পিএমইন্ডিয়া

ফ্রান্সের বিশিষ্ট নাগরিক এবং এদেশে নিজের পরিশ্রম ও দক্ষতার জোরে ভারত ও ফ্রান্সের গৌরব বৃদ্ধিকারী আপনাদের সবাইকে আমার নমস্কার।
ভাই ও বোনেরা, ভারত ও ফ্রান্সের বন্ধুত্ব অত্যন্ত দৃঢ় এবং এই বন্ধুত্ব বহু বছরের পুরনো। যখনই বিশ্ব মঞ্চে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ এসেছে ভারত ও ফ্রান্স পরস্পরকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে। তাই আজ এই বন্ধুত্ব সর্ববিদিত।
বন্ধুগণ, ভালো বন্ধুত্বের অর্থ হ’ল – যে কোনও পরিস্থিতিতে সুখে – দুঃখে পরস্পরের সঙ্গ দেওয়া। যখন ভারত কিংবা ফ্রান্সে কোনও ভালো সাফল্য আসে, তখন আমরা পরস্পরের জন্য খুশি হই। আমার মনে হয়, ফ্রান্সের ফুটবল টিমের সমর্থকের সংখ্যা ফ্রান্সে যত রয়েছে, ভারতে তারচেয়ে অনেক বেশি হবে। যখন ফ্রান্স বিশ্বকাপ ফুটবল জিতেছে, তখন সারা ভারতে উৎসব পালন করা হয়েছে।
বন্ধুগণ, এভাবেই আমরা দুঃখের সময়ও ততটাই নিবিড়ভাবে পরস্পরের পাশে দাঁড়াই। এর উদাহরণ – ফ্রান্সে এয়ার ইন্ডিয়ার দুটি বিমান দুর্ঘটনার এই স্মৃতিবাহী এই সৌধটি। এই দুই দুর্ঘটনায় অনেক ভারতীয় যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। এদের মধ্যে ভারতের মহান বৈজ্ঞানিকদের অন্যতম ডঃ হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা-ও ছিলেন। ভারতের এই মহান সুসন্তান এবং অন্য যাঁরা এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের সকলকে আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।
বন্ধুগণ, এই স্মৃতিসৌধের প্রতিটি পাথর আমাদের নাগরিকদের পারস্পরিক সংবেদনশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ঐ দুর্ঘটনার পর জরবের যে গাইডরা বিমানের ধ্বংসাবশেষগুলি খুঁজে বের করতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দিনরাত কাজ করেছিলেন, তাঁদেরকেও প্রণাম জানাই। আজ প্রযুক্তির মাধ্যমে ঐ গাইডদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সৌভাগ্য হয়েছে। আমি এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ঐ প্রণম্য গাইডদের এবং তাঁদের পরিবারবর্গকে ভারতের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি জরবের মেয়রকেও কৃতজ্ঞতা জানাই, যিনি এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আমি ফ্রান্সের সরকার, রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁ এবং ফ্রান্সের জনগণকে এই আমন্ত্রণের জন্য এবং আপনাদের সবার সঙ্গে দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, জানি না আপনাদের মনে আছে কিনা! আমার মনে আছে। সাধারণত, রাজনৈতিক নেতারা প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে আনন্দ পান। আমি তাঁদের মতো নই। সেজন্য নিজের প্রতিশ্রুতির কথা নিজেই মনে করাই। আমি বলেছিলাম যে, ভারত আশা ও আকাঙ্খার নতুন সফরে বেরিয়ে পড়বে। আর আজ আপনাদের মাঝে এসে অত্যন্ত বিনম্রভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, আমরা শুধু সেই সফরে বেরিয়ে পড়িনি, ১৩০ কোটি ভারতবাসীর মিলিত প্রচেষ্টায় ভারত দ্রুতগতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। সেজন্য আরেকবার দেশবাসী আগের থেকেও বেশি সমর্থন দিয়ে আমাদের সরকারকে পুনর্নিবাচিত করেছে। এই জনাদেশ শুধুই সরকার চালানোর জন্য নয়, নতুন ভারত নির্মাণের জন্যও। এমন নতুন ভারত, যার সমৃদ্ধি, সভ্যতা ও সংস্কৃতি