পিএমইন্ডিয়া
আজ ২রা অক্টোবর, দুইমহাপুরুষ মহাত্মা গান্ধী এবং লালবাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মদিন। আজ তাঁদের এইপুনঃস্মরণ দিবসেই প্রবাসী ভারতীয় কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন হল। এই শুভ সূচনার জন্যএটাই সবচাইতে উপযুক্ত দিন। মহাত্মা গান্ধী জীবিকার সন্ধানে এদেশ ছেড়ে দক্ষিণআফ্রিকা প্রবাসী হয়েছিলেন। কিন্তু এই দেশের মাটির আহ্বানে তিনি দেশে ফিরেস্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আজ জীবিকার সন্ধানে বিশ্বের নানা প্রান্তেপৌঁছে যাওয়া সফলকাম ব্যক্তিদের জন্য মহাত্মা গান্ধীর এই প্র্রত্যাবর্তনের চাইতেঅধিক প্রেরণা আর কী জোগাতে পারে ?
বছরেরপর বছর ধরে আমরা একটা কথা শুনে আসছি। আমাদের নবীন প্রজন্মের মেধাবী সন্তান-সন্ততিরালেখাপড়া শিখে বিদেশে চলে যায়। শুনতে শুনতে ‘ ব্রেন ড্রেন, ব্রেন ড্রেন ’ – এই শব্দ দুটি আমাদের অত্যন্ত পরিচিত।কিন্তু গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া ভারতীয়দের আমরা যদি নিছকই সংখ্যারূপে না দেখেশক্তিরূপে দেখি তাহলে যে ‘ ব্রেন ড্রেন ’ এতদিন আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ ছিলসেটাকেই আমরা ‘ ব্রেন গেন ’ এ রূপান্তরিত করতে পারবো।
নদীতেঅনেক জল প্রবাহিত হয়। কিন্তু কেউ যদি বাঁধ দিয়ে তা থেকে শক্তি উৎপাদন করতে পারেতাহলে সেই জল শক্তির উৎসরূপে বিবেচিত হয়। তেমনি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকাপ্রবাসীদের সঙ্গে নিরন্তর সম্পর্ক রক্ষা করে আমরা তাদের বুদ্ধি ও বৈভবকে দেশেরউন্নয়নের কাজে লাগাতে পারি। নীতি আয়োগ স্হাপনের পর থেকেই এই আয়োগ এক্ষেত্রে অনেকগুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। এই প্রথম স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে দেশের নথিপত্রে প্রবাসীভারতীয়দের সামর্থ্য নথিভুক্ত হয়েছে। আমরা আজ দেশবাসীকে জানাতে পারছি যে আজ বিশ্বেরনানা দেশে কর্মরত বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়দের সংখ্যা হল প্রায় পৌনে তিন কোটি।বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে নানা সময়ে ভারতীয় মিশন পৌঁচেছে, এছাড়া একা একা অসংখ্যপ্রবাসী ভারতীয় পৌঁছে গেছেন।
অনেকদেশ এমন রয়েছে যেখানে মিশনের শক্তির থেকে কয়েক গুণ শক্তি রয়েছে প্রবাসী ভারতীয়দের।কয়েকটি মিশন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের কাজকর্ম পরিচালনা করে। এ ধরণের
বিচ্ছিন্ন প্রয়াস দীর্ঘকাল ধরেই নিরন্তরজারি রয়েছে। আমরা এই বিচ্ছিন্ন প্রয়াসগুলিকে সংগঠিত করে একটি শক্তিরূপে দেশেরউন্নয়ণে কাজে লাগাতে চাইছি।
ফলেগোটা বিশ্বে ভারতের প্রতি আগ্রহ ও আকর্ষণ বেড়েছে। এমন সময়ে ‘ অজানাকে ভয় ’ আড়ষ্টতা কারণ হয়ে ওঠে। আর এই প্রবাসী ভারতীয়দের ‘ অজানাকে ভয় ’ -কে মেটানোর সামর্থ্যও রয়েছে। আমরা যেদেশেই যাই না কেন, সেই অজানা দেশে প্রবাসী ভারতীয়দের উপস্হিতি, সেদেশের নাগরিকহিসেবে সেদেশে মানুষজন ও প্রকৃতির সঙ্গে তাদের নিবিড় পরিচয় আমাদের আত্মবিশ্বাসবৃদ্ধির সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। সেসব দেশে তাদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেশে বসবাসকারীতাদের আত্মীয় পরিজনদের পরিবারের নবীন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদেরও প্রবাসী হতে উদ্বুদ্ধকরে। বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী ভারতীয়রা এখন সকলের আগ্রহ সৃষ্টি করছেন। তাদেরসকলকে আমরা দেশের সঙ্গে যুক্ত রাখতে চাই। এক্ষেত্রে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী আমাদের পথিকৃত। তিনিই প্রথম এই প্রবাসী ভারতীয় দিবস প্রচলন করেন।