Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীরপ্রেস বিবৃতি (১০ মার্চ, ২০১৮)    


আমার বন্ধু, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রঁ, 

প্রতিনিধিদল ও গণমাধ্যমের মাননীয় সদস্যবৃন্দ, 

নমস্কার, 

  

আমি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ এবং তাঁর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ স্বাগতজানাই। মাননীয় রাষ্ট্রপতি, কয়েক মাস আগে আপনি গত বছর প্যারিসে আমাকেও স্বাগতজানিয়েছিলেন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আজ ভারতের মাটিতে আমি আপনাকে স্বাগত জানানোরসুযোগ পেয়েছি। 

  

মাননীয় রাষ্ট্রপতি, 

  

আমরা উভয়েই এই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছি। আমরা যে কেবলমাত্র দুই শক্তিশালীস্বাধীন এবং বৈচিত্র্যময় গণতান্ত্রিক দেশের নেতা তাই নই, দুই সমৃদ্ধ ও সক্ষমঐতিহ্যের উত্তরসূরী। যদিও আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব ২০ বছরের পুরনো, কিন্তুআমাদের সভ্যতার ভাবগত অংশীদারিত্ব শত শত বছরের প্রাচীন।  

  

উনবিংশ শতাব্দীর সময় থেকে ফরাসী চিন্তাবিদরা পঞ্চতন্ত্রের কাহিনীর মধ্যদিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ এবং শ্রী অরবিন্দের মতো মহান ব্যক্তিত্বদের কাহিনীর মধ্য দিয়ে,বেদ, উপনিষদ এবং মহাকাব্যের মধ্য দিয়ে ভারত আত্মার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন।ভলতেয়ার, ভিক্টর হুগো, রোমা রোলাঁ, রেনে দাওমল এবং আন্দ্রে ম্যালরক্স-এর মতো মহানব্যক্তিত্বদের বেশ কিছু ধ্যানধারণা ভারতের মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।  

  

মাননীয় রাষ্ট্রপতি, 

  

আমাদের আজকেরবৈঠক কেবলমাত্র দুই দেশের দুই নেতার বৈঠক নয়, অভিন্ন ধারণা এবং তাঁদের সমষ্টিগতঐতিহ্য সম্বলিত দুই সভ্যতার মিলন। তাই, আশ্চর্য হই না যে, সাম্য, মৈত্রী ওস্বাধীনতার আওয়াজ শুধুমাত্র ফ্রান্সেই নয়, ভারতের সংবিধানেও প্রতিফলিত হয়েছে। দুইদেশের সমাজ এই মূল্যবোধের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের বীর সৈনিকরা এই মূল্যবোধেরজন্যই দু-দুটি বিশ্বযুদ্ধে তাঁদের প্রাণ বলিদান দিয়েছেন।  

  

বন্ধুগণ,  

  

একই মঞ্চেফ্রান্স ও ভারতের উপস্থিতি এক মুক্ত, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ বিশ্বের সুবর্ণ সংকেতবহন করে। দুই দেশের স্বাধীন ও স্বশাসিত বৈদেশিক নীতি শুধুমাত্র যে তাঁদের নিজেদেরদেশবাসীর স্বার্থে রচিত হয়েছে তাই নয়, সর্বজনীন মানবিক মূল্যবোধকেও তুলে ধরেছে। আজভারত ও ফ্রান্স এই দুই দেশ একে অপরের হাতে হাত মিলিয়ে যে কোনও আন্তর্জাতিকচ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হতে পারে। মাননীয় রাষ্ট্রপতি, আপনার নেতৃত্ব এই কাজকে সহজতরকরেছে। ২০১৫ সালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যৌথভাবে প্যারিসে আন্তর্জাতিক সৌরজোটের সূচনা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সৌর জোটের যে প্রতিষ্ঠা সম্মেলন আগামীকালঅনুষ্ঠিত হতে চলেছে, তা আমাদের অভিন্ন দায়বদ্ধতা বিষয়ে সচেতনতার এক সুস্পষ্টউদাহরণ। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এই শুভ কাজ ফ্রান্সের মাননীয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গেযৌথভাবে সম্পন্ন হতে চলেছে।  

  

বন্ধুগণ, 

  

