পিএমইন্ডিয়া
মঞ্চে উপবিষ্ট গুজরাটের রাজ্যপাল শ্রদ্ধেয় ওম প্রকাশ কোহলী মহাশয়, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়রূপানীজী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী নীতিনভাই প্যাটেল, আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার সদস্য শ্রদ্ধেয় অশোক গণপতিরাজুজী, জয়ন্ত সিনহাজী, স্থানীয়সাংসদ শ্রীমতী রঞ্জনবেন, স্থানীয় বিধায়িকা শ্রীমতী মনীষাবেন, রাজ্য সরকারের মন্ত্রী শ্রীযুক্ত রাজেন্দ্রজী, বিভাগের সচিব শ্রীযুক্ত আর এন চৌবেজী, এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার অধ্যক্ষ ডঃ গুরুপ্রসাদ মহাপাত্র এবং উপস্থিত সকল ভাই ও বোনেরা,
২০১৪র মে মাসে আপনারাসবাই আমাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সপেছিলেন। তারপর থেকে এই সামান্য সময়ের মধ্যেআমি দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পেরেছি। এর মধ্যে প্রথমটির জন্যে গুজরাট বিগত পাঁচদশক ধরে অপেক্ষা করছিল, আন্দোলন করেছে, সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। সেটি হল সর্দারসরোবর বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ারপর প্রথম কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা যে কাজগুলি করেছিলাম, তার মধ্যে অন্যতম সর্দারপ্যাটেলের নামাঙ্কিত সর্দার সরোবর প্রকল্পের উচ্চতা বৃদ্ধির অনুমতি প্রদান। আমিদ্রুত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে গুজরাট সরকারকে অভিনন্দনজানাই। আপনারা যে গতিতে কাজ করছেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই গুজরাটসরকার এই কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলবে।
দ্বিতীয়তঃ, এইএয়ারপোর্ট নির্মাণের কাজ, এই কাজও আমরা ২০১৪র জুন-জুলাই মাসে শুরু করে দিয়েছিলাম।ফলস্বরূপ, আজ আপনাদের সামনে ভারতের আধুনিকতম বিমানবন্দর টার্মিনালগুলির মধ্যে একটিহয়ে উঠেছে এই ভদোদরা ইন্টেগ্রেটেড টারমিনাল ।
আজকাল কেন্দ্রীয়সরকার স্থাপত্য ক্ষেত্রে যে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সবকিছু পরিবেশবান্ধব হবে কিনাসেটা যাচাই করে দেখে নেয়। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলছি, আমরা সরকারে আসার পরগড়ে ওঠা দুটি বিমানবন্দরের টার্মিনালই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেঅগ্রণী ভূমিকা পালন করে একপ্রকার সবুজ বিপ্লবের অংশীদার হয়ে উঠেছে। প্রথমটি কেরলের কোচিতে আর দ্বিতীয়টি আজ এখানেরাষ্ট্রকে উৎসর্গ করা হচ্ছে ।
এই টার্মিনাল বর্জ্যথেকে সম্পদ নির্মাণের উদ্দেশ্য মাথায় রেখে গড়ে তোলা হয়েছে। এই দৃষ্টান্ত সাধারণমানুষের উৎসাহ বৃদ্ধি করবে, অপ্রচলিত পদ্ধতি শুরুতে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়। কিন্তুএকবার সরকার কাজ করাতে শুরু করলে সাধারণ মানুষের ব্যয়ের বহরও কমে যায়, আর আগেরতুলনায় অনেক সুলভে পরিবেশবান্ধব দীর্ঘমেয়াদী স্থাপত্য গড়ে উঠতে থাকে।