পরবর্তী সরকারগুলিও এই দিবস পালন জারি রেখেছেন। সক্রিয়ভাবে এই লাগাতার দিবস পালনেরমাধ্যমে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভারতীয়রা আজ অনুভব করতে শুরু করেছেনযে, আমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন দেশের সরকার আমাদের খোঁজ-খবর রাখছে।
আপনারাহয়তো লক্ষ্য করেছেন বিগত দুই বছরে সক্রিয় মানবিক পদক্ষেপ নিয়ে যে কোনও দেশ যুদ্ধ,সন্ত্রাস কিম্বা বিপর্যয়গ্রস্ত হলে সেই দেশে বসবাসকারি বিদেশীদের মধ্যে ভারতীয়দেরউদ্ধারে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়েছে আমাদের বিদেশ মন্ত্রক। আমাদের সক্রিয়তা দেখে এখনবিশ্বের বড় বড় দেশও তাদের নাগরিকদের উদ্ধার করার ক্ষেত্রে ভারতীয় দূতাবাসেরসাহায্য নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমরা ভারতীয় ছাড়াও অন্যান্য ৮০টি দেশের নাগরিকদেরউদ্ধার করেছি, কিম্বা উদ্ধারকার্য্যে নেতৃত্ব দিয়েছি।
নেপালেরভূমিকম্পের কথা স্মরণ করুন। তখন আমরা শুধু সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দেরই উদ্ধারকরিনি, আপামর নেপালবাসীকে উদ্ধার করার কাজে যা কিছু করা সম্ভব-সবই করেছি। ইয়েমেন,মালদ্বীপের মতো দেশগুলির প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও আমরা সবার আগে ঝাঁপিয়েপড়েছি। এটাই আমাদের জাতীয় চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য। সেজন্যেই বিশ্বের সর্বত্র আজভারত মানবতার প্রেরণাস্রোত হয়ে উঠেছে। মানব সভ্যতার অগ্রগতি ও মানবিকতার ক্ষেত্রেভারতের নিরন্তর অবদানকে আজ গোটা বিশ্ব স্বীকৃতি দিচ্ছে। শুধুই আমাদের মহানসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়, আমাদের সুভদ্র ইতিহাস নয়, আমাদের বর্তমান ক্রিয়াকলাপও গোটাবিশ্বের সমীহ আদায় করে নিয়েছে। বর্তমান ভারত সরকারের সক্রিয় উদ্যোগে বিশ্ববাসীরশ্রদ্ধা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতকখনও সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে অন্য দেশের মাটি দখল করতে যায়নি। প্রথমবিশ্বযুদ্ধ কিম্বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমাদের দেশের সৈনিকরা সক্রিয় অংশগ্রহণকরেছে। এই দুই বিশ্বযুদ্ধে আমাদের দেড় লক্ষেরও বেশি সৈনিক শহীদ হয়েছে। এই দেশনিজে থেকে কখনও কাউকে আক্রমণ করেন। আজ আমি বিশ্বের যে দেশেই যাই সেখানে একজনভারতীয় সৈনিকের সমাধি থাকার খবর পেলেই আমি সেখানে কপাল ঠেকিয়ে প্রণাম জানাতে যাই।আর বিশ্ববাসী মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন যে অন্যদেশের মানুষদের বাঁচাতে গিয়েও আমাদেরদেড় লক্ষাধিক সৈনিক প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। এহেন
কৃতিত্ব আর কোনও দেশের ঝুলিতে নেই। এইউজ্জ্বল আত্মদানগাথা-ও আমাদের ঐতিহ্য। এগুলি আমাদের শক্তি। বিশ্ববাসীকে আমাদের এইশক্তি ও সামর্থ্য সম্পর্ক অনুভব করানোর দায়িত্বও আমাদেরই পালন করতে হবে।