নিয়ে গোটা বিশ্ব গর্ব করবে। আর যে ভারত একবিংশ শতাব্দীর আধুনিকতাকেও নেতৃত্ব দেবে। এমন নতুন ভারত, যেখানে ‘ইজ অফ ডুয়িং’ বিজনেসকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং ‘ইজ অফ লিভিং’কে সুনিশ্চিত করতে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বন্ধুগণ, বিগত পাঁচ বছরে ভারতে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনগুলির কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের যুবশক্তি, ভারতের গ্রাম, গরিব, কৃষক এবং নারীশক্তি। আমি ফুটবল প্রেমীদের দেশে এসেছি। এদেশের মানুষ ভালোভাবেই জানেন যে, গোল দেওয়ার গুরুত্ব কতটা। আর কোনও কিছু অর্জন করা বা সিদ্ধ করাকেও তো গোল করাই বলা যায়! আমরা বিগত পাঁচ বছরে এমন সব লক্ষ্য রেখেছিলাম, যা আগে অসম্ভব বলে মনে করা হ’ত। কিন্তু আমরা দলগত ভাবনার মাধ্যমে সেই লক্ষ্যগুলিকে বাস্তবায়িত করে দেখিয়েছি।
বন্ধুগণ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে ভারত রেকর্ড স্থাপন করেছে। গোটা বিশ্বে আজ সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প চলছে ভারতে। আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর সম্পূর্ণ জনসংখ্যার চেয়েও বেশি মানুষ ভারতে এই স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং এর দ্বারা লাভবান হয়েছেন।
বন্ধুগণ, গোটা বিশ্বে যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্য রাখা হয়েছে ২০৩০ সালকে। কিন্তু আপনারা নতুন ভারতকে নিয়ে গর্ব করতে পারেন, আমরা যে গতিতে কাজ করছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, ভারত পাঁচ বছর আগেই ২০২৫ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে। এভাবেই কপ-২০২১ বিশ্বে ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও ভারত আগামী এক-দেড় বছরের মধ্যেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হবে।
দেখুন, ভারত একই আছে, গান্ধীও তেমনই আছেন, আপনারাও তেমনই আছেন। এর আগে গান্ধীজীর জন্ম শতবর্ষ পালিত হয়েছে, গান্ধীজীর ১২৫ বছর পূর্তিও পালন হয়েছে। এ বছর গান্ধীর জন্ম সার্ধ শতবর্ষ পালন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিশ্বের ১২৪টি দেশে শ্রেষ্ঠ গায়ক ও বাদকরা ‘বৈষ্ণব-জন তো তেনে কহিয়ে …..’ গানটি গেয়েছেন।
বন্ধুগণ, আজ অনেক সমীক্ষার ফল থেকে আমরা জানতে পারছি যে, ভারত দ্রুতগতিতে দারিদ্র্য দূরীকরণের পথে এগিয়ে চলেছে। আমরা যখন প্রথমবার শাসন ক্ষমতায় এসেছি, তখন এটাও লক্ষ্য ছিল যে, আমরা ইতিমধ্যেই দ্রুতগতিতে এই লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে চলেছি। ভারত আজ নতুন প্রাণশক্তিতে টইটম্বুর। আর এর প্রতীক হ’ল – আজ ভারত স্টার্ট আপ – এর ক্ষেত্রে বিশ্বে অনেক এগিয়ে গেছে। ছোট ছোট শহরে মেধাবী তরুণরা নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানবতার সেবা করছেন।
বন্ধুগণ, এটাও সত্য যে, বিগত্ত পাঁচ বছরে আমরা দেশের অনেক কুরীতিকে লালকার্ড দেখিয়েছি। আজ নতুন ভারতে দুর্নীতি, স্বজন-পোষণ, পরিবারতন্ত্র, জনগণের অর্থ তছরূপ, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদিকে যেভাবে লাগাম টানা হয়েছে, তেমনটি আগে কখনও হয়নি।