আগে তাপবিদ্যুৎকারখানাগুলির আশেপাশে কয়লা আর ছাইয়ের পাহাড় জমে থাকতে দেখা যেত। ছাই সরানোর জন্যেঅনেক টাকা খরচ হতো। চারপাশের জনবসতি থেকে প্রতিবাদ বিক্ষোভের খবর শোনা যেত, কারণএই ছাই তাঁদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতো, আবালবৃদ্ধবনিতা শ্বাসকষ্টের রোগেভুগতেন। এই টার্মিনাল যে ইট দিয়ে গড়ে উঠেছে তা ওই কয়লার ছাই থেকে তৈরি। এর প্রয়োগযত বেশি হবে পরিবেশ তত সুলভে বর্জ্যমুক্ত এবং নির্মল হবে । চাষযোগ্যমাটি বাঁচবে। মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা ইট থেকে এগুলি অনেক বেশি টেকসইও ।
ভারতে বিমান পরিষেবাক্ষেত্র দ্রুতগতিতে প্রসারিত হচ্ছে। এখন মধ্যবিত্তরা আগের তুলনায় অনেক বেশিবিমানযাত্রা করেন। অনেকের কাছে ট্রেনের বদলে বিমানে যাতায়াত এখন সামাজিক মর্যাদারবিষয় হয়ে উঠেছে। একটি অনুমান অনুসারে পাঁচ বছরের মধ্যে ভারতে প্রতিবছর আমেরিকারজনসংখ্যার সমান মানুষ বিমানযাত্রা করবেন। অদূর ভবিষ্যতেই ভারত পৃথিবীর তৃতীয়বৃহত্তম বিমান পরিষেবা প্রদানকারী দেশে পরিণত হবে। এক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগওবৃদ্ধি পাবে। ফলে আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়বে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপ্রথমবার সরকার আলাদাভাবে বিমান পরিষেবা নীতি প্রণয়ন করেছে। আমাদের দেশে বিমান উড়তো, বিমানবন্দর নির্মিতহতো, বিমান কেনা-বেচা হতো, কিন্তু দেশের কোনও স্পষ্ট বিমান নীতি ছিল না। সেজন্যেআমরা পাঁচ বছরে কোথায় পৌঁছুবো, দশ বছরের জন্য পরিকল্পনা কেমন হবে, দেশের সাধারণ মানুষেরস্বার্থে বিমান পরিষেবায় কী কী পরিবর্তন আনতে হবে, সে সম্পর্কে কোনও দৃষ্টিভঙ্গীছিল না! চলার সময় চলতো, ছোটার সময় ছুটতো, থামার সময় থামতো; এই ছিল অবস্থা!
এই দেশ অনেক বড়। ৮০থেকে ১০০টি বিমানবন্দর দিয়ে দেশ চালানোর কথা ভাবা মানে দেশের উন্নয়নকে সীমিত রাখা!এক্ষেত্রে বড় শহরগুলির থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের শহরগুলির সম্ভাবনা কোনও অংশেকম নয়। ওই শহরগুলির নাগরিকেরা বিমান পরিষেবার সুযোগ পেলে দেশের উন্নয়নযাত্রা নতুনমাত্রা পেতে পারে। সেজন্যে একে উৎসর্গিত করার জন্যে প্রতি ৫০০কিলোমিটারে ২৫০০টাকাহিসেবে ভাড়া ঠিক করা যেতে পারে। এভাবে দেশের দূর দূরান্তের অঞ্চলগুলিতে বিমানপরিষেবা চালু করা যেতে পারে। অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম, আন্দামান-নিকোবর,লাক্ষাদ্বীপ, কচ্ছ, ভাবনগর কিম্বা জুনাগড়ের মতো অনেক জায়গায় পুরনো দিনের অব্যবহৃতবিমান অবতরণ ক্ষেত্র রয়েছে; আমরা সেগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুনর্নবীকরণের কাজ শুরুকরেছি। এগুলি সব পিপিপি মডেলে কাজ হচ্ছে।
আজকের পৃথিবীতেযোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রকৃত যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাও চাই । হাইওয়ের পাশাপাশি আই – ওয়েও চাই । তথ্য – তরঙ্গের প্রয়োজনীয়তাযেমন রয়েছে , বিমানপরিষেবারও প্রয়োজন রয়েছে । বিশেষ করে পর্যটনক্ষেত্রে আজ বিমান পরিষেবার প্রয়োজন অপরিসীম।
ভারতে এখন পর্যটন ক্ষেত্রে দ্রুতগতিতে উন্নয়নহচ্ছে। আরও অনেক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা পর্যটকদের অল্প সময়ের মধ্যে যতবেশি জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো, তাঁরা উৎসাহিত হয়ে দু-তিন দিন বেশি থেকে যাবেন। যত বেশিথাকবেন, তত খরচ করবেন। ফলে ওই এলাকার আর্থিক অবস্থা চাঙ্গা হবে। এভাবেই উন্নতবিমান পরিষেবার বহুমাত্রিক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এসব কথা মাথায় রেখেই বর্তমানকেন্দ্রীয় সরকার বিমান পরিষেবা ক্ষেত্রকে দ্রুত উন্ন য়নেরপথে নিয়ে যেতে চায়।
