পিএমইন্ডিয়া
আমার প্রিয় দেশবাসী,
স্বাধীনতার এই পবিত্র উৎসবে ১২৫ কোটি ভারতবাসীকে বিশ্বের সর্বত্র বসবাসকারী সকল ভারতীয়কে লালকেল্লার প্রাকার থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।
স্বাধীনতারএই উৎসব ৭০তম স্বাধীনতা দিবস একটি নতুন সংকল্প, নতুন ইচ্ছাশক্তি, নতুন জ্বালানিনিয়ে দেশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার এক সংকল্প পার্বন। আজ আমরা যে স্বাধীনতারনিশ্বাস গ্রহণ করছি, তার পেছনে লক্ষ লক্ষ মহাপুরুষদের আত্মবলিদান, ত্যাগ ও তপস্যারয়েছে। ফাঁসির দড়িকে চুম্বনরত আমাদের বীর যুবকদের কথা মনে পড়ে। মহাত্মা গান্ধী,সর্দার প্যাটেল, পণ্ডিত নেহরুর মতো অসংখ্য মহাপুরুষ, যাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্যলাগাতার লড়াই করেছেন, যার ফলস্বরূপ আজ আমাদের স্বাধীন দেশে শ্বাস-প্রশ্বাস সৌভাগ্যহয়েছে।
ভারতএক প্রাচীন দেশ। সহস্রাধিক বছরের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। বেদ থেকেবিবেকানন্দ, উপনিষদ থেকে উপগ্রহ, সুদর্শন চক্রধারী মোহন থেকে চরকাধারী মোহন – সবমিলিয়েই এই ঐতিহ্য। অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী এদেশের মাটি। অনেক প্রজন্মের যুদ্ধেরইতিহাস রয়েছে। অনেক প্রজন্মের মানবজাতিকে মহামূল্য প্রদানের তপস্যার ইতিহাস রয়েছে।
ভারতেরবয়স কেবলই ৭০ বছর নয়। পরাধীনতার কালখন্ড থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দেশে যে নতুনব্যবস্থা বিকশিত হয়েছে, সেই যাত্রার ৭০তম দিবস আজ। সেই সময়ে সর্দার বল্লভভাইপ্যাটেল এই দেশকে সংহত করেছিলেন। আমাদের সকলের দায়িত্ব এই দেশকে শ্রেষ্ঠ করে তোলা।‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য আমাদের নিরন্তর চেষ্টাকরে যেতে হবে।
ভাই ও বোনেরা, এই স্বাধীনতা অর্জনখুব সহজ ছিল না। চরম অত্যাচার চলছিল। কিন্তু, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সংকল্প ছিলঅটুট। তাঁদের নেতৃত্বে প্রত্যেক ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের সিপাহী হয়ে উঠেছিলেন।প্রত্যেকের মনে দেশকে স্বাধীন করার প্রবল ইচ্ছা জেগে উঠেছিল। সকলেই আত্মবলিদানেরসুযোগ পাননি, সকলের কারান্তরালে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি, কিন্তু প্রত্যেক ভারতীয়ইসংকল্পবদ্ধ ছিল। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অহিংস আন্দোলন জারি ছিল। পাশাপাশি,সশস্ত্র বিপ্লবীদের আত্মবলিদানের প্রেরণাও জনমানসে স্বাধীনতার আবেগকে প্রবল করেতুলেছিল। কিন্তু, আজ সেই স্বরাজ (স্বশাসন)’কে সুরাজ (সুশাসন)-এ রূপান্তরিত করারসংকল্প নিতে হবে ১২৫ কোটি ভারতবাসীকে। আত্মবলিদান ছাড়া যেমন এই স্বাধীনতা ওস্বশাসন সম্ভব হয়নি, তেমনই সুশাসনও ত্যাগ, সাহস, শৌর্য, পরাক্রম, সমর্পণ এবংঅনুশাসন ছাড়া সম্ভব হবে না। সেজন্য ১২৫ কোটি দেশবাসীর সুশাসনকে এগিয়ে নিয়ে যেতেপ্রত্যেকের নিজের নিজের বিশেষ দায়িত্ব পালনের দৃঢ় সংকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
পঞ্চায়েত হোক কিংবা সংসদ, গ্রামপ্রধান থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেককে তাঁর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানটিকেসুশাসনের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। তা হলেই ভারতেসুশাসনের স্বপ্ন সাকার করতে বেশি দিন লাগবে না।
একথা সত্যি যে, দেশে অনেক সমস্যারয়েছে, কিন্তু আমাদের এটাও ভুললে চলবে না যে, এসব সমস্যা সমাধানের সামর্থ্যওআমাদের রয়েছে। সেজন্য ভাই ও বোনেরা, ভারতে লক্ষাধিক সমস্যা থাকলে তা সমাধানের জন্য১২৫ কোটি মস্তিষ্কের সামর্থ্যও রয়েছে।
ভাই ও বোনেরা, একটা সময় ছিল, আমাদেরদেশে সরকার নিয়ে নানা আক্ষেপ ছিল। কিন্তু এখন সময় বদলে গেছে। আজ সরকারকে ঘিরে কোনওআক্ষেপ নেই, রয়েছে প্রত্যাশা। আশা ও ভরসার ক্রোড়েই লালিত হয় প্রত্যাশা। নতুন প্রাণঅঙ্কুরিত হয় আর সংকল্পপূর্তির জন্য নিরন্তর অঙ্কুরিত হতে থাকে। সেজন্যই ভাই ওবোনেরা, আজ যখন আমি লালকেল্লার প্রাকার থেকে আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, তখন বর্তমানসরকার কি করছে, দেশের জন্য কী কাজ করা উচিৎ – এসব বিষয় নিয়ে চর্চা হওয়া অত্যন্তস্বাভাবিক। আমিও আপনাদের সামনে সরকারের কাজের লম্বা তালিকা ও হিসাব-নিকাশ তুলেধরতে পারি।
দু’বছর শাসনকালে আমরা অসংখ্য উদ্যোগনিয়েছি। অসংখ্য কাজ করেছি – এসব নিয়ে বলতে গেলে লালকেল্লার প্রাকার থেকে হয়তোপ্রায় সপ্তাহখানেক ধরে আমাকে বলেই যেতে হবে।
আমি সেই মোহ ত্যাগ করে কাজের খতিয়াননা দিয়ে বর্তমান সরকারের কর্মসংস্কৃতি দিকে আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই।কিন্তু কর্মসংস্কৃতির গভীরে না গেলে, তাকে জানা, বোঝা ও চিনতে পারা সাধারণ মানুষেরপক্ষে সহজ হয় না।
সেজন্য আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজআমি কেবলই নীতি নিয়ে বলব না, আচার-আচরণে এবং সিদ্ধান্ত নিয়েও বলব। ভাই ও বোনেরা,শুধুই লক্ষ্য নয়, একটি ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে বলব। কেবলই রূপরেখা নয়, এ যেরূপান্তরের সংকল্প, এ যে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্খা, গণতন্ত্র আর জনসমর্থনেরত্রিবেণী ধারা। এতে বুদ্ধিও রয়েছে আবার সম্মতিও রয়েছে, এতে গতিও রয়েছে আবারপ্রগতির অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আজ আমি যখনসুশাসনের কথা বলি, আমি সুশাসন বলতে বুঝি, সরাসরি আমার দেশের দরিদ্র থেকে দরিদ্রতমসাধারণ মানুষের জীবনের পরিবর্তন আনা। সুশাসন মানে প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের প্রতিসংবেদন, দায়িত্বশীল এবং জনগণের প্রতি সমর্পিত করে তোলা। তবেই সুশাসনে জোর দেওয়াসম্ভব। প্রত্যেকের দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা এর মূলে থাকলে তবেই এই সুশাসন মাটি থেকেরস সংগ্রহ করে মহীরূহে পরিণত হতে পারবে। সেজন্য ভাই ও বোনেরা, প্রশাসনকে সংবেদনশীলহতে হবে।
আমার মনে পড়ে, একটা সময় ছিল, কোনওবড় হাসপাতালে যেতে হলে কতদিন অপেক্ষা করতে হতো। এইম্স-এ গেলে দু-তিন দিন অপেক্ষারপরই রোগীকে কবে পরীক্ষা করা হবে তার দিন ঠিক হতো। আমরা ইতিমধ্যেই সেই দীর্ঘসূত্রীব্যবস্থাকে বদলে দিতে পেরেছি। এখন অনলাইন রেজিস্ট্রেশন হয়, অনলাইন ডাক্তারেরঅ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায়, সেজন্য রোগী পৌঁছতেই তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শুরুহয়ে যায়। শুধু তাই নয়, রোগীর সব স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যও অনলাইনে পাওয়া যায়।আরোগ্য ক্ষেত্র থেকে শুরু করে এই ব্যবস্থা গোটা দেশে কর্মসংস্কৃতির রূপান্তরে আমরাএই ব্যবস্থাকে বিকশিত করতে চাই। আজ বড় বড় ৪০টি সরকারি হাসপাতালে এই ব্যবস্থা চালুহয়ে গেছে । এর মূলমন্ত্র হল , প্রশাসনকে সংবেদনশীল হতে হবে। ভাইও বোনেরা, প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে। প্রশাসন জবাবদিহি করতে বাধ্য না হলেসাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি এভাবেই ঝুলে থাকে। শুধু প্রযুক্তি থাকলেই হবে না, আমিভারতীয় রেলের উদাহরণ দিতে পারি, ভারতের প্রেক্ষিতে ভারতীয় রেলের টিকিট বেচা-কেনাদরিদ্র মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত। আগে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগে একমিনিটে সারা দেশে কেবল ২ হাজার টিকিট পাওয়া সম্ভব হতো। মাঝে মধ্যে দীর্ঘপ্রতীক্ষায় থাকতে হতো কখন ওয়েবসাইট খুলবে। আজ আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে পারিযে, এখন ভারতীয় রেল প্রতি মিনিটে ১৫ হাজার টিকিট বুকিং করতে পারে।
একটি দায়িত্বশীল সরকার সাধারণমানুষের প্রয়োজন এবং প্রত্যাশা পূরণে কিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, প্রশাসনকেসংবেদনশীল হতে হবে এবং প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে।
আমাদের দেশে মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা পুলিশের থেকে বেশি আয়কর আধিকারিকদের ব্যবহারে বিব্রতছিলেন। আমরা এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের কাজে লেগে পড়েছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমরাদ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে পারব। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক নিয়মিত আয়কর জমা করেন।জমা করার সময়ে সযত্নে ২ টাকা বেশি জমা দিয়ে দেন, যাতে পরবর্তী সময়ে তাঁর দিকে কেউআঙুল না তুলতে পারেন। কিন্তু একবার রাজকোষে টাকা জমা পড়লে, তা ফিরে পেতে জুতোরশুকতলা খসাতে হতো। আমরা এসে অনলাইন রিফান্ডের ব্যবস্থা চালু করেছি। ফলে, ২-৩সপ্তাহের মধ্যেই এখন রিফান্ড পাওয়া পাওয়া যায়। যাঁরা আজ আমার বক্তৃতা টিভিতে বসেশুনছেন, তাঁরাও ভেবে দেখুন, কোনও রকম দরখাস্ত জমা না দিয়েই আপনাদের ব্যাঙ্কঅ্যাকাউন্টে সরাসরি রিফান্ড-এর টাকা জমা পড়েছে কি না। প্রশাসনের জবাবদিহিতারপ্রচেষ্টা এই পরিণামসাধন করতে পারে।