প্রতিরক্ষা,নিরাপত্তা, মহাকাশ এবং উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যেদ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ইতিহাস বহু পুরনো। দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কবিষয়ে একটি চুক্তিও রয়েছে। দু’দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় যে সরকারই আসুক না কেন,আমাদের সম্পর্কের গতিরেখা সর্বদাই ঊর্ধ্বমুখী থেকেছে। আজকের চুক্তিতে বিভিন্নধরণের সিদ্ধান্ত ও আলাপ-আলোচনার বিষয়ে আপনারা বিস্তারিত জেনেছেন। তাই আমি এইসবআলোচনার মধ্যে তিনটি বিশেষ বিষয়ে আমার ধারণার কথা তুলে ধরব। প্রথমত, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেআমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং আমরা ফ্রান্সকে সবচেয়ে আস্থাভাজন প্রতিরক্ষাঅংশীদারদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে বিবেচনা করে থাকি। আমাদের সেনাবাহিনীর মধ্যেনিয়মিত আলাপ-আলোচনা এবং যৌথ সামরিক মহড়া হয়ে থাকে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও উৎপাদনেরক্ষেত্রেও আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘মেক ইনইন্ডিয়া’ কর্মসূচিতে ফ্রান্সের কাজের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানাই। 

  

আজ আমি আমাদেরপ্রতিরক্ষা সহযোগিতার ইতিহাসে দু’দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক পরিবহণ সহায়তাসংক্রান্ত চুক্তিটিকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে মনে করি।দ্বিতীয়ত, আমরা উভয়েই বিশ্বাস করি যে, বিশ্বের সুখ, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রেভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে। আমরা পরিবেশ,সামুদ্রিক পরিবহণের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সম্পদ, জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা এবংউড়ানের ক্ষেত্রেও আমাদের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছি।তাই, আজ আমরা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের সহযোগিতার বিষয়ে একটি যৌথ কৌশলগতদৃষ্টিভঙ্গী সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করছি। 

  

তৃতীয়ত, আমাদেরদুই দেশের উজ্জ্বল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগকরেছে, আমাদের মানুষে-মানুষে যোগাযোগ, বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে যোগাযোগ। আমরা চাইযে, দুই দেশের যুবসম্প্রদায় একে অপরের দেশকে জানুক ও বুঝুক, একে অপরের দেশে থাকুকএবং হাজার হাজার দূত হিসাবে কাজ করে সম্পর্কের পরিধিকে আরও বাড়িয়ে নিয়ে যাক। তাই,আজ আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছি। এর মধ্যে একটি হ’ল একে অপরেরশিক্ষাগত যোগ্যতাকে স্বীকৃতি প্রদান এবং দ্বিতীয়টি হ’ল অভিবাসন এবং চলাচলসংক্রান্ত অংশীদারিত্ব বিষয়ক। এই দুটি চুক্তি আমাদের দুই দেশের মানুষ ওযুবসম্প্রদায়ের মধ্যে সুসংবদ্ধ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করবে।  

  

বন্ধুগণ, 

  

আমাদেরসম্পর্কের আরও অনেক মাত্রা রয়েছে। আমি সেগুলি যদি সব বলতে শুরু করি, তা হলে তা শেষহতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। আমাদের সহযোগিতা রেল থেকে শুরু করে, নগরোন্নয়ন, পরিবেশ,নিরাপত্তা, মহাকাশ, অর্থাৎ পৃথিবী থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এমন কোনও ক্ষেত্রনেই, যে জায়গাটিকে আমরা ছুঁতে পারিনি। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও আমরা নিজেদের মধ্যেসমন্বয়সাধন করে চলেছি। আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যেও ভারত ও ফ্রান্স শক্তিশালী সম্পর্কবজায় রেখে চলেছে। এই সম্পর্ক আমাদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও এক নতুন মাত্রা যোগকরেছে। আগামীকাল আন্তর্জাতিক সৌর জোটের প্রতিষ্ঠা সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রঁএবং আমি যৌথভাবে পৌরহিত্য করব। আমাদের সঙ্গে থাকবেন আরও অনেকগুলি দেশের ও সরকারেররাষ্ট্রপ্রধান ও মন্ত্রীরা। এই বসুন্ধরা গ্রহের ভবিষ্যতের স্বার্থে আমরাআন্তর্জাতিক সৌর জোটের সফলতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। 

  

মাননীয়রাষ্ট্রপতি, আমি আশা করি, আগামী পরশু বারানসীতে আপনি প্রাচীন এবং চিরসবুজ একভারতের আত্মার সন্ধান পাবেন, যা ভারতীয় সভ্যতার মূল সুর এবং যা ফ্রান্সের বহুচিন্তাবিদ, লেখক এবং শিল্পীকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। আগামী দু’দিনে রাষ্ট্রপতিম্যাক্রঁ এবং আমি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মতবিনিময় করব। আমি আরও একবার মাননীয় রাষ্ট্রপতিএবং তাঁর প্রতিনিধিদলকে ভারতে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই।  

অজস্র ধন্যবাদ। 

  

PG/PB/ SB…