Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

বিশ্ব আয়ুর্বেদ উৎসবের ‘ভিশন কনক্লেভ’-এ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

বিশ্ব আয়ুর্বেদ উৎসবের ‘ভিশন কনক্লেভ’-এ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

বিশ্ব আয়ুর্বেদ উৎসবের ‘ভিশন কনক্লেভ’-এ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


বিশিষ্ট অতিথিবর্গ এবং ভদ্র মহোদয় ও ভদ্রমহিলাদের নমস্কার জানাই।

ঈশ্বরের নিজভূমি কেরলে বিশ্ব আয়ুর্বেদ উৎসবের অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত ‘ভিশন কনক্লেভ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি খুশি।

চিরাচরিত আয়ুর্বেদের পীঠস্থানই হল কেরল। এই রাজ্যটিতে সুদীর্ঘ ও নিরন্তর আয়ুর্বেদের চর্চাই এর একমাত্র কারণ নয়, ওষুধের প্রমাণিত কার্যকারিতা ও চিকিৎসা পদ্ধতির বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তাই রাজ্যটিকে এই পরিচিতি এনে দিয়েছে। এছাড়াও, এই রাজ্যে রয়েছে – স্বাস্থ্য নিবাস ও আয়ুর্বেদ হাসপাতালের এক বিশাল ও ক্রমবর্ধমান নেটওয়ার্ক।

আয়ুর্বেদের বিভিন্ন দিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ এবং বহু মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের এই বিশ্ব আয়ুর্বেদ উৎসব যে বিশেষ চিত্তাকর্ষক হয়ে উঠবে তা আমি জানি।

আনন্দের কথা, এই আয়ুর্বেদ উৎসবে বিরাট সংখ্যায় যোগ দিতে এসেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিদেশী প্রতিনিধিরা। উৎসবে তাঁদের অংশগ্রহণ আয়ুর্বেদের প্রসারে যে বিশেষ উৎসাহ সঞ্চার করবে, সে সম্পর্কে আমি নিশ্চিত।
সাধু-সন্ত ও মুনি-ঋষিদের এক সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে ভারতে। আয়ুর্বেদ, যোগ এবং সিদ্ধার মতো দেশীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও পরিচর্যার উদ্ভাবন করেছিলেন তাঁরাই।

যুগে যুগে অন্যান্য সভ্যতার সঙ্গে সংমিশ্রণ ঘটেছে আমাদের ভারতীয় সভ্যতার। এরফলে, অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিও সন্নিবেশিত হয়েছে আমাদের নিজস্ব চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে।

“সর্বে ভবন্তু সুখিন, সর্বে সন্তু নিরাময়ঃ” অর্থাৎ, “সকলেই সুখী থাকুক, সুস্থ থাকুক” – এই দর্শনকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে এই সমস্ত চিকিৎসা পদ্ধতি।

আয়ুর্বেদের সাধারণ সংজ্ঞা হল, “জীবন কেন্দ্রিক বিজ্ঞান”। কারণ, আয়ূর-এর অর্থ হল, জীবন এবং বেদ কথাটির অর্থ হল বিজ্ঞান। সুশ্রূত স্বাস্থ্যকে বর্ণনা করেছেন এইভাবে : “সংদোষা সমাগ্নি সংধাতু মলক্রিয়া প্রসন্মাত্মা ইন্দ্রিয়াস মন্স্বাথ অভিদ্যতে”।

এর অর্থ হল, যখন তিনটি দোষ ও অগ্নির মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং শরীর থেকে দূষিত পদার্থ নিঃসারিত হয় সঠিক শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে, তখনই স্বাস্থ্য হয়ে ওঠে সুষম। আত্মা, ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধি যখন মানুষের মানসিক শান্তির সঙ্গে সম্প্রীতি রক্ষা করে, তখনই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাস্থ্য হল শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে মানুষের ভালো থাকা, শুধুমাত্র দুর্বলতা বা রোগব্যাধিহীনতাই নয়। সুতরাং, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সংজ্ঞা ও আয়ুর্বেদের নীতির এক গভীর মিল আমরা প্রত্যক্ষ করতে পারছি।

অর্থাৎ, স্বাস্থ্য হল সবদিক দিয়ে মানুষের ভালো থাকার অবস্থা, শুধুমাত্র রোগব্যাধিহীনতাই নয়।

আজকের দিনে আয়ুর্বেদের প্রাসঙ্গিকতা বিশ্ব জুড়ে। কারণ, স্বাস্থ্যের প্রতি সামগ্রিক ও সুসংহত দৃষ্টি রয়েছে এই চিকিৎসা ব্যবস্থাটির।