আগামীদিনেও আজ বিশ্ববাসী ভারতকে যে দৃষ্টিতে দেখছে, ভারতের কাছে যা যা প্রত্যাশা করেসেগুলি বাস্তবায়িত করতে প্রবাসী ভারতীয়দের অন্যান্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাপালন করতে হবে। প্রবাসী ভারতীয়রা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে সেসব দেশের ক্ষমতা দখলের লড়াইয়েনেমে পড়েন না। তাঁরা সেসব দেশে থেকে এই দেশগুলির উন্নয়নে অংশগ্রহণ করেন। পৃথিবীরযেসব দেশে বিশ-পঁচিশ-পঞ্চাশ-একশো বছর ধরেও ভারতীয়রা ভারী সংখ্যায় বসবাস করেন, সেসবদেশে ভারতীয়দের নিয়ে কোনওদিন কোনও সমস্যা হয়নি। তাঁরা অনায়াসে অন্যদের সঙ্গেমিলেমিশে গিয়েছেন। নিজেদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা-সংস্কৃতিকে না ভুলেও অপরেরসংস্কৃতিকে এমনভাবে আপন করে নেন যে সে দেশের মানুষ ভারতীয়দের ভালবাসতে শুরু করেন।সেই ভালবাসাই আমাদের শক্তি হয়ে ওঠে। এটাই ভারতীয়দের বৈশিষ্ট্য।
ভারতেপর্যটন বিকাশের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আপনারা বিশ্বের অনেক দেশে বেড়াতে গেলেবিনোদনের অনেক উপকরণ দেখতে পাবেন, উপভোগ করতে পারবেন, কিন্তু ভারতের মতো হাতেগোনাকয়েকটি দেশ রয়েছে যেখানে গেলে মানবসভ্যতার বিকাশের নানা স্তর এবং ইতিহাসের মহানঐতিহ্যগুলিকে ছুঁয়ে দেখে অনুভব করা যায়। আমরা পর্যটকদের ভাল থাকা-খাওয়ার ব্যবস্হাকরে দেব। বিলাস-বহুল হোটেলে থাকার বন্দোবস্ত করতে পারবো। তাঁরা অনুপম সব ভাস্কর্যও নির্মাণশৈলী দেখতে পাবেন।
পৃথিবীরঅনেক দেশে গিয়ে ঐতিহাসিক কিছু দেখতে চাইলে ২০০ বছর কিম্বা চারশো বছর পুরনো কিছুদেখানো হবে। কিন্তু আমাদের কাছে এলে আমরা ৫০০ বছর পুরনো মানব সভ্যতার নানা নিদর্শনথেকে দেখানো শুরু করতে পারি। এই প্রত্যয় নিয়েই ভারত প্রবাসী ভারতীয় দিবস পালন করতেচায়।
যারাএকশো বছর আগে ভারত থেকে বিদেশে গিয়েছেন, তাঁরা শুধু জানেন যে আমাদের গায়ের রং আমাদেররক্তের উৎস ওই ভারতের মাটিতে রয়েছে। এই প্রবাসী ভারতীয় দিবস তাদেরকে শেকড়েরসন্ধান দেবে, কোন রাজ্যের কোন গ্রাম থেকে তাঁর পূর্বপুরুষেরা গিয়েছেন, মা-কিম্বাবাবার কাছে ছোটবেলা থেকে শুনতে থাকা সেই জেলা কিম্বা গ্রামের সন্ধান দেবে এইকেন্দ্র। যে পৌনে তিন কোটি প্রবাসী ভারতীয় সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছেন, যারা শুধু ওয়েবসাইটেদেশ ও গ্রামকে দেখেছেন তাদেরকে এই কেন্দ্র বাস্তবে নিজের শেকড়ের উষ্ণতা দেবে।এখানে সবাই তাদেরকে বাড়ির মানুষের মতো আপন করে নেবে। আসুন আসুন ভাই, বিহারের অমুকরেলস্টশনে যেতে চান, ঠিক আছে, এভাবে এভাবে যেতে পারেন। দেখি খোঁজ নিয়ে ওই গ্রামেআপনার কোনও আত্মীয় বেঁচে আছেন কি না ? এটি অত্যন্তক্ষেত্রনির্দিষ্ট ব্যবস্হা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীভারতীয়দের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী ব্যবস্হা হয়ে উঠবে। আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছাজানাই।
