Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ভদোদরায় সামাজিক অধিকারিতা শিবিরে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

ভদোদরায় সামাজিক অধিকারিতা শিবিরে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


আজ ভদোদরা তারনিজেস্ব মেজাজে রয়েছে। আমার এখানে আসতে সামান্য দেরী হয়েছে, এর মানে এই নয় যে আমিভদোদরায় দেরীতে এসেছি। ভদোদরা বিমানবন্দর থেকে এখানে আসতে পথের দু’পাশে অগণিতমানুষের শুভেচ্ছা সমাবেশ এই বিলম্বের কারণ। আমার সৌভাগ্য এখানেও ভদোদরা নগরীরমানুষ বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত হয়ে আমাকে আশীর্বাদ জানাচ্ছেন। সেজন্য আমি আপনদেরসকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

আজ ভদোদরায় আমি দুটিগুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। প্রথমটিহ’ল – ভদোদরা ইন্টেগ্রেটেড টারমিনাল-এর উদ্বোধন । এটি কোনও সাধারণ টার্মিনাল নয়। প্রযুক্তি, পরিষেবা এবং পরিবেশেরভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এটি একপ্রকার সবুজ বিপ্লবেরঅংশীদার হয়ে উঠেছে। এরকম ইন্টিগ্রেটেড টারমিনাল কেবল কেরলের কোচিতেই আমরা গড়ে তুলতে পেরেছি। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি হ’ল -এখানে ৫-৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন। এর মধ্যে আমি অগ্রাধিকার দেব দিব্যাঙ্গপ্রকল্পটিতে। যাঁদের দিব্যাঙ্গ সন্তান রয়েছেন, সেই মাতা-পিতারা তাঁদের একা রেখেকোথাও যেতে পারেন না। সন্তানের কথা ভেবে তাঁদের জীবনের সকল স্বপ্ন তাঁরা আহুতিদেন। সেই পরিবারগুলিকে দেখলে বোঝা যায়, কেমন তপস্যার জীবন তাঁরা অতিবাহিত করেন।আমি এখানে উপস্থিত তেমনই দিব্যাঙ্গ সন্তানের মাতা-পিতাদের প্রণাম জানাই। এইসন্তানদের প্রতি তাঁদের পরিবারের যে দায়িত্ব রয়েছে, তা তাঁরা অবশ্যই পালন করেন।কিন্তু তাঁরা যে সমাজে বসবাস করেন, সেই সমাজ এবং রাষ্ট্রেরও এই দিব্যাঙ্গদের প্রতিদায়িত্ব রয়েছে। আমরা কি বুকে হাত রেখে বলতে পারি যে, আমরা তাঁদের প্রতি দায়িত্বযথাযথভাবে পালন করছি। আজ এই লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের মাধ্যমে আমি সমাজে এই দিব্যাঙ্গদেরপ্রতি দায়িত্ব অনুভব করানোর বার্তা দিতে চাই। রাষ্ট্র হিসেবেও আমরা জেনেশুনেকিম্বা অজান্তেই তাঁদের প্রতি কত উদাসীন!

সরকারিঅফিস-আদালতের সিঁড়ি, রেলিং, শৌচালয় ইত্যাদি নির্মাণের সময়ে আমরা কি সবসময়েদিব্যাঙ্গদের কথা মাথায় রাখি। না করলে তাঁরা সেখানে যাওয়া-আসা করবেন কি করে? আমরাসেজন্য তাঁদের কথা মাথায় রেখে একটি সুগম্য প্রকল্প গড়ে তুলেছি। এখন থেকে যত সরকারিঅফিস, আদালত, বাস ও রেল স্টেশন নির্মাণ করা হবে, প্রত্যেকটি যাতে দিব্যাঙ্গ-বান্ধবকরে গড়ে তোলা হয়, সেই নির্দেশ আমরা দিয়েছি। আর পুরনো ভবনগুলিতে কত দ্রুত এই পরিষেবাগুলিতাঁদের জন্য নতুন করে গড়ে তোলা যায়, সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে বলেছি। আমার মনে হয়,এতে কেউই বিরোধিতা করবেন না। নির্মাতাদেরও কোনও আপত্তি নেই। তাঁদের বক্তব্য হ’ল,আগে কেউ বলেননি বলেই হয়নি, এখন আপনারা বলেছেন – হয়ে যাবে।

