নয়াদিল্লি, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে পোল্যান্ড সাধারণতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ২১–২৩ অক্টোবর ভারত সফরে এসেছেন। তাঁর সঙ্গে প্রায় ১০০ জন বিশিষ্ট প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ভারতে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রধানমন্ত্রী টাস্ক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
দুই প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঐতিহাসিক পোল্যান্ড সফরের কথা স্মরণ করেন। সেই সফরের সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করা হয় এবং ২০২৪–২০২৮ সালের জন্য ভারত–পোল্যান্ড কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়ারশ’তে ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর এবং পোল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কির সম্পাদিত ওই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তাঁরা।
দুই প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে বর্তমান সফর কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। তাঁরা এই অংশীদারিত্বকে বাস্তব, নির্দিষ্ট সময়সীমাবদ্ধ এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক ফলাফলে রূপান্তরিত করার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই নেতা উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক আদান-প্রদান ও প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন। পাশাপাশি, দুই দেশের সংসদ, রাজ্য ও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং নীতি-নির্ধারণী সংস্থাগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন।
দুই প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলন, ‘২০৩০-এর পথে : ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ ব্যাপক কৌশলগত কর্মসূচি’, ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদন এবং গতিশীলতা বিষয়ে ব্যাপক সহযোগিতা কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পাদনে জোর দেন তাঁরা।
বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী পোল্যান্ডের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) ১ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করায় ঐ দেশকে অভিনন্দন জানান এবং পোল্যান্ডের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা ও গতিশীলতার কথা উল্লেখ করেন। পোল্যান্ড ভারতের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে অবস্থান এবং আগামী বছরগুলিতে ১০ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাময় অগ্রগতির প্রশংসা করেছে। দুই নেতা উভয় দেশের অর্থনীতির পরিপূরক শক্তি এবং ভারত ও পোল্যান্ডের নিজ নিজ অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ফলে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সুযোগের উল্লেখ করেছেন।
দুই নেতা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার অঙ্গীকার করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী পোল্যান্ডের সংস্থাগুলিকে ভারতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী টাস্ক পোল্যান্ডে ভারতীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানান।
কৃষিক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক কর্মীগোষ্ঠীর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে সম্মত হন।
এই সফর উপলক্ষে দুই দেশের বিশিষ্ট সিইও ও শিল্প প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ভারত–পোল্যান্ড ব্যবসায়িক সম্মেলন অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ বলে দুই নেতা মনে করেন। যন্ত্রাংশ, প্রতিরক্ষা, পরিকাঠামো, ওষুধশিল্প, খনন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির কথা বলেন তাঁরা।
দুই নেতা স্থিতিস্থাপক ও বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের প্রসার, উদ্ভাবন-নির্ভর বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তাঁরা অর্থনৈতিক বিকাশ, উৎপাদনশীলতা এবং জনসেবা প্রদানে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তরমূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। ভারত–ইইউ ব্যাপক কৌশলগত কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে দুই নেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমি-কন্ডাক্টর ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা এবং স্টার্টআপ সংস্থাগুলির মধ্যে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছেন। দুই দেশের ব্যবসায়িক সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবনী ব্যবস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় উৎসাহ দেওয়ার বিষয়েও তাঁরা একমত হন।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা
দুই নেতা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়ারশ’তে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা বিষয়ক যৌথ কর্মীগোষ্ঠীর অষ্টম বৈঠকের ফলাফলকে তাঁরা স্বাগত জানান এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে নিয়মিত আদান-প্রদান বজায় রাখতে সম্মত হন।
ভারতীয় ও পোলিশ প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগকে দুই নেতা স্বাগত জানান এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার কথা বলেন। প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার জন্য ভবিষ্যৎমুখী কাঠামো গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তাঁরা একটি প্রতিরক্ষা শিল্প সংলাপের প্রস্তাব করেন। এর আওতায় থাকবে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব, যৌথ উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন ও অন্যান্য শিল্প সহযোগিতার মতো বিষয়গুলি।
