Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

বি আর আম্বেদকর স্মারক মুদ্রার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

বি আর আম্বেদকর স্মারক মুদ্রার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

বি আর আম্বেদকর স্মারক মুদ্রার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

বি আর আম্বেদকর স্মারক মুদ্রার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

বি আর আম্বেদকর স্মারক মুদ্রার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমাগত বয়োজ্যেষ্ঠ মাননীয় ব্যক্তিবর্গ,

আজ ৬ ডিসেম্বর, পূজনীয় বাবাসাহেব আম্বেদকরের মহাপ্রয়াণ দিবস। আমার মনে হয় না অদ্যাবধি কেউ বাবা সাহেব আম্বেদকরের চিত্রখোদিত মুদ্রা প্রকাশের কথা ভেবেছেন।

রাজনৈতিক জীবনে অধিকাংশ নেতাকে তো আমরা তাঁর জীবৎকালেই ভুলে যাই। কারও কারও মৃত্যুর সময় চিরবিদায় হয়ে যায়। কিন্তু এমন কম মহাপুরুষই থাকেন, যিনি মৃত্যুর ষাট বছর পরও মানুষের মনে স্মরণীয় হয়ে থাকেন। হয়তো তাঁর জীবৎকালে অনেকেই তাঁকে উপেক্ষা করেছেন বলে, নেহাৎই একজন মেধাবী ছাত্র, একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু অরুণজি যেমন বলেছেন, আজকের সমস্যাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে বাবাসাহেবকে দেখলে আমরা বুঝতে পারি তিনি কত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন, কত গভীর ভাবনাসম্পন্ন ছিল তাঁর সমাজ দর্শন।

আমাদের সমাজে সাধারণত কোনও মানুষকে দু-একটা কারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়, মনে রাখা হয়। বহুমুখী প্রতিভা খুবই বিরল, তার কারণ এটা নয় যে মেধার ঘাটতি রয়েছে, ঘাটতি থাকে আমাদের মনে, আমরা সকল বহুমুখী দৃষ্টিকোণকে বুঝতে পারি না। বুঝতে বুঝতে কখনও ৬০ বছর পেরিয়ে যায়। সামাজিক চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে বাবাসাহেবের দর্শন, বিশেষ করে তাঁর সামাজিক ন্যায়ের দর্শন সমাজের নিচুস্তরেও সঞ্চারিত হয়েছে, কিন্তু বাবাসাহেব অর্থনৈতিক দর্শন নিয়ে এখনও তেমন গভীর আলোকপাত হয়নি।

তাঁর ১২৫তম জন্ম শতবার্ষিকীতে আমরা যদি বাবাসাহেবের এই দিকটা সম্পর্কে নবীন প্রজন্মকে পরিচিত করাতে পারি তাহলে খুব ভালো হবে। ইতিমধ্যেই সংসদের উভয় কক্ষে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। সকল মাননীয় সদস্য নিজের মতো করে বর্তমান পরিস্থিতিকে বাবাসাহেবের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখাতে চেয়েছেন যে তিনি আজও কত প্রাসঙ্গিক। অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁরা আমাকে সংসদে প্রশ্ন করেছেন, মোদীজি, আমরা জানি ১৫ আগস্ট কী, ২৬ জানুয়ারি কী, কিন্তু আপনি ২৬ নভেম্বর কোথা থেকে তুলে আনলেন ? কেউ বাবাসাহেব আম্বেদকরের দর্শনকে ভালোভাবে অনুধাবন করলে এমন প্রশ্ন কখনোই করতেন না।

আমরা যখন ২৬ জানুয়ারির কথা বলি তখনও বাবাসাহেব আম্বেদকরের প্রতিচ্ছবি দেশের সামনে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে না, এটা মানতে হবে। ১৫ আগস্টে আমরা যেমন মহাত্মা গান্ধী, ভগৎ সিং-এর মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করি। কিন্তু ২৬ জানুয়ারি উদযাপনের সময় কেন স্মরণ করি না ? এত বড় অবদানকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। আগামী প্রজন্মকে তাদের ঐতিহ্য সম্পর্কে অবগত করাতে, রাষ্ট্রীয় একতার জন্য মহাপুরুষদের অবদান, তাঁদেরকে স্মরণ করলে যে শক্তি তৈরি হয় তা সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে রাখার পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্যেই সংসদে এবং গোটা দেশে বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং দেশের সংবিধান সম্পর্কে নিরন্তর আলাপ-আলোচনা হওয়া উচিত। তেমনই, প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত, নিয়মিত অনলাইন প্রতিযোগিতা, বক্তৃতা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা উচিত। সরকারি স্তরে এই বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরি করে প্রতি বছর ২৬ নভেম্বর থেকে ২৬ জানুয়ারির মধ্যে এই প্রতিযোগিতাগুলির আয়োজন করা উচিত। ২৬ জানুয়ারিতে সেই প্রতিযোগিতার পুরস্কার ঘোষিত হোক। এমন ব্যবস্থা করলে এ বিষয়ে নবীন প্রজন্মের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