বন্ধুগণ, নতুন ভারতে ক্লান্তি ও থেমে থাকার কোনও স্থান নেই। নতুন সরকার গঠনে সবে মাত্র ৭৫ দিন পূর্ণ হয়েছে, ১০০ দিন হওয়া এখনও বাকি। অনেক সরকারের ক্ষেত্রে এই সময় স্বাগত সমারোহ ফুলমালা এবং জয়জয়কারে কেটে যায়। আমরা স্পষ্ট নীতি এবং সঠিক লক্ষ্যের মন্ত্রে প্রেরিত হয়ে এই ৭৫ দিনের মধ্যেই একের পর এক নতুন বড় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন সরকার গঠনের পর জলশক্তির জন্য একটি নতুন মন্ত্রক গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে জল সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় দেখা হবে। গরিব কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পেনশনের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তিন তালাকের মতো অমানবিক এবং নারীদের প্রতি অসম্মানজনক বিষয়কে সমাপ্ত করা হয়েছে। কেউ মানুন কিংবা না মানুন, কেউ লিখুন কিংবা না লিখুন, কেউ বলুন কিংবা না বলুন – এই কোটি কোটি কন্যাদের শুভেচ্ছা আগামী কয়েক শতাব্দী ধরে ভারতের এগিয়ে যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মুসলিম বোন ও মেয়েদের প্রতি এই অন্যায় নতুন ভারত কিভাবে মেনে নিতে পারে? এভাবে শিশুদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লবী পদক্ষেপ নিয়েছে। আজ অনেকেই এরকম বলছেন যে, আমাদের সংসদের বিগত অধিবেশন, বিগত ছয় দশকের থেকেও বেশি ফলপ্রসূ ছিল। অর্থাৎ বিগত ৬০ বছরে সংসদে যত অধিবেশন হয়েছে, সেগুলির মিলিত ফল এই একটি অধিবেশনে হয়েছে। এটি কেমন করে হ’ল? কেন হ’ল? ‘আরে, মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ – এমন কোনও ব্যাপার না! দেশের জনগণ আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এটি ১২৫ কোটি ভারতবাসীর শক্তি। গণতন্ত্রের শক্তি এবং পরিস্থিতির চাপে প্রত্যেক সাংসদ দেশহিতে কাজ করার জন্য বাধ্য থাকেন।
আপনারা সবাই জানেন যে, আগামী ৭ই সেপ্টেম্বর আমাদের সকলের চন্দ্রযান চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে। এই সাফল্যের পর ভারত চাঁদের মাটি স্পর্শ করা বিশ্বের চতুর্থ দেশে পরিণত হবে।
ভাই ও বোনেরা, ভারতের এই দ্রুত উন্নয়নের পাশাপাশি, ফ্রান্সের সঙ্গে শতাব্দী প্রাচীন সম্পর্ক নিয়মিত শক্তিশালী হচ্ছে। পরস্পরের প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রেখে সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক আস্থা সম্বল করে আমরা এগিয়ে চলেছি। ভারত ও ফ্রান্স পরস্পরের জন্য অনেক লড়াই করেছে। একে অপরের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনেক শত্রুর মোকাবিলা করেছে। এই মাটিতে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় ৯ হাজার ভারতীয় সৈনিক ফ্রান্সের সৈনিকদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার পক্ষে লড়াই করে আত্মবলি দিয়েছেন। এদেশে বসবাসকারী কোনও ভারতবাসী যেন এই ৯ হাজার সংখ্যাটিকে কখনও না ভোলেন।
বন্ধুগণ, আমরা ফ্যাসিবাদ ও অতিবাদের মোকাবিলায় শুধু ভারতের মাটিতে নয়, ফ্রান্সের মাটিতেও লড়াই করেছি। আমাদের বন্ধুত্ব দৃঢ় আদর্শাবলির ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। স্বাধীনতা, সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্বের মিলিত মূল্যবোধ উভয় দেশের চরিত্র নির্মাণ করেছে। এই মিলিত মূল্যবোধই ভারত ও ফ্রান্সকে বিশ্বের সামনে উপস্থিত বড় বিপদগুলির মোকাবিলায় লড়াইয়ের ক্ষেত্রে নিবিড় সহযোগী করে তুলেছে। তা সে সন্ত্রাসবাদ হোক কিংবা আবহাওয়া পরিবর্তনের বিপদ থেকে মানবতাকে রক্ষার জন্য লড়াই হোক, আমাদের মিলিত দায়িত্ববোধ পালন করছি। ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্কের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হ’ল আমরা শুধু কথায় নয়, যে কোনও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আমরা কার্যকরি পদক্ষেপ নিই। বিশ্বের অনেক দেশই আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তা ব্যক্ত করে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করে না। ভারত ও ফ্রান্স মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক সৌরসংঘ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। আজ বিশ্বের প্রায় ৭৫টি দেশ এই সংঘের সক্রিয় সদস্য রূপে যুক্ত হয়েছে। আর জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সৌরসংঘ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
ভাই ও বোনেরা, আজকাল আমরা একবিংশ শতাব্দীর পরিকাঠামো নির্মাণের কথা বলি। প্রত্যেকেই পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী পরিকাঠামো নির্মাণের কথা বলেন। কিন্তু আমাদের দেশে পরিকাঠামো নির্মাণের মানে ভিন্ন। এখানে আপনাদের মাঝে ফ্রান্সের মাটিতে যখন এসেছি, তখন আমার কাছে ‘ইনফ্রা’ মানে হ’ল – ইন্ডিয়ার ‘ইন’ এবং ফ্রান্সের ‘ফ্রা’ উভয়ে মিলে ‘অ্যালায়েন্স ইনফ্রা ….. সোলার ইনফ্রা’ থেকে শুরু করে ‘সোশ্যাল ইনফ্রা’, ‘টেকনিক্যাল ইনফ্রা’ থেকে শুরু করে ‘স্পেস ইনফ্রা’ এবং ‘ডিজিটাল ইনফ্রা’ থেকে শুরু করে ডিফেন্স ইনফ্রা’ পর্যন্ত ভারত এবং ফ্রান্সের যৌথ অভিযান দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
ভারতে ‘স্মার্ট’ নগর ব্যবস্থা নির্মাণ এবং ‘ইনটেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন’ – এর অংশীদারিত্বে উভয় দেশ লাভবান হয়েছে। ভাই ও বোনেরা, ফ্রান্সে কর্মরত ভারতীয় বৈজ্ঞানিকদের এবং ভারতে কার্যকরি ফরাসী প্রযুক্তি সম্মান অবিদিত। আপনাদের মধ্যে অনেকেই ফ্রান্সে ভারতীয় বৈজ্ঞানিক প্রতিভার প্রতিনিধিত্ব করছেন। ‘অ্যাকাডেমিক এনার্জি’, ‘অ্যারো স্পেস’ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য হাইটেক ক্ষেত্রগুলিতে উভয় দেশের ‘সিগনেচার’ প্রকল্পগুলি একসঙ্গে কাজ করছে। ফ্রান্সে বিশ্বের একমাত্র ‘ফিউশন রিঅ্যাক্টর’ নির্মাণে ভারতীয় প্রতিভাও অবদান রেখেছে। এটি বর্তমান শতাব্দীর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রকল্প। যখন এই প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অসীম জ্বালানি চাহিদা পূরণ করবে, তখন এতে আপনাদের অবদানও থাকবে। আপনাদের জন্য প্রতিটি ভারতীয় গর্ববোধ করবেন।
বন্ধুগণ, ভারতের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক মাটির আর ফ্রান্সের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক পরিশ্রমের। আপনাদের সাফল্য ফ্রান্সকে গর্বিত করে, পাশাপাশি ভারতকেও গর্বিত করে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফরাসী নাগরিকরাও ফ্রান্সের জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আপনাদের মধ্যে অনেকেই ফ্রান্সের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। যখন ভারতীয় প্রতিভাবানরা ফ্রান্সে সম্মানিত হন, তখন আমাদেরও গর্বে মাথা উঁচু হয়ে যায়। আপনারা নিজেদের জীবনে ফ্রান্সের রীতি-রেওয়াজ’কে আপন করে নিয়েও যেভাবে ভারতীয় চরিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলিকে সঞ্জীবিত রেখেছেন, তা আমাকে অত্যন্ত আনন্দ দেয়।