আমরাধীরে ধীরে এই পরিবেশ স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল সমস্ত সরকারি-বেসরকারি ভবনে গড়ে তুলব। স্থাপত্যবিদরাজানেন, কিভাবে ডিজাইন করলে সেগুলি দিব্যাঙ্গ ভাই-বোনেদের যাতায়াতকে সুগম করবে।শুধু প্রয়োজন একটি গণআন্দোলন তৈরি করা। দিব্যাঙ্গদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গীরপরিবর্তন। কোথাও কোনও দিব্যাঙ্গজনকে যেতে দেখলে আমরা যদি উঠে দাঁড়িয়ে তাঁদেরসম্মান দেখাই এবং তাঁদের পথ ছেড়ে দিই, তা হলে এক্ষেত্রে জনসচেতনতা আরও বৃদ্ধিপাবে।

বিগতসরকারগুলিও এক্ষেত্রে অনেক কাজ করেছে। কিন্তু আপনারা শুনলে অবাক হবেন যে, এইপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১৯৯২ সাল থেকে। তখন থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দিব্যাঙ্গদের সাহায্যপৌঁছনোর মোট ৫৬টি কর্মসূচি রূপায়িত হয়েছে। আর গত দু’বছরে আমরা সরকারে আসার পর থেকেইতিমধ্যেই এ ধরনের ৪ হাজার ৫০০ কর্মসূচি রূপায়ণ সম্ভব হয়েছে। এই কর্মসূচিগুলিরমাধ্যমে গোটা দেশে অনুসন্ধান চালিয়ে আমরা প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ দিব্যাঙ্গ বন্ধুদেরসরাসরি সাহায্য পৌঁছে দিতে পেরেছি। শুধু প্রকল্প নির্মাণ করলেই চলবে না, সংবেদনশীলসরকারকে সেই প্রকল্পগুলি গরিব, সাধারণ মানুষ, দলিত ও বঞ্চিতদের বাড়ির দরজায় পৌঁছেদিতে হবে।

আমাদেরদিব্যাংগ ভাই-বোনেদের যে সব সরঞ্জাম প্রয়োজন হয়, সেগুলির ক্ষেত্রেও নতুন নতুন আবিষ্কারেরঅবকাশ রয়েছে। এই আবিষ্কারের পরিবেশ গড়ে তোলা এবং আবিষ্কারকদের প্রোৎসাহিত করারক্ষেত্রে সরকারের সক্রিয় উদ্যোগ প্রয়োজনীয়। আমরা সরকারে এসে এ ধরনের কোনও উদ্যোগেরহদিশ না পেয়ে অবাক হয়েছি। নামমাত্র কিছু কাজ হচ্ছিল। আমরা সেসব উদ্যোগকেপুনরুজ্জীবিত করার জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তিবিদদের আমন্ত্রণ জানাই। যে সংস্থাগুলিবন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলিতে গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্ভাবনের আবহ গড়ে তোলা হয়।প্রযুক্তিবিদরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দিব্যাঙ্গদের উপযোগী নানা সুলভউপকরণ আবিষ্কার করেন এবং পিপিপি মডেলে সেগুলির উৎপাদন শুরু হয়। ফলে এখন দিব্যাঙ্গপরিবারগুলি আগের থেকে অনেক সস্তায় এইসব উপকরণ কিনতে পারছেন। সমাজের এই অংশের জন্যসংবেদনশীলতা, অগ্রাধিকারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভাগগুলি এখন দলিত, পীড়িত ওদিব্যাঙ্গদের স্বার্থে কাজ করে এই সাফল্য পেয়েছে।