বাবাসাহেব আম্বেদকরের বৈশিষ্ট্য, তাঁর দর্শন ও কর্মপদ্ধতির বৈচিত্র্যকে আমি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি। তিনি আমাদের দেশের সমাজ দ্বারা পীড়িত ছিলেন, দুঃখ পেয়ে পেয়ে সমাজের প্রতি তাঁর মনে আক্রোশ ছিল, পাশাপাশি সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাও তাঁর মনে প্রবল হয়ে উঠেছিল। তারপরও তিনি বিদেশে থাকার পর লিখেছেন, “ভারতের বাইরে পাঁচ বছর যখন ছিলাম, অস্পৃশ্যতা কাকে বলে তা ভুলে গিয়েছিলাম। মনেই ছিল না, কারণ, যখন এখানে এক প্রকার অপমানিত অবস্থা, অন্যদিকে, সম্মানের অনুভব আমাকে ঋদ্ধ করেছে, তারপরও মানুষের মনের উৎসাহ কেমন, বিদেশে সেই সম্মানের অনুভব ছেড়ে স্বদেশে অপমানের জীবন বাঁচতে হলেও অবশ্যই ফিরে যাব”, এটা ছোট কথা নয়। এই মহান ব্যক্তিত্বকে চেনার জন্য এগুলি বুঝতে হবে, কোথায় ফেরার কথা ভাবছেন তিনি, যে গ্রামে জন্মেছিলেন সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না, রাস্তাঘাট ছিল না, শৈশব-কৈশোরে তাঁকে এত যাতনা, এত অপমান সহ্য করতে হয়েছে তবুও তিনি বিলেতের সকল মান-সম্মান এবং অস্পৃশ্যতা বোধ থেকে দূরে থাকার শান্তি ত্যাগ করে স্বদেশেই ফিরতে চেয়েছিলেন। অন্তরের শক্তি কত প্রবল হলে কারও পক্ষে এরকম ভাবা সম্ভব !

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য দেখুন, সমাজের প্রতি এই আক্রোশ, মনে কষ্ট থাকা, ব্যথা-যন্ত্রণা সত্ত্বেও প্রতি মুহূর্তে তাঁর দেশভক্তির ঝলক আমরা দেখতে পাই। নিছকই একটি সীমান্তে আবদ্ধ দেশ হিসেবে নয়, তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে গর্ব অনুভব করতেন। যার বিকৃতিসমূহ এত জটিল সমস্যার জন্ম দিয়েছিল, এহেন পরিস্থিতি থেকে সত্যকে অনুধাবন করা খুব কঠিন। সেজন্যে তিনি যখন পি এইচ ডি করেছেন তার একটি বিষয় ছিল ‘প্রাচীন ভারতের বাণিজ্য’। এই প্রাচীন ভারতের বাণিজ্য সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ প্রমাণ করে যে তিনি ভারতের ঐতিহ্য ও গরিমার সঙ্গে নিজের শিকড়ের টান অনুভব করতেন। তা না হলে তাঁর গবেষণায় অন্য কিছু উঠে আসত। আমি মনে করি আজকের যারা নীতি-নির্ধারক, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক তাঁরা বিশ্ব অর্থনীতি বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাবাসাহেব আম্বেদকরের অর্থচিন্তাকে অনুধাবন করলে ভালো হবে। তাঁর ভাবনাচিন্তার ভারসাম্য ও ব্যাপ্তি ভালোভাবে বুঝতে বিশ্ববাসীর আরও সময় লাগবে। এ বিষয়ে বিশেষ গবেষণা হওয়া উচিত। গবেষণা নিবন্ধই শুধু তাঁর গভীরতা অনুধাবনে সক্ষম হতে পারে। ভারতের মতো দেশের অর্থনীতি নিয়ে তাঁর মন্ত্র ছিল খুবই সরল, “বহুজন হিতায়, বহুজন সুখায়।”

আমি মনে করি, আর্থিক দৃষ্টিতে কোনও সরকারকেই এই মূলতত্ত্বের বাইরে বেরোনোর প্রয়োজন নেই।

দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই বাবাসাহেব আম্বেদকর নিজের গবেষণাপত্রে ভারতে একটি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কল্পনা করেছিলেন। আজ আমরা ‘ফেডারেল সেক্টর’-এর কথা বলি, অর্থ কমিশনে রাজ্যগুলির দাবি থাকে এত টাকা কে দেবে, কোন্‌ রাজ্য এই ক্রমানুসারে চলবে ! দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই বাবাসাহেব আম্বেদকর অর্থ কমিশনে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির মধ্যে অর্থের বাটোয়ারা কেমন করে হবে সে সম্পর্কে গভীর চিন্তাভাবনা প্রকাশ করে গেছেন, সেই চিন্তার ফসল আজকের অর্থ কমিশন, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক সংস্থা।