ভদোদরাবাসী আজ নতুনএকটি উপহার পেলেন। ভদোদরার একটা নিজস্ব পরিচয় রয়েছে, আমরা সেই পরিচয়কে আরও মহীয়ানকরে তুলতে পারি। ভদোদরা সুব্যবহারও সুসংস্কৃতির শহর, বিবিধ বিদ্যাশিক্ষার গুচ্ছপ্রকল্প রয়েছে ভদোদরা ও বিদ্যানগরে । এগুলিরকথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমারদৃঢ় বিশ্বাস, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শতাব্দীপ্রসারী হবে। সেই সিদ্ধান্তটি হলভদোদরায় একটি রেলওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
রেলের ক্ষেত্রেআধুনিক বিশ্বের তুলনায় ভারত অনেক পিছিয়ে আছে। আজও আমরা মান্ধাতার আমলের কামরা,পুরনো গতি আর হাত তুলে পতাকা নেড়ে রেল চালাই। অথচ বিশ্ব কত এগিয়ে গেছে! নানা অভিনবপরীক্ষা নিরীক্ষা ও সফল প্রয়োগ হয়েছে। ভারতেও তেমনি নিজস্ব প্রয়োজনের নিরিখে নানা অভিনব পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো উচিত। এই কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতীয় রেলওয়ে ভদোদরাকে বেছে নিয়েছে।
এবছর আপনাদের ভদোদরায় সেই রেলওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়স্থাপিত হবে । এ থেকে আপনারা কল্পনা করতে পারেন দেশের মানচিত্রে ভদোদরা কত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠতে চলেছে !
আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে । এত বিপুল সংখ্যায়এখানে এসে আমাকে আশীর্বাদ জানানোর জন্যে আপনাদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ ।
ধন্যবাদ ।
PG/SB/SB…
One of the first decisions we took on assuming office related to the height of the Narmada Dam. A long pending demand was fulfilled: PM
— PMO India (@PMOIndia) October 22, 2016
Glad that 2 airports in India have joined the green movement. One in Kochi and the other here in Vadodara: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 22, 2016
A new aviation policy has been released under this Government. It looks at growth of the aviation sector: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 22, 2016
Connectivity is becoming very important in this century. Air connectivity is vital from the point of view of tourism sector growth: PM
— PMO India (@PMOIndia) October 22, 2016
Better air connectivity means more tourists and this means better economic growth: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) October 22, 2016
A great gift for the citizens of Vadodara…the new terminal building is a big boost to the city’s infrastructure. pic.twitter.com/mdZcNbwyzn
— Narendra Modi (@narendramodi) October 22, 2016
Aviation sector’s growth will bring more tourists to India, which means more economic opportunities for citizens. https://t.co/78aMS8mW41
— Narendra Modi (@narendramodi) October 22, 2016