Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

বেঙ্গালুরুতে ‘যোগ গবেষণা ও তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ’ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বেঙ্গালুরুতে ‘যোগ গবেষণা ও তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ’ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বেঙ্গালুরুতে ‘যোগ গবেষণা ও তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ’ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বেঙ্গালুরুতে ‘যোগ গবেষণা ও তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ’ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বেঙ্গালুরুতে ‘যোগ গবেষণা ও তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ’ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বেঙ্গালুরুতে ‘যোগ গবেষণা ও তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ’ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী


আজ বেঙ্গালুরুর জিগানি-তে ‘যোগ গবেষণা ও তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ’ সম্পর্কিত এক আন্তর্জাতিক সম্মলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী।

এই উপলক্ষে বিশেষ চিকিৎসা সম্পর্কিত এক হাসপাতালের ভিত্তিফলকের আবরণও উন্মোচন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে এই ধরনের একটি সম্মেলনের আয়োজন করার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানান বিবেকানন্দ যোগ অনুসন্ধান সংস্থান কর্তৃপক্ষকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় ও পাশ্চাত্য চিন্তাভাবনার গভীর অনুধাবনই ছিল বিবেকানন্দের দর্শন। আমাদের সুপ্রাচীন জ্ঞান ও দর্শনের শিক্ষাই তাঁকে এই শক্তি যুগিয়েছিল। বিবেকানন্দ ভারতের আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র তাঁর অনবদ্য অবদানের স্বাক্ষর রাখেননি, আমাদের কালাতীত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বাণী তিনি উচ্চারণ করেছিলেন সমগ্র বিশ্বের কাছে। এই বছরটি যোগ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বছর বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

শ্রী মোদী বলেন, গত ২১ জুন বিশ্বের ১৯০টি দেশের ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনে সমবেত হয়েছিলেন। এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যোগাভ্যাস ক্রমশই জনপ্রিয়তা লাভ করে চলেছে। শুধু তাই নয়, সুস্বাস্থ্য ও ভালো থাকার জন্য সকলের মধ্যেই যে আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এই ঘটনা তারই প্রতীক দৃষ্টান্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতা বসুন্ধরার সঙ্গে মানুষের ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে বিশ্ববাসীর আকাঙ্ক্ষাই এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত। বিভিন্ন দেশের মধ্যে এবং মানুষে মানুষে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তারও প্রতিফলন ঘটেছে এর মধ্যে।

