Search

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কনক্লেভ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কনক্লেভ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ


নয়াদিল্লি, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ 

 

আমার মন্ত্রিসভার সহকর্মী মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং জি, ভারত সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অজয় সুদ জি, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীগণ, অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবর্গ, ভদ্রমহোদয়া ও ভদ্রমহোদয়গণ।

আজ এখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জগতের বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি উপস্থিত রয়েছেন। আমাদের তরুণ উদ্ভাবকরাও এখানে আছেন। এখানে আসার আগে আমি কয়েকজন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে কথা বলেছি। ভারতের তরুণরা যে বিশাল পরিসরে চিন্তা করছেন এবং যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলেছেন, তা সত্যিই উৎসাহব্যঞ্জক।

বন্ধুগণ

আমি গতবারও এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলাম। এবার আমরা ‘উদীয়মান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ বিষয়ে আলোচনা করছি। কয়েক দশক আগে এমন একটা সময় ছিল, যখন ভারতের কাছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অর্থ ছিল কেবল অন্যদের অনুসরণ করা বা পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে তাল মেলানোর চেষ্টা করা। বিশ্বে যখনই কোনও নতুন উদ্ভাবন হতো, সেই প্রযুক্তি আমাদের কাছে পৌঁছতে কয়েক বছর লেগে যেত। আমরা হয়তো তা গ্রহণ করতাম কিংবা সামান্য কিছু উন্নতি ঘটিয়ে এগিয়ে যেতাম। কিন্তু আজ একবিংশ শতাব্দীর ভারত এক নতুন মানসিকতা ও নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হ’ল – ভারত ও বিশ্বের জন্য বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা, সেই প্রযুক্তির গতিপথ নির্ধারণ করা এবং আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলির সমাধানের সক্ষমতা অর্জন করা। কোভিড অতিমারির সময়ে আমরা এর একটি উদাহরণ দেখেছি। যখন বিশ্বের অনেক দেশ টিকার প্রাপ্যতা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল, তখন ভারত নিজস্ব টিকা তৈরি করল, ব্যাপক পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করল এবং অন্যান্য দেশেও টিকা সরবরাহ করল। এটিই একবিংশ শতাব্দীর ভারতের আত্মবিশ্বাস। আমরা প্রথম চেষ্টাতেই মঙ্গলে পৌঁছেছি। আমরা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে  এমন এক জায়গায় পৌঁছেছি, যেখানে আগে কেউ পৌঁছতে পারেনি। আর তাই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি: ভারতকে অবশ্যই ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগুলিকে আপন করে নিতে হবে, সাহসের সঙ্গে উদ্ভাবন করতে হবে এবং এই প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

বন্ধুগণ

শূন্যের আবিষ্কার থেকে শুরু করে সংখ্যা পদ্ধতি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান – ভারতের ঐতিহ্য সবসময়ই জ্ঞান ও আবিষ্কারের ঐতিহ্য। আজ আমরা আধুনিক প্রযুক্তি এবং নতুন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আমাদের এই বৈজ্ঞানিক উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে চলেছি। গত এক বছরের কিছু উদাহরণ আমাদের এই রূপান্তরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। ৩০ অক্টোবর দেশ ড. হোমি জাহাঙ্গির ভাবার জন্মবার্ষিকী উদযাপন করবে। তাই আমি পারমাণবিক শক্তি দিয়ে আমার বক্তব্য শুরু করছি।

বন্ধুগণ

আপনারা সবাই জানেন যে, একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলার জন্য আমাদের ব্যাপক পরিসরে পারমাণবিক শক্তির প্রয়োজন হবে। পারমাণবিক জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরতা আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই কারণেই ভারত দ্রুতগতিতে ‘ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর’ প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। মাত্র কয়েক মাস আগেই দেশের ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা জোরদার করার পথে এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বন্ধুগণ

জ্বালানি নিরাপত্তা হোক কিংবা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা – ভারতের লক্ষ্য কেবল নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আমাদের উদ্দেশ্য হল, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলির ক্ষেত্রে নিজেদের শক্তিকে আরও প্রসারিত করা। এ বছর মহাকাশ ক্ষেত্রেও ভারত নতুন নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ভারতের একটি মহাকাশ স্টার্টআপ প্রথম প্রচেষ্টাতেই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রকেটের মাধ্যমে একটি কৃত্রিম উপগ্রহকে কক্ষপথে স্থাপন করতে সফল হয়েছে। এছাড়া, ভারত কৃত্রিম উপগ্রহকে মহাকাশে অন্য কোনও মহাকাশযানের সঙ্গে যুক্ত করার (স্যাটেলাইট ডকিং) সক্ষমতাও অর্জন করেছে। আজ ভারতের অনেক স্টার্টআপ মহাকাশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন নতুন সমাধান নিয়ে আসছে। মহাকাশ ক্ষেত্রে তরুণ বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