সুশাসনের জন্য স্বচ্ছতা অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ। আপনারা জানেন, আজ সমাজে আগের থেকে অনেক বেশি করে আন্তর্জাতিকসম্পর্ক ধীরে ধীরে সহজ হয়ে উঠছে। মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্রে …… একটা সময় ছিল যখনবছরে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ পাসপোর্টের দরখাস্ত জমা পড়তো। আজকাল বছরে প্রায় ২ কোটিদরখাস্ত জমা পড়ে। ভাই ও বোনেরা, সুপারিশ না থাকলে পাসপোর্ট পেতে অনেকদিন লাগতো,৪-৬ মাস খোঁজখবর নিতেই চলে যেত। আজ আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলছি যে, পাসপোর্টব্যবস্থা অনলাইন করার পর এখন এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই আবেদনকারীর বাড়িতে পাসপোর্টপৌঁছে দেওয়া হয়। কারও সুপারিশের প্রয়োজন পড়ে না। ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষেই আমরা ১ কোটি৭৫ লক্ষেরও বেশি পাসপোর্ট আবেদনকারীদের হাতে তুলে দিতে পেরেছি।
সুশাসনের ক্ষেত্রে দক্ষতা একটিঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগে কোনও কোম্পানি আমাদের দেশে কারখানা চালু করতে হলে,ব্যবসা শুরু করতে চাইলে – কেবল নথিভুক্তি করতেই ৬-৭ মাস সময় লেগে যেত। যাঁরা দেশেরজন্য কিছু করতে চান, যাঁরা বিনিয়োগকারী তাঁদের সুবিধার্থে এই নথিভুক্তিকরণ বিভাগেদক্ষতার পরিবেশ গড়ে তুলে আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের কাজসম্পূর্ণ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি। কেবল গত জুলাই মাসেই এরকম ৯০০টিরও অধিকরেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।
সুশাসনের স্বার্থে আমরা যে পদক্ষেপনিয়েছি, তার মধ্যে অন্যতম হল ইন্টারভিউ প্রথার বিলোপ। গত বছর লালকেল্লার প্রাকারথেকে বক্তব্য রাখার সময় আমি ঘোষণা করেছিলাম যে, সরকারের গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদেনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা ইন্টারভিউ উঠিয়ে দিতে চাই। আবেদনকারীরা মেধার ভিত্তিতেই কাজপাবেন। তারপর, আমরা এরকম প্রায় ৯ হাজারটি পদ সনাক্ত করেছি, যে পদে লক্ষাধিকব্যক্তির কর্মসংস্থান হবে। এই ৯ হাজার পদে নিযুক্তির ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ-এরসম্মুখীন হতে হবে না। দেশের নবীন প্রজন্মকে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার জন্য কোনও সময় ওঅর্থ ব্যয় করতে হবে না, সুপারিশেরও কোনও প্রয়োজন নেই, দুর্নীতি ও দালালরাজ সমাপ্তকরতে আমরা এই ঘোষণাকে বাস্তবায়িত করেছি।
ভাই ও বোনেরা, একটা সময় ছিল, যখনসরকার অনেক পরিকল্পনা ঘোষণা করতো, যা শুনে সাধারণ মানুষ খুশি হয়ে যেতেন। তাঁদেরমনে হতো এখন কিছু হবে। কিন্তু, তখনও বাস্তবায়নের নক্শা ও পরিকল্পনাও তৈরি হয়নি।এমনকি, পরবর্তী বাজেটেও সেই পরিকল্পনার কোনও উল্লেখ থাকতো না। আজ ৭০তম স্বাধীনতাদিবসের প্রাক্কালে মানুষের মন বদলেছে। তাঁরা কেবল ঘোষণায় সন্তুষ্ট হন না,পরিকল্পনা দেখালে সন্তুষ্ট হন না, এমনকি বাজেট বরাদ্দ দেখেও মেনে নিতে চান না। যখনকোনও কাজকে বাস্তবে হতে দেখেন, দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে দেখেন, তখনই তাঁরা মেনেনেন। আমাদের কাজে গতি আনতে হবে।
আমাদের দেশে প্রত্যেক গ্রামেরপ্রতিটি মানুষ প্রত্যাশা করেন যে, তাঁর গ্রামে পাকা রাস্তা হবে – এটা অত্যন্ত বড়মাপের কাজ। শ্রদ্ধেয় অটল বিহারী বাজেপেয়ী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই কাজ শুরুকরেছিলেন, পরবর্তী সরকারও সেই কাজ চালু রেখেছে। আমরা এসে সেই কাজে গতি আনার চেষ্টাকরেছি। আগে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের কাজ করা সম্ভব হয়েছে।আমরা সেই গতি বাড়িয়ে প্রতিদিন ১০০ কিলোমিটার করেছি। এই গতি আগামীদিনে সাধারণ মানুষেরপ্রত্যাশা পূরণে কাজে লাগবে।
জ্বালানি ক্ষেত্রে আমরাপুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে জোর দিয়েছি। স্বাধীনতার পর থেকে এত বছর ধরেআমাদের দেশে বায়ুশক্তি নিয়ে কাজ হয়েছে। কিন্তু গত এক বছরে আমরা সেই কাজ ৪০ শতাংশবৃদ্ধি করেছি। সৌরশক্তির ক্ষেত্রে …… এখন সারা পৃথিবী সৌরশক্তি উৎপাদনে জোর দিচ্ছে।আমরা এক্ষেত্রে ১১৬ শতাংশ বৃদ্ধি করতে পেরেছি। এটা এক বিরাট লাফ বলা যেতে পারে।আমরা সবকিছুকেই কোয়ান্টাম-এর দৃষ্টিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। শক্তি উৎপাদনেরক্ষেত্রে উন্নতমানের সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সরকারে আসার আগেরদু’বছরে, বছরে ৩০-৩৫ হাজার কিলোমিটার সরবরাহ লাইন টানা হয়েছে। আমি অত্যন্ত আনন্দেরসঙ্গে বলতে পারি, আমরা সেই গতি বাড়িয়ে বছরে ৫০ হাজার কিলোমিটার ট্রান্সমিশন লাইনবৃদ্ধি করতে পেরেছি। গত ১০ বছরে রেলপথ সম্প্রসারণের হিসাব যদি নেওয়া হয়,সম্প্রসারণের অর্থ রেলগাড়ি চলার যোগ্য করে তোলা, সমস্ত ট্রায়াল সম্পূর্ণ হওয়া। আগে১০ বছরে দেড় হাজার কিলোমিটার রেলপথ সম্প্রসারণ হয়েছে। আর, গত দু’বছরে হয়েছে ৩হাজার ৫০০ কিলোমিটার রেলপথ সম্প্রসারণ। আমরা এই গতিকে আরও বৃদ্ধি করার চেষ্টাকরছি।
ভাই ও বোনেরা, আজ আধার কার্ডকে সকলসরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করে চুরি বন্ধ করে গ্রাহকদের সরাসরি সুবিধা পাওয়ারক্ষেত্রে আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। আমরা ক্ষমতায় আসার আগে প্রায় ৪ কোটি মানুষেরআধার কার্ডের সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের সংযুক্তিকরণ হয়েছিল। আজ আমি অত্যন্ত আনন্দেরসঙ্গে বলতে পারছি যে, আমরা সেই ৪ কোটি থেকে কাজ শুরু করে ইতিমধ্যেই দেশের ৭০ কোটিজনসাধারণকে আধার কার্ডের মাধ্যমে সরকারি পরিকল্পনাগুলির সঙ্গে যুক্ত করার সাফল্যঅর্জন করেছি। বাকিদের ক্ষেত্রেও কাজ চলছে।
আমাদের দেশে সাধারণ মধ্যবিত্তপরিবারে একটি গাড়ি থাকলে যেমন মর্যাদা হিসাবে মানা হয়, একটা সময় ছিল, যখন বাড়িতেগ্যাসের উনুন থাকলে তেমনই মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখা হতো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৬০বছরে প্রায় ১৪ কোটি মানুষের বাড়িতে রান্নার গ্যাসের সংযোগ ছিল। আর আমরা বিগত ৬০সপ্তাহে ৪ কোটি পরিবারে নতুন রান্নার গ্যাসের সংযোগ এনে দিয়েছি। এই গতি সাধারণমানুষের জীবনে উৎকর্ষ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাফল্য এনে দিতে পেরেছে।
আমরা আইনের জঞ্জাল সাফাই করার কাজওশুরু করেছি। অনেক প্রয়োজনীয় আইনের বোঝা সরকার, বিচার ব্যবস্থা এবং সাধারণ নাগরিকেরজীবনকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিল। আমরা সমীক্ষার মাধ্যমে এরকম অপ্রয়োজনীয় প্রায় ১হাজার ৭০০টি আইন খুঁজে বের করেছি। ইতিমধ্যেই এগুলি থেকে ১ হাজার ২০০টিকে সংসদেবাতিল করে দিয়েছি। বাকিগুলি বাতিল করার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।
ভাই ও বোনেরা, আমাদের জাতীয় স্বভাবতৈরি হয়ে গিয়েছিল, কোন্ কাজটা হতে পারে আর কোনটা হতে পারে না, সেটা আগে থেকেইভেবে নেওয়া। প্রশাসনের একটি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী ছিল। আমরা সেই নেতিকে ইতিবাচককরে তুলতে, প্রশাসনকে বেগবান করতে জ্বালানি যোগানোর কাজ করেছি। সেজন্য উৎসাহ ওইচ্ছাশক্তি বেড়েছে, সংকল্পও অনেক বেশি ক্ষুরধার হয়েছে, পরিণামও আমাদের দৃষ্টিগোচরহতে শুরু করেছে।
ভাই ও বোনেরা, আমরা যখনপ্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা শুরু করেছি, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন যে এটা অসম্ভব কাজ।এত বছর ধরে ব্যাঙ্ক ছিল, সরকার ছিল, সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবেকয়েক দশক আগেই সরকার ব্যাঙ্কের রাষ্ট্রায়ত্তকরণ সম্ভব করেছে। কিন্তু তবুও সাধারণমানুষকে দেশের অর্থ ব্যবস্থার মুখ্য ধারার সঙ্গে যুক্ত করতে পারেনি। ভাই ও বোনেরা,আমরা উদ্যোগ নিয়ে এই প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করেছি।ইতিমধ্যেই ২১ কোটি পরিবারকে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছি। এর কৃতিত্বসরকারের নয়, আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১২৫ কোটি ভারতবাসী এই প্রকল্পকে সফল করে তোলায়এই কৃতিত্বের দাবিদার তাঁরাই। সেজন্য আমি আমার ১২৫ কোটি দেশবাসীকে প্রণাম জানাই।
আজ ভারতের গ্রামে নারী গৌরব বৃদ্ধিরঅভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে শৌচালয়নির্মাণের মাধ্যমে মা-বোনেদের খোলা মাঠে প্রাতঃকৃত্য সারতে যাওয়ার বাধ্যবাধকতাথেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। প্রথমবার লালকেল্লার প্রাকার থেকে জাতির উদ্দেশেভাষণ দেওয়ার সৌভাগ্য যেদিন হয়েছিল, সেদিন আমি নিজের ভাবনা ব্যক্ত করেছিলাম। আমারস্বপ্নের কথা বলেছিলাম, আমি কেমন দেশের স্বপ্ন দেখি, আপনারা সকলে আমার স্বপ্নকেবাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমি গর্বের সঙ্গে বলছি, এত কম সময়ে সারা দেশেরগ্রামগুলিতে ২ কোটিরও বেশি শৌচালয় গড়ে উঠেছে। দেশের ৭০ হাজারেরও বেশি গ্রামইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ রূপে খোলামাঠে প্রাতঃকৃত্য সম্পাদন থেকে বিরত হয়েছেন । এভাবেই আমরা সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তনআনার কাজ করছি।
একইভাবে, গত বছর আমি লালকেল্লারপ্রাকার থেকে ঘোষণা করেছিলাম, স্বাধীনতার পর প্রায় ৭০ বছরে যে ১৮ হাজার গ্রামেবিদ্যুতের খুঁটিও পৌঁছয়নি, যে গ্রামগুলির মানুষ আজও অষ্টাদশ শতাব্দীর মতো জীবনযাপনকরতে বাধ্য থাকেন, তাঁদের জীবনে পরিবর্তন আনতে আগামী ১ হাজার দিনের মধ্যে ঐ ১৮হাজার গ্রামে আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছে দেব। আমি দেশের সকল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারেরআধিকারিক ও কর্মীদের কৃতজ্ঞতা জানাই, তাঁরা যে গতিতে কাজ করছেন; আজ আপনাদেরঅত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে চাই, মাত্র ৩৬৫ দিনের মধ্যেই তাঁরা ১০ হাজারেরও বেশিগ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছেন। আমাকে বলা হয়েছে, সেগুলির মধ্যে অধিকাংশ গ্রামেরমানুষ আজ প্রথমবার টিভিতে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের কুচকাওয়াজ ও শোভাযাত্রাদেখছেন। আজ আমি সেসব গ্রামের মানুষদের বিশেষ শুভেচ্ছা জানাই।
