Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

বারাণসীতে উর্জা গঙ্গা প্রকল্প, পিএনজি পাইপ লাইন এবংবারাণসী-এলাহাবাদ রেল লাইন দ্বিগুণ করা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরপ্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

বারাণসীতে উর্জা গঙ্গা প্রকল্প, পিএনজি পাইপ লাইন এবংবারাণসী-এলাহাবাদ রেল লাইন দ্বিগুণ করা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরপ্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


আমি সবার আগেকাশীবাসীদের কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি টিভিতে দেখেছি, খবরেরকাগজে পড়েছি এবং কয়েকজন স্থানীয় নাগরিকের সঙ্গে ফোনেও কথা হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বরদেশের সেনাবাহিনী পরাক্রম দেখালে গোটা কাশী আনন্দে ছোট দেওয়ালি উৎসব পালন করেছেন।নিরাপত্তা বাহিনীগুলির জয়গান গেয়ে পথ পরিক্রমা এবং মা গঙ্গার আরতি যেভাবে পালনকরেছেন, এই এলাকার সাংসদ হিসেবে আনন্দ ও গর্বে আমার বুক ভরে উঠেছে।

অনেক বছর পর ১২৫ কোটিভারতবাসী নানাভাবে আনন্দ প্রকাশ করে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের অনুভব করিয়েছেন যে,তাঁরা সর্বদাই তাঁদের সঙ্গে আছেন। এবার আমরা সকলে বড় দেওয়ালি উৎসব পালন করতেযাচ্ছি। প্রদীপ জ্বালাবো, অন্ধকার দূর করে আলোকমালা সাজাবো, এই সব কিছুই সম্ভব হবেকারণ দেশের অসংখ্য মায়ের হৃদয়ের টুকরো বীর সেনানীগণ সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরায়আত্মোৎসর্গ করেছেন।

আপনারা সেদিন ছোটদেওয়ালি উৎসব পালন করে দেশবাসীকে আলোকবর্তিকা প্রদর্শন করেছেন। আজ আমি কাশীবাসীতথা উত্তরপ্রদেশের সকল নাগরিক এবং ভারতের সকল নাগরিককে কাশীর মাটি থেকে আহ্বানজনাচ্ছি, এই পবিত্র দিনে আপনারা যেমন পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাবেন, একইভাবে সীমান্তেমোতায়েন জল-স্থল-বায়ুসেনা, তটরক্ষী বাহিনী, ইন্দো তিব্বতীয় সীমান্ত সেনা, আসামরাইফেলস্‌, সীমা সুরক্ষা বল, সি আর পি এফ এবং অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীর প্রত্যেকজওয়ানকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করবেন।

পাঠাবেন? কেমন করে পাঠাবেন? আপনারা নিজের মোবাইলথেকে ১৯২২ নম্বরে মিস্‌ড কল করবেন। তখন আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ আসবে। সেইমেসেজের মাধ্যমে আপনারা নিজেদের ফোনে ‘নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ’ ডাউনলোড করতে পারবেন।সেখানে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের বার্তা পাঠানোর জন্য একটি জায়গা রয়েছে। তার মাধ্যমেআপনারা বার্তা পাঠাতে পারবেন।

আপনাদের বার্তা পেয়েসেনা জওয়ানরা অনুভব করবেন যে, যাঁদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আমরা জীবন উৎসর্গকরছি, তাঁরা আমাদের নিয়ে কত গর্ব করেন, অহংকার করেন। প্রত্যেক মুহূর্তে এই অনুভবইতাঁদের নিদ্রাহীন অতন্দ্র প্রহরায় প্রেরণা জোগাবে। শুধু বোমা, বন্দুক ও গুলিরপ্রেক্ষিতেই তাঁদের কথা ভাবলে চলবে না। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে আমি দেখেছি, এমনকিবাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন কিংবা বিমানবন্দরে সেনা জওয়ানদের যেতে দেখলে সাধারণমানুষ উঠে দাঁড়িয়ে তঁদের স্যালুট করে, হাততালি দিয়ে সম্মান জানায়। আমাদের দেশেওযুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হলে অনেককে এরকম করতে দেখেছি। কিন্তু তারপর ধীরে ধীরেসেই দেশভক্তি ঠান্ডা হয়ে পড়ে। এটা ঠিক নয়।