বন্ধুগণ

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত যে সাফল্য অর্জন করছে, তা নজিরবিহীন। এই বছরেই ভারত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর আয়োজন করেছে এবং নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল চালু করেছে। ভারতে তৈরি চিপের প্রথম চালান এখন বিশ্ববাজারে পৌঁছতে শুরু করেছে। ব্যাটারি স্টোরেজের ক্ষেত্রেও আমরা ভারতের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত কাঁচামাল ব্যবহার করে সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করছি।

বন্ধুগণ

পারমাণবিক শক্তি থেকে মহাকাশ গবেষণা, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সেমিকন্ডাক্টর – এই প্রতিটি ক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন ভিন্ন হলেও, এদের মূল বার্তাটি কিন্ত অভিন্ন। ভারত উদীয়মান প্রযুক্তিগুলির ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস – উভয়কেই শক্তিশালী করে তুলছে। ভারতের আরও একটি বড় শক্তি হ’ল, বৃহৎ পরিসরে সমাধান প্রদানের সক্ষমতা। ভারতে যখন কোনও সমাধান সফল হয়, তখন তা বিশ্বের অনেক দেশের সমস্যা সমাধানের পথও প্রশস্ত করে দেয়। আমাদের ‘ডিজিটাল স্ট্যাক’ এর একটি চমৎকার উদাহরণ। আমাদের ৫জি প্রযুক্তিও এর আরেকটি দৃষ্টান্ত। ভারত এমন সব নিরাপদ সমাধান তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা বিশাল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। 

বন্ধুগণ

আপনারা সবাই জানেন যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হ’ল, এগুলিকে প্রায়ই একটি অস্ত্র হিসেবে দেখার প্রবণতা। তবে ভারত মনে করে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি হল মানবসেবার হাতিয়ার। বিজ্ঞানের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসে, যখন তা গবেষণাগার থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছয় এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। গবেষণাগার থেকে ফিল্ড স্তর পর্যন্ত কোনও প্রযুক্তির সাফল্য কেবল তার উৎকর্ষের ওপর নির্ভর করে না; বরং তার আসল শক্তি নিহিত থাকে এটি কত বড় সমস্যার সমাধান করছে এবং কত মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছে তার ওপর। তাই আমাদের কাছে উদীয়মান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানেই হল, এমন সব সমাধান, যা স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করে, কৃষিক্ষেত্রকে রূপান্তরিত করে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করে। আমি আনন্দিত যে, ভারতের স্টার্টআপ বিপ্লব এই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি স্টার্টআপ এমন এক পরিধানযোগ্য ইইজি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বুঝতে সাহায্য করবে। ভারতীয় কোম্পানিগুলি নিজস্ব প্রযুক্তিতে তারহীন ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। পুষ্টির ক্ষেত্রে, মানুষের বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রেও ভারতীয় কোম্পানিগুলি নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া, ইস্পাত শিল্পের বর্জ্য বা ‘স্টিল স্ল্যাগ’-এর মতো শিল্প-বর্জ্যকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও আমাদের দেশে গবেষণা চলছে।

বন্ধুগণ

কিছুদিন আগেই আমার চেন্নাই যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে চাই। সেখানে আমি আইআইটি মাদ্রাজ-এ একটি আধুনিক ‘ব্রেইন সেন্টার’ বা মস্তিষ্ক গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছি। এই কেন্দ্রটি এমন একটি ‘ব্রেইন ইমেজিং’ প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা সারা বিশ্বের জন্য একটি আদর্শ উদাহরণ হতে পারে। এই কেন্দ্রটি মানব মস্তিষ্কের উচ্চ-রেজোলিউশন সম্পন্ন ডিজিটাল থ্রি-ডি চিত্র তৈরির কাজ করছে। এই উদ্যোগের সাফল্য স্নায়ুজনিত রোগের সাথে জড়িত অনেক জটিল সমস্যার সমাধানে সহায়তা করবে। ‘সমাজের জন্য বিজ্ঞান, রূপান্তরের জন্য প্রযুক্তি’ – আমাদের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির মানদণ্ড হওয়া উচিত এটাই। আর ভারত এই মানদণ্ডকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলেছে।

বন্ধুগণ

আমরা সবাই জানি যে, কোনও দেশের প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সক্ষমতা তার গবেষণার ওপর নির্ভর করে। গবেষণাই হলো সেই শক্তি, যা একটি দেশকে নিজেদের সমস্যার সমাধান খুঁজে বার করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে। আর তাই আমি বলেছি: ‘জয় বিজ্ঞান, জয় অনুসন্ধান!’ একটি উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে আমরা আমাদের গবেষণা ক্ষেত্রকে ক্রমাগত শক্তিশালী করে চলেছি। এই সংকল্প নিয়ে ‘অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। গত বছর ঠিক এই মঞ্চ থেকেই আমরা গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের জন্য এক লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আজ তার ফলাফল দেখা দিতে শুরু করেছে। গত এক বছরে গবেষণাগার থেকে বাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা প্রযুক্তিগুলির জন্য প্রায় বারো হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রয়াসে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও সমানভাবে অংশগ্রহণ করছেন। সরকারের বারো হাজার কোটি টাকার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি, বেসরকারি ক্ষেত্র থেকেও বারো হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এর অর্থ হ’ল, মাত্র এক বছরের মধ্যেই গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে মোট চব্বিশ হাজার কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে।