ভাই ও বোনেরা, আপনারা শুনলে অবাকহবেন যে, দিল্লি থেকে সড়কপথে মাত্র তিন ঘন্টার দূরত্বে হাথরস এলাকার একটি গ্রামনগলাফটেলা। দিল্লি থেকে যে গ্রামে পৌঁছতে মাত্র ৩ ঘন্টা লাগে, সে গ্রামে বিদ্যুৎপৌঁছতে স্বাধীনতার পর প্রায় ৭০ বছর লেগে গেছে। এভাবেই আমি আমাদের কর্মসংস্কৃতিরসঙ্গে আপনাদের পরিচয় করাতে চাই।
ভাই ও বোনেরা, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানেদেখা গেছে এল ই ডি বাল্ব অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং পরিবেশ-বান্ধব। কিন্তুভারতে একটি এল ই ডি বাল্বের দাম ছিল ৩৫০ টাকা। কে কিনবে? আমরা ভাবলাম, এই এল ই ডিবাল্বের মাধ্যমেই ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনা সম্ভব। এর মাধ্যমেপরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি, দেশের অর্থ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা যেতে পারে। আমরাসরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই বাল্বের দাম কমিয়ে ৫০ টাকা করতে পেরেছি। ইতিমধ্যেইপ্রায় ১৩ কোটিরও বেশি বাল্ব ৫০ টাকা দরে বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। দেশে রাজনীতির জনপ্রিয়তাকেজনপ্রিয় অর্থনীতিতে পরিবর্তিত করতে পেরেছি। প্রত্যেক বাল্বের পেছনে রাজকোষ থেকে৩০০ টাকা করে ভর্তুকি দিয়েই আমরা প্রশংসা অর্জন করতে পারতাম। কিন্তু আমরা ৫০ টাকাদরে ১৩ কোটি বাল্ব বিতরণ করেছি, ৭৭ কোটি বাল্ব বিতরণের সংকল্প রয়েছে। ফলে, সাধারণমানুষের সারা বছরে ২৫০-৫০০ টাকা সাশ্রয় হবে, দেশের জ্বালানি সাশ্রয় হবে, পরিবেশদূষণও কমবে। ৭৭ কোটি এল ই ডি বাল্ব জ্বলতে শুরু করলে দেশের ২০ হাজার মেগাওয়াটবিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। ফলে, বছরে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। ভাই ওবোনেরা, আপনারা বাড়িতে এল ই ডি বাল্ব লাগিয়ে নিজেদের সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের ১লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা বাঁচাতে পারেন। বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনিওসামিল হতে পারেন।
ভাই ও বোনেরা, আপনারা জানেন,অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা কাকে বলে! আমরা জ্বালানি ক্ষেত্রে বিশেষ করে,পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করি। সেজন্য আমাদেরদীর্ঘকালীন চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, যাতে আমরা দীর্ঘকাল ধরে নিশ্চিত মূল্যেপেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ পেতে পারি। প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে আমরা কাতারের সঙ্গেযে চুক্তি ছিল, তার সময়সীমা ২০২৪ সাল পর্যন্ত। কিন্তু, এত দাম দিয়ে এইপেট্রোলিয়ামজাত পদার্থগুলি আমদানি করতে হয় যে, আমাদের অর্থ ব্যবস্থায় অত্যন্ত চাপপড়ে। আমাদের পরিবর্তিত বিদেশ নীতির মাধ্যমে সেসব দেশের সঙ্গে সম্পর্কের নিবিড়তাবাড়িয়ে অসাধ্যসাধন করতে পেরেছি। কাতারের সঙ্গে আবার আলোচনার মাধ্যমে নতুন চুক্তিসম্পাদিত হয়েছে। ফলে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারতকে যত টাকা দিতে হতো, এখন তা থেকে ২০হাজার কোটি টাকা কম দিতে হবে। বৈদেশিক চুক্তির আওতা বাড়িয়েই সরকারের পক্ষে এই অর্থসাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।
মধ্য এশিয়ার জন্য যোগাযোগেরক্ষেত্রে চাবহার বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেউন্নতিসাধন করে ইরান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ঐ চাবহার সমুদ্রবন্দরপুনর্নবীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছি। এভাবেই আমরা অসম্ভবকে সম্ভবকরতে চাই।
ভাই ও বোনেরা, এবার আমি যে বিষয়টিনিয়ে বলব, তা সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গে যুক্ত, তা হল মূল্য বৃদ্ধি।পূর্ববর্তী সরকারের শাসনকালে দেশে মুদ্রাস্ফীতি ১০ শতাংশের অধিক হয়ে পড়েছিল। আমরানিয়মিত নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই মুদ্রাস্ফীতিকে ৬ শতাংশের বেশি হতে দিইনি। শুধুতাই নয়, সম্প্রতি আমরা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে সমঝোতায় এসেছি যে, ৪ শতাংশ কম-বেশি২ শতাংশের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রিত রাখার ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্কপদক্ষেপ নেবে। মুদ্রাস্ফীতি এবং বৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে যে আলোচনা হতো,তা থেকে উপরে উঠে আমরা কাজ করেছি। গত দু’বছর ধরে দেশ খরা আক্রান্ত। খরার কবলে পড়ে,সব্জির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়, বাজারে মন্দার প্রভাব পড়ে। আমাদের এসব সমস্যারসম্মুখীন হতে হয়েছে। দু’বছর ধরে খরার পরিস্থিতির কারণে ডাল উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায়আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ি। তবুও ভাই ও বোনেরা, আগে যে হারে মূল্য বৃদ্ধি হতো, আমরাতা হ্রাস করতে পেরেছি। সরকারের কাছ থেকে আপনাদের প্রত্যাশা অত্যন্ত স্বাভাবিক। আমিআপনাদের কথা দিচ্ছি, আমরা আপনাদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য যত ধরনের চেষ্টা করতে হয়,তা করে যাব, গরিব মানুষের খাদ্যের দাম বাড়তে দেব না।
আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, দেশ এখনগুরু গোবিন্দ সিং-এর ৩৫০তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শিখ গুরুদেরপরম্পরা, দেশের জন্য আত্মবলিদানের গাঁথা এদেশের মানুষ কি করে ভুলতে পারে। গুরুগোবিন্দ সিং একটি কথা বলেছিলেন, যে হাত কখনও কাজ করেনি, সেবা করেনি, শ্রমেরমাধ্যমে মজবুত হয়নি, যে হাতে কাজ করতে করতে ফোসকা পড়েনি, সেই হাতকে কেমন করে আমিপবিত্র বলে মনে করব। আজ গুরু গোবিন্দ সিং-এর ৩৫০তম জন্মজয়ন্তীর প্রস্তুতিপর্বে আমিদেশের কৃষকদের কথা ভাবি, তাঁদের থেকে বেশি পবিত্র হাত আর কার হবে। তাঁদের থেকেবেশি পবিত্র হৃদয় কাদের হবে? তাঁদের হিতে কাজ করার উদ্দেশ্যই সবচেয়ে পবিত্রউদ্দেশ্য প্রতিপন্ন হতে পারে। আমার কৃষক ভাইয়েরা, দু’বছর ধরে খরাক্রান্ত হওয়ারপরেও আপনারা দেশের অন্ন ভাণ্ডারকে ভরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছেন।সেজন্য আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই।
আমরা খরা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেপেরেছি। এ বছর ভালো বর্ষা হচ্ছে। কোথাও কোথাও অতিবৃষ্টির জন্য সমস্যা হচ্ছে। এইসবরাজ্যে যে নাগরিকেরা বিপদগ্রস্ত, কেন্দ্রীয় সরকার এই সংকটকালে আপনাদের পাশে আছে।আমি কৃষক ভাইদের আরেকটি কারণে ধন্যবাদ জানাতে চাই। দেশে ডালের সংকট অনুভূত হলেসবাই যখন অন্য ফসল উৎপাদন করতে শুরু করেছিলেন, সেই মূহুর্তে সরকারের আবেদনে সাড়াদিয়ে আপনারা আগের থেকে দেড় গুণ বেশি ডালবীজ রোপণ করেছেন। আমরা ডালের জন্য এম এস পিনির্ধারণ করেছি। ডাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে বোনাস চালু করেছি। ডালের বিক্রয় ব্যবস্থাসুনিয়ন্ত্রিত করেছি। সেজন্য কৃষকেরা উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে এসেছেন, আমি নিশ্চিত, যাঁরাএগিয়ে এসেছেন, তাঁরা অত্যন্ত লাভবান হবেন।
ভাই ও বোনেরা, কর্মসংস্কৃতি উন্নয়নেআমরা কোনও কিছুকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সমগ্রতা নিয়ে দেখি। সংহত কার্যকারিতার কথাভেবে সিদ্ধান্ত নিই। শুধু কৃষিক্ষেত্রেই আমরা যে ধরনের কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলেছি,তার একেকটি শৃঙ্খলা বিরাট সুফলদায়ক হয়ে উঠতে পারে।
আমরা সবার আগে মাটির স্বাস্থ্যেরকথা ভেবে মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড চালু করেছি্। ম্যাক্রো নিউট্রিশন এবং মাইক্রোনিউট্রিশন নিয়ে কৃষকদের বুঝিয়েছি যে, তাঁদের জমিতে কোন্ ফসলের ফলন ভালো হবে।আমাদের কৃষকরা ধীরে ধীরে মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে পরিকল্পনামাফিক ফসলফলানো শুরু করে দিয়েছেন। এর ফলে, অনেকেরই ২৫ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে বলে আমরাজানতে পেরেছি। তাঁরা আগের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি ফলনও পাচ্ছেন। এখন গোড়ার দিকেতাঁদের যতটা সাশ্রয় হচ্ছে, এই বার্তা যত বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছবে, সাশ্রয়েরপরিমাণও তত বড়বে। আমাদের দেশের কৃষকদের নিজের জমি থাকলে আর সময় মতো সঠিক জলেরযোগান পেলে তাঁরা এই মাটি থেকে সোনা ফলানোর ক্ষমতা রাখেন। সেজন্য আমরা সেচ ও জলসংরক্ষণের ক্ষেত্রে বেশি জোর দিয়েছি। প্রত্যেক ফোঁটা জল কিভাবে কৃষকের কাজে লাগানোযেতে পারে, সে বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে আমরা ‘প্রতি বিন্দুতে অধিক ফলন’, এবং ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্পে জোর দিয়েছি। ৯০টিরও বেশি সেচ প্রকল্প অসমাপ্ত পড়েছিল। আমরা সেগুলিকেবাস্তবায়িত করার কাজে লেগে পড়েছি। কৃষকদের কৃষিজ উপকরণ কেনার খরচ হ্রাস করার জন্যসৌর পাম্পের মাধ্যমে বিদ্যুতের যোগান দিয়ে, বিদ্যুৎ কেনার খরচ বাঁচানোর চেষ্টাকরেছি। এক্ষেত্রে নিত্যনৈমিত্তিক খরচও কমবে। জমি নিজের, ক্ষেতের আলও নিজের, আরসূর্য তো আমাদের সবারই। ক্ষেতের আলে সৌর প্যানেল লাগিয়ে সকলেই এই সাশ্রয়ের পথেহাঁটতে পারেন। আমরা ইতিমধ্যেই ৭৭ হাজার সোলার পাম্প বিতরণের সাফল্য পেয়েছি।