নিরাপত্তা বাহিনীদেরসঙ্গে আমাদের স্থায়ী আত্মীয়তার বন্ধন স্থাপিত হওয়া উচিৎ, সর্বদাই তাঁদের প্রতিসম্মান প্রদর্শন, তাঁদের জন্য গর্ব করার সংস্কৃতি গড়ে ওঠা উচিৎ । শুধু বিশেষ সময়ে,বিপদের সময়ে দেশভক্তি জেগে উঠলে চলবে না। সেজন্য এবার আমার সঙ্গে আপনারাও সেনাজওয়ানদের দেওয়ালির শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁদের জন্য গর্ব প্রকাশ করুন।

ভাই ও বোনেরা, আজ আমিসবার আগে উপস্থিত মন্ত্রী মহোদয়দের এবং তাঁদের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রকের সকলকর্মচারীদের কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারা আমার সংসদীয় এলাকায় এতগুলি প্রকল্প চালু করেআমাকে ও আমার এলাকার সাধারণ মানুষকে কৃতজ্ঞতা-পাশে আবদ্ধ করেছেন। আপনারা আমারস্বভাব বুঝে অনেক দ্রুত কাজ করেছেন। না হলে, আমাদের দেশে এক সরকারের মন্ত্রীপ্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, আরেক সরকারের মন্ত্রী এসে সেই প্রকল্পউদ্বোধন করেন। অনেক সময় একের পর এক সরকার আসে আর সেই ভিত্তিপ্রস্তর একই জায়গায় পড়েথাকে। ঐ প্রকল্পের জন্য বাজেট বরাদ্দই হয় না।

আমরা সেইকর্মসংস্কৃতির বিরুদ্ধে। আমি যদি কোনও প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি, তা হলেসেই প্রকল্পবাবদ বাজেট বরাদ্দের কথা আগে থেকে ভাববো আর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেপ্রকল্প বাস্তবায়নের পর শুভ উদ্বোধনও আমিই করব। সময় ও অর্থের সাশ্রয় হওয়ারপাশাপাশি কাজেও উৎকর্ষ চাই। এই কর্মসংস্কৃতি আমরা দিল্লিতে চালু করেছি এবং সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, এখন থেকে সমস্তসরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে এটাই হবে কর্মসংস্কৃতি। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন, আমাদেরপ্রত্যেক মন্ত্রী এখানে প্রকল্প নিয়ে বলার সময় বাস্তবায়নের সময়সীমাও উল্লেখকরেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে যে কোনও প্রকল্পের ফাইলে সই করার আগে জিজ্ঞেস করে নিই –এই প্রকল্প কবে শেষ হবে। কারণ, প্রকল্প শুধু খবরের কাগজে সংবাদ হিসেবে ছাপিয়েপ্রশংসা কুড়োনোর জন্য নয়, প্রকল্প যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষেরজীবনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়, সেটা আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। সেজন্য আমাদের সরকারযে সমস্ত প্রকল্প শুরু করবে, সেগুলি অবশ্যই বাস্তবায়িত করবে।

আপনারা হয়ত লক্ষ্যকরেছেন, ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’ প্রকল্পটি আমরা যেদিন ঘোষণা করেছি, সেদিন থেকেইকন্যারা লাভবান হচ্ছে। এ বিষয়ে খবরের কাগজে সংবাদ ছাপলো কি ছাপলো না, সে নিয়েআমাদের এত মাথাব্যথা নেই। আমার দেশের কন্যারা উপকৃত হল কি না, সেটাই আমরা দেখছি।

