পিএমইন্ডিয়া
অন্ধ্রপ্রদেশের মাননীয় রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী;
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মীবৃন্দ;
বিদেশের নৌ-বাহিনীগুলির প্রতিনিধিবৃন্দ;
ভারতীয় নৌ-বাহিনীর নির্ভীক ও গর্বিত নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই; এবং
মহান নগরী বিশাখাপত্তনমের সঙ্কল্পবদ্ধ জনসাধারণ।
বিশাখাপত্তনম সফরের সুযোগ পেয়ে আমি খুশি। সকল ভারতবাসীর হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান রয়েছে এই শহরটির।
বিশাখাপত্তনমে আমি শেষবারের মতো এসেছিলাম ২০১৪-র অক্টোবর মাসে।
সেই সময় ‘হুদহুদ’ ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল সারা শহর।
কিন্তু বিশাখাপত্তনমের অধিবাসীরা বিপর্যয়ের মুখেও ছিলেন অবিচল।
মাত্র ১৪ মাসের মধ্যেই সমস্ত বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে উঠে এই আন্তর্জাতিক নৌ-বহর প্রদর্শনীতে বিভিন্ন মহাদেশের নৌ-বাহিনীকে স্বাগত জানানোর জন্য আপনারা যেভাবে আজ প্রস্তুত তাতে এই শহরের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধার মনোভাবই বৃদ্ধি পায়।
এক বছরের কিছু আগে সমুদ্রের ভয়ঙ্কর রূপ আমরা প্রত্যক্ষ করেছিলাম। আজ এখানে সকলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে মহাসাগরকে কিভাবে কাজে লাগানো সম্ভব সে সম্পর্কে আলোচনার জন্য আমরা যে আজ এখানে সমবেত হতে পেরেছি সেজন্য অকুন্ঠ ধন্যবাদ জানাই বিশাখাপত্তনমবাসীদের মনোবলকে।
সঙ্কল্প ও সাহসিকতার জন্য শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই বিশাখাপত্তনম শহরকে।
এই নৌ-বহর প্রদর্শনীকে প্রকৃত অর্থেই ঐতিহাসিক দিক থেকে সফল করে তুলতে ভারতীয় নৌ-বাহিনীর নারী ও পুরুষ কর্মীরা যে নিষ্ঠার পরিচয় দিচ্ছেন সেজন্য তাঁদের জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ।
এই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ-আয়োজনে সক্রিয় সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুজিকে।
ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নৌ-শক্তিগুলির সমন্বয়ের যে ঘটনা আমি প্রত্যক্ষ করলাম তা আমার কাছে অভিজ্ঞতার দিক থেকে এক পরম প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।
তিন মাসের কিছু সময় আগে গত অক্টোবরে আফ্রিকার ৫৪টি দেশকেই আমি প্রথমবার স্বাগত জানিয়েছিলাম দিল্লিতে। তৃতীয়-ভারত আফ্রিকা শীর্ষ বৈঠকে আগত প্রতিনিধিদের মধ্যে ৪০ জনই ছিলেন রাষ্ট্রপ্রধান।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ২০১৫-র আগস্ট মাসে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের দ্বীপগুলির মধ্যে সহযোগিতা সম্পর্কিত দ্বিতীয় ফোরামে জয়পুরে ভারত স্বাগত জানিয়েছিল ১৪ জন রাষ্ট্রপ্রধানকে।
গত শুক্রবারই গুয়াহাটিতে দ্বাদশ দক্ষিণ এশিয়ান গেমস-এ আমরা স্বাগত জানিয়েছি সবক’টি সার্ক রাষ্ট্রকে।
আর এখন ভারতের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নৌ-বহর প্রদর্শনীতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৫০টি বিদেশি নৌ-শক্তিকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভারতের পূর্ব উপকূলে এই ধরনের অনুষ্ঠান এই প্রথম।
আপনাদের এই অংশগ্রহণ মৈত্রী ও সহযোগিতারই বার্তা বহন করে এনেছে। এর গভীর স্মৃতি আমরা অবশ্যই লালন করব।
দেশবাসীর পক্ষে আমি আপনাদের সকলকেই ধন্যবাদ জানাই আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে এখানে উপস্থিত হওয়ার জন্য।
আজকের এই সমাবেশের সাফল্যের ওপর নির্ভর করে এ বছর এপ্রিল মাসে ভারত আয়োজন করতে চলেছে প্রথম আন্তর্জাতিক নৌ-তৎপরতা সম্পর্কিত শীর্ষ বৈঠক।
ভারত এবং বিশ্বের অন্যান্য নৌ-শক্তিগুলির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা আমাদের এক বিশেষ অগ্রাধিকার।
বন্ধুগণ,