আমাকে বলা হয়েছে যে, এখন প্যারিসের সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে গণপতি মহোৎসব একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের সম্মান পেয়েছে। গণেশ চতুর্থীর দিন প্যারিস শহর যেন ‘মিনি ইন্ডিয়া’তে রূপান্তরিত হয়। অর্থাৎ আজ থেকে কিছুদিন পরই এখানে ‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া’ জয়ধ্বনি গুঞ্জরিত হবে। সেজন্য আপনাদের শুভেচ্ছা জানাই। আগামীকাল জন্মাষ্টমীর পবিত্র উৎসবের জন্যও আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।
বন্ধুগণ, এ বছর আমরা সবাই মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্ম জয়ন্তী এবং গুরু নানক দেবের ৫৫০তম প্রকাশপর্ব পালন করবো। আশা করি, আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ গান্ধী ক্যুইজে অংশগ্রহণ করেছেন। আর যাঁরা করতে চান, তাঁদের জন্য এখনও সুযোগ রয়েছে।
ভাই ও বোনেরা, দেশের উন্নয়নের জন্য আপনাদের অবদানও ভারতের বড় শক্তি। ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্কের নিবিড়তার পেছনে শুধু উভয় দেশের সরকার নয়, আপনাদের মতো নাগরিকরাও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। আপনারাই ফ্রান্সে ভারতের প্রতিনিধি, আপনারাই ভারতের কন্ঠস্বর, আপনারাই ভারতের পরিচয়।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, ভারতের এই কন্ঠস্বরকে আপনারা সর্বদা আরও জোরালো করে তোলার প্রক্রিয়ায় সামিল থাকবেন। আর আমার এরকম বলার কারণ হ’ল – এখন ভারত আর কোনও অস্থায়ী ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন, ১২৫ কোটি মানুষের দেশ, গান্ধী ও বুদ্ধের দেশ, রাম ও কৃষ্ণের দেশ, অস্থায়ী অবস্থা থেকে মুক্ত হতে ৭০ বছর সময় নিয়েছে। অস্থায়ী অবস্থা থেকে মুক্ত হতে ৭০ বছর – আমি বুঝতে পারি না হাসবো না কাঁদবো!
বন্ধুগণ – ‘রিফর্ম, পারফর্ম, ট্রান্সফর্ম’ এবং স্থায়ী ব্যবস্থাগুলির পাকা ভিত্তির ওপর দেশ এগিয়ে যাওয়া শুরু করেছে, ভবিষ্যতেও এগিয়ে যাবে। সমস্ত উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌঁছবে। এই বিশ্বাস নিয়ে আপনাদের সবাইকে আরেকবার অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই।
ধন্যবাদ।
ভারতমাতা কি জয় ……
ভারতমাতা কি জয় ……
ভারতমাতা কি জয় ……
*******
CG/SB/SB
Together in good times as well as solemn occasions...the spirit of true friendship.
— Narendra Modi (@narendramodi) August 23, 2019
Here’s why the India-France bond is unbreakable. pic.twitter.com/jI97kkoD42
Powered by stellar teamwork, India has fulfilled ambitious goals deemed impossible for decades.
— Narendra Modi (@narendramodi) August 23, 2019
At the same time, we have red-carded those obstacles adversely impacting our development trajectory. pic.twitter.com/ZHh1hKbL5V
नए भारत में थकने और रुकने का सवाल ही पैदा नहीं होता। pic.twitter.com/XIePAyQaXS
— Narendra Modi (@narendramodi) August 23, 2019
The InFra (India-France) alliance is robust. Together we will boost solar infra, social infra, technical infra and more! pic.twitter.com/rULTq4H1TH
— Narendra Modi (@narendramodi) August 23, 2019