বন্ধুগণ

ভারতের গবেষণা ইকোসিস্টেমও ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। পেটেন্ট আবেদনের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। দশ বছর আগে পুরো বছরে পঞ্চাশ হাজারেরও কম পেটেন্ট আবেদন জমা পড়ত। গত বছর এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় দেড় লক্ষে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার বৃদ্ধিই নির্দেশ করে না, বরং এটি একটি গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে গবেষণা ও উদ্ভাবন ভারতের একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি হিসেবে গড়ে উঠছে।

বন্ধুগণ

একবিংশ শতাব্দীর এই দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে আরও একটি প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বৈজ্ঞানিক বিচারবুদ্ধি কীভাবে বিকশিত হবে? আমাদের গবেষণাগারগুলির নেতৃত্বে থাকা বিজ্ঞানীরা বছরের পর বছর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তাঁদের দক্ষতা অর্জন করেছেন। এই মঞ্চেও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এবং নোবেলজয়ী উপস্থিত রয়েছেন। আমরা সবাই জানি যে, তাঁরা ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জ্ঞান ও বোঝাপড়াকে সমৃদ্ধ করেছেন। আজ এআই-এর যুগে আমাদের সামনে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এআই অনেক নিয়মিত বা রুটিন কাজ খুব দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে, যা গবেষণার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, এআই যেন বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা বা স্বাধীন বিচারবুদ্ধিকে সীমাবদ্ধ না করে, বরং সেগুলিকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। এআই-এর মাধ্যমে যে সময় সাশ্রয় হবে, তা আরও জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজতে, নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে এবং নতুন ধারণা যাচাই করতে ব্যবহার করা উচিত। এআই দ্রুত উত্তর দিতে সক্ষম। তবে সেই উত্তরগুলির সত্যতা যাচাই করার দায়িত্ব বিজ্ঞানীর ওপরই বর্তায়।

বন্ধুগণ

আমাদের বিজ্ঞানী ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে কেবল আজকের প্রয়োজনের জন্যই নয়, বরং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত করে তুলতে হবে। সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, উন্নত উপাদান, রোবোটিক্স, মহাকাশ গবেষণা, পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানি এবং পরবর্তী প্রজন্মের যোগাযোগ ব্যবস্থা – এই ক্ষেত্রগুলিই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। ভারত এই প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি গড়ে তুলছে। এই উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি জাতীয় মিশনও শুরু করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হল, এই ক্ষেত্রগুলিতে যেন নতুন নতুন যুগান্তকারী উদ্ভাবন উঠে আসে। তবে আমাদের দায়িত্ব কেবল উদ্ভাবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সিন্থেটিক বায়োলজি বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও বিপদ তৈরি হচ্ছে। আমাদের আর্থিক নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা – সবই এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক সমাধান এবং কোয়ান্টাম নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি, যা দেশের বিভিন্ন ব্যবস্থাকে এই বিপদগুলির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত রাখতে পারবে। আমাদের লক্ষ্য হ’ল, এমন প্রযুক্তি গড়ে তোলা, যা ভারতকে শক্তিশালী করবে এবং একই সঙ্গে মানবজাতির সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর সমাধান জোগাবে।

বন্ধুগণ

এই সম্মেলনে উপস্থিত  গবেষক, শিল্পনেতা, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এবং তরুণ শিক্ষার্থীদের কাছে আমার আহ্বান – আপনারা প্রত্যেকে নিজেদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। আগামী তিন বছরে আপনারা কোন প্রযুক্তি, প্রোটোটাইপ, পাইলট প্রকল্প বা পণ্য তৈরিতে অবদান রাখবেন? আসুন, এমন সব উদ্ভাবন নিয়ে আসি, যা একটি ‘উন্নত ভারত’ গড়ার পথে সহায়ক হবে। আসুন, এমন উদ্ভাবন করি, যা ভারতকে বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবে। তাই আমার প্রত্যাশা, এই সম্মেলন যেন কেবল মত বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং এটি যেন পরিমাপযোগ্য ফলাফল অর্জনের একটি মঞ্চ হয়ে ওঠে।

বন্ধুগণ

আজ ভারত বিশ্বের সবচেয়ে তরুণ দেশ। আমাদের রয়েছে অসামান্য মেধা এবং নতুন কিছু সৃষ্টি করার দৃঢ় সংকল্প। আমাদের এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে, যারা কেবল উদীয়মান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অংশগ্রহণই করবেন না, বরং তাতে নেতৃত্ব দেবেন। আবারও এই সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে আমি আমার আন্তরিক শুভকামনা জানাচ্ছি।

ধন্যবাদ!

(প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণটি দিয়েছেন হিন্দিতে)

 

 

MH/MP/SB