Search

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দিল্লিতে বিজয়া দশমী উদযাপনে অংশগ্রহণ

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দিল্লিতে বিজয়া দশমী উদযাপনে অংশগ্রহণ


নয়াদিল্লি, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ 

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ দিল্লিতে বিজয়া দশমী উদযাপনে অংশগ্রহণ করেন। দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। ভারতের প্রতিটি গ্রাম ও শহর যে রামলীলা আয়োজনে মগ্ন হয়ে থাকে, তার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ভগবান রামের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার ঐতিহ্যের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, এই ঐতিহ্য অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের বার্তা দেয় এবং মিথ্যার ওপর শাশ্বত সত্যের জয়কে তুলে ধরে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আমাদের কাছে এটি কেবল একটি উৎসব নয়; এটি ভারতের প্রাণশক্তি।”

ভারতীয় সংস্কৃতি ও আমাদের পূর্বপুরুষদের ভগবান শ্রী রামের প্রতি হাজার বছরের ভক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই গভীর শ্রদ্ধা কেবল রাবণ বধের বিজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতির অটল বিশ্বাস নিহিত রয়েছে সেই শাশ্বত মূল্যবোধগুলির মধ্যে, যা ভগবান রাম বিশ্বকে দিয়ে গেছেন। শ্রী মোদী বলেন, “ভগবান রাম আমাদের এমন সব আদর্শ দিয়েছেন, যা মানব ইতিহাসে অতুলনীয়।”
এই শ্লোকের মাধ্যমে তিনি তুলে ধরেন যে, রাজ্যাভিষেক হোক বা বনবাস, উভয় পরিস্থিতিতেই ভগবান রাম অবিচল ও প্রশান্ত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, কীভাবে বনবাসকালে ভগবান রাম প্রতিটি সঙ্কটের মুহূর্তে ধর্মকে সমুন্নত রেখেছেন, নিষাদরাজকে আলিঙ্গন করেছেন এবং মাতা শবরীকে সম্মান জানিয়েছেন।

অযোধ্যার রাজা হিসেবে ভগবান রামের প্রত্যাবর্তনের পর ‘রামরাজ্য’ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী একে এমন এক বৈষম্যহীন শাসনব্যবস্থার চূড়ান্ত আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে প্রত্যেকে ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ পায়। এই ব্যবস্থায় ক্ষমতা কোনও কর্তৃত্ব প্রদর্শনের মাধ্যম নয়, বরং জনকল্যাণের হাতিয়ার।

তিনি প্রশাসনকে ‘নাগরিক দেবো ভব’ (নাগরিকই ঈশ্বর)— এই মন্ত্র মেনে জনসাধারণকে দেবতার মতো গণ্য করার মাধ্যমে ‘মর্যাদা পুরুষোত্তম’-এর আদর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানান। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সেবাকে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

সমুদ্র পেরিয়ে লঙ্কায় যাওয়ার পথে ভগবান রামের যাত্রা থেকে আত্মনির্ভরতার গভীর শিক্ষা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, সঙ্কটের সময়ে অন্যের ওপর নির্ভর না করে, ভগবান রাম ‘জন অংশীদারিত্ব’কে জাগ্রত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের কঠোর পরিশ্রম ও বিচক্ষণতার এই মূলমন্ত্রটি গ্রহণ করার আহ্বান জানান, যাতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা যায় এবং ‘বিকশিত ভারত’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়।

জাতীয় অগ্রগতিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আত্মমর্যাদাবোধের সঙ্গে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। গত ১২ বছরে ভারত তার ৬৫০টিরও বেশি প্রাচীন মূর্তি ও প্রত্নবস্তু বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনেছে, যা ভারতের নিজস্ব পরিচয় রক্ষার প্রচেষ্টারই অংশ। তিনি ভারতের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলির প্রতি বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতির কথাও উল্লেখ করেন। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ভারতের অনেকগুলি স্থানের অন্তর্ভুক্তি এবং গত বছর কোটি কোটি ভারতীয়র সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তির ফলে ইউনেস্কোর তালিকায় দীপাবলির অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। শ্রী মোদী বলেন, “ভবিষ্যতেও আমাদের এই একই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”

তিনি নাগরিকদের ‘দেশ সর্বাগ্রে’ এই শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে ‘মা ভারতী’-র শত্রুদের, বিশেষ করে যারা জাতীয় সম্মান ক্ষুণ্ণ করে, সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি ঘৃণা পোষণ করে, তাদের চিহ্নিত করে পরাজিত করা যায়। প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “যখন আমরা সত্য ও মানবতার পক্ষে দাঁড়াই, তখন শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হয়।” নিজের বক্তব্যের শেষে গভীর প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী অযোধ্যা মন্দিরে ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ অনুষ্ঠানের সময় নেওয়া পবিত্র সংকল্পগুলির কথা স্মরণ করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “‘রাম থেকে রাষ্ট্র’ এবং ‘দেব থেকে দেশ’ – আমরা যে দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছি, তা আমরা অবশ্যই পূরণ করব।”

 

SC/MP/SB