বিশ্বের মহাসাগর ও জলপথগুলি আন্তর্জাতিক দিক থেকে সকলের জন্যই। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’, অর্থাৎ, সমগ্র বিশ্বই এক অভিন্ন পরিবার – এই মননশীলতা সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয় বিশ্বের মহাসমুদ্র এলাকাগুলিতে। কারণ, তা আমাদের সকলকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে।
শেষবারের মতো ভারত আন্তর্জাতিক নৌ-বহর প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল মুম্বাই শহরে ২০০১ সালে।
২০১৬-র পৃথিবী কিন্তু আজ আমূল বদলে গেছে।
আজকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমন চঞ্চল তেমনই জটিল হয়ে উঠছে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ।
একইসঙ্গে, মহাসাগরগুলি হল আন্তর্জাতিক সমৃদ্ধির জীবনরেখা। জাতি গঠনের কাজে তা আমাদের উপহার দেয় প্রচুর অর্থনৈতিক সুযোগ ও সম্ভাবনা।
আন্তর্জাতিক পণ্য বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই হয় মহাসাগরের ওপর দিয়ে।
গত ১৫ বছরে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ৬ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলারে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মহাসাগরের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিশ্বের তেল উৎপাদনের ৬০ শতাংশ কাজেই ব্যবহার করা হয় সমুদ্রপথ।
মহাসাগর এলাকা থেকে অর্থনৈতিক সুফল লাভের বিষয়টি নির্ভরশীল সমুদ্র এলাকায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আমাদের শক্তি ও দক্ষতার ওপর।
সমুদ্রপথে সন্ত্রাসের প্রত্যক্ষ শিকার হল ভারত। এই ধরনের সন্ত্রাস আঞ্চলিক তথা সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে তুলেছে।
জলদস্যুতাও আমাদের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সুনামি ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও কম কিছু নয়।
তেল ব্যবহারে অসতর্কতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যাগুলি মানুষের নিজের সৃষ্টি। এগুলিও সমুদ্র এলাকার স্থিতিশীলতাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এই কারণেই আঞ্চলিক তথা বিশ্ব নিরাপত্তার স্বার্থে এক স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ মহাসাগরীয় পরিবেশ গড়ে তোলা বিশেষভাবে প্রয়োজন। মহাসাগরের স্বাভাবিক পরিবেশজনিত সম্পদ আহরণের লক্ষ্যেও তা একান্ত জরুরি।
আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জগুলির আয়তন ও জটিলতা বিচার করলে আন্তর্জাতিক নৌ-স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কোন জাতির একার পক্ষে সম্ভব নয়।
সমুদ্রপথ ব্যবহারকারী সবক’টি দেশের এ এক সাধারণ লক্ষ্য ও দায়িত্বশীলতা।
আর এই লক্ষ্যেই বিশ্বের নৌ-শক্তি এবং সমুদ্র এলাকায় কর্মরত সংস্থাগুলিকে কাজ করতে হবে একযোগে এক সহযোগিতার বাতাবরণের মধ্য দিয়ে।
কিন্তু, প্রয়োজনবোধে যোগাযোগের স্বার্থে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথগুলিকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্বও পালন করতে হবে তাদেরই।
আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে যদি আমরা সমুদ্র অঞ্চলকে ব্যবহার করতে চাই তবে আমাদের অবশ্যই :
• শান্তি, আস্থা ও মৈত্রীর স্বার্থে এবং দ্বন্দ্ব ও সংঘাত নিরসনে সমুদ্রকে ব্যবহার করতে হবে।
• নৌ-চলাচল সম্পর্কিত স্বাধীনতাকে সম্মান জানাতে হবে এবং তা নিশ্চিত করতে হবে।
এবং
• সমুদ্র এলাকায় চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে।
আমাদের মহাসাগর এলাকাকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে শান্তি ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারই প্রতিফলিত হয়েছে নৌ-বহর প্রদর্শনীতে বিদেশি নৌ-শক্তিগুলির এই ব্যাপক ও একত্র সমাবেশের মধ্য দিয়ে।
বন্ধুগণ,
ভারত বরাবরই ছিল একটি নৌ-কেন্দ্রিক রাষ্ট্র এবং তা থাকবে ভবিষ্যতেও।
ভারতের প্রাচীন সংস্কৃত পুঁথিগুলিতে ‘চতুর্দশনম রত্ননম’, অর্থাৎ, ১৪টি রত্নের আকর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে মহাসাগরকে।