সরকারিনিয়মানুসারে, সরকারি চাকরিতে দিব্যাঙ্গদের জন্য সংরক্ষণ রয়েছে। কিন্তু আমরাক্ষমতায় আসার পর অনুসন্ধান চালিয়ে দেখি যে, দিব্যাঙ্গদের জন্য সংরক্ষিত প্রায় ১৬হাজার ৫০০টি পদ খালি রয়েছে। আমি আমার মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরবলি, আগে এই শূন্যপদগুলি ভর্তি করুন। আজ আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলছি,ইতিমধ্যেই প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ জনকে চাকরি প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। এইপদগুলিতে এখন দিব্যাঙ্গ ভাই-বোনেরা কর্মরত। এই সরকার শুধুই সাহায্যের হাত বাড়িয়েথেমে থাকে না, তাঁদের জন্য কাজও করে দেখায়।

আজআমার বক্তব্য যে দিব্যাঙ্গ ভাই-বোনেরা শুনতে পারছেন না, তাঁদের জন্য সাংকেতিকভাষায় আমার ভাষণ প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশ অনেক বড়। রাজকোটের দিব্যাঙ্গরাযে সংকেত বোঝেন – মুম্বাই, দিল্লি কিংবা কলকাতার ভাই-বোনেরা হয়তো সেইসব সংকেতবোঝেন না। সেজন্য আমাদের সরকার দিব্যাঙ্গ ভাই-বোনেদের জন্য অভিন্ন সাংকেতিক ভাষা গড়েতুলতে চায়। এজন্য আমরা প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এভাবেই সমস্যারগভীরে গিয়ে তা সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা আমরা করি।

ভাইও বোনেরা,

আজগোটা বিশ্বে একটি বিষয়ে আমাদের খুব প্রশংসা করা হচ্ছে। কিসের? কিসের? আমি আপনাদেরআওয়াজ শুনতে পাচ্ছি না। জোরে বলুন। গোটা বিশ্ব বলছে, বড় দেশগুলির মধ্যে যে দেশেরঅর্থনীতি সবচেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে তার নাম ভারত। পর পর দু’বছর খরার কবলেবিধ্বস্ত হওয়ার পরও বিশ্ব ব্যাঙ্ক, আই এম এফ এবং বিশ্বের বড় বড় ক্রেডিট রেটিংএজেন্সিগুলি সমস্বরে ভারতের এই দ্রুতগতিতে আর্থিক উন্নয়নের কথা স্বীকার করেনিয়েছে। উন্নয়নই সকল সমস্যার সমাধান আনতে পারে। উন্নয়নের মাধ্যমেই নিরক্ষরতাদূরীকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং উন্নত স্বাস্থ্য সুনিশ্চিতকরণ সম্ভব। ২০১৩-১৪সালের কথা ভাবুন, তখন খবরের কাগজে শিরোনাম হতো হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি।কয়লায় নিলামে দুর্নীতি, স্পেকট্রাম নিলামে দুর্নীতি। আমরা দয়িত্ব নেয়ার পর আড়াইবছর পেরিয়ে গেছে। এখন দিব্যাঙ্গ উন্নয়ন নিয়ে শিরোনাম হয়, বিশ্বে ভারতের অর্থনীতিরজয়জয়াকার নিয়ে শিরোনাম প্রকাশিত হয়। আধার কার্ডের মাধ্যমে, জন ধন অ্যাকাউন্টেরমাধ্যমে সরকারের সকল অনুদানকে সরাসরি সুফলভোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেআমরা সারা দেশ থেকে দালাল রাজ উৎখাত করেছি। এখন যাঁদের সুফল পাওয়া প্রয়োজন তাঁরাইসুফল পাবেন। এভাবে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য পেয়েছি।

