Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

বারাণসীতে ‘কাশি এক রূপ অনেক’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন ৫ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতি হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। বারাণসীতে আজ বিকেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পরম্পরাগত কারুশিল্পী এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্হাগুলি এই উদ্দেশ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

বারাণসীর বড়লালপুরে দীনদয়াল উপাধ্যায় বাণিজ্য সহায়তা কেন্দ্রে আয়োজিত ‘কাশি এক রূপ অনেক’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলার এবং কাশির তন্তুবায় ও কারু শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রীর প্রদর্শনী তিনি ঘুরে দেখেছেন। এক জেলা এক পণ্য কর্মসূচির আওতায় তিনি বিভিন্ন স্টল যেমন- তাঁতবস্ত্র, কাঠের তৈরি পুতুল, কনৌজ-এর সুগন্ধি, মোরাদাবাদের মেটাল ক্র্যাফ্ট, লক্ষ্ণৌর চিকনকারি, আজমগড়ের ব্ল্যাক পটারি ঘুরে দেখেন। এই উপলক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন হস্তকলা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের সহায়ক সাজ-সরঞ্জাম এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

ভারতীয় পণ্য সামগ্রীকে আর্ন্তজাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকারের গৃহিত পদক্ষেপগুলির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের এক জেলা এক পণ্য কর্মসূচির ফলে বিগত দুই বছরে এখান থেকে রপ্তানীর পরিমান লক্ষ্যণীয় হারে বেড়েছে। এছাড়াও উত্তরপ্রদেশ সরকার বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় তন্তুবায় ও হস্তশিল্পীদের প্রয়োজনীয় সাজ-সরঞ্জাম ও ঋণ সহায়তা প্রদান করছে। শ্রী মোদী বলেন, উত্তরপ্রদেশে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বিদেশের বাজারে এমনকি অনলাইনে পৌঁছে যাওয়ায় দেশ উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, ভারতের প্রতিটি জেলা তার নিজস্ব শিল্পকলা, ভিন্ন ভিন্ন পণ্য সামগ্রীর মাধ্যমে পৃথক পরিচিতি পেতে পারে। মেক ইন ইন্ডিয়া এবং এক জেলা এক পণ্য-এর মতো বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণের ক্ষেত্রে জেলাওয়াড়ি পৃথক পরিচিতি বড় প্রেরণার কাজ করে বলে শ্রী মোদী অভিমত প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, বিগত দুই বছরে রাজ্যের ৩০টি জেলা থেকে ৩ হাজার ৫০০র বেশি হস্তশিল্পী উত্তরপ্রদেশ ইন্সটিটিউট অফ ডিজাইনের পক্ষ থেকে সাহায্য পেয়েছে। এছাড়াও ১ হাজারেরও বেশি শিল্পীকে সহায়ক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। হস্তশিল্পী, কারুশিল্পী ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা যোগানোর জন্য তিনি

উত্তরপ্রদেশ ইন্সটিটিউট অফ ডিজাইনের ভূমিকার তিনি প্রশংসা করেন।

ভারতে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর গুনমান বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা অনুযায়ী দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পক্ষেত্রগুলিকে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বিপণন সহায়তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, ‘বিগত ৫ বছরে আমরা এই লক্ষ্যে লাগাতার প্রয়াস নিয়ে চলেছি। আমরা এমন এক লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছি যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষের ক্ষমতায়ণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

শিল্প ও সম্পদ সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত সংস্হাগুলির সহায়তায় গৃহিত একাধিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে উৎপাদন ক্ষেত্র সহ সহজে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় কারিগরি বস্ত্র মিশন চালু করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এজন্য দেড় হাজার কোটি টাকার সংস্হান হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশে প্রতিরক্ষা করিডরের জন্য ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে জানিয়ে শ্রী মোদী বলেন, ছোট শিল্প সংস্হাগুলিও এই করিডর থেকে উপকৃত হবে এবং কর্মসংস্হানের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারি ই-বাজার ব্যবস্হা বা জিইএম-এর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ছোট শিল্পসংস্হাগুলি তাদের উৎপাদিত সামগ্রী সরকারকে বিক্রি করার ক্ষেত্রে লাভবান হচ্ছে। অভিন্ন সংগ্রহ ব্যবস্হা কার্যকর হলে এক মঞ্চ থেকেই সরকার ক্ষুদ্র শিল্পসংস্হাগুলির উৎপাদিত বিভিন্ন সামগ্রী ও পরিষেবা সংগ্রহ করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রথমবার দেশে জাতীয় লজিস্টিক বা পণ্য পরিবহন নীতি তৈরি করার কাজ চলছে। এই নীতি ই-লজিস্টিক ক্ষেত্রে একক জানালা ব্যবস্হার সূচনা হবে যার ফলে ক্ষুদ্র শিল্পসংস্হাগুলির মধ্যে আরও প্রতিযোগিতার প্রসার ঘটবে এবং কর্মসংস্হান বাড়াতে সাহায্য করবে।

ভারতকে উৎপাদন ক্ষেত্রে এক অগ্রণী শক্তিধর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে আন্তরিক প্রয়াস গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শেষ করেন।

CG/ BD/NS