তিনদিক থেকে সমুদ্রবেষ্টিত ভারতের রয়েছে ৭,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা বরাবর এক দীর্ঘ উপকূল রেখা।
আমরা বরাবরই এক সমৃদ্ধ সামুদ্রিক সম্পদে ধন্য। বিশ্বের প্রাচীনতম সমুদ্র বন্দরগুলির অন্যতম ছিল গুজরাটের লোথাল।
ভারত মহাসাগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিতি ভারতের। এর ফলে অন্যান্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসার সুযোগ ঘটেছে আমাদের। ভারত মহাসাগরই স্থির করে দিয়েছে আমাদের নৌ-বাণিজ্যপথ। আমাদের কৌশলগত চিন্তাভাবনার মূলেও রয়েছে মহাসাগর যা আমাদের সামুদ্রিক প্রকৃতি গঠনে সহায়ক হয়ে উঠেছে।
সিন্ধু সভ্যতার সময়কাল থেকেই আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া, ভূমধ্যসাগর অঞ্চল, পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং সুদূর প্রাচ্যের সঙ্গে ভারতের গড়ে উঠেছে সমুদ্রপথে যোগাযোগ।
এই সমস্ত অঞ্চলের নৌ-শক্তিগুলি আমাদের এই বাণিজ্য প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করায় আমরা আনন্দিত। ‘মেরিটাইম হেরিটেজ অফ ইন্ডিয়া’ নামে যে সচিত্র নিবন্ধের গ্রন্থটি আমি আজ এইমাত্র প্রকাশ করেছি তাতে এই গৌরবময় নৌ-ঐতিহ্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।
বন্ধুগণ,
আধুনিক যুগেও মহাসাগর, বিশেষত ভারত মহাসাগর অঞ্চল ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে রয়েছে। ভারত মহাসাগরের জলরাশি ৪০টিরও বেশি দেশের তটরেখা স্পর্শ করে গেছে।
বিশ্বের প্রায় অর্ধেক কন্টেনার এবং এক-তৃতীয়াংশের মতো পণ্য চলাচল করে এই মহাসাগরের ওপর দিয়ে। আমাদের ৯০ শতাংশ বাণিজ্য এবং ৯০ শতাংশের মতো তেল আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় সমুদ্রপথ।
ভারতের ১,২০০টি দ্বীপ অঞ্চল এবং ২.৪ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চল ভারত মহাসাগরের এই গুরুত্বকেই তুলে ধরে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মপ্রচেষ্টার বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
আমাদের কাছের এবং দূরের রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে কৌশলগত নৌ-সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রেও মহাসাগরের রয়েছে এক অনবদ্য ভূমিকা।
গত বছর মার্চে ভারত মহাসাগর সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনার কথা আমি তুলে ধরেছিলাম মরিশাসে।
নীতি সম্পর্কিত আমার অগ্রাধিকারগুলির একটি বিশেষ স্থান জুড়ে রয়েছে ভারত মহাসাগর অঞ্চল। সাগর সম্পর্কে আমাদের দর্শন ও চিন্তাভাবনার মধ্যেই আমাদের কাজের গতিপ্রকৃতি নিহিত রয়েছে। সাগরের অর্থ এখানে মহাসাগর যা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সকলের বিকাশ ও নিরাপত্তারই মহান প্রতীক।
ভৌগোলিক তথা রাজনৈতিক দিক থেকে আমাদের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব সক্রিয়তার মধ্য দিয়েই।
এই কাজে ভারতের আধুনিক এবং নানা ধরনের কর্মতৎপরতার সঙ্গে যুক্ত নৌ-বাহিনী আমাদের নেতৃত্বদান করতে পারে। এই বাহিনী হল শান্তি ও কল্যাণের লক্ষ্যে এক বিশেষ শক্তি।
এক ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক তথা অর্থনৈতিক নৌ-অংশীদারিত্ব এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক ভিত্তিকাঠামো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুসরণে আমাদের সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।
বন্ধুগণ,
সমুদ্রপথে ভারতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্বেষণ ভারতে পরিবর্তন ঘটানোর এক বৃহত্তর কর্মযজ্ঞেরই অঙ্গ বিশেষ।
বিশ্ব অর্থনীতিতে আমরা এক উজ্জ্বল আলোকবিন্দু। আঞ্চলিক তথা আন্তর্জাতিক দিক থেকে আমরা স্থিতিশীলতার একটি স্তম্ভ, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ কেন্দ্র।
