পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ১ অগাস্ট অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কর্ণাটক সফর করবেন। অন্ধ্রপ্রদেশের ভিজিয়ানাগরম জেলার ভোগাপুরমে আল্লুরি সীতারামা রাজু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীদের জন্য নির্মিত টার্মিনাল ভবনটি বেলা ১১টার সময় তিনি ঘুরে দেখবেন। এরপর ১১.৩০ মিনিটে বিমানবন্দরের উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও ভোগাপুরমে ১৭,৯০০ কোটি টাকার একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন তিনি। এই উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শ্রী মোদী ভাষণ দেবেন। এরপর বিকাল ৩.৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মাইসুরুতে শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমে স্বামী বিবেকানন্দ কালচারাল ইয়্যুথ সেন্টার- বিবেক স্মারকের উদ্বোধন করবেন এবং এই উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে ভাষণ দেবেন।
অন্ধ্রপ্রদেশে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী অন্ধ্রপ্রদেশের ভিজিয়ানাগরম জেলার ভোগাপুরমে আল্লুরি সীতারামা রাজু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন করবেন। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে নির্মিত এই গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর থেকে বছরে ৬০ লক্ষ যাত্রী যাওয়া-আসা করতে পারবেন। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫৬৪০ কোটি টাকা।
এই বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য নির্মিত টার্মিনাল ভবনটি অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। বিমানবন্দরটিতে আধুনিক পরিকাঠামো রয়েছে। এরফলে এটি দক্ষভাবে পরিচালনা করা যাবে এবং ভবিষ্যতের সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
এই বিমানবন্দরে কৃত্রিম মেধা, এয়ারসাইড ৪.০ প্রযুক্তি, বিমানবন্দরের পরিচালনগত বিশেষ ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ সহ নানাবিধ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এরফলে বিমানবন্দরটির পরিচালনগত দক্ষতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি যাত্রী সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যও বাড়বে। বিমানবন্দর পরিচালনার সময় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই প্রকল্পে জ্বালানিকে দক্ষভাবে কাজে লাগিয়ে তাপমাত্রা এবং বায়ুপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে একটি ৫ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। বৃষ্টির জল সংরক্ষণেরও বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। পাশাপাশি দক্ষভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে এখানে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ বান্ধব গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের নিবন্ধীকৃত এই বিমানবন্দরের টার্মিনালে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা থাকছে।
বিমানবন্দরের স্থাপত্যে অন্ধ্রপ্রদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন পাওয়া যায়। টার্মিনাল ভবনের ছাদে চুট্টিলু শিল্পকলা এবং আরাকু ভ্যালির ছবি রয়েছে। পাশাপাশি একটি উড়ুক্কু মাছ আঁকা হয়েছে। এই বিমানবন্দরটি অন্ধ্রপ্রদেশের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।