ভাই ও বোনেরা, আমি দেশেরবৈজ্ঞানিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। মাটি, জল, সোলার পাম্পের পাশাপাশি ভালো বীজেরওপ্রয়োজন। আমাদের বৈজ্ঞানিকরা ইতিমধ্যেই ভারতের প্রকৃতি ও আবহাওয়ার অনুকূল ১৩১টিরওবেশি নতুন কৃষিযোগ্য বীজ উৎপাদন করেছেন, যা আমদের প্রতি হেক্টরে ফলন অনেক বাড়িয়েদেবে। সেই ফলনের খাদ্যগুণও বৃদ্ধি পাবে।
কৃষকদের ইউরিয়া চাই । আগেমুখ্যমন্ত্রীদের প্রতি বছরই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ইউরিয়া চেয়ে চিঠি লিখতে হতো।আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বছর আমার কাছে মুখ্যমন্ত্রীদের বেশ কিছু চিঠিআসে, অভিযোগপত্র আসে। খবরের কাগজে পড়ি যে কালোবাজারে ইউরিয়া বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরাইউরিয়ার জন্য দোকানের সামনে ১২-১৫ ঘন্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ইউরিয়া আনতে গিয়েহট্টগোলে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করছে। সেসব দিনের কথা আপনারাওনিশ্চয়ই তোলেননি! ভাই ও বোনেরা, তারপর থেকে বিগত দেড় বছরে আমার কাছে একজনমুখ্যমন্ত্রীর চিঠিও আসেনি। দেশের কোথাও আর ইউরিয়া না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের ওপরপুলিশ লাঠিচার্জ করেনি, কোথাও কালোবাজারে ইউরিয়া বিক্রি হয়নি।
কিন্তু ভাই ও বোনেরা, কৃষকদেরচাহিদা রয়েছে বলেই, আজ আমাদের দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি হলে কৃষকদের যথেচ্ছ ব্যবহারকেদায়ী করা হয়, ইউরিয়া ঘাটতি হলেও কৃষকদের দায়ী করা হয়। কিন্তু, বাস্তবে কৃষকদেরচাহিদা অনুসারে ইউরিয়া তাঁরা পেতেনই না। ইউরিয়া কারখানা থেকে বেরিয়ে চোরাপথে চলেযেত রাসায়নিক কারখানাগুলিতে। কৃষক বেচারা অপেক্ষায় দিন গুনতেন। সমস্ত ভর্তুকিরসুফল পেতেন রাসায়নিক কারখানার মালিকরা, কৃষকদের ভাগ্যে জুটতো না। আমরা উপায় খুঁজেবের করেছি। আমরা ইউরিয়াকে নিমের আবরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিম কোটিং করেদেওয়ায় এখন আর এক গ্রাম ইউরিয়াও রাসায়নিক কারখানার মালিকরা কোনওভাবেই কাজে লাগাতেপারবেন না। অথচ, ফসলকে বাড়তি নিরাপত্তা দেবে এই নিমের আবরণ । ফলে , কালোবাজারি বন্ধ হল, দুর্নীতিওবন্ধ হল, এক ঢিলে দুই পাখি মরলো, আর কৃষকরা চাহিদা মতো ইউরিয়াও পেল। ভাই ও বোনেরা,আগামী বছরগুলিতে এ ধরনের আরও কৌশলের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে চেষ্টা করব যাতেবিদেশ থেকে আর ইউরিয়া আমদানি না করতে হয়। এমনও হতে পারে বাইরের যেসব দেশেপ্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাচুর্য রয়েছে আমরা সেসব দেশে ইউরিয়া উৎপাদন করে আমরাই আমদানিকরব।
ভাই ও বোনেরা, আমরা প্রধানমন্ত্রীফসল বিমা যোজনা চালু করেছি। একবার যদি কৃষক ভাই এই বিমা প্রকল্প গ্রহণ করেন, তাহলে বিপদের সময় এই প্রকল্প তাঁদের কাজে লাগবে, তাঁর পরিবার বছরখানেক আরামে থাকতেপারবেন। ন্যূনতম কিস্তি জমা দিয়েই এই বিমা প্রকল্পে বেশি লাভ পাওয়া যায়। দেশস্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই প্রথম দেশের কৃষকদের জন্য এ ধরনের কোনও প্রকল্প এসেছে।আমরা নতুন নতুন গুদামঘর নির্মাণ করে ১৫ লক্ষ টন অতিরিক্ত ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থাকরেছি।
ভাই ও বোনেরা, নতুন নতুন মূল্যসংযোজনের মাধ্যমেই আমাদের কৃষকদের কল্যাণ হতে পারে। আমরা প্রথমবারখাদ্যপ্রক্রিয়াকরণে জোর দিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশিবিনিয়োগকে প্রোৎসাহিত করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এর ফলে, আগামী ২০২২ সালের মধ্যে আমারদেশের কৃষকদের রোজগার দ্বিগুণ করার যে স্বপ্ন আমি দেখি, তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।সেজন্য আমরা একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছি।
ভাই ও বোনেরা, স্বাধীনতার পর আমাদেরদেশে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা অর্জনের খাতিরে নানা পদক্ষেপনেওয়ার ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। জনপ্রিয়তার খাতিরে রাজকোষ ফাঁকা করে দিয়ে এ ধরনের কাজকরার মোহ থেকে আমরা নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছি। সেজন্য সম্পূর্ণ রূপান্তরস্বচ্ছতার সঙ্গে পরিবর্তন। রিফর্ম, পারফর্ম এবং ট্রান্সফর্ম – এই মন্ত্র নিয়ে আমরাপ্রতিটি স্তরে একের পর এক পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ভাই ও বোনেরা, সরকারের জনপ্রিয়তাবাড়ানোর চেয়ে গোটা বিশ্বে ভারতের পরিচয়কে মহিমান্বিত করার দিকে বেশি জোর দিয়েছি।শাসকদলের পরিচয় থেকে দেশের পরিচয়কে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছি। বিশ্বে দেশের মর্যাদাবৃদ্ধি পেলে, শতাব্দীর পর শতাব্দী কাল ধরে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম লাভবান হবেন,সেজন্যই আমরা শাসকদলের পরিচয় থেকে দেশের পরিচয়কে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছি।
রেল পরিবহণের ক্ষেত্রে আমরাযুগান্তকারী পরিবর্তন আনার কাজ করেছি। একদিকে বায়ো-টয়লেট চালু করা, আর অন্যদিকেবুলেট ট্রেন আনার স্বপ্ন দেখা। আমরা একদিকে কৃষকের জন্য মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ডনিয়ে আলোচনা করি, অন্যদিকে কৃত্রিম উপগ্রহ এবং মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও এগিয়েযেতে চাই। আমরা স্ট্যান্ডআপ ইন্ডিয়ার কথা বলি। আর সেজন্যই স্টার্টআপ ইন্ডিয়ারপদক্ষেপ নিই। আমরা প্রতীকী উদ্যোগের স্থানে বস্তুগত উন্নয়নে জোর দিচ্ছি। বিচ্ছিন্নউন্নয়নের স্থানে সংহত উন্নয়নে জোর দিচ্ছি। পাইয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি ত্যাগ করেক্ষমতায়নের সংস্কৃতিকে বিকশিত করতে চাই। ভাই ও বোনেরা, দেশের সাধারণ মানুষেরক্ষমতায়নের স্বার্থে দেশে নতুন নতুন প্রকল্প ঘোষণার মাধ্যমে সরকারের নতুন পরিচিতিগড়ে উঠেছে। পুরনো অসমাপ্ত প্রকল্পগুলিকে আবার চালু করার উদ্যম নিয়েছি আমরা।পূর্ববর্তী যে কোনও সরকারের সদিচ্ছা থেকে যে প্রকল্পগুলি্র কাজ শুরু হয়েছিল, সেসবজনহিতকর অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলি পরবর্তী কোনও সরকারের জনপ্রিয় প্রকল্পের চাপেসেগুলি থমকে পড়েছিল । আমরা মনে করি , এভাবে গণতন্ত্র চলতে পারে না। একসরকারের প্রকল্প পরবর্তী সরকার সম্পাদন না করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা মনেকরি, দেশ এক এবং অখণ্ড। তাই, আমরা সেই অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলির কাজ শুরু করেছি,সেগুলির জন্য বাজেট বরাদ্দ করেছি এবং এগুলির নিত্যনৈমিত্তিক অগ্রগতি সম্পর্কে আমিনিজে পর্যালোচনা করি। প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ কোটি টাকারও বেশি খরচ করে ১১৮টি অসমাপ্তপ্রকল্পের কাজ আমরা চালু করে দিয়েছি। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প ইতিমধ্যেইবাস্তবায়িত হয়েছে।
আমরা একটি প্রজেক্ট মনিটরিং গ্রুপচালু করেছি। তারা ১০-২০-৩০ বছর ধরে থেমে থাকা প্রকল্পগুলির অগ্রগতি সরেজমিনে তদন্তকরে আমাকে রিপোর্ট দিয়েছে। এরকম ১০ লক্ষ কোটি টাকার ২৭০টি প্রকল্প আমরা শনাক্তকরেছি, যেগুলি পূর্ববর্তী কোনও সরকারের আমলে শিলান্যাস হয়েছিল। কোনও কোনওটায় ১-২হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি থেমে থাকা আমার কাছে অপরাধমূলক অবহেলারসামিল ।
ভাই ও বোনেরা, রেল প্রকল্প মঞ্জুরহতে আগে দু’বছর লেগে যেত। রেলপথের ওপর দিয়ে উড়ালপুল গড়ে তুলে কিংবা সড়কপথের ওপরদিয়ে রেলব্রিজ গড়ে তোলার প্রকল্প মঞ্জুর হতে দু’বছর লেগে যেত। ভাই ও বোনেরা,আমাদের আমলে এই কাজ তিন-চার মাসের মধ্যে সম্ভব হচ্ছে। আমরা রেল প্রকল্পে মঞ্জুরিদেওয়ার সময়সীমা কমিয়ে ৬ মাস করে দেওয়ায় এই গতি এসেছে।
আমরা যত কাজই করি না কেন, শেষতমব্যক্তি পর্যন্ত সেই কাজের সুফল না পৌঁছলে তাকে আমি সুশাসন বলে মনে করি না।সুস্পষ্ট নীতি, সদিচ্ছা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস – এই সুশাসনকে সুনিশ্চিত করতেপারে।
আমরা দেখেছি, উত্তরপ্রদেশের খবরেরকাগজগুলি যদি নিয়মিত পড়েন, তা হলে আপনারাও অনুভব করেছেন, সেখানকার আখচাষীসদেরদুরবস্থার কথা। হাজার হাজার কোটি টাকা বকেয়া ছিল, দু’বছর অনাবৃষ্টির ফলে আমাদেরকষ্ট পেতে হচ্ছে, এর প্রভাব সরকারেরও পড়ে। তা সত্ত্বেও আমরা একের পর এক এমন পদক্ষপনিই যে আখচাষীদের কয়েক হাজার কোটি পুরনো বকেয়া শোধ হয়ে এখন মাত্র ১৭০-১৮০ কোটিটাকা বকেয়া রয়েছে। শুধু তাই নয়, আজকের হিসাবে এর মধ্যেও ৯৯.৫ শতাংশ টাকা ইতিমধ্যেইপরিশোধ করা হয়ে গেছে। অনেক বছর পর এরকম সম্ভব হয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ কৃষকদের আখেরদাম পরিশোধ করা হয়েছে । যে ৫ শতাংশ বাকি রয়েছে, আমার দৃঢ়বিশ্বাস তাও দ্রুত পরিশোধ হয়ে যাবে ।