আঞ্চলিক তথা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে ক্রমশ উঠে আসছে ভারত।
সারা দেশেই এখন আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দীপনার জোয়ার। “আমরাই পারি”, এই মানসিক প্রস্তুতি রয়েছে এখন আমাদের।
দেশের আত্মবিশ্বাসী যুবসমাজের শক্তি ও উদ্যমই হল এই আশা-আকাঙ্ক্ষার উৎস।
দেশে পরিবর্তন ঘটানোর লক্ষ্যে আমাদের নিরন্তর সাহসী প্রচেষ্টা থেকে এই উৎসাহ ও উদ্যম গড়ে উঠেছে। আমরা চাই দেশের আইন, প্রক্রিয়া তথা প্রাতিষ্ঠানিকতার উন্নয়ন।
দেশবাসীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আমরা গ্রহণ করছি নতুন নতুন উদ্যোগ; সৃষ্টি করে চলেছি নানা ধরনের সুযোগসুবিধা। জাতির অগ্রগতিতে তাঁরাও যে অংশীদার, দেশবাসীর মধ্যে এই মানসিকতা গড়ে তুলেছি আমরাই।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি আমাদের এই ধরনের উদ্যোগগুলিরই অন্যতম যা আমাদের নির্মাণ শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছে।
আমাদের বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও জাহাজ নির্মাণ।
এক সপ্তাহ বাদেই আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় মুম্বাইতে আমরা আয়োজন করতে চলেছি সাতদিনের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন।
ঐ সময় বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি পরিচিত হবে ভারতের উদ্ভাবন, নকশা এবং নির্মাণের সুযোগসুবিধার সঙ্গে। দ্রুত বিকাশশীল একটি রাষ্ট্র হিসেবে ভারত তুলে ধরবে নিজেকে।
আমরা সমগ্র বিশ্বকেই আহ্বান জানাতে চাই, ভারতে এসে নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করতে। ভারতের জন্য এবং সেইসঙ্গে সারা পৃথিবীর জন্যই নির্মাণকাজে সামিল হোক তারা।
আমরা এখানে গর্বের সঙ্গে একটি সত্য আজ এখানে উদ্ঘাটন করতে চাই। তা হল আজকের এই নৌ-বহর প্রদর্শনীতে যে ৩৭টির মতো ভারতীয় নৌ-পোত অংশ নিয়েছে তার সবক’টিই তৈরি হয়েছে ভারতে। এই সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই বৃদ্ধি পাবে আগামী বছরগুলিতে।
‘স্কিল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় আমরা গড়ে তুলছি এমন কিছু প্রতিষ্ঠান যেগুলি শিল্পোদ্যোগের কাজে প্রশিক্ষণ, সহায়তা, উৎসাহ ও পরামর্শ দেবে ৮০ কোটি তরুণ ও যুবককে।
আমাদের দক্ষ যুবশক্তি একুশ শতকের জাতীয় তথা আন্তর্জাতিক শ্রমশক্তির চাহিদা পূরণে এখন প্রস্তুত।
ভারতের রূপান্তরের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল ‘নীল অর্থনীতি’।
‘নীল চক্র’, অর্থাৎ, আমাদের জাতীয় পতাকা এই ‘নীল অর্থনীতি’ সম্ভাবনারই প্রতীক।
এই বিষয়টি হল ভারতের উপকূল তথা দ্বীপ অঞ্চলগুলির উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, শুধুমাত্র পর্যটনের বিকাশই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়।
উপকূলরেখা বরাবর আমরা গড়ে তুলতে চাই অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞের স্তম্ভ। সমুদ্রসম্পদ আহরণের কাজে নিয়োজিত থেকে আমরা এই কাজে এগিয়ে যেতে চাই।
আমাদের সামুদ্রিক গবেষণা, পরিবেশ-বান্ধব বিকাশ তথা উন্নয়ন, সামুদ্রিক উৎপাদনের জন্য শিল্প তথা প্রযুক্তি ব্যবহার এবং মৎস্যচাষের প্রসার আমাদের অন্যান্য লক্ষ্যগুলির অঙ্গীভূত।
ভারতে ‘নীল অর্থনীতি’র বিকাশে এ সমস্ত কিছুই পথ দেখাতে পারে।
ভারতের উপকূলবর্তী রাজ্যগুলির সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে আমি চাই ভারতের যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধির এক বিশেষ কর্মসূচি গড়ে তুলতে।
বন্ধুগণ,
পরিশেষে এই ধরনের একটি বিশাল কর্মকাণ্ডের ত্রুটিহীন উদ্যোগ-আয়োজনের জন্য আরও একবার অভিনন্দন জানাই ভারতীয় নৌ-বাহিনীকে।
পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত আমাদের নৌ-বাহিনীর বন্ধুদের আমি শুভেচ্ছা জানাই এই বলে যে আপনাদের যাত্রার পথে বাতাস হোক অনুকূল এবং সমুদ্র থাকুক স্বাভাবিক।
ধন্যবাদ।
জয় হিন্দ!
