Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

বিশ্ব সাংস্কৃতিক উৎসবে প্রধান মন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

বিশ্ব সাংস্কৃতিক উৎসবে প্রধান মন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

বিশ্ব সাংস্কৃতিক উৎসবে প্রধান মন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


পরম পূজ্য শ্রী শ্রী রবিশংকরজী…সকল মাননীয় ব্যক্তিবর্গ,

আপনাদের সবাইকে ভারতের মাটিতে আন্তরিক স্বাগত জানাই। ভারত এত বিবিধতায় পরিপূর্ণ, বিশ্বকে দেওয়ার জন্যে আমাদের কতকিছু রয়েছে। বিশ্ব কেবল আর্থিক হিত নয়, মানবিক মূল্যের সূত্রেও যুক্ত হতে পারে, যুক্ত হওয়া উচিতও।

গোটা বিশ্ব এখন যেমন সাংস্কৃতিক অধিষ্ঠানের খোঁজে,তেমনি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ভারতের রয়েছে। ভারত কোনও না কোনও রূপে বিশ্বের ওই প্রয়োজন কিছুটা মেটাতে পারবে। কিন্তু এসব কিছু তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা নিজেদের মহান ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করতে শিখব।

তাঁর বিপরীতে, আমরাই যদি নিজেদের সবকিছুকে হেয় করতে থাকি, নিন্দা করি, তাহলে বিশ্ব আমাদের দিকে ফিরে তাকাবে কেন?

আমি পরমপূজ্য শ্রীশ্রীরবিশংকরজীকে অভিনন্দন জানাই, মাত্র পয়ত্রিশ বছরের ক্ষুদ্র কার্যকালে এই আর্ট অফ লিভিং মিশন, বিশ্বের দেড়শটিরও বেশি দেশে ভারতের ওই সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব পালন করেছে।

কয়েকমাস আগে আমি মঙ্গোলিয়া গিয়েছিলাম। আমাকে চমকে দিয়ে মঙ্গোলিয়ার আর্ট অফ লিভিং মিশনের সকল বন্ধু সেখানকার একটি স্টেডিয়ামে আমাকে সম্বর্ধনা দিয়েছিলেন।সেই বন্ধুদের মধ্যে ভারতীয় খুব কম ছিলেন।গোটা স্টেডিয়ামে মঙ্গোলিয়ার নাগরিকরাই ভারতের তেরঙ্গা পতাকা হাতে নিয়ে যেরকম ভারতীয় ঘরানার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেছিলেন –তা দেখে আমি প্রেরণা পেয়েছিলাম। সরকার এবং কূটনীতি যা করতে পারে না, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সাংস্কৃতিক ‘সফট পাওয়ার’ বড় ভূমিকা পালন করে।

আজ আমি এমনই একটি কুম্ভমেলা দর্শন করছি, সংস্কৃতির কুম্ভমেলা। ভারত এত সমৃদ্ধ ছিল যে এই সংস্কৃতি পরিপূর্ণ বিকাশের সুযোগ পেয়েছিল। এই মাটি এমনই, এখানে প্রতিটি প্রহরের সঙ্গীত ভিন্ন। সকালের রাগ আর বিকেলের রাগ আলাদা। বিশ্ববাজারে শরীর দোলানো সঙ্গীতের নানা বৈচিত্র পাওয়া যাবে, কিন্তু মনদোলানো সঙ্গীতের প্রাচুর্য রয়েছে ভারতের সর্বত্র। বিশ্ব এখন এই সঙ্গীতের মর্ম বুঝছে, তাঁরাও মনভোলানো সঙ্গীত শুনতে চান। সেজন্যে আমাদের দেশে যাতে এই সঙ্গীত সাধনার পরম্পরা অব্যাহত থাকে সেটা দেখতে হবে।

সংস্কৃতির মাধ্যমে দেখলেইকোন দেশের আত্মিক শক্তিকে চেনা যায়। শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল ধরে ভারতে যে সংস্কৃতির সাধনা হয়েছে সেই অমূল্য সংস্কৃতির উপহার এখন ভারতবাসী বিশ্বের হাতে তুলে দিচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে এই সমারোহ, এত প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মাঝে এই আয়োজন, এটাই ‘আর্ট অফ লিভিং’। সহজ সরল পরিবেশে বেঁচে থাকার মধ্যে ‘আর্ট’ থাকে না। কিন্তু বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বাঁচতে হলে ‘আর্ট অফ লিভিং’ রপ্ত করতে হয়। কোনও স্বপ্ন সাকার করার উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হলেও ‘আর্ট অফ লিভিং’ চাই। স্ব থেকে সমস্তির দিকে যাত্রায়, অপরের হিতে বাঁচার জন্যে ‘আর্ট অফ লিভিং’ চাই। আমি থেকে মুক্ত হয়ে আমাদের সংকটের সমাধানে, সমস্যার মোকাবিলায়, ‘আর্ট অফ লিভিং’ চাই।

আমরা ‘অহম ব্রহ্মাস্মি’ থেকে শুরু করি আর ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ এর পথে এগিয়ে যাই।এটাই ‘আর্ট অফ লিভিং’। আমরা উপনিষদ থেকে উপগ্রহ পর্যন্ত যাত্রা করেছি, এই উৎকৃষ্ট জীবন যাপনপদ্ধতি আমাদের মুনি, ঋষি,জ্ঞানী ও তপস্বীদের পরম্পরা থেকে পেয়েছি। সংকটের মুখোমুখি মানুষ, ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যায় জর্জরিত বিশ্ববাসী যখন শোনেন ভারতীয়রা কেমন করে একান্নবর্তী পরিবারে থাকেন, তাঁরা অবাক হন। এই একান্নবর্তী পরিবার আমাদের ঐতিহ্য। আমরা শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল ধরে এই একান্নবর্তী পরিবারে বাঁচার কৌশল শিখেছি। এখন পাশ্চাত্য জীবনের অনুকরণ করতে গিয়ে আমাদের পরিবারগুলিও ভাঙছে, তাই সেগুলিকে আবার ঠিকঠাক করে নিতে হবে।

সেজন্যেই আমি পরম পূজ্য শ্রী শ্রী রবিশংকরজীর নেতৃত্বে বিশ্বময় ‘আর্ট অফ লিভিং’ এর প্রসারে আনন্দিত। আজ এখানে আয়োজিত এই সমারোহে অংশগ্রহণকারী সকলকে আমার শুভেচ্ছা জানাই। সকল শিল্পী ও কলাকুশলী, সকল সাধক ও ‘আর্ট অফ লিভিং’এর কর্মকর্তাদের এই অসাধারণ সমারোহের মাধ্যমে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্যে আমরা আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই।

ধন্যবাদ।

PG/SB