ভাই ও বোনেরা, এল পি জি গ্যাসের ক্ষেত্রে আমরাদায়িত্ব গ্রহণ করার পর, কথায় কথায় দেশের সম্পন্ন মানুষদের অনুরোধ করেছিলাম যাতেতাঁরা রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি ছেড়ে দেন। আর আমি ১ কোটি ১৩ লক্ষ দেশবাসীকেবিনম্রচিত্তে শ্রদ্ধা জানাই যে, তাঁরা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। এটাকে কীপরিবর্তন বলবেন না? সাধারণ মানুষের মনে কত পরিবর্তন এসেছে। দেশের উন্নয়নের জন্যসাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের এর থেকে বড় উদাহরণ আর কি হতে পারে? আমরা ইতিমধ্যেইতাঁদের ছেড়ে দেওয়া ভর্তুকি প্রাপ্ত সিলিন্ডারগুলি দেশের প্রায় ৫০ লক্ষ গরিবপরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আর এই কাজ মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ করা হয়েছে।স্বাধীন ভারতে এক বছরে এত সিলিন্ডার কোনও দিনই জনগণের কাছে পৌঁছয়নি। কিন্তু সরকারযদি সত্যি সত্যিই দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চায়, তা হলে কেমন দ্রুতগতিতে কত বড়মাত্রায় কাজ করতে পারে, শেষতম ব্যক্তি পর্যন্ত সেইকাজের সুফল কিভাবে পৌঁছনো যায়, তার উদাহরণ এই ঘটনা।
তথ্য প্রযুক্তি, হোয়াটসঅ্যাপ, বার্তা প্রেরণেরনতুন নতুন প্রযুক্তি, অনলাইন, ই-মেল – এসব চালু হওয়ায় আমাদের ডাকঘর ক্রমেঅপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। অথচ, ডাকঘর আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আমরা সেই ডাকঘরগুলিরপুনরুজ্জীবন ও ক্ষমতায়নের জন্য, ডাকঘরগুলি যেভাবে দেশের দরিদ্র্য ও সাধারণ মানুষেরসঙ্গে যুক্ত থাকে, ডাক হরকরা ও পিওনদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভালোবাসার সম্পর্কেরকথা মাথায় রেখে আমরা ডাকঘরগুলিকে পেমেন্ট ব্যাঙ্কে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যেপদক্ষেপ নিয়েছি । আমরা এই পেমেন্টব্যাঙ্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি গ্রামে ব্যাঙ্কের জাল বিছানো এবং সাধারণমানুষের কাছে জন ধন অ্যাকাউন্টের সুফল পৌঁছে দেওয়া, মনরেগার টাকা সরাসরি তাঁদেরঅ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দুর্নীতি দূরীকরণের ক্ষেত্রে সাফল্য পাচ্ছি।
ভাই ও বোনেরা, আমাদের দেশে যত পি এসইউ গড়ে ওঠে সেগুলি যেন বিনষ্ট হওয়ার জন্যই গড়ে ওঠে, তালা লাগার জন্য কিংবা বিক্রিকরে দেওয়ার জন্য গড়ে ওঠে। এটাই বাস্তব ইতিহাস। এক্ষেত্রেও আমরা একটি নতুনকর্মসংস্কৃতি প্রচলনের চেষ্টা করেছি। আর আজ আমি প্রথমবার আনন্দের সঙ্গে বলছি, যেএয়ার ইন্ডিয়া লাগাতার লোকসানে চলছিল, গত বছর আমরা তার অপারেশান থেকে অপারেশনালপ্রফিট অর্জনে সফল হয়েছি। বি এস এন এল-ও তেমনই লোকসানে চলছিল। বিশ্বের সকল টেলিকমকোম্পানি লাভের মুখ দেখছে, আর বি এস এন এল পিছিয়ে পড়ছিল। গত বছর প্রথমবার আমরা বিএস এন এল-এর ক্ষেত্রেও অপারেশনাল প্রফিট অর্জনে সক্ষম হয়েছি। শিপিং কর্পোরেশন অফইন্ডিয়ারও এমন অবস্থা হয়েছিল যে সবাই এর ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিল। আজ শিপিংকর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়াও লাভের মুখ দেখছে।
একটা সময় ছিল যখন বিদ্যুৎপ্রকল্পগুলি পরের সপ্তাহে চলবে কি চলবে না, এ ব্যাপারে সবাই সন্দিহান থাকতেন। কয়লাআসবে কি আসবে না। কোন্ কোন্ বিদ্যুৎ কারখানা কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে সেসব খবরশোনা যেন। আর আজ, বিদ্যুৎ কারখানাগুলির দরজায় দরজায় নিয়মিত কয়লা পৌঁছে দেওয়াহচ্ছে। ভাই ও বোনেরা, আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে এই কাজটি আমরা করতে পেরেছি ।
আমাদের দেশে দুর্নীতি নিয়ে অনেকআলোচনা-সমালোচনা চলে। এই দুর্নীতি সমাজের নীচু স্তরে পর্যন্ত গরিব মানুষদের একরকমলুটছিল। আমরা আধার কার্ড, আধার নম্বরকে সরকারি প্রকল্পসমূহের সঙ্গে যুক্ত করেবিধবাদের পেনশন, ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ, দিব্যাঙ্গদের জন্য কিংবা সংখ্যালঘুদেরজন্য যেসব প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেকে টাকা যায়, সেগুলিকে যুক্ত করেছি। আগে আমরাদেখেছি, উপকৃতদের তালিকা পেশ করা হতো, কিন্তু আমরা খতিয়ে দেখতে গিয়ে আবিষ্কার করিসেই তালিকায় এমনসব মানুষের নাম রয়েছে, যাঁদের জন্মই হয়নি অথবা যাঁরা মারা গিয়েছেন।এভাবে ভুতুড়ে উপকৃতদের জন্য কোটি কোটি সরকারি টাকা যেত, লাভবান হতেন দালাল ওদুর্নীতিবাজরা। অথচ, কেউ এই দুর্নীতি নিয়ে মাথা ঘামাননি। আধার কার্ড সংযুক্তিকরণেরফলে এই দালালদের হটানো সম্ভব হয়েছে। আর যাঁরা সত্যিকারের অভাবগ্রস্ত, অতি দরিদ্র,তাঁদেরকে খুঁজে বের করতে বলেছি, যাঁরা নিজেদের অধিকার অর্জনের জন্য লড়ছেন, তাঁদেরব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখন টাকা যাওয়া শুরু হয়েছে। এভাবেই সমাজের শেষতম ব্যক্তিরকাছে আমরা সুশাসনকে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে চলেছি।
স্বচ্ছতার শক্তি আমরা উপলব্ধিকরেছি, দুর্নীতি দূর করতে পেরেছি। কয়লা ক্ষেত্রে আজ কয়লার নিলামী নিয়ে অভিযোগ তারপাল্টা অভিযোগের নেই। দেশের খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ রাজ্যগুলি থেকে যত বেশি পরিণাম কয়লাউত্তোলিত হয়, সেগুলি বিক্রি করে ততবেশি টাকা রাজ্যের আয় বাড়বে।
এক সময় স্পেকট্রাম নিলামী নিয়ে অনেকঅভিযোগ আসতো। আমরা অনলাইনে নিলাম চালু করে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্পেকট্রামবন্টন করেছি, দেশের রাজকোষেও অনেক তাকা এসেছে, ফলে দেশের অনেক লাভ হয়েছে।
ভাই ও বোনেরা, বিশ্ব অর্থনীতির যুগেপ্রায় প্রতিটি দেশ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। আজআমাদের দেশ যতই উন্নতি করুক, বিশ্ব অর্থনীতির কথা মাথায় রেখে আমাদের বিশ্বের উন্নতঅর্থনীতির দেশগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। তবেই, আমরা প্রাসঙ্গিকথাকব, অংশগ্রহণ করতে পারব এবং সময় এলে প্রয়োজনে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রে নেতৃত্বদিতে পারব। সেজন্য আমাদের প্রতি মূহুর্তে প্রস্তুতি নিতে হবে। এই প্রস্তুতিরখাতিরে আমাদের বিশ্ব মানকগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। বিগত অর্থ বছরে আপনারাদেখেছেন বিশ্ব ব্যাঙ্ক, আই এম এফ, ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম এবং আরও অনেক ক্রেডিটরেটিং এজেন্সি আর্থিক ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির প্রশংসা করেছে। ভারতে একের পর একইতিবাচক সিদ্ধান্ত, আইন সংশোধন, ব্যবস্থাসমূহের সংস্কারের মাধ্যমে সবকিছুরইবিশ্বমানের অগ্রগতি হয়েছে । ইজি অফ ডুয়িংবিজনেস -এর ক্ষেত্রেআমরা দ্রুত র্যাঙ্কিং-এ এগিয়ে চলেছি। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশিবিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করে তোলায় আজ বিশ্বের তাবড় তাবড় বিনিয়োগকারীদের পছন্দের দেশহয়ে উঠেছে ভারত। বিকাশ হারের ক্ষেত্রে বিশ্বের অনেক বড় বড় অর্থ ব্যবস্থাকে জি ডিপি’র নিরীখে আমরা পেছনে ফেলে দিয়েছি।
ভাই ও বোনেরা, রাষ্ট্রসংঘের একটিসংস্থার অনুমান আগামী দু’বছরে ভারতীয় অর্থ ব্যবস্থা দশম স্থান থেকে এগিয়ে তৃতীয়স্থান দখল করে নেবে। ভাই ও বোনেরা, বিশ্বমানের ক্ষেত্রে লজিস্টিক সাপোর্ট,পরিকাঠামো ইত্যাদি বিষয়কে বিবেচনাধীন রাখা হয়। বিশ্বের সমৃদ্ধতম দেশগুলির সঙ্গেতুলনা করা হয়। ভাই ও বোনেরা, ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম-এ ভারতের এই লজিস্টিক সাপোর্টসম্পর্ককে, পরিকাঠামো সম্পর্কে বিচার-বিশ্লেষণ করে বলছে আগে থেকে ভারত ১৯ র্যাঙ্কউপরে উঠে এসেছে, আর ভারত দ্রুতগতিতে উপরের দিকে এগিয়ে চলেছে। সম্প্রতি আমরা যে জিএস টি বিল অনুমোদন করেছি, তা আমাদের এক্ষেত্রে অনেক বেশি এগিয়ে দেবে। সেজন্য দেশেরসকল রাজনৈতিক দল ইতিবাচক প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছে। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।
ভাই ও বোনেরা, এই লালকেল্লারপ্রাকার থেকে প্রদত্ত ভাষণে আমি ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ অভিযানকে সফল করার জন্যআবেদন রেখেছিলাম। আমাদের একটি সংহত দৃষ্টিকোণ রয়েছে। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’নিয়ে আমরা যে উদ্যোগ নিচ্ছি, তা সফল করার জন্য আমাদের সমাজে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তারয়েছে। প্রত্যেক বাবা-মা’কে সজাগ হয়ে উঠতে হবে। আমরা মহিলাদের সম্মান বৃদ্ধি করব,কন্যাদের নিরাপত্তা বাড়াতে হবে, তাদেরকে নানা সরকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমেএগিয়ে যেতে হবে। আমরা কোটি কোটি পরিবারকে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার সঙ্গে যুক্তকরেছি। এ প্রকল্পে কন্যাসন্তান বড় হলে তাদের ভবিষ্যৎ উন্নতির গ্যারান্টি দেয়।মহিলাদের পক্ষে লাভজনক বিমা প্রকল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। আমরা ইন্দ্রধনুষ টীকাকরণপ্রকল্পও চালু করেছি। মা-বোনেদের আর্থিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেওক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া চালু করেছি। বাড়িতে একজন সুস্থ রোজগেরে মহিলা থাকলে তিনিপরিবারটিকে দারিদ্র্য থেকে বাইরে বের করে আনতে পারবেন। এই মহিলারা মুদ্রা যোজনাতেওঅংশ নিয়ে লাভবান হবেন। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ইতিমধ্যেই সাড়ে তিনকোটিরও বেশি পরিবারের মানুষ মুদ্রা যোজনায় অংশগ্রহণ করেছেন । এঁদেরমধ্যে অধিকাংশই নতুন মানুষ যাঁরা ব্যাঙ্কের দরজায় পৌঁছেছেন। এঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশই প্রায় তপশিলি জাতি,উপজাতি এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া বর্গের মানুষ ছিলেন। মুদ্রা ব্যাঙ্ক থেকে যাঁরা ঋণনিয়েছেন তাঁদের ৮০ শতাংশ মানুষ হলেন মহিলা। এই মহিলারা এখন কিভাবে দেশের আর্থিকবিকাশে অংশগ্রহণ করবেন সেটা আপনাদের দেখতে হবে।