ফলস্বরূপইতিমধ্যেই কেবল গ্যাস সিলিন্ডার, ছাত্রবৃত্তি এবং পেনশন বাবদ ৩৬ হাজার কোটি টাকাবাঁচাতে পেরেছি। আমাদের আগে যাঁরাই সরকারে ছিলেন, এই দুর্নীতি অব্যাহত ছিল।লাইনচ্যুত এই গাড়িকে সঠিক পথে নিয়ে আসতে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা সময় দিয়েছি,কিন্তু ক্ষমা করিনি। যাকে যা শাস্তি দেওয়ার তা দিয়েছি। কর-ও নিয়েছি, তাঁরা এখনলাইনে চলে এসেছেন। আপনারা শুনলে খুশি হবেন, ভারতে এই ধরনের প্রকল্প আগেও গড়ে তোলাহয়েছিল কিন্তু আমাদের সরকারের বিশ্বস্ততার ফলে ইতিমধ্যেই প্রায় ৬৫ হাজার কোটিকালোটাকা দেশের অর্থতন্ত্রের মুখ্য প্রবাহে নিয়ে আসা গেছে। এর মানে আপনারা ভাবুন৩৬ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি দমন আর ৬৫ হাজার কোটি কালো টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ১লক্ষ কোটি টাকা আমরা কোনও সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে অর্জন করিনি। যেদিন সার্জিক্যালস্ট্রাইক করব, সেদিন কত টাকা আসবে তা কল্পনা করতে পারেন।

একটিসৎ, ন্যায়পরায়ন গণমুখী সরকার জনগণের সুখ, এবং দুঃখের প্রতি সমর্পিত সরকারের কাজেকোনও অবরোধই বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। হিম্মত এবং সাহসের মাধ্যমে জনহিতকে কোন্‌পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা আমরা করে দেখিয়েছি। ইতিমধ্যেই অসংখ্য গরিব পরিবারেআমরা গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়েছি। সিলিন্ডার সমস্যা সম্পর্কে ভদোদরার মানুষ এতটাঅবহিত নন। কারণ, আপনারা সকলেই পাইপ লাইনের মাধ্যমে রান্নাঘরে গ্যাস পান। কিন্তু,দেশের অন্যত্র মা ও বোনেরা দৈনিক প্রায় ৪০০ সিগারেটের ধোঁয়ার সমান বিষ তাঁদেরফুসফুসে গ্রহণ করতে বাধ্য হতেন।

কেন্দ্রীয়সরকার তাঁদের কথা ভেবে ৫ কোটি দরিদ্র পরিবারকে গ্যাস সিলিন্ডার কানেকশন দেওয়ারসিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারি বিভাগগুলি প্রতিদিন অভিযান জারিরেখেছে। দেশের গরিব, দলিত, শোষিত, বঞ্চিত ও আদিবাসী ভাইবোনদের কল্যাণকে অগ্রধিকারদিয়ে এই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

আজএখানে প্রায় ১০ হাজার দিব্যাঙ্গ ভাইবোন সরাসরি উপকৃত হবেন। গহলোতজি বলেছেন, তাঁদেরসকল তথ্য এখন ওয়েবসাইটে দেখতে পাওয়া যাবে। কেউ চাইলে সুফলভোগীদের নাম ও অন্যান্যতথ্য যাচাই করে দেখতে পারেন। স্বচ্ছতাই আমাদের মূল মন্ত্র। বৃহত্তর জনসমাজের হিতেআমরা কাজ করে যাচ্ছি।

আজএখানে আপনাদের মাঝে এসে আমি বাড়ি ফেরার আনন্দ পাচ্ছি। জীবনের বেশ কয়েকটিগুরুত্বপূর্ণ বছর আমি ভদোদরায় কাটিয়েছি। শাস্ত্রীপোল এলাকায় থাকতাম। আজও অনেকপুরনো পরিচিত পরিবারের মানুষ এখানে এসেছেন। অনেক বছর তাঁদের সঙ্গে ছিলাম। তাঁদেরসঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এই সংস্কার নগরী থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি।সেইসব শিক্ষা আজ দেশের সেবায় কাজে লাগছে। সেজন্য আমি এই নগরী ও রাজ্যের কাছে ঋণী।গুজরাটের কোটি কোটি ভাই-বোনদের কাছে ঋণী। তাঁদের ভালোবাসার জোরেই আমি আজ এইভাবেভারতমাতার সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আমি এই মাটিকে প্রণাম জানাই। এই সংস্কারসরোবরকে প্রণাম জানাই। এই মহান পরম্পরাকে বন্দনা করি। আমার সঙ্গে উচ্চকন্ঠে বলুন,

ভারতমাতাকি

জয়,

আরওজোরে বলুন

ভারতমাতাকি

জয়,

ভারতমাতাকি জয়

অনেকঅনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/SB