শ্রী মোদী বলেন, পরিচিত গণ্ডীর বাইরে এসে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ এক বৃহত্তর স্বার্থে যে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হতে পারেন এই সত্য আজ প্রমাণিত। সুপ্রাচীন যোগ বিজ্ঞানের অস্তিত্ব মানুষের এই ঐক্যসাধনের মধ্যেই আমরা খুঁজে পেতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে এই যোগ দিবস পালনের প্রস্তাব তিনি পেশ করেছিলেন। যোগাভ্যাসের শক্তি এবং মানবতার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসই তাঁকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছিল। বিশ্বের জন্য এক নিরন্তর ভবিষ্যৎ এবং মানুষের মধ্যে সু-অভ্যাস গড়ে তুলতে তথা মানুষকে আরও সুখী করে তোলার লক্ষ্যে আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন একান্ত প্রয়োজন। ব্যক্তি মানুষ, জাতি কিংবা বিশ্ব মানবতা – যাই হোক না কেন, এই জীবনযাত্রা আমাদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগাভ্যাস যে বিশ্বে ক্রমেই স্বীকৃতি লাভ করছে এই ঘটনা তারই প্রমাণ। দেশ, কাল, সংস্কৃতি ভেদে জীবনকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে, অন্তরাত্মার সঙ্গে বাইরের জগতের মেলবন্ধন ঘটাতে এবং পরিবেশের সঙ্গে তাদের জীবনধারণকে সম্পৃক্ত করে তুলতে মানুষ যে ক্রমশ যোগের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এ সমস্ত কিছু তারই প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংগঠনের তথ্য ও প্রতিবেদনে প্রকাশ, সংক্রামক নয় এমন বহু রোগ বিশ্বে মৃত্যুর ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণ। ২০০৮ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে মৃত্যুর ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী এই ধরনের রোগ-ব্যাধি। ২০০৮-এর ঐ পরিসংখ্যান ১৯৯০-এর পরিসংখ্যানগত তথ্যের থেকেও ৪০ শতাংশ বেশি বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক দিক থেকে অনগ্রসর দেশগুলি এই ধরনের মৃত্যুর ঘটনা প্রত্যক্ষ করবে অর্থনৈতিক দিক থেকে উন্নত দেশগুলির তুলনায় আটগুণ বেশি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হৃদরোগ, ক্যান্সার, শ্বাসজনিত ব্যাধি, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগ ভারতে মোট মৃত্যুর ঘটনার ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী। দেশের হাসপাতালগুলিতে ভর্তি প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এই সমস্ত রোগে আক্রান্ত। অন্যদিকে, যারা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসেন তাদের প্রায় ৩৫ শতাংশই ঐ সমস্ত রোগে আক্রান্ত। উৎপাদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবন এইভাবে থেমে যাওয়ার করুণ ঘটনার আমরা সাক্ষী। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে অকালে প্রিয়জন হারানোর ক্ষতি বহন করে যেতে হয়। শুধু তাই নয়, দেশের অর্থনীতিও তাতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অত্যধিক চাপ পড়ে আমাদের সমগ্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরও।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০-এর আগে এই ধরনের অ-সংক্রামক ব্যাধি ও মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির কারণে ভারতকে ৪.৫৮ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি স্বীকার করতে হবে বলে কয়েকটি সমীক্ষায় প্রকাশ। এই কারণেই ব্যবহারিক ও বস্তুগত জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জাগতিক অস্তিত্বের তথা মানসিক অবস্থার দিকেও অবশ্যই নজর দিতে হবে। আর এক্ষেত্রে রয়েছে যোগাভ্যাসের এক অনবদ্য অবদান। যোগাভ্যাস যে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন সম্ভব করে তুলেছে এবং আশা-আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে তার নজির রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ভারতীয় যোগাভ্যাস ভবিষ্যতে মানুষের জীবনকে আরও সচল ও গতিময় করে তুলবে – শ্রী অরবিন্দের এই বাণী আজ সার্থকতা লাভ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে শৃঙ্খলাকে চিকিৎসার একটি অঙ্গ বলে মনে করা হত না। কিন্তু মেধা, আবেগ, নীতি ও আধ্যাত্মিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সামগ্রিকভাবে মানুষের শারীরিক তথা মানসিক জীবনশৈলী গড়ে উঠতে সাহায্য করে একমাত্র যোগাভ্যাসই এবং এর মধ্য দিয়েই সুস্বাস্থ্যের সুফলগুলি লাভ করা সম্ভব। স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিশ্বে এখন যে নতুন সংজ্ঞা নির্ধারিত হচ্ছে তার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় এই সত্যটি। শুধুমাত্র রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি নিয়েই আমরা এখন সন্তুষ্ট থাকতে পারি না। আজকের চাহিদা সুস্বাস্থ্য ও ভালো থাকা। অর্থাৎ, শরীর, মন ও আত্মার এক স্বাস্থ্যসম্মত ভারসাম্য রক্ষা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামগ্রিক চিকিৎসার কথা এখন আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। এর অর্থ শুধু রোগের চিকিৎসা বা মোকাবিলাই নয়, বরং, একটি মানুষকে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক তথা আধ্যাত্মিক দিক থেকে পুরোপুরি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করে তোলা। প্রথাগত ভারতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থায় মানুষকে সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার করা হয়। ‘আধি’ অর্থাৎ, মানসিক সমস্যা এবং ‘ব্যাধি’ অর্থাৎ, শারীরিক সমস্যা – এই দুটির মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে দেখা হয় ভারতের প্রথাগত চিকিৎসা ব্যবস্থায়। খুঁজে দেখা হয় অসুস্থতার মূল কারণ কি, শুধুমাত্র রোগ বা ব্যাধির লক্ষণমাত্র নয়। সুফল পেতে হয়তো কিছু বিলম্ব ঘটে, কিন্তু চিকিৎসা হয় একেবারে গভীর থেকে এবং সুফল হয় দীর্ঘস্থায়ী। শুধু তাই নয়, এই ধরনের চিকিৎসায় কোনরকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে না।