আয়ুর্বেদের ‘দিনচর্যা’ অর্থাৎ, দৈনন্দিন শৃঙ্খলা ব্যক্তির জীবনে শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করে। আয়ুর্বেদের দৈনন্দিন জীবন শৃঙ্খলা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পূর্ণ বিকাশ ঘটায়।

প্রশ্ন হল, বর্তমান বিশ্ব, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কোন্‌ কোন্‌ চ্যালেঞ্জের আজ সম্মুখীন? অসংক্রামক এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের মতো জীবনশৈলী নির্ভর রোগব্যাধিগুলি আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষা ও হিসাবানুযায়ী, অসংক্রামক বিভিন্ন রোগব্যাধি প্রতি বছর ৩ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষের প্রাণহাণির কারণ। এর মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ মৃত্যু ঘটে স্বল্প ও মধ্য আয়ের দেশগুলিতে। এই সমস্যার সমাধানে পথ বাতলে দিতে পারে একমাত্র আয়ুর্বেদই।

সাধু-সন্ত ও মুনি-ঋষিদের যে দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারা রয়েছে, তা বিশ্বাস করে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্প্রীতি ও সমন্বয়ের ওপরই। আয়ুর্বেদ, যোগ ও সিদ্ধার মতো ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতির জনক ছিলেন এই সাধু-সন্তরাই।

পরিবেশ-বান্ধব আচার-আচরণ এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন লতাগুল্মের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে ভারসাম্য ও স্বাস্থ্য রক্ষার ব্যবস্থা করে এই চিকিৎসা পদ্ধতি।

দুর্ভাগ্যবশত, নানা কারণে আয়ুর্বেদের প্রকৃত সম্ভাবনা পুরোপুরিভাবে আহরণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে নি। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভাব এবং গুণগত মান ও কার্যকারিতা সম্পর্কে দ্বিধা ও সংশয় এর অন্যতম মূল কারণ।

যদি এই বিষয়গুলির দিকে যথাযথ নজর দেওয়া যায়, তা হলে আয়ুর্বেদ যে বহু স্বাস্থ্য সমস্যারই সমাধান করতে পারে, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। বিশ্বে সুলভে সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা প্রসারের ক্ষেত্রে ভারত এক অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

এই বিষয়গুলি সম্পর্কে আমরা কি করতে পারি এবং বর্তমানে কি-ই বা করে চলেছি, সেই দিকটা এবার একবার ভেবে দেখা যাক।

আয়ুর্বেদ এবং প্রথাগত চিকিৎসা পদ্ধতির প্রসারে আমাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই আয়ুষ দপ্তরটিকে ভারত সরকারের একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রকে উন্নীত করা হয়।

ব্যয়সাশ্রয়ী আয়ুষ সেবা প্রসার, এ সম্পর্কিত শিক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে তোলা, আয়ুর্বেদ, সিদ্ধা, ইউনানি এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সংক্রান্ত ওষুধপত্রের গুণগতমান নিশ্চিত করা এবং কাঁচামালের নিরন্তর যোগানের মাধ্যমে আয়ুষ চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে চালু হয়েছে জাতীয় আয়ুষ মিশন।

আয়ুষ পদ্ধতির ওষুধপত্রের গুণমান নিয়ন্ত্রণে আইনি সংশোধনের লক্ষ্যেও পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে, যাতে কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ে তা বলবৎ করা যায়।

যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে – ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত কেন্দ্রীয় সংস্থাটির মধ্যে আয়ুষ সংক্রান্ত একটি পৃথক কাঠামো গড়ে তোলা, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় আয়ুষ মিশনের আওতায় বিভিন্ন রাজ্যকে আর্থিক সহায়তার যোগান।

যোগ বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও দক্ষতা সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে গত বছর ২২ জুন সামগ্রিক স্বাস্থ্যের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলাকালীন চালু হয়েছে যোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত পেশাদারদের স্বেচ্ছায় শংসাপত্রদান সম্পর্কিত এক কর্মসূচি।

আয়ুর্বেদ সহ অন্যান্য ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কিত আমাদের নীতিটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চিরাচরিত চিকিৎসা কৌশল ২০১৪-২০২৩ -এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে এই কৌশল গৃহীত হয় ১৯২টি সদস্য রাষ্ট্রে তা রূপায়ণের লক্ষ্যে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চিকিৎসা কৌশল পদ্ধতির সঙ্গে চিরাচরিত ও পরিপূরক স্বাস্থ্য পদ্ধতির মিলন ঘটানো হয়েছে, যাতে মানুষের স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য পরিচর্যার দিকে তা লক্ষ্য রাখতে পারে।