PG/SKD/DM/
I am privileged to visit Vishakhapatnam. The city has a special place in the heart of all Indians: PM https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
My profuse thanks to men & women of Indian Navy for their tireless dedication for making this Fleet Review a truly historic success: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
My sincere gratitude also to CM Chandrababu Naiduji for his strong support for this international event: PM to @ncbn @AndhraPradeshCM
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
Your participation is a message of cooperation and friendship that we deeply cherish: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
To build on the gains from today's gathering, India would host the first ever Global Maritime Summit in April this year: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
Vasudhaiva Kutumbakam – concept of whole world as a family– is perhaps most vividly witnessed on the oceans of the planet: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
Last time India hosted the International Fleet Review was in the year 2001 in the city of Mumbai. The world of 2016 is vastly different: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
At the same time oceans are lifelines of global prosperity. They present us with enormous economic opportunities to build our nations: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
Oceans are critical for the global energy security as over 60% of world’s oil production moves through sea routes: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
Our ability to reap economic benefits from the oceans rests on our capacity to respond to the challenges in the maritime domain: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
Threat of sea borne terror, of which India has been a direct victim, continues to endanger the regional and global peace and stability: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
Given the scale and complexity of modern day challenges the international maritime stability cannot be the preserve of a single nation: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
Navies and maritime agencies of the world need to work together and engineer virtuous cycles of cooperation: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
We must use seas to build peace, friendship and trust and curb conflict: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
India is & has always been a maritime nation. Ancient Sanskrit texts also refer to oceans as storehouse of चतुर्दशानां रत्नानां 14 gems: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
Since the days of the Indus Valley Civilization, India has maintained an extensive network of maritime links: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
Photo Essay book on the ‘Maritime Heritage of India’ that I have just released, showcases this glorious maritime tradition: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
The Indian Ocean Region is one of my foremost policy priorities: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
Our approach is evident in our vision of “Sagar”, which means “Ocean” and stands for – Security And Growth for All in the Region: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
India’s quest for economic prosperity through oceans is a part of our larger efforts to transform India: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
Of all Indian Naval ships participating in Fleet Review, at least 37 are “Made in India” a number that will surely rise in coming years: PM
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
I see youth in the coastal areas as our true assets. They have a natural and deep understanding of the Oceans: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2016
In my address at International Fleet Review, congratulated Indian Navy for the flawless conduct of the event that got the world to India.
— Narendra Modi (@narendramodi) February 7, 2016
Highlighted why a peaceful & stable maritime environment is critical for global security & the need to harvest riches of oceanic ecosystems.
— Narendra Modi (@narendramodi) February 7, 2016
Witnessing the harmony among the best international navies has been a very rewarding experience. Sharing my speech. https://t.co/Tg1MCYheHC
— Narendra Modi (@narendramodi) February 7, 2016
Some pictures from the fleet review. pic.twitter.com/kJSNov6yPf
— Narendra Modi (@narendramodi) February 7, 2016
From the vibrant parade this evening. pic.twitter.com/2Egl5SvKK7
— Narendra Modi (@narendramodi) February 7, 2016