এই অনুষ্ঠানে আমারবেশ কিছু দরিদ্র পরিবারের হাতে গ্যাস সিলিন্ডার তুলে দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। আপনারাজানেন, আগে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া কত ঝক্কির ব্যাপার ছিল! সুপারিশ নিয়ে সাংসদদেরআগে পেছনে ঘুরতে হত। বড় বড় অফিসাররাও সাংসদদের কাছে অনুরোধ নিয়ে যেতেন, সাহেব আমিবদলি হয়ে এখানে এসেছি, আপনি সাহায্য না করলে চলবে না। সাংসদদরা মাত্র ২৫টি কুপনপেতেন। সেগুলি পাওয়ার জন্য ২০০-রও বেশি মানুষ তাঁদের পেছনে ঘুরতেন, সেসব দিন এখনঅতীত। এখন সরকার গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়ার জন্য গরিব মানুষদের খুঁজে বেড়াচ্ছে।

আমার স্বপ্ন যে,আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে প্রত্যেক দরিদ্র মা-কে কাঠের উনুন থেকে মুক্তি দেওয়া,ধোঁয়ার কবল থেকে বাঁচানো, দেশের প্রত্যেক দরিদ্র পরিবারে রান্নার গ্যাস পৌঁছেদেওয়া। আমার এই স্বপ্ন বাস্তবয়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ উঠেপড়ে লেগেছে।

পাশাপাশি আজবারাণসীতে গ্যাস পাইপ লাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হল। বারাণসীর প্রত্যেকপরিবারের রান্নাঘরে জলের কল আছে কি না আমার জানা নেই। এখনও হয়তো অনেককে বাইরে থেকেজল আনতে যেতে হয়। আমরা চেষ্টা করছি, বারাণসীর প্রত্যেক পরিবারের রান্নাঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেব। কাশীর মা ও বোনেরা আমাকে আশীর্বাদ করুনযাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সহস্রাধিক কোটি টাকা খরচ করে আপনাদের হাতে এই পরিষেবাতুলে দিতে পারি।

দেশের অর্থ ব্যবস্থায়জ্বালানির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সার উৎপাদনের ক্ষেত্রেও গ্যাসেরপ্রয়োজন পড়ে। সেজন্য আমরা জগদীশপুর-হলদিয়া পাইপ লাইন’কে প্রাথমিকভাবে দেশেরপূর্বভাগের ৭টি শহরের প্রত্যেক বাড়িতে পাইপ লাইন পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।এই শহরগুলি হল – বারাণসী, রাঁচি, কটক, পাটনা, জামশেদপুর, ভুবনেশ্বর এবং কলকাতা। এভাবেইপূর্ব ভারতে গ্যাস-ভিত্তিক অর্থনীতিকে আমরা চাঙ্গা করতে চাই। সেই সিদ্ধান্তবাস্তবায়নের সূত্রপাত আজ আমার সংসদীয় নির্বাচনী ক্ষেত্রে প্রত্যেক বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছনোর প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হল।

যাতায়াতের ক্ষেত্রেওআজ আমরা পেট্রোল-ডিজেলের পরিবর্ত হিসেবে সিএনজি দিয়ে গাড়ি চালাতে শুরু করেছি।সিএনজি পেট্রোল বা ডিজেলের তুলনায় অনেক সস্তা ও পরিবেশ-বান্ধব। এই সাতটি শহরের ২০লক্ষ যানবাহন এবার সিএনজি-র মাধ্যমে চলবে। ফলে, গোটা পূর্ব ভারতে পরিবেশ দূষণেরমাত্রা কমবে। পাশাপাশি, দেশকে আগের তুলনায় অনেক কম পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ বিদেশথেকে আমদানি করতে হবে। এভাবেও যে টাকা সাশ্রয় হবে, তা সরকার জনগণের উন্নয়নে কাজেলাগাতে পারবে।

আমরা যদি ভাবি ভারতেরকোনও অঞ্চল বিশেষকে এগিয়ে নিয়ে গেলেই দেশ এগিয়ে যাবে, সেটা ঠিক না। দেশের প্রত্যেকপ্রান্তে উন্নয়ন হলে তবেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব। ভারতের ক্ষেত্রে পূর্ব ভারতেররাজ্যগুলি – পূর্ব উত্তর প্রদেশ থেকে শুরু করে বিহার, বাংলা, ঝাড়খন্ড, ওড়িশা, আসামও উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে আর্থিক গতিবিধির কেন্দ্রে প্রতিস্থাপিত করতেহবে। তা হলেই এই পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলি পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলির সঙ্গে কাঁধে কাঁধমিলিয়ে চলতে পারবে।