ভাই ও বোনেরা, আমরা গত সপ্তাহেসিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমাদের বিকাশ যাত্রায় যে মা ও বোনেরা অংশগ্রহণ করেছেন,গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের পর তাঁদের যথেষ্ট সবেতন ছুটি চাই। আগে এই ছুটি ছিল অল্পকয়েকদিনের। আমরা সেই ছুটি বাড়িয়ে ২৬ সপ্তাহের করে দিয়েছি, যাতে মায়েরা শিশুদেরনির্বিঘ্নে লালন-পালন করতে পারেন।
আমাদের দেশে তাঁতী আর যাঁরাবস্ত্রশিল্পে কাজ করেন, সুতো তৈরি করেন, তাঁদের সর্বোচ্চ দৈনিক মজুরি ছিল ১০০টাকা, আমরা সেটা বাড়িয়ে করেছি ন্যূনতম ১৯০ টাকা, যাতে এক্ষেত্রে কর্মরতা অধিকাংশমা ও বোনেদের ক্ষমতায়ন হয়। তাঁতের ক্ষেত্রে আমরা মিটার প্রতি ৫০ টাকা মজুরি বৃদ্ধিকরেছি, আর সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই টাকা বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ী পাবেন না, দালালপাবেন না, যিনি পিঠ বাঁকিয়ে বুনে যাচ্ছেন মিটার প্রতি ৫০ টাকা সেই টাকাতাঁতীভাইদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি জমা হবে, তাঁতী ভাই ও বোনেদের ক্ষমতায়নহবে। এভাবেই আমরা একের পর এক প্রকল্প গড়ে তুলেছি!
আমার প্রিয় দেশবাসী, যখন আমরারেলগাড়ি দেখি, ডাকঘর দেখি – আমাদের ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য পরিলক্ষিত হয়।আমরা যত ভারত’কে ঐক্যবদ্ধ করে প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনব,আধুনিকীকরণ করব, ততই আমরা দেশের ঐক্যসাধনে সক্ষম হব। সেজন্য আমরা কৃষকদের জন্যমান্ডি ই-নাম প্রকল্প শুরু করেছি। আজ কৃষক অনলাইনে তঁর উৎপাদিত পণ্য ভারতের যেকোনও প্রান্তের বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। এখন তিনি আর তিনি ক্ষেত থেকে ১০ কিমিদূরবর্তী নির্দিষ্ট বাজারেই পণ্য বিক্রিতে বাধ্য হবেন না। তাঁর রক্ত জল করাপরিশ্রমের ফসল সস্তায় বিক্রি করতে বাধ্য থাকবেন না। এখন গোটা দেশে দ্রুত ই-নাম –এর মাধ্যমে একই ধরনের বাজার নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে।
জি এস টি’র মাধ্যমে আমরা করব্যবস্থায় সাম্য, গোটা দেশে অভিন্ন কর ব্যবস্থা প্রচলন করতে যাচ্ছি, যা দেশকেঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিদ্যুতের ক্ষেত্রে আমরা বিপ্লবএনেছি। এক দেশ-এক গ্রিড-এক দাম প্রথা চালু করেছি। আগে গ্রীষ্মের সময় কখনও আপনাদেরইউনিট প্রতি ১০ টাকা বেশি মূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হতো। আমরা নতুন প্রথা চালু করায়এখন সারা দেশের কৃষক ইউনিট প্রতি ১ টাকা ১০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ পাবেন। সেদিনতেলঙ্গানায় গিয়ে দেখি, সেখানকার কৃষকরা এখন এই প্রকল্পের আওতায় এসে এই দামেবিদ্যুৎ পাচ্ছেন।
আমাদের দেশের শ্রমিক এক জায়গায় কাজকরে দু-এক বছর পর চাকরি বদলালে তাঁর বেতন থেকে কেটে নেওয়া ই পি এফ-এর টাকা আরতোলার সুযোগ পেতেন না। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, আমরা সরকারে এসে দেখি এরকম প্রায়২৭ হাজার কোটি টাকা শ্রমিকরা ফেরৎ পাননি। এই সমস্যা সমাধানকল্পে আমরা ইউনিভার্সালঅ্যাকাউন্ট নম্বর চালু করি। এবার তিনি যেখানেই নতুন চাকরি নেন না কেন তাঁর ই পিএফ-এর ফান্ড ট্রান্সফার হয়ে যাবে। শ্রমিক যখন অবসর নেবেন তাঁর টাকা হাতে পাবেন,কোনও সরকারি কোষাগারে পড়ে থাকবে না।
ভারতমালা, সেতুভারতম এবং ভারতনেট-এর মতো অনেক প্রকল্প আমরা শুরু করেছি। এইসব প্রকল্প নানাভাবে ভারত’কেঐক্যসূত্রে বেঁধে আর্থিক উন্নয়নের পথে ধাবিত করবে।
ভাই ও বোনেরা, এই বছরটি দেশের পক্ষেনানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের দক্ষিণভাগ সন্ন্যাসী শ্রী রামানুজাচার্যের ১হাজার-তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছে, দেশ মহাত্মা গান্ধীর গুরু শ্রীমদ রাজচন্দ্রের১৫০তম জন্মজয়ন্তী পালন করছে, দেশ মহান গুরু গোবিন্দ সিং-এর ৩৫০তম জন্মজয়ন্তী পালনকরছে, দেশ পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মশতবার্ষিকী পালন করছে। সন্ন্যাসীরামানুজাচার্য ১ হাজার বছর আগে বলেছিলেন, ঈশ্বরের ভক্তরা, জাতপাত এবং উঁচু-নীচুভেদাভেদ না করে মানুষের সেবা করো। কাউকে অনাদর করো না, সকলকে সম্মান করো। গৌতমবুদ্ধ থেকে শুরু করে রামানুজাচার্য, গান্ধী, আম্বেদকর, আমাদের দেশের অসংখ্য মহানশাস্ত্রী-আচার্য-মহন্ত-গুরু এবং শিক্ষকরা আমাদের এই সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে মানুষেরসেবার মন্ত্র দিয়ে গেছেন। সামাজিক ঐক্যের কথা বলে গেছেন। যে সমাজ জাতপাত উঁচু-নীচুরভেদভাব করে, স্পৃশ্য-অস্পৃশ্যতার মাধ্যমে বিভাজিত হয় সেই সমাজে পচন ধরে। আমাদেরদেশের সমাজ প্রাচীন হওয়ায় বারবার এভাবে পচন ধরছে। কিন্তু, এই দেশের, এই সমাজেরমধ্য থেকেই এই পচনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মহামানব সমাজ-সংস্কারকেরা জন্মগ্রহণকরেছেন। পুরনো রোগ হলে তার উপাচারও কঠিন হস্তে করেছেন, মুখ বুজে থাকলে কোনওঅন্যায়কে মেনে নিলে সামাজিক সমস্যার সমাধান হয় না। এই দায়িত্ব ১২৫ কোটি দেশবাসীকেনিতে হবে। সাম্প্রদায়িক হানাহানি, জাতপাতের বিভেদ থেকে সরকার ও সমাজকে বেরিয়ে আসতেহবে।
ভাই ও বোনেরা, আমাদের প্রত্যেককে সামাজিকঅন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। কেবল আর্থিক প্রগতিশক্তিশালী ভারত গড়ে তুলতে পারবে না। সামাজিক ন্যায় সুনিশ্চিত করতে পারলে, দলিত,পীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত, বিভিন্ন জনজাতির মানুষ, জাতি-উপজাতি, গ্রাম ও শহরেরবাসিন্দা, শিক্ষিত-অশিক্ষিত আবালবৃদ্ধবনিতা আপামর ১২৫ কোটি ভারতবাসীর পরিবারআমাদের। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের উর্ধ্বে উঠে সকলে মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
ভাই ও বোনেরা, আজ গোটা বিশ্ব ভারতেরদিকে তাকিয়ে আছে – ভারত বিশ্বের নবীনতম দেশগুলির মধ্যে সর্ববৃহৎ। এদেশের ৮০ কোটিমানুষ, মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নীচে। এই বিপুল যুব জনশক্তি নিয়েভারত কী না করতে পারে! এজন্য সময়ের দাবি হল, এই নবীন প্রজন্মকে সুযোগ দিতে হবে,কর্মসংস্থন করতে হবে। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং মহাত্মা গান্ধীরও স্বপ্ন ছিলসর্বশেষ ব্যক্তিটির কল্যাণ। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় অন্ত্যোদয়ের ভাবনা নিয়ে কাজকরে গেছেন। সর্বশেষ ব্যক্তির কল্যাণ এই রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রীয় ভাবনা ছিল।তিনি বলতেন, প্রত্যেক নবযুবক শিক্ষিত হবে, প্রত্যেক নবযুবকদের হাতে দক্ষতা থাকবে,প্রত্যেক যুবক যেন নিজের স্বপ্ন সাকার করার সুযোগ পান। আমরা তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেনবীন প্রজন্মের ৮০ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণে অনেকগুলি উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।যে গতিতে উন্নতমানের সড়ক নির্মাণ চলছে, দেশে সর্বাধিক গাড়ি উৎপাদন হচ্ছে, দেশ থেকেসর্বাধিক পরিমাণে সফট্ওয়্যার রপ্তানি করা হয়েছে। দেশে ৫০টিরও বেশি নতুন মোবাইলফোনের কারখানা গড়ে উঠেছ। এই সকল ক্ষেত্রে নবীন প্রজন্মের মানুষদের কর্মসংস্থানহয়েছে। ২ কোটি নতুন শৌচালয় নির্মিত হয়েছে, কোথাও থেকে সিমেন্ট, কোথাও থেকে লোহা,আবার কোথাও কাঠ বিক্রি হয়েছে। কোনও না কোনওভাবে নবীন প্রজন্মের মানুশেরকর্মসংস্থান হয়েছে। এভাবেই কাজের বহর যত বাড়বে, রোজগারের সম্ভাবনাও বাড়বে। আমরাসেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি।
কোটি কোটি নবযুবক-যুবতীর দক্ষতাউন্নয়নের কথা মাথায় রেখে আমরা দক্ষতা উন্নয়ন মিশনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আকারেছোট, মডেল শপ অ্যান্ড এস্টাব্লিশ্মেন্ট অ্যাক্ট পাশ করে আমরা রাজ্যগুলিতে অ্যাডভাইসরিপাঠিয়েছি। কারণ, বড় বড় শপিংমল বছরে ৩৬৫ দিন রাত ১২টা পর্যন্ত চলতে পারে, কিন্তুগ্রামের ছোট্ট দোকানিকে সন্ধ্যার পরই দোকান বন্ধ করতে হয়। মা-বোনেরা সন্ধ্যার পরকাজ করার সুযোগ পান না । এই বৈষম্যদূর করার উদ্দেশ্যেই এই আইন পাশ করে আমরা মা -বোনেদের রাতে কাজ করার বৈধতাপ্রদান করেছি কিন্তু সেক্ষেত্রে সংস্থাকে তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হব।
ভাই ও বোনেরা, আমরা কোনও কাজকেএড়িয়ে যেতে চাই না, বিলম্বিত করতে চাই না। সমস্যাকে না এড়িয়ে মুখোমুখী হতে চাই।আমাদের দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য সর্বদা আত্মবলিদানে প্রস্তুতপ্রতিরক্ষা বাহিনীর জওয়ানরা, যাঁরা আজ আমাদের স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রা ওকুচকাওয়াজের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু, যাঁরা সর্বদা সীমান্তে গোলাগুলির সম্মুখীনহওয়ার জন্য প্রস্তুত ও সদাসতর্ক, কেউ বাঙ্কারে বসে পরবর্তী আক্রমণ প্রতিহত করারঅপেক্ষায় বিনিদ্র রজনী যাপন করছেন, রাজস্থানের তীব্র গরম থেকে সিয়াচেনের প্রবলশৈত্যে লড়াই করছেন, রাখীর দিনে যাঁরা বোনের কাছে রাখী বাঁধতে যেতে পারেন না, তেমনইদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে ৩৩হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান শহীদ হয়েছেন। আমরা কি তাঁদের ভুলেযাব? আমরা সরকারে এসে দেখি, সেই সেনা জওয়ানদের ‘এক পদ, এক পেনশন’ অনেক বছর ধরেঝুলে রয়েছে। আমরা এড়িয়ে যাওয়া পছন্দ করি না, আমরা মোকাবিলা করতে চাই। আমরা দীর্ঘআলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ‘এক পদ এক পেনশন’ চালু করতে সক্ষম হয়েছি। ভারতের অবসরপ্রাপ্তসৈনিকদের পরিবারে স্বাচ্ছন্দ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছি।
