Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ভারতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বার্তা


নয়াদিল্লি, ৯ এপ্রিল, ২০১৫ দেশের সব্জি বিক্রেতা, দুগ্ধ সরবরাহকারী, মুদি ব্যবসায়ী, সংবাদপত্র বিক্রেতা, তাঁতী, ফুল বিক্রেতা প্রভৃতি ব্যক্তিদের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের মেরুদণ্ড হিসেবে গণ্য করে বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে এঁদের অবদান অনেক সময়ই অলক্ষ্যে থেকে যায়। অনেকে মনে করেন দেশে বৃহৎ কোম্পানিগুলিরই প্রাধান্য রয়েছে। বাস্তবে, এদের মতো সাড়ে পাঁচ কোটি ছোট ইউনিট বা ছোটখাটো উৎপাদন ব্যবস্থা, বাণিজ্য এবং পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে উপকৃত করছে। পাশাপাশি, ১১ থেকে ১২ কোটি মানুষেরও উপার্জনের মাধ্যমও হয়ে উঠেছে এই ছোট ছোট সংস্থা। এর সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ মানুষই তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণী বা সংখ্যালঘু শ্রেণীভুক্ত। অতএব, ভারতবর্ষ তার বিকাশ, কর্মসংস্থান এবং সমৃদ্ধির প্রয়োজনে এদের ওপরই নির্ভরশীল। প্রধানমন্ত্রীর অভিমত, এ ধরণের মানুষের হাত শক্তিশালী করে তুললে দেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যাবে। তারা তাদের ব্যবসা সহজে চালিয়ে যেতে পারবেন কোন আধিকারিকের হস্তক্ষেপ ব্যতীত। দৈনন্দিন কাজকর্মে ঋণ পাবেন, পাবেন তাদের কাজকর্ম ও উৎপন্ন পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানও। এদের যে কোন আর্থিক সঙ্কট থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, রয়েছে নিরাপদ ভবিষ্যতেরও। এই ব্যবস্থা করতে পারলে এমনতর মানুষ জাতীয় বিকাশে শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। এহেন মানুষের সাহায্যে তাঁর সরকার যে বহু ব্যবস্থার সন্ধান দিতে চায় তাও তাঁর বার্তায় জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিগত বছরগুলিতে বহু প্রকল্প এসেছে এবং বহু প্রকল্প ঘোষিত হয়েছে এ বছরের বাজেটে। বাণিজ্য সংক্রান্ত চিন্তাভাবনা ছোট ব্যবসায়ীরা ঋণ পেতে যে সমস্যায় পড়েন বা যে চড়া সুদ তাদের দিতে হয়, সে বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করে শ্রী মোদী বলেন, তিনি তাদের সঙ্কট অনুধাবন করতে পেরেছেন, বিশেষত, যখন এ ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা তেমন সুবিধা করে দিতে পারে না এসব ব্যবসায়ীদের। এদের কথা ভেবে মুদ্রা ব্যাঙ্ক (ক্ষুদ্র সংস্থা উন্নয়নের অর্থ সংস্থানের এজেন্সি)-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে অল্প খরচে এবং ন্যূনতম কাগজ-কলমের কাজকর্মে ঋণ পাওয়া যায়। সরকার, এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার সংস্থা করেছে যাতে তপশিলি জাতি/উপজাতিভুক্ত মানুষ এ সংক্রান্ত যে উদ্যোগ গড়ে তুলছেন তাতে গুরুত্ব আরোপ করা যায়। এর ফলে, এসব মানুষও যোজনার অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারবে তাদের ব্যবসায় চাহিদা অনুযায়ী। চলতি ব্যবসা বা উদ্যোগের ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত এবং বহুমূল্যের বিদ্যুৎ অন্তরায়-সম। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের পৃথক গ্রামীণ কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সাহায্য করতে দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রাম জ্যোতি যোজনার ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে প্রতিদিন ২৪ ঘন্টাই বিদ্যুৎ প্রাপ্তি সম্ভব হয়। শ্রী মোদী বলেন, তিনি জানেন সময় পরিবর্তনশীল। এসব ছোট ব্যবসায়ীদের সন্তান বড় হলে, তাদের চিন্তাভাবনা বা আশা-আকাঙ্ক্ষা এই ব্যবসায়ীদের থেকে ভিন্নতর হবে। কিন্তু তারা আরও ঝুঁকি নিয়ে চাইবে, চাইবে নতুন কিছু করে দেখাতে। তারা নতুন ধরণের প্রযুক্তিও আশা করবে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও। এদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ‘সেতু’ (স্বনিযুক্তি এবং সহজাত ক্ষমতার ব্যবহার) ব্যবস্থাপনা নিয়ে এসেছে যাতে ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়ানো যায় অনায়াসে। পাশাপাশি, নতুন উদ্ভাবনের নিরিখে গড়ে তোলা বিশ্বমানের হাবের শৃঙ্খল গড়ে তোলার জন্যও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘এইম’ বা অটল ইনোভেটিভ মিশন। ব্যক্তির জন্য ব্যবস্থাপনা ভারতের পরিবার কাঠামো এমনি যে মানুষ নিজেদের থেকে পরিবারের চিন্তা করে বেশি। কোন ব্যক্তির আকস্মিক বিপদে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিমা প্রদান করার সুবিধা করে দিতে প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনার ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে মাস প্রতি এক টাকা প্রিমিয়াম প্রদানে ২ লক্ষ টাকা দুর্ঘটনা বিমা পাওয়া সম্ভব হয়। সরকারি কর্মীদের অবসর গ্রহণের পর বৃদ্ধ বয়সের চিন্তাভাবনা হয়ে থাকে। চিন্তা হয় কে দেখাশোনা করবে সেই বয়সে। আর্থিকভাবে কিভাবেই বা মোকাবিলা করা যাবে সেই সমস্যা ইত্যাদি। এর জন্য অটল পেনশন যোজনার ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে ৬০ বছর বয়সের পর মাসিক পাঁচ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া সম্ভব হয় অল্প বয়স থেকে প্রতি মাসে ২৫০ টাকা করে জমানোর মাধ্যমে। পাশাপাশি, মৃত্যুর পর সন্তান ৮.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেতে পারে উত্তরাধিকার হিসেবে এই ব্যবস্থাপনায়। বাজেটে ঘোষিত এ সকল প্রকল্প এবং কর্মসূচি আগামীতে যাতে ব্যবহারের সুযোগ্য মাধ্যম হয়ে ওঠে তার কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বা প্রত্যেক ভারতবাসী গর্বিত স্বনিযুক্ত মানুষ। আমরা নিজস্ব মর্যাদা নিয়ে বেঁচে রয়েছি এবং সবথেকে খারাপ সময়েও আমরা স্বাবলম্বী। আমাদের সঙ্গে যদি ডানা সংযোজন করা যায় তাহলে আমরা উড়তে পারব। অতএব, আপনাদের ক্ষমতা দেওয়ার ব্যাপারে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আমার বিশ্বাস আপনারা পারবেন।” পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী তাদের মঙ্গলকামনাও করেন।