সম্প্রতি কাশীসঙ্গীতের ক্ষেত্রে বিশ্বের ঐতিহ্য মানচিত্রে চলে এসেছে। কাশীর সাংসদ হিসেবে আমিএজন্য গর্ববোধ করি। এই শহর সর্ববিদ্যার কেন্দ্রস্থল। সঙ্গীতের ক্ষেত্রে কাশী দেশ ওবিশ্বকে অনেক কিছু দিয়েছে। এই অবদানকে মাথায় রেখে এই ঐতিহ্যের প্রেরণাকে স্মারকহিসেবে চিহ্নিত করতে আজ এখানে কাশী বিষয়ক ডাকটিকিট উদ্বোধন হল। আমি চাই যে, কাশীরমানুষ এখন থেকে নিজেদের চিঠিপত্রে কাশী বিষয়ক এই ডাকটিকিট লাগানোর অভ্যাস করেনেবেন। এই ডাকটিকিট দেখে কাশীতে আরও অনেক পর্যটকের আগমন ঘটবে।

আজ এখানে কৃষকদেরজন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘রাজা তালাও’ প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিতহল। এই ‘রাজা তালাও’ এই শহরের পূর্ব, পশ্চিম এবং উত্তর দিক থেকে আসা রেল ও সড়কযোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে শহরের চারপাশে উৎপাদিত শাক-সবজি, ফল ও ফুলের বিপণনখুব সহজেই হতে পারে। কাঁচা শাক-সবজি ও ফলমূল তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। নষ্টহওয়ার আগেই যদি দ্রুত অন্যান্য বাজারে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা হলে কৃষকরা লাভবান হন।সেজন্য আমরা এই ‘রাজা তালাও’ প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গেযুক্ত করে এখানকার শাক-সবজি একদিকে কলকাতা অন্যদিকে দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ারব্যবস্থা করেছি। এখানকার ফুলকপি বিখ্যাত। মা গঙ্গার আশীর্বাদে এই অঞ্চলেরশাক-সবজি, ফলমূলের স্বাদ সর্বোৎকৃষ্ট। এরফলে, ঐ বড় বাজারগুলিতে এখানকার শাক-সবজিরনতুন ক্রেতা তৈরি হবে।

আজ এখানে আমাদের মনোজসিনহা কাশীর জন্য একটি গর্বের বিষয়ের সূত্রপাত করলেন। পুরনো ডাক ব্যবস্থায় মানুষডাক হরকরার জন্য অপেক্ষায় থাকতেন। কিন্তু নতুন সময়ে ডাকের স্বরূপ বদলে গেছে। আমরাডাকবিভাগ’কে ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে পরিবর্তিত করছি। দেশের দূরদূরান্তে যত ডাকঘররয়েছে, সেগুলির মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেব। সরকারিও বেসরকারি মিলিয়ে সকল ব্যাঙ্কের যতগুলি শাখা আমাদের দেশে রয়েছে, ডাকঘরেরসংখ্যাটাও তার থেকে কম নয়। প্রায় দেড় লক্ষেরও বেশি ডাকঘরগুলির মাধ্যমে আমরা সাধারণমানুষকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেব। কাজের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হলে তদারকির সুবিধাহয়, দক্ষতা বাড়ে, পরিণামও সুনিশ্চিত হয়। মনোজ সিনহাজি আজ আমার হাত দিয়ে এই নতুনব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের আঞ্চলিক ব্যবস্থার শুভ উদ্বোধন করালেন। কাশী ও তার চারপাশেরকয়েকটি জেলা নিয়ে এই আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

আজকাল ই-কমার্সেরগুরুত্ব বাড়ছে। মানুষ অনলাইনে জিনিসপত্র কিনছেন। আমরা ডাকবিভাগকে এই অনলাইনডেলিভারির কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনা করেছি । আজ মনরেগা’র টাকা, ছাত্রবৃত্তি কিংবাপেনশনের টাকা দিতে ব্যাঙ্কগুলি হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে। ডাকবিভাগ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গেযুক্ত হলে বয়স্ক মানুষ, ছাত্রছাত্রী, বিধবারা গ্রাম থেকে বেশি দূর না গিয়ে ডাকঘরেরমাধ্যমে তাঁদের টাকা পেতে পারেন। ছোট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও এক্ষেত্রে অনেক লাভহবে।