সুপ্রাচীন জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মতোই বিজ্ঞানও যে মানুষের অভিজ্ঞতা এবং প্রকৃতি অনুসন্ধানের ফলশ্রুতি একথা তিনি বিজ্ঞান কংগ্রেসের অধিবেশনে তুলে ধরেছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এইভাবেই আমাদের বিজ্ঞানকে স্বীকৃতি জানাতে হবে। সেইসঙ্গে, আমাদের মনে রাখতে হবে পাশ্চাত্যের চিন্তাভাবনাও। হিপোক্র্যাট্‌স থেকে পার্সিভাল হয়ে এডিসন – সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে স্বাস্থ্যের বিষয়টি ভারতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার দর্শনের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সম্পৃক্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগে যুগে যে প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার আমরা সযত্নে রক্ষা করে এসেছি তার সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের প্রযুক্তি ও পদ্ধতির সমন্বয় ঘটাতে হবে যাতে তার ফল হয় সুদূরপ্রসারী এবং নির্দিষ্ট গুণ ও সুফলগুলি থাকে পুরোপুরি অক্ষত। আর এই কারণেই আয়ূষ চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা প্রসারের ওপর আমরা বিশেষভাবে জোর দিয়েছি যাতে এই চিকিৎসা ব্যবস্থাকে মানুষ সাদরে গ্রহণ করতে পারে। এই কাজ করতে গিয়ে মানুষকে সুস্থ ও রোগমুক্ত করার দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, সেইসঙ্গে স্থানীয় সহায়সম্পদের ওপর বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল থেকে স্বাস্থ্য পরিচর্যা খাতে ব্যয়ের মাত্রাও কমিয়ে আনতে হবে। একইসঙ্গে পরিবেশ-বান্ধব এক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন যাতে সামাজিক তথা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যয়সাশ্রয় সম্ভব হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন চিকিৎসা ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে মত প্রতিষ্ঠা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। কারণ, বৈচিত্র্যের কারণেই মানবজীবন আজ সমৃদ্ধ। জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিনিময়ের মধ্য দিয়েই ঋদ্ধ হয়েছে বিভিন্ন দেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি। তাই, পরস্পরের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়েই আমাদের অগ্রগতি সম্ভব। এই লক্ষ্যেই প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের যা কিছু শ্রেষ্ঠ তার মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। সুতরাং, স্বাস্থ্যের বিষয়টি আমাদের মূল ক্ষেত্রগুলির অন্যতম। বিভিন্ন ঐতিহ্য ও প্রথার শ্রেষ্ঠ এবং বেশি ফলদায়ক ব্যবস্থাগুলি নিয়ে এক সুসংহত ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। এই কারণেই যোগ, আয়ুর্বেদ, প্রাকৃতিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, ইউনানি, সিদ্ধা, হোমিওপ্যাথি এবং আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে সমন্বয়সাধনের জন্য বিশিষ্ট গবেষক ও চিকিৎসকদের এক মঞ্চে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন। ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, মানসিক বৈকল্য, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগ সম্পর্কে মত বিনিময়ের লক্ষ্যে সম্মেলনের আলোচ্যসূচিরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এগুলি এমনই বিষয় যা তাঁর অন্তরকে স্পর্শ করে।

শ্রী মোদী বলেন, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধ্যান-ধারণাই আমূল বদলে দিয়েছে। পরীক্ষানিরীক্ষা, রোগ নির্ণয় এবং সঠিক সময়ে রোগের চিকিৎসা এই আধুনিক ব্যবস্থার অঙ্গীভূত। প্রযুক্তির প্রয়োগ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দ্বার আজ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। রোগ ও অসুখের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনারও আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। ওষুধ এবং প্রতিষেধকের ক্ষেত্রে যে যুগান্তকারী আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে তা বহু রোগ-ব্যাধি জয় করার ক্ষেত্রে মানুষকে আজ সাফল্য এনে দিয়েছে। কিন্তু এই চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা এবং তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আমরা যখন আরও বেশি করে জানতে পারছি, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মাত্রাও যখন আমাদের চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে তখন শুধুমাত্র ভারতে নয়, বিশ্বের অন্যত্রও বিকল্প চিকিৎসার খোঁজ আমাদের করতেই হবে। আর এই কারণেই যোগাভ্যাস তথা যোগ চিকিৎসা ক্রমশই জনপ্রিয়তা লাভ করে চলেছে। যোগ চিকিৎসা বিশ্বের এক ঐতিহ্য। ভারতের এই সুপ্রাচীন চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিশ্ববাসী এখন সাদরে গ্রহণ করছে। তাই, মানুষের সেবায় ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণে এই সম্মেলন সফল হবে সেই অপেক্ষাতেই রয়েছি আমরা। স্বাস্থ্য সম্পর্কে পেশাদার বিশেষজ্ঞ, নীতি রচয়িতা, সরকারি সংস্থা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে সমন্বয়সাধনের লক্ষ্যে এগিয়ে আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।

স্বাস্থ্য পরিচর্যার ক্ষেত্রে যোগ চিকিৎসা এবং সুপ্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে সমন্বয় ঘটবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভারত তথা সমগ্র বিশ্বে ভালো থাকা তথা সুস্থ থাকা মানুষের জীবনযাত্রার একটি অঙ্গ হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন। এর মধ্য দিয়েই মানুষের উন্নততর সুখ ও স্বাস্থ্যের সুচনা ঘটবে এবং এক নিরন্তর ভবিষ্যতের লক্ষ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধির বাতাবরণ গড়ে উঠবে সমগ্র বিশ্বে এই আশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

PG/SKD/DM