আমাদের দেশের মানুষের দীর্ঘকালেরদাবি ছিল – নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ফাইলগুলিকে জনসমক্ষে উন্মুক্ত করতে হবে। এইঅসম্ভব কাজটি দীর্ঘকাল ধরে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছিল, আজ এ বছর নেতাজী জন্মদিবসে তাঁর পরিবারেরমানুষদের এনে তাঁদের সামনে যতগুলি সম্ভব ফাইল উন্মুক্ত করেছি। অবশিষ্ট ফাইলগুলিউন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। বিশ্বের সকল সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে আমরা তাঁরসম্পর্কিত ফাইলগুলি চেয়ে পাঠিয়েছি। নেতাজী সম্পর্কিত সকল তথ্য জানার অধিকারভারতবাসীর রয়েছে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলছি।
বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে ভারতেরসঙ্গে সীমান্ত সমস্যা ছিল। অসংখ্য ছিটমহল নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল।এভাবেই দশকের পর দশক পেরিয়ে গেছে। ভাই ও বোনেরা, আমরা সরকারে আসার পর সকল রাজনৈতিকদলের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশের সঙ্গে এই দীর্ঘ সীমান্ত বিবাদেরশান্তিপূর্ণ সমাধানে আমরা সফল হয়েছি। সংবিধানেও আমরা প্রয়োজনীয় সংশোধন করেছি।
ভাই ও বোনেরা, মধ্যবিত্তরা বাড়িকিনতে চান, ফ্ল্যাট কিনতে চান। কিন্তু প্রোমোটারচক্রের ফাঁদে পড়ে ঠকে যান। তাঁদেরসুন্দর করে ছাপা বুকলেট দেখিয়ে অগ্রিম বুকিং-এর টাকা নেয়। সাধারণ মানুষেরপ্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকায় তাঁরা না বুঝে টাকা দিয়ে দেন। কিন্তু পরিশ্রুত সময়েরমধ্যে বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাটের মালিকানা পান না। মধ্যবিত্তরা সারা জীবনের সঞ্চয় একত্রকরে একবারই একটি বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাটের টাকা যোগাড় করতে পারেন। এসব প্রতারণা থেকেমধ্যবিত্তকে মুক্তি দিতে আমরা ‘রিয়েল এস্টেট বিল’ এনেছি।
ভাই ও বোনেরা, আগেই বলেছি, এ বছরমহাত্মা গান্ধীর গুরু শ্রীমদ রাজচন্দ্রের ১৫০তম জন্মজয়ন্তী। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেওগান্ধীজী তাঁর গুরুকে নিয়মিত চিঠি লিখতেন। জবাবে একবার রাজচন্দ্রজী শিষ্যকে লিখেছিলেন,“যখন থেকে হিংসার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, তখন থেকেই অহিংসার সিদ্ধান্তও পাওয়া গেছে।আমরা এর মধ্যে কোনটাকে বেছে নেব আর কোনটা মানবহিতে অধিক উপযোগী সেটাই অধিকগুরুত্বপূর্ণ।
ভাই ও বোনেরা, আমাদের দেশে হিংসা ওঅহিংসার চর্চা অত্যন্ত স্বাভাবিক, কারণ মানবতা আমাদের ধমনীতে প্রবাহিত। আমরা একটিবিশাল সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী। বিবিধ রং রূপে পরিপূর্ণ এই ভারতমাতার ফুলের তোড়ায়সকল প্রকারের সুরভীর সমাহার হয়েছে, অনেক স্বপ্ন রয়েছে। ভাই ও বোনেরা, ১০০টিরও বেশিভাষা, কয়েকশো উপভাষা, অসংখ্য পরিধেয়, অগুণতি জীবন পদ্ধতি থাকা সত্ত্বেও শতাব্দীরপর শতাব্দীকাল ধরে বিবিধের মাঝে মিলন মহান হয়ে ঐক্যবদ্ধ। এর মূলে রয়েছে আমাদেরপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। আমরা সম্মান দিতে জানি, আমরা সমাদর ও সমাবেশে নিপুণ।এই মহান পরম্পরাকে নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। সেজন্য আমাদের দেশে হিংসা ও অত্যাচারেরকোনও স্থান নেই। ভারতের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে, ভারতের স্বপ্নগুলিকে সফলকরতে হলে আমাদের হিংসার পথ সযত্নে এড়িয়ে যেতে হবে।
আজ কোথাও অরণ্যে মাওবাদের নামে,সীমান্তে উগ্রবাদের নামে, পাহাড়ে সন্ত্রাসের নামে একদল পথভ্রষ্ট মানুষ কাঁধেবন্দুক দিয়ে মানুষ মারতে বেরিয়ে পড়ছেন। সেই পথভ্রষ্ট মানুষদের উদ্দেশ্যে বলছি, এইপথে থেকে আপনাদের কোনও লাভ হয়নি, কিছু পাননি, ভবিষ্যতেও কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।এই দেশ হিংসা, সন্ত্রাস আর উগ্রবাদকে কখনও মেনে নেবে না। এখনও সময় আছে মূল ধারায়ফিরে আসুন, আত্মসমর্পণ করুন, আমরা পুনর্বাসন দেব, আপনারা বাড়ি ফিরে নিজেদেরযথোপযুক্ত কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মা-বাবার স্বপ্নপূরণে ব্রতী হোন।
ভাই ও বোনেরা, বিদেশ নীতির ক্ষেত্রেআমরা খোলামনে কাজ করতে শুরু করেছি । মন্ত্রিসভারশপথগ্রহণের দিনই আমরা সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম।দিল্লিতে তাঁদের উপস্থিতিতেই শপথ গ্রহণ করছি। আমাদের বার্তা স্পষ্ট ছিল , আমাদের সকলের একটিই মূল সমস্যা –দারিদ্র্য। আসুন আমরা সকলে মিলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশগুলি থেকে দারিদ্র্যদূরীকরণ! নিজেদের মধ্যে লড়াই করলে আমরা ধ্বংসের পথে যাব, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধেসমবেতভাবে লড়াই করলে আমরা সম্পন্নতার পথে এগোতে পারব, প্রত্যেকেই সমৃদ্ধ হব।প্রতিবেশী দেশের যে কোনও মানুষ দারিদ্র্যের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেপ্রত্যেকেই আনন্দিত হয়।
ভাই ও বোনেরা, মানবতার প্রেরণায়লালিত মানুষ কেমন হয় আর সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা মানুষ কেমন হয়? আমি বিশ্বেরসামনে একটি চিত্র তুলে ধরে বলতে চাই, দাড়িপাল্লায় মেপে দেখুন, পেশোয়ারে যখনসন্ত্রাসবাদীরা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের গণহত্যায় রক্তপান ;করেছিল তখন ভারতেরপ্রত্যেক সাংসদ কাঁদছিলেন । ভারতেরপ্রত্যেক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী শিক্ষক -শিক্ষিকারা কাঁদছিলেন, প্রত্যেক নাগরিক ওশিশুর চোখে জল ছিল। এটাই আমাদের মনবতার প্রেরণায় লালিত সংস্কৃতির আসল রূপ। আরআমাদের দেশের অনুপ্রবেশকারী জঙ্গীদের গুলিতে কিংবা বোমা বিস্ফোরণে মানুষ মারা গেলেপ্রতিবেশী দেশে কোথাও কোথাও শোভাযাত্রার মাধ্যমে আনন্দ ও উল্লাস প্রকাস করা হয়। একেমন সন্ত্রাস প্রেরিত জীবন, এ কেমন সন্ত্রাসবাদ প্রেরিত সরকার? এটাই সংস্কৃতিরপার্থক্য। এই পার্থক্য এখন বিশ্বাসী ভালভাবে বুঝে নেবেন।
আমি আজ লালকেল্লার প্রাকার থেকেকিছু মানুষকে বিশেষ অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাব। কিছুদিন ধরে বালুচিস্তানে,গিলগিটে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নানা এলাকা থেকে কিছু মানুষ আমাকে ধন্যবাদজানিয়েছেন, যাঁদেরকে আমি কখনও চোখে দেখিনি, তাঁদের এই ধন্যবাদকে আমি ১২৫ কোটিভারতবাসীর পক্ষ থেকে সাদরে গ্রহণ করেছি। আমি সেই বালুচিস্তান, গিল্গিট ও পাকঅধিকৃত কাশ্মীরের মানবতাবাদী মানুষদের কৃতজ্ঞতা জানাই।
ভাই ও বোনেরা, আজ আমরা ৭০তমস্বাধীনতা দিবস পালন করছি। যে অগুণতি স্বাধীনতা সংগ্রমীর অহিংস ও সশস্ত্রআন্দোলনের ফলে এই স্বাধীনতা এসেছে, যাঁদের ত্যাগ ও তিতিক্ষা, যাঁদের আত্মবলিদানেরফলস্বরূপ আমরা মুক্ত। সেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পরিবার যে সম্মানরাশি বা পেনশনপান আমরা সেই পেনশন ২০ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ৭০তম স্বাধীনতা দিবসে এটাইআমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য।
ভাই ও বোনেরা, স্বাধীনতা সংগ্রামেরইতিহাস নিয়ে যখন আলোচনা হয় কিছু নাম বারবার উচ্চারিত হয়। কিন্তু স্বাধীনতাসংগ্রামে অনেক অরণ্যবাসী আদিবাসী মানুষের অবদান অপ্রতিম। বিরসা মুন্ডার নাম হয়তোআমরা শুনেছি, কিন্তু ১৮৫৭ থেকে শুরু করে দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত দেশের এমন কোনওজনজাতি অধ্যুষিত জেলা নেই, যেখানকার মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনও না কোনওভাবেঅংশগ্রহণ করেননি। আমরা তাঁদের একেকজনের বিস্মৃত ইতিহাসের উপাদান সংগ্রহ করে সেসবজেলায় সংগ্রহালয় গড়ে তোলা এবং নতুন সংগৃহীত উপাদানের ভিত্তিতে স্বাধীনতা সংগ্রামেরইতিহাসকে সংযোজন ও সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশেরস্বাধীনতা সংগ্রামে সব জনজাতি মানুষের অবদান সম্পর্কে সত্য তথ্যগুলি জানতে পারে,গর্ববোধ করতে পারে।
ভাই ও বোনেরা, মূল্য বৃদ্ধি নিয়েঅনেক আলোচনা হয়, কিন্তু য়ামরা অনুভব করছি, বাড়িতে কারও শরীরে রোগ ঢুকলে গোটাপরিবারটিই নিঃস্ব হয়ে পড়ে। মেয়ের বিয়ে বাতিল হয়, ছেলেমেয়ের পড়াশুনা থেমে যায়,পরিবারের সবাইকে অনাহারে দিনাতিপাত করতে হয়। আরোগ্য সেবার মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকেদারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা মানুষদের রক্ষা করতে আজ আমি লালকেল্লার প্রাকার থেকেঘোষণা করছি এখন থেকে পরিবার পিছু ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচের দায়িত্ব সরকার নেবে।যাতে আরোগ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাসকারী পরিবারের সকলস্বপ্ন চুরমার না হয়ে যায়, তা সুনিশ্চিত করতে সরকার এই ব্যবস্থা নিচ্ছে।