আমাদের দেশের রেলপরিষেবা অনেক পুরনো। প্রতি বছর বাজেটের সময়ে রেলমন্ত্রী সহস্র লক্ষ কোটি টাকারঘোষণা করতেন। কোনও শহরে যাওয়ার জন্য একটি কামরা জুড়ে দেওয়া হবে, কোথাও নতুন স্টেশননির্মিত হবে ইত্যাদি ঘোষণা করে হাততালি কুড়োতেন। কিন্তু রেলের আধুনিকীকরণের কথা,রেলের গতি বাড়ানোর কথা, ইলেক্ট্রিক্যাল কনভারশন কিংবা গেজ কনভারশনের কথা কেউভাবেননি। আমরা ক্ষমতায় এসে রেলের এই পরিকাঠামোগত পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।সেজন্য আমাদের রেলমন্ত্রী এমন পরিকল্পনা গড়ে তুলেছেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে রেলেরআধুনিকীকরণে যত টাকা খরচ হয়েছে, গত আড়াই বছরে তার থেকে বেশি খরচ হয়েছে। এইপ্রক্রিয়ায় এখান থেকে এলাহাবাদ পর্যন্ত ডবল লাইন পাতা হলে নতুন সেতু নির্মাণসম্পূর্ণ হলে গতি অনেক বৃদ্ধি পাবে। পরিবহণে গতি বাড়লে সারা দেশেই ব্যবসা-বাণিজ্যঅনেক লাভজনক হবে। তারমানে শুধু নিছকই রেল লাইন পাতা নয়, দ্রুত রেলগাড়ি যাওয়া নয়,গোটা অর্থ ব্যবস্থাকেই বদলে দেওয়া। আজ এখান থেকে এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরুহল, যার সুফল আপনি ও আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে।

আজ এখানে একটিবিদ্যুৎ প্রকল্পেরও শুভ সূচনা হল। অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে বিদ্যুৎ কারখানায়বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেই আমরা তা সরাসরি পেতে পারি না। নদীর জল পেতে যেমন বাঁধেরপ্রয়োজন হয়, টিউবওয়েলের মাধ্যমে জল তুলে উপরের ট্যাঙ্কে জল ভরে তবেই সরবরাহ করাযায়, বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও তেমনি সাব-স্টেশান বসাতে হয়। অনেক ব্যয়বহুল হলেও এইসাব-স্টেশান গুলি সুষম বিদ্যুৎ পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপযোগী। না হলে যখন তখনবিদ্যুৎ চলে যাওয়া, টিভি খারাপ হয়ে যাওয়া, মোটর জ্বলে যাওয়ার মতো বিড়ম্বনারসম্মুখীন হতে হয়। সাব-স্টেশন বসিয়ে দিলে সুষম পরিমাণে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।আমরা এই পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনাদের ২৪ ঘন্টা সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহসুনিশ্চিত করছি।

সবমিলিয়ে আজ প্রায় ৫হাজার কোটি টাকার প্রকল্পসমূহ কাশীর মাটিতে শুরু হল। মোট ৭টি প্রকল্পের সূচনাকরলাম আজ। পুরনো দিনে আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল দেখে যেমন নাবিক নিজের দিক নির্ণয়করতেন, তেমনই উন্নয়নের পথ নির্ণয়কারী সপ্তর্ষি প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে কাশীরউন্নয়নকে উচ্চতার চরম শিখরে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা।

আমি কাশীবাসীরভালোবাসার অবিরাম ধারায় আপ্লুত। আমি অন্তর থেকে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকরছি। কাশীর এই উন্নয়ন যাত্রা পূর্ব ভারতের উন্নয়ন যাত্রার মুখ হয়ে উঠুক। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, কাশীর মানুষ নিজেদের শক্তির পরিচয় দেবেন। আপনাদের সবাইকে অনেক অনেকধন্যবাদ।

PG/SB/SB