও প্রস্তাব দিয়ে থাকেন। এবছরও আপনারা অবশ্যই আপনাদের চিন্তা ভাবনা my gov পোর্টালে অবশ্যই পাঠান। আমি আপনাদের প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছি।
বন্ধুরা, মন কি বাত আজ এই পর্যন্ত। আগামী মাসে আমরা আবার মিলিত হবো দেশবাসীর সঙ্গে অনেক নতুন উপলব্ধি আর উৎসাহব্যঞ্জক উদ্যোগ নিয়ে। এখন আমাকে অনুমতি দিন। অনেক অনেক ধন্যবাদ, নমস্কার।
Discussing various topics during this month’s #MannKiBaat… https://t.co/3JQbPB3eYb
— Narendra Modi (@narendramodi) July 26, 2026
Kargil Vijay Diwas fills us with pride. This day reminds us of the extraordinary courage of our brave soldiers.#MannKiBaat pic.twitter.com/MgC4AcO4rX
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
India continues to strengthen its defence capabilities.#MannKiBaat pic.twitter.com/pz7NQXflHE
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
India is emerging as a trusted global defence partner.#MannKiBaat pic.twitter.com/cIjBtcvrJE
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
The 'Catch the Rain' campaign is gaining momentum with enthusiastic public participation across the country.#MannKiBaat pic.twitter.com/6hRzgOmWZX
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
India's sporting achievements continue to inspire the nation.#MannKiBaat pic.twitter.com/03O2ERHal9
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
In Keralam, a unique initiative blends Sanskrit learning with football.#MannKiBaat pic.twitter.com/OE9LT7MAQh
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
From the successful launch of Vikram-1 to India's impressive performance in international science Olympiads, the country continues to make its mark in science and innovation.#MannKiBaat pic.twitter.com/8goaDrkqH3
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
Kashmir's traditional 'Wagoo' mat is making a comeback, thanks to the efforts of local artisans who are keeping this unique craft alive.#MannKiBaat pic.twitter.com/Ju8irHrcq1
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
A herbal tea made by women from a Self-Help Group in Uttar Pradesh is becoming a symbol of self-reliance.#MannKiBaat pic.twitter.com/Ilq9Esei5g
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
Across the country, inspiring efforts are showing how people are coming together to protect nature and conserve biodiversity.#MannKiBaat pic.twitter.com/9JjdgMtNro
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
An inspiring initiative from Bihar is showing how plastic waste can be turned into valuable resources.#MannKiBaat pic.twitter.com/eGiJUQfNvQ
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
A remarkable achievement by an astrophysicist from Manipur.#MannKiBaat pic.twitter.com/8BUeuqgdLD
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
The growing popularity of handloom and Khadi is helping preserve India's timeless traditions while empowering weavers and local communities.#MannKiBaat pic.twitter.com/TaRy4PLy7O
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
An inspiring effort from Tripura is helping revive a traditional musical instrument and keeping India's vibrant folk music traditions alive.#MannKiBaat pic.twitter.com/gapYis53es
— PMO India (@PMOIndia) July 26, 2026
Salute to all those who protect our nation and make it even stronger! #MannKiBaat pic.twitter.com/G0qWKhL53j
— Narendra Modi (@narendramodi) July 26, 2026
‘Catch the Rain’ campaign has a simple message…to conserve water effectively. Highlighted efforts from Madhya Pradesh, Maharashtra, Andhra Pradesh, Chhattisgarh and Odisha in this regard. #MannKiBaat pic.twitter.com/qOXWwLQOCC
— Narendra Modi (@narendramodi) July 26, 2026
A hard-earned victory is special, but when it happens at an iconic venue, it adds to the joy!
— Narendra Modi (@narendramodi) July 26, 2026
This is exactly what happened when our women’s cricket team won at Lord’s! Congratulations to the team and best wishes for their endeavours ahead. #MannKiBaat pic.twitter.com/A08ngF3rwd
In Ernakulam, Keralam, a unique effort took place that beautifully merges football with Sanskrit. #MannKiBaat pic.twitter.com/cZYqSEuVwK
— Narendra Modi (@narendramodi) July 26, 2026
കേരളത്തിലെ എറണാകുളത്ത്, ഫുട്ബോളിനെയും സംസ്കൃതത്തെയും മനോഹരമായി സമന്വയിപ്പിക്കുന്ന ഒരു വേറിട്ട ശ്രമം നടന്നു.#MannKiBaat pic.twitter.com/YS5xeyd9ti
— Narendra Modi (@narendramodi) July 26, 2026