সেজন্য আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ৭০তম স্বাধীনতা দিবসের পবিত্র উৎসবে এক নতুন সংকল্প, নতুন শক্তি, নতুন আশা নিয়েআমরা সামিল হয়েছি। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবলিদান থেকে প্রেরণা নিয়ে, দেশেরস্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে যাঁরা মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে লড়াই করে বেঁচে থাকেনতঁদের পথ অনুসরণ করে আমরাও দশের জন্য বীরদর্পে বাঁচার চেষ্টা করব। দেশের জন্য কিছুকরে দেখাব। নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অপরকে দায়িত্ব পালনে প্রেরণা জোগাবো। একসমাজ, এক স্বপ্ন, এক সংকল্প, এক লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। এই ভাবনাগুলি মাথায়রেখে আর একবার মহাপুরুষদের শ্রদ্ধা জানিয়ে, দেশের জল, স্থল ও আকাশের নিরাপত্তারজন্য জীবন বাজি রেখে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, ৩৩হাজার শহীদকে প্রণাম জানিয়ে, দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্নকে সাকার করতে নিজেকেপূর্ণ সমর্পণের প্রতিজ্ঞা আরেকবার উচ্চারণ করে লালকেল্লার প্রাকার থেকে সর্বশক্তিদিয়ে আপনাদেরও সমস্বরে বলার অনুরোধ জানাই – ভারতমাতা কী জয় – এই আওয়াজ যাতেবিশ্বের প্রত্যেক কোণায় পৌঁছে যায় –
ভারত মাতা কী জয়, ভারতমায়ের জয়,ভারতের জয়।
বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম
জয় হিন্দ, জয় হিন্দ, জয় হিন্দ
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SB
Today on this special day, I convey my greetings to 125 crore Indians & the Indian community living overseas: PM @narendramodi from Red Fort
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
May this energy guide the nation to scale newer heights of progress in the years to come: PM @narendramodi #IndependenceDayIndia
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
We remember Mahatma Gandhi, Sardar Patel, Pandit Nehru, countless people who sacrificed their lives so that we attained Swarajya: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
वेद से विवेकानंद तक, सुदर्शनधारी मोहन से लेकर चरखाधारी मोहन तक, महाभारत के भीम से लेकर भीमराव तक हमारी एक लंबी विरासत है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
अब स्वराज्य को सुराज्य में बदलना, ये सवा सौ करोड़ देशवासियों का संकल्प है : PM @narendramodi #IndependenceDayIndia https://t.co/Iy8hu3vQmx
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
सवा सौ करोड़ देशवासियों को सुराज्य के संकल्प को आगे बढ़ाने की अपनी प्रतिबद्धता के साथ आगे बढ़ना होगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
Yes, we face several problems. But we are capable to overcome them: PM @narendramodi from the Red Fort https://t.co/Iy8hu3vQmx
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
भारत के पास लाखों समस्याएं हैं, तो सवा सौ करोड़ मस्तिष्क भी हैं, जो उनका समाधान करने की क्षमता रखती हैं: PM @narendramodi from Red Fort
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
अब सरकार आक्षेपों से घिरी हुई नहीं है, अपेक्षाओं से घिरी हुई है : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
Today, more than Karya, I want to talk about Karya Sanskriti on the Government: PM @narendramodi from the Red Fort #IndependenceDayIndia
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
Surajya, the meaning of this is- a qualitative and positive change in the lives of the citizen of India: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
आज सरकार के सभी बड़े अस्पतालों में ऑनलाईन रजिस्ट्रेशन होते हैं और पूरा मेडिकल रिकॉर्ड ऑनलाईन उपलब्ध होता है : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
शासन संवेदनशील होना चाहिए, शासन उत्तरदायी होना चाहिए: PM @narendramodi #IndependenceDayIndia
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
We want to change the situation where people are scared of income tax authorities, particularly among middle class families: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
पहले पासपोर्ट पाने के लिए अगर सिफारिश नहीं है तो चार-छह महीने यूं ही चले जाते थे। आज हफ्ते-दो हफ्ते में पासपोर्ट पहुंचा दिया जाता है: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
सुराज्य के लिए सुशासन भी जरूरी है। अब ग्रुप सी और ग्रुप डी के 9000 पदों पर इंटरव्यू की प्रक्रिया नहीं होगी। सिफारिश की जरूरत नहीं होगी: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
हमें अपने काम की रफ्तार को तेज करना होगा। गति को और आगे बढ़ाना होगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
Renewable energy is a focus area for us: PM @narendramodi #IndependenceDayIndia
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
पहले 30-35 हजार किलोमीटर ट्रांसमिशन लाइन डाली जाती थी। आज इस काम को हमने करीब 50 हजार किलोमीटर तक पहुंचाया है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
सामान्य व्यक्ति देश की अर्थव्यवस्था की मुख्य धारा का हिस्सा नहीं था। हमने 21 करोड़ लोगों को जनधन से जोड़कर असंभव को संभव किया: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
साढ़े तीन सौ रुपये में बिकने वाले एलईडी बल्व, सरकार के हस्तक्षेप से आज 50 रुपये में बांटे जा रहे हैं: PM @narendramodi #IndependenceDayIndia
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
The Prime Minister is speaking on the issue of price rise. Watch. https://t.co/Iy8hu3vQmx
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
How can we forget the bravery and sacrifice of the Sikh Gurus: PM @narendramodi #IndependenceDayIndia
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
हमने जमीन की सेहत पर ध्यान दिया। हमने स्वाइल हेल्थ कार्ड और जल प्रबंधन पर बल दिया है : PM @narendramodi #IndependenceDayIndia
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
मैंने लोकलुभावन फैसलों से दूर रहने का प्रयास किया है। हमने सरकार की पहचान से ज्यादा हिंदुस्तान की पहचान पर बल दिया: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
साढ़े सात लाख करोड़ रुपये के पिछली सरकारों के प्रोजेक्ट जो रुके हुए थे, मैंने कहा कि इनको पूरा करो: PM @narendramodi #IndependenceDayIndia
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
जब नीति साफ हो, नीयत स्पष्ट हो, तब निर्णय करने का जज्बा भी कुछ और होता है। हमारी सरकार लास्टमैन डिलीवरी पर बल दे रही है: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
हमने आधार को सरकारी योजनाओं से जोड़ा, बिचौलियों को बाहर किया और बचे हुए पैसे जरूरतमंद के खातों तक पहुंचाने का काम किया: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
हम अपने देश में कितनी ही प्रगति करें, लेकिन हमें इसके साथ-साथ हमें अपने देश को वैश्विक मानकों पर खरा उतारना पड़ेगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
GST will give strength to our economy and all parties are to be thanked for its passage: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
One nation, one grid and one price- we have worked on this: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
आज जो सामाजिक तनाव देखते हैं, उसमें रामानुजाचार्य का संदेश महत्वपूर्ण है। हमारे सभी महापुरुषों से सामाजिक एकता की बात की: PM
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
सशक्त हिंदुस्तान, सशक्त समाज के बिना नहीं बन सकता और सशक्त समाज का निर्माण होता है, सामाजिक न्याय के आधार पर: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
युवाओं को अवसर मिले, युवाओं को रोजगार मिले, ये हमारे लिए समय की मांग है : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
काम का दायरा जितना बढ़ेगा, रोजगार की संभावना उतनी बढ़ेंगी। हम इसी दिशा में आगे बढ़ रहे हैं: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
Unity in diversity, this is our strength: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
Violence has no place in our society: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
हिंसा और अत्याचार का हमारे देश में कोई स्थान नहीं है: PM @narendramodi #IndependenceDayIndia
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
जब पेशावर में आतंकवादियों ने निर्दोष बालकों को मौत के घाट उतार दिया गया, तो भारत की आंखों में आंसू थे: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
दूसरी ओर आतंकवाद को ग्लोरीफाई करने का काम होता है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
सरकार स्वतंत्रता संग्राम में आदिवासियों के योगदान को बताने के लिए देश भर में म्यूजियम बनाएगी: PM @narendramodi #IndependenceDayIndia
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016
एक समाज, एक सपना, एक संकल्प, एक मंजिल, इस दिशा में हम आगे बढ़ें: PM @narendramodi #IndependenceDayIndia
— PMO India (@PMOIndia) August 15, 2016