প্রধানমন্ত্রী বিশাখাপত্তনমে এএসআইপি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। এটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৪৬০ কোটি টাকা। দক্ষিণ কোরিয়ার এপিএসিটি-র সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে এএসআইপি টেকনোলজিস প্রাইভেট লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। অন্ধ্রপ্রদেশে এটি প্রথম ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনের আওতায় প্রথম প্রকল্প। এখান থেকে বছরে ৯ কোটি ৬০ লক্ষ সেমিকন্ডাক্টর চিপ তৈরি হবে। এই প্রকল্পে প্রচুর দক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি অনেক অনুসারী শিল্পও গড়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার গ্রিডের কুর্নুল-৪ পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি কেন্দ্রের প্রথম পর্বের শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এখান থেকে ৪.৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রকল্পটি রূপায়ণে ব্যয় হবে ৫৫৫০ কোটি টাকা। শ্রী মোদী কুর্নুলে বায়ুশক্তি ও সৌরশক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুতের বন্টন ব্যবস্থাপনারও উদ্বোধন করবেন। এই প্রকল্পের প্রথম দুই পর্ব নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৫৫০ কোটি টাকা। পাওয়ার গ্রিড অনন্তপুরমে ২,৫০০ মেগাওটার ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরশক্তি বন্টন প্রকল্প নির্মাণ করেছে। এছাড়াও কুর্নুলে ১০০০ মেগাওটার ক্ষমতাসম্পন্ন আর একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বন্টন সংক্রান্ত এই প্রকল্পগুলি কুর্নুল এবং অনন্তপুরমে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের মধ্য দিয়ে উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেবে। এর ফলে পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করবে। জীবাশ্ম জ্বালানিকে ব্যবহার করে উৎপাদিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে। কার্বন নিঃসরণ কমানোর যে উদ্যোগ ভারত নিয়েছে সেই লক্ষ্যে আরও একধাপ এগোনো সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে ১৮৮০ কোটি টাকার একগুচ্ছ জাতীয় সড়ক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে ৩৬৫ বিজি জাতীয় সড়কের রেচেরলা থেকে গুরুভেয়গুদেম এবং গুরুভেয়গুদেম থেকে দেভেরাপাল্লের মধ্যে গ্রিনফিল্ড ৪ লেনের মহাসড়ক নির্মাণ, ৬৭ নম্বর জাতীয় সড়কের জন্য তাড়িপত্রি বাইপাস। শ্রী মোদী ৫৬৫ নম্বর জাতীয় সড়কে পেঞ্চালাকোনা-ইয়েরপেড়ু শাখায় লিঙ্গসমুদ্রমে একটি সেতুর শিলান্যাস করবেন। এরফলে বিজয়ওয়াড়া শহরে যানজট কমবে। বিশাখাপত্তনম ও হায়দ্রাবাদের মধ্যে আরও সহজে যাতায়াত করা যাবে। সমগ্র অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে।
কর্ণাটকে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী মাইসুরুতে শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমে স্বামী বিবেকানন্দ কালচারাল ইয়্যুথ সেন্টার- বিবেক স্মারকের উদ্বোধন করবেন। ১৮৯২ সালের নভেম্বরে তাঁর ভারত ভ্রমণের সময় স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক মাইসুরু সফরকে স্মরণ করে এই বিবেক স্মারক নির্মিত হয়েছে। স্বামীজি সেই সফরের সময় বহু বিদ্বজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তিনি মহারাজা দশম শ্রী চামারাজেন্দ্র ওয়াড়িয়রের আতিথেয়তা পেয়েছেন। মহারাজ তাঁকে ১৮৯৩ সালে শিকাগো ধর্মসভায় যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেন।
বিবেক স্মারকটি ঐতিহাসিক নিরঞ্জন মাঠে গড়ে উঠেছে। ঐতিহাসিক এই স্থানে মূল ভবন ছাড়াও একটি অ্যানেক্স বিল্ডিং রয়েছে। ৮১,০০০ বর্গফুট অঞ্চল জুড়ে নির্মিত এই স্মারকে ফোর-ডি এক্সপিরিয়েন্স সেন্টার, প্রদর্শশালা, প্রেক্ষাগৃহ, শ্রেণীকক্ষ, সম্মেলন কক্ষ, গ্রন্থাগার, যোগ কক্ষ এবং বই বিপণন কেন্দ্র থাকছে। যেসব ছাত্রছাত্রী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের এই কেন্দ্রে সহায়তা করা হবে।
স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও দর্শনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই যুব সংস্কৃতিক কেন্দ্রটি মূল্যবোধের শিক্ষা প্রদান করবে। যুব সম্প্রদায়ের নেতৃত্বদানের ক্ষমতা তৈরি হবে এবং তাঁদের চরিত্রের বিকাশ ঘটবে। নিকটবর্তী শিক্ষাকেন্দ্রগুলির প্রায় ১০,০০০ ছাত্রছাত্রী এরফলে উপকৃত হবেন। স্বামী বিবেকানন্দের দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে যুব সম্প্রদায়কে উদ্বুদ্ধ করতে এখানে নানা ধরনের বক্তৃতা ও কর্মশালার আয়োজন করা হবে।
SC/CB/NS….