Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিচর্যা প্রকল্পের সুফলভোগীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ বৃহস্পতিবার (৭ জুন) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধী প্রকল্প’ ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সরকারী স্বাস্থ্য পরিচর্যা প্রকল্পগুলির সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুফলভোগীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এটি পঞ্চম মতবিনিময় অনুষ্ঠান।

স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও সুস্বাস্থ্যের গুরুত্বের ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্ত কিছুর সাফল্য ও সমৃদ্ধির ভিত্তিই হ’ল স্বাস্থ্য। ভারত তখনই স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠবে, যখন ১২৫ কোটি ভারতীয় সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে উঠবেন।

সুফলভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের কাছে শারীরিক অসুস্থতা কেবলমাত্র বড় আর্থিক বোঝাই নয়, সেই সঙ্গে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তিনি বলেন, সঙ্গত কারণেই সরকারের লক্ষ্য হ’ল প্রত্যেক নাগরিকের কাছে সুলভ স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। এই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধী পরিযোজনা চালু করা হয়েছিল, যাতে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষজন সুলভে ওষুধপত্র পেতে পারেন এবং তাঁদের আর্থিক বোঝা কমানো যায়।

সারা দেশে সরকার ৩ হাজার ৬০০-রও বেশি জনঔষধী কেন্দ্র রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুলভ মূল্যে ৭০০-রও বেশি জেনেরিক ওষুধ এখান থেকে পাওয়া যায়। জনঔষধী কেন্দ্রে ওষুধের দাম বাজার দরের তুলনায় ৫০-৯০ শতাংশ কম। খুব শীঘ্রই জনঔষধী কেন্দ্রের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

চিকিৎসার উপকরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে আগে এ ধরণের উপকরণ কিনতে হলে সম্পত্তি বিক্রি বা বন্ধক দিতে হ’ত। এই বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখেই দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের স্বার্থে সরকার স্টেন্টস্‌ বা চিকিৎসা উপকরণের দাম লক্ষ্যণীয় হারে কমিয়েছে। হৃদযন্ত্রের উপকরণের দাম ২ লক্ষ টাকা থেকে কমে ২৯ হাজার টাকা হয়েছে বলে শ্রী মোদী জানান।

শ্রী মোদী মতবিনিময়ের সময় আরও বলেন, হাঁটু প্রতিস্থাপনের খরচও ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এরফলে, খরচ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা থেকে কমে ৭০-৮০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ভারতে প্রতি বছর আনুমানিক এক থেকে দেড় লক্ষ হাঁটু প্রতিস্থাপন হয়। এই খরচ হ্রাস পাওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সাশ্রয় হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ডায়ালিসিস কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০০-রও বেশি জেলায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার রোগীর জন্য ২২ লক্ষের বেশি ডায়ালিসিস পরিচালিত হয়েছে। মিশন ইন্দ্রধনুষ কর্মসূচিতে ৩ কোটি ১৫ লক্ষের বেশি শিল্প ও ৮০ লক্ষ গর্ভবতী মহিলাকে টিকা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের সংখ্যা বাড়াতে সরকার ৯২টি মেডিকেল কলেজ চালু করেছে। এমনকি, এমবিবিএস স্তরে আসন সংখ্যা ১৫ হাজার বাড়ানো হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সুলভে স্বাস্থ্য পরিষেবার নাগাল পেতে সরকার আয়ুষ্মান ভারত কর্মসূচি শুরু করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১০ কোটুই পরিবার ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাবেন। ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’ প্রসঙ্গে মোদী বলেন, এই কর্মসূচি স্বাস্থ্যকর ভারত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বচ্ছ ভারত অভিযানের ফলে দেশে এখন প্রকাশ্য স্থানে শৌচকর্ম বর্জিত গ্রামের সংখ্যা সাড়ে তিন লক্ষ। সেই সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এলাকার পরিধি বেড়ে ৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় সুফলভোগীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধী পরিযোজনার ফলে কিভাবে ওষুধপত্রের দাম কমেছে এবং তা সুলভ হয়েছে। হৃদযন্ত্রের উপকরণ ও হাঁটু প্রতিস্থাপনের খরচ কমায় কিভাবে তাঁদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে, সে বিষয়েও সুফলভোগীরা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

যোগাভ্যাসকে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অঙ্গ করে তুলে এক স্বাস্থ্যকর জাতি গঠনে সাহায্য করার জন্য প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের কাছে আবেদন জানান।

***

CG/SSS/SB