আমাকেবলা হয়েছে যে প্রায় ৬০-৭০টি দেশের প্রবাসী ভারতীয়রা প্রযুক্তির মাধ্যমে এইঅনুষ্ঠান দেখছেন। আজ এখানে আর একটি সুবিধারও আয়োজন হয়েছে। যোগের কারণে ভারতেরপ্রতি বিশ্বের আগ্রহ বেড়েছে। গোটা বিশ্ব আজ যোগাভ্যাসকেন্দ্রিক উৎসব পালনেরউদ্যোগ নিচ্ছে। অনেক দেশের সরকার, শীর্ষস্হানীয় নেতা-নেতৃরা যুক্ত হচ্ছেন। যোগেরপ্রতি শ্রদ্ধা বাড়ছে। মানসিক সমস্যায় জর্জর সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি মনে শান্তিজোগানোর পথ না খুঁজে পান, তাহলে ভারত তাদের পথ দেখাবে। ভারতে শরীর, মন, বুদ্ধিকেযুক্ত করার একটি উন্নত ব্যবস্হা রয়েছে। সেজন্যেই আমরা ২১শে জুনকে আন্তর্জাতিক যোগদিবস হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাব রাখতেই বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ সেই প্রস্তাবসানন্দে গ্রহণ করেছে। সেই সময় আমি সারা দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি,ভারতীয়দের আমন্ত্রণ জানিয়েছি, যোগের প্রচার ও প্রসার খুবই ভাল কথা। কিন্তু যোগ যদিরোগ সারায় তাহলে সাধারণ মানুষের খুবই উপকার হয়। আমি যোগ বিশারদদের বলেছি, ভারতেযেভাবে মধুমেহ বাড়ছে, প্রত্যেক বয়সের মানুষ মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ; এই রোগ অন্যান্য রোগকেও নিমন্ত্রণজানায়, এই মহামারী থেকে বাঁচার উপায় খুঁজে বের করুন। কিভাবে মধুমেহ নিয়ন্ত্রণ করাযায়, আপেক্ষিকভাবে যোগকে অনুসরণ করলে কি আমরা ক্ষেত্র নির্দিষ্ট মধুমেহ থেকেমুক্তি পেতে পারি ? তাঁরা আমাকে বলেছেন যে, তারা ইতিমধ্যেই একটিব্যবস্হা গড়ে তুলেছেন যেগুলি অভ্যসা করলে মধুমেহ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এবিষয়ে লেখা চিকি ৎ সা গ্রন্হটির আজ আমিপ্রকাশ করেছি। এখানে উপস্হিত আছেন বিশিষ্ট যোগবিশারদ ডাঃ নগেন্দ্র। আয়ূষ মন্ত্রকএই বিষয়টি তদারকি করে। সেই মন্ত্রকের আধিকারিকরাও এখানে রয়েছেন।
স্বয়ংমহাত্মা গান্ধী প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে রোগ নিরাময়ের পক্ষপাতী ছিলেন। আজ তাঁরজন্মদিনেই আমরা আন্তর্জাতিক প্রবাসী ভারতীয় দিবস কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন করছি। এইকেন্দ্রের মাধ্যমে গোটা পৃথিবীতে যোগবিদ্যার জনপ্রিয়তা বাড়বে। ঠিক দিনেই এই মধুমেহনিরাময় পদ্ধতি সংক্রান্ত পুস্তকটি প্রকাশিত হল। গতবছর আজকের দিনে আমি এবিষয়েগবেষণার আহ্বান করেছিলাম।
আমিবিদেশমন্ত্রককে অভিনন্দন জানাই। সরকারে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, বৈঠক হয়তারপর আবার নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, মিটিং হয়, নতুন বিষয় এসে পুরনো বিষয়কেচাপা দিয়ে দেয়, ক্রমে পুরনো চিন্তাগুলি হারিয়ে যায়। অথবা অর্থদপ্তরে গিয়ে আটকেথাকে। সবাই জানেন সরকার সাধারণত এভাবেই চলে। কিন্তু বিদেশমন্ত্রক নয় মাসের মধ্যেই আমারপ্রস্তাব বাস্তবায়িত করেছে, তা হল বিশ্বজুড়ে ভারত সংক্রান্ত কুইজ প্রতিযোগিতারআয়োজন। নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা ভারতকে কে কতটা জানে সে সম্পর্কে বিশ্বময়প্রতিযোগিতার আয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অনলাইনে ভারত বিষয়ক হাজার হাজারপ্রশ্নের জবাব দেওয়ার ব্যবস্হা থাকবে।
বিশ্বেরপ্রায় সমস্ত দেশের নবীন প্রজন্মের মানুষ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। অনেকেইকল্পনার আশ্রয় নিয়েছেন। এমনিতে ভারতের ছেলেমেয়েদেরও যদি জিজ্ঞেস করেন তাজমহল কোথায় ? তাহলে তারা সবাই জবাবদিতে পারবে না। কিন্তু প্রবাসী কিশোর-কিশোরীরা অনলাইনে খুঁজে ঠিকঠাক জবাব দিচ্ছে।অনলাইনে এমন তথ্যের আন্দোলন শুরু হয়েছে যে আগামী দিনে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা ভারতীয়রা প্রয়োজনে ভারত সংক্রান্ত যেকোন তথ্য পাবেন। এই