সুতরাং, স্বামী বিবেকানন্দের একটি উক্তি আমরা এই প্রসঙ্গে স্মরণ করতে পারি। তা হল, “প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের যা কিছু শ্রেষ্ঠ তার মধ্যে সমন্বয়সাধন”।

আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগনির্ণয়ের শক্তিশালী ও দক্ষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা মানুষের শরীরের রোগব্যাধিকে সহজে চিহ্নিত করে ফেলতে পারে। স্বাস্থ্য পরিচর্যায় প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে রোগের গতিপ্রকৃতি নির্ণয় এবং সেইমতো ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব।

তবে, এর বাইরেও আরও অনেক কিছুই আমাদের করার রয়েছে। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য পরিচর্যার প্রসার ঘটালেই চলবে না। সেইসঙ্গে, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মিলন ঘটিয়ে সুস্বাস্থ্যের অন্বেষণ করে যেতে হবে আমাদের।

চিকিৎসার উত্তরোত্তর ব্যয় এবং ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বাধ্য করেছে প্রথাগত চিকিৎসা ব্যবস্থার দিকে আরও বেশি করে নজর দিতে।

সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রথাগত ওষুধের ব্যাপক প্রচলন সম্ভব করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমগ্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় উন্নতমানের ওষুধ উৎপাদন, চিকিৎসার প্রসার এবং চিকিৎসকদের উৎসাহিত করে তোলার মতো বিষয়গুলিকে যুক্ত করা হবে।

জনসাধারণের কাছে প্রতিরোধমূলক, বিকাশশীল এক সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সুযোগ পৌঁছে দিতে আয়ুর্বেদ সহ অন্যান্য আয়ুষ পদ্ধতির সম্ভাবনা আহরণে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

আয়ুর্বেদ, যোগ এবং অন্যান্য প্রথাগত চিকিৎসার সর্বাধিক প্রয়োগ সম্ভব করে তুলতেও আমরা নিজেদের নিয়োজিত করেছি। যে সমস্ত তরুণ শিল্পোদ্যোগী ‘স্টার্ট আপ’ শুরুর পরিকল্পনা করেছেন, তাঁরা সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার ক্ষেত্রে যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তার কথা একবার ভেবে দেখতে পারেন।

স্বাস্থ্যক্ষেত্রের পরিকল্পনা করার সময় আমরা আয়ুর্বেদ এবং অন্যান্য প্রথাগত চিকিৎসা ব্যবস্থার উপযোগিতা এবং বর্তমান প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টি চিন্তা করি। কিন্তু, একইসঙ্গে এই সমস্ত চিকিৎসা পদ্ধতি যে বাস্তব পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন সে সমস্ত বিষয়ও আমাদের ভেবে দেখতে হবে।

চিরাচরিত চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রামীণ মানুষের অনেকেরই নাগালের মধ্যে। নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার দিক থেকে সফল প্রমাণিত এই সমস্ত চিকিৎসা স্থানীয়ভাবেই মানুষের আওতাধীন। শুধু তাই নয়, জনজাতির সঙ্গে সাংস্কৃতিক এক পরিবেশ-বান্ধব পদ্ধতি রূপে গড়ে উঠেছে এই চিকিৎসা ব্যবস্থাগুলি।

উন্নয়নশীল দেশগুলির অনেকগুলিতেই প্রথাগত চিকিৎসা ব্যবস্থা সেখানকার দরিদ্র জনসাধারণের আর্থিক ও ব্যবহারিক আয়ত্তের মধ্যে থাকা একমাত্র সম্পদ।

এই কারণেই এই সমস্ত চিকিৎসা পদ্ধতির গুণগতমান নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আয়ুর্বেদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাঁরা আজ এখানে সমবেত হয়েছেন, তাঁরা সকলেই অবশ্যই স্বীকার করবেন যে, আয়ুর্বেদ চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদের প্রথাগত জ্ঞানকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে তা নিরাপত্তা, কার্যকারিতা, সুনির্দিষ্ট গুণমান এবং বাস্তব পরিস্থিতিমুখী হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে জৈব চিকিৎসা পদ্ধতি, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এই কাজে।

চিরাচরিত দেশীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার নিরাপদ প্রয়োগ সম্ভব করে তুলতে চিন বিশেষভাবে সচেষ্ট রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও বিধিনিয়ন্ত্রণ আরোপেরও চেষ্টা করে যাচ্ছে এই দেশটি। পরিপূরক এবং বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির বিশ্ব বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে এই বিশেষ ক্ষেত্রটিতে।

অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতার আলোকেই শিক্ষালাভ করতে হবে আমাদের। আয়ুর্বেদ এবং অন্যান্য ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি যাতে যথাযথভাবে প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি’তে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি চিরাচরিত চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে দিল্লি ঘোষণার যে প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছিল তা পরবর্তীকালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কমিটির স্বীকৃতি লাভ করে। ফলে, চিরাচরিত চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নমূলক কাজকর্মের মধ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলি যাতে সমন্বয় রক্ষা করতে পারে, সে সম্পর্কে দিকনির্দেশও করা হয়েছিল।

দিল্লি ঘোষণার বিষয়গুলির সঠিক রূপায়ণের মধ্য দিয়ে আয়ুর্বেদ সহ প্রথাগত চিকিৎসা পদ্ধতির যথাযথ উন্নয়ন জাতীয়, আঞ্চলিক তথা বিশ্ব পর্যায়ে যে সম্ভব হয়ে উঠবে সে ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

আয়ুর্বেদ এবং অন্যান্য আয়ুষ চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিনিময় কর্মসূচির বিশেষ কেন্দ্র রূপে ব্যবহারের প্রস্তাব রইল আমাদের পক্ষ থেকে।

এই সমস্ত ক্ষেত্রে গুণগত স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও শিক্ষার প্রসার ঘটাতে দক্ষ পেশাদার গড়ে তোলার লক্ষ্যে নজর দিতে হবে দেশের নেতাদের।

ভদ্র মহোদয় ও ভদ্র মহিলাগণ, আপনারা সকলেই জানেন যে, যোগ ও আয়ুর্বেদের এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে ভারতের। আয়ুর্বেদ সম্পর্কিত জ্ঞানের বহু বিচিত্র সাংস্কৃতিক মূল বা শিকড়ের কথা বিধৃত রয়েছে আমাদের প্রাচীন পুঁথিপত্রে। চরক সংহিতা এবং সুশ্রূত সংহিতায় চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভেষজ গুণসম্পন্ন লতাগুল্ম সংগ্রহে গোপালক, ব্যাধ এবং বনবাসীদের সাহায্য গ্রহণ করার জন্য।

চরক সংহিতায় আমরা লক্ষ্য করেছি, মধ্যপ্রাচ্যের চিকিৎসকদের সমবেতভাবে মিলিত হয়ে আয়ুর্বেদের মূল নীতিগুলি রচনা করতে।

তিনটি প্রাচীন পুঁথিতে বৌদ্ধদের নীতিগত মূল্যবোধকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। অষ্টাঙ্গহৃদয়ম – এই প্রাচীন পুঁথি শাস্ত্রটির রচয়িতা ভাগবত ছিলেন স্বয়ং একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

এ থেকে প্রমাণিত যে শুধুমাত্র স্থানীয়ভাবেই নয়, বহুধাবিস্তৃত সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়ে অর্জিত শিক্ষা ও জ্ঞানের বিনিময় গড়ে তুলেছে আমাদের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিগুলিকে।

এই প্রচেষ্টা আমরা অব্যহত রাখবো। আমাদের নিজস্ব চিকিৎসা পদ্ধতির জ্ঞান আমরা বিনিময় করবো বিশ্বের অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে। এইভাবে অন্যদের কাছ থেকে শিক্ষা ও জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে আমরা সমৃদ্ধ করবো আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের ধারাটিকে।

এই লক্ষ্যটিকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় বিশ্ব আয়ুর্বেদ উৎসব।

ভিশন কনক্লেভ তথা বিশ্ব আয়ুর্বেদ উৎসবের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য আমি কামনা করি। আয়ুর্বেদকে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির ওপর যে আলোকপাত করা হবে এই উৎসবে সে ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা র‍য়েছে আমার।

বিখ্যাত আয়ুর্বেদ গ্রন্থ অষ্টাঙ্গহৃদয়মের কিছু উদ্ধৃতি স্মরণ করে আমি আমার বক্তব্য শেষ করবো।

দরিদ্র, রোগব্যাধি জর্জরিত এবং শোকসন্তপ্ত মানুষদের সাহায্য করা উচিৎ। এমনকি, ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ ও পিপড়েদেরও দেখা উচিৎ সহানুভূতি ও সহমর্মিতার সঙ্গে। তাদের মনে করতে হবে নিজের সত্তারই আরেকটি দিক।

এই হল আয়ুর্বেদের শিক্ষা। এই শিক্ষা আমাদের সকলের মধ্যে শক্তি সঞ্চা্রিত করুক এই কামনা করি।

ধন্যবাদ।

PG/SKD/SB