আজ আমরা নদী সংযুক্তিকরণ অভিযানের কথা ভাবছি, ‘রিভার গ্রিড’ নিয়ে কথা বলি, দু’দিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ভোজনের সময় তিনিও ‘রিভার গ্রিড’ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। বাবাসাহেব আম্বেদকর স্বাধীনতার আগেই জল নিয়ে কমিশন গঠনের কল্পনা করেছিলেন। দূরদর্শী ব্যক্তিরাই এরকম ভাবতে পারেন।

দেশের উন্নয়নে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি ভেবেছিলেন। যখন পুরুষদেরই তেমন সম্মান ছিল না, দলিত, পীড়িত, শোষিত সমাজ প্রতিনিয়ত অপমানের শিকার হতো, সেই কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি স্ত্রী ও পুরুষের সমান অংশীদারিত্বের কথা, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার কথা ভেবেছিলেন। তিনি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। আগে পড়াশোনা, যত দুঃখ-কষ্টই থাকুক না কেন, পড়াশোনা করতে হবে। এই শিক্ষাই একমাত্র কারও থেকে কেউ লুন্ঠন করতে পারবে না।

তাঁর এই শিক্ষার প্রতি আগ্রহ, শেখানোর প্রতি আগ্রহ, সমাজকে এক নতুন শক্তি দিয়েছে। আজ তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী বর্ষে আমরা তাঁর এই শক্তির কথা স্মরণ করি। জীবনের শেষ দিনগুলিতে তাঁর শরীর খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ছোটবেলায় অপুষ্টির শিকার, যৌবনেও দু’বেলা পেট ভরে খেতে না পাওয়া তাঁকে জীবনের শেষ মুহূর্তগুলিতে বেশ নড়বড়ে করে তুলেছিল। কিন্তু তখনও তিনি যতটা পারতেন কাজ করতেন। নিজেকে ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দেননি। হার মানেননি, মৃত্যুর চারদিন আগে তাঁর শেষ বইটি সম্পূর্ণ করেছেন। প্রথম গবেষণাপত্র ছিল‘ইন্ডিয়ান এনশিয়েন্ট কমার্স’, আর শেষ বইটির নাম ছিল ‘বুদ্ধ এবং কার্ল মার্কস’।

তখন কার্ল মার্কস-এর চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোড়ন চলছিল। সমাজবাদী চিন্তাধারা ভারতের প্রায় সকল চিন্তাবিদদের প্রভাবিত করেছিল। সেই সময় মহাপুরুষ ভগবান বুদ্ধের চিন্তাকে ভিত্তি করে তিনি ‘বুদ্ধ এবং কার্ল মার্কস’ লিখেছেন যার মূল মন্ত্র ছিল ‘বহুজন হিতায়, বহুজন সুখায়’।

আম্বেদকরের অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনায় ভারতের মাটির বাস্তব জড়িয়ে রয়েছে। এতে তিনি গৌতম বুদ্ধের অর্থনীতি ভাবনাকেও যুক্ত করেছেন। সেজন্য আমি মনে করি এহেন মহামূল্য ঐতিহ্য যেকোন রাষ্ট্র তার পূর্বপুরুষদের থেকে, ইতিহাস থেকে পেলে তবেই বর্তমান উন্নততর হয়, পল্লবিত হয়। আমাদের ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, মহাপুরুষদের দর্শনকে বিস্মৃত হতে দিলে, দেশের বর্তমান কখনও শক্তিশালী হতে পারে না।

বাবাসাহেব আম্বেদকর এমন মনীষী ছিলেন যিনি সামাজিক, আর্থিক এবং দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি নতুন রাষ্ট্র সঞ্চালনের ভিত্তি নির্মাণ করে গেছেন।

আজ আমরা এহেন মহাপুরুষকে স্মরণ করার সুযোগ পেয়েছি। এটা গর্বের কথা যে আজ ভারত সরকার তাঁর চিত্রসম্বলিত মুদ্রা প্রকাশ করছে। সম্ভবত, এটাই ভারত সরকারের প্রথম মুদ্রা যাকে সকলে উঠে দাঁড়িয়ে, করতালি দিয়ে সম্মান জানিয়েছেন। এযাবৎ সরকার অনেক মুদ্রা প্রকাশ করেছে। কিন্তু এবারেই হয়তো সমাজের প্রত্যেক দলিত, পীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত মানুষ যাদের কাছে সবসময় ১২৫ টাকা থাকে না, তারাও এই মুদ্রা সংগ্রহ করে মণি-মুক্তোর মতো তাকে সংরক্ষণ করবে। সেজন্যই এই মুদ্রা প্রকাশ করার দায়িত্ব নির্বাহ করে আমার আনন্দ হচ্ছে।

এই সমস্ত জিনিস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে, আশীর্বাদরূপে প্রতিপন্ন হবে। আমি আরো একবার অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই, সময়ের দাবি মেনে সকল কাজ করার জন্য। অর্থ মন্ত্রকের সকল কর্মচারীদেরও আমি অন্তর থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/DM/S