তথ্যাবলী কেবলই জ্ঞানবর্ধক নয়, কেবলইভারতের প্রতি তাদের মনে আকর্ষণ বৃদ্ধি করবে না। এই তথ্যাবলী তারা যখন স্কুল-কলেজেযাবে, অভারতীয় বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আড্ডা মারবে- তখনও হয়তো আলোচিত হবে। ভারত এমন,ভারত নিয়ে আমি এসব পড়েছি, কিম্বা ভারতে আজ এই ঘটনা ঘটেছে। এভাবেই বন্ধুদের মনে তারাঅজান্তেই ভারত ভ্রমণের বীজ বপন করে দেবে। এই ক্যুইজ প্রতিযোগিতাগুলি ভবিষ্যতেসর্বাধিক সফল পর্যটনের বীজ বপনের কাজ করবে।
যারাএই প্রতিযোগিতাগুলিতে বিজয়ী হয়েছেন তাদের অভিনন্দন জানাই। আপনারা ভারত দর্শনেরসুযোগ পাবেন। হয়তো আপনাদের মধ্যে অনেকেই প্রথমবার ভারতে এসেছেন। আমি নিউজিল্যান্ডথেকে আসা বরুণকে, সাউথ আফ্রিকা থেকে আসা অখিলকে, কেনিয়া থেকে আসা কার্তিক, ইউএসএথেকে আসা আদিত্য, আয়ারল্যান্ড থেকে আসা শ্বেতা, ইউএই থেকে আসা আদিত্য- প্রত্যেককেঅভিনন্দন জানাই। তাদের সবার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আপনারাযে উৎসাহ দেখিয়েছেন, গোটা পৃথিবী থেকে প্রায় ৫ হাজার নবীন প্রজন্মের মানুষ এইপ্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। এই ৫ হাজার প্রতিযোগীর কাছে আমার আবেদন, আপনারাঅনলাইনে ভারতের পর্যটন সম্ভাবনার প্রসারের দায়িত্ব নিন। আগামীবার যাতে সারা পৃথিবীথেকে নিদেনপক্ষে ৫০ হাজার নবীন প্রজন্মের মানুষ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। তারপরবিজয়ী হয়ে এবারের তুলনায় দশগুণ যুবক-যুবতী ভারত ঘুরতে আসেন। এতো কম সময়ে সাফল্যেরসঙ্গে এই প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করার জন্য আমি বিদেশমন্ত্রক ও বিদেশদপ্তরেরসংশ্লিষ্ট সকল আধিকারিক ও কর্মীদের শুভেচ্ছা জানাই। এভাবে আপনারা আজ ২রা অক্টোবরেরপবিত্র দিনটিতে প্রবাসী ভারতীয়দের সর্বোত্তম উপহার দিয়েছেন। এই কেন্দ্র ইতিমধ্যেইপ্রবাসী ভারতীয়দের আশিয়ানা হয়েছে উঠেছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/ SB/NS…
We are inaugurating this Kendra on a significant day- 2nd October. Gandhi JI had left India but the call of the nation brought him back: PM
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2016
Let us view our diaspora not only in terms of 'Sankhya' but let us see it as 'Shakti.' : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2016
World's keenness to engage with India has risen. In such times 'fear of unknown' can be an obstacle. Our diaspora can help overcome this: PM
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2016
Connecting with the diaspora is essential. Atal Ji started idea of PBD and it has been continued thereafter: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2016
Through Yoga, can we overcome diabetes? Or control diabetes. Had spoken about it during the 2016 Yoga Day also: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 2, 2016