দুই নেতা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ভারত–ইইউ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানান। গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত–পোল্যান্ড সহযোগিতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তাঁরা তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং ভারত–ইইউ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
উভয় পক্ষ গোপনীয় তথ্যের পারস্পরিক সুরক্ষা ও বিনিময় সংক্রান্ত একটি চুক্তির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে এবং শীঘ্রই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।
মহাকাশ সহযোগিতা / নতুন প্রযুক্তি
দুই নেতা মহাকাশক্ষেত্রে সহযোগিতাকে কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
দুই নেতা সেমি-কন্ডাক্টর ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সুযোগগুলির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
দুই প্রধানমন্ত্রী বৃত্তাকার অর্থনীতি ক্ষেত্রে সহযোগিতার ওপর জোর দেন। বিশেষত ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার এবং বিরল মৃত্তিকা খনিজ পরিশোধনের বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তাঁরা।
ভূতত্ত্ব, খনন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সুযোগের কথা তাঁরা তুলে ধরেন। এই বিষয়ে একটি সমঝোতাপত্র নিয়ে আলোচনা চলছে।
যোগাযোগ, সামুদ্রিক পরিবহণ ও জাহাজ চলাচল
দুই নেতা পোল্যান্ড ও ভারতের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল এবং আরও বেশি রুটে এই পরিষেবা চালু করার কথা বলেছেন।
উভয় পক্ষ জাহাজশিল্প এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছে।
নিরাপদ, স্থিতিস্থাপক ও সমন্বিত বন্দর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে বন্দরগুলির মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন দুই নেতা। এই সহযোগিতা আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনবে, পরিবহণের সময় কমাবে এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর হানি রুখবে। দুই নেতা ভারত–মধ্যপ্রাচ্য–ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (আইএমইসি) উদ্যোগসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ ও সংযোগ উন্নত করার গুরুত্ব উল্লেখ করেন।
মেরু অঞ্চল সম্পর্কিত বিষয়ে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা গড়ে তুলতেও দুই প্রধানমন্ত্রী সম্মত হন।
বিজ্ঞান, শিক্ষা ও শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা
ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি, দর্শন ও ভাষা-সংক্রান্ত অধ্যয়ন বিশেষত, ইন্ডোলজি ও সংস্কৃতচর্চায় পোল্যান্ডের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা দুই নেতা উল্লেখ করেন। ক্রাকোভের জাগিয়েলোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সংক্রান্ত একটি চেয়ার তৈরি হওয়া খুবই ইতিবাচক বলে দুই নেতা মনে করেন। ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পোলিশ শিক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়টিও তাঁরা উল্লেখ করেছেন। ভারত ও পোল্যান্ডের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বিস্তৃত সহযোগিতার নেটওয়ার্কের কথা উল্লেখ করে দুই নেতা আরও গভীর প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা বৃদ্ধির কথা বলেছেন।
সংস্কৃতি ও মানুষে-মানুষে সংযোগ
দুই নেতাই মনে করেন যে মানুষে-মানুষে সংযোগ কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তি শীঘ্রই সম্পাদিত হবে। ভারতের জাতীয় মহাফেজখানা এবং পোল্যান্ড সাধারণতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় মহাফেজখানার মহাপরিচালকের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি শীঘ্রই স্বাক্ষরিত হবে।
দুই পক্ষ মনে করে যে ওয়ারশ’তে মহারাজা জামসাহেব, যিনি পোল্যান্ডে ‘গুড মহারাজা’ নামে পরিচিত এবং কোলহাপুর রাজ্যের স্মৃতিসৌধ দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মানুষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। এটি ইতিহাসের এক আবেগময় অধ্যায়ের স্মারক, যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারত হাজার হাজার পোলিশ নারী ও শিশুকে আশ্রয় দিয়েছিল। দুই পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে যে জামসাহেব স্মারক যুব বিনিময় কর্মসূচির দুটি পর্বের সাফল্যে সন্তোষ ব্যক্ত করেছে, যার শেষটি ২০২৬ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়।
‘অপারেশন গঙ্গা’-র সময় ইউক্রেনে আটকে পড়া ২,০০০-এরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থীকে পোলিশ কর্তৃপক্ষ যে সহায়তা প্রদান করেছিল, দুই পক্ষই তা উল্লেখ করেছে।
বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক বিষয়
দুই নেতা রাষ্ট্রসংঘ সনদকে কেন্দ্র করে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। উভয় পক্ষ একমত যে রাষ্ট্রসংঘকে প্রাসঙ্গিক, বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর রাখতে তার কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এর মধ্যে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী ও অস্থায়ী — উভয় ধরণের সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিও রয়েছে। পোল্যান্ড আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সংস্কারকৃত ও সম্প্রসারিত রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের সদস্যপদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
দুই নেতা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে জি২০-র ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। পোল্যান্ড বর্তমানে অংশগ্রহণ করে অথবা ভবিষ্যতে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেতে পারে, জি২০-র এমন বিভিন্ন কার্যক্রম ও কর্মধারায় সহযোগিতা করতে তাঁরা প্রস্তুতি প্রকাশ করেন।
দুই নেতা ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং এর ভয়াবহ ও মর্মান্তিক পরিণতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ইউক্রেনের যুদ্ধ উন্নয়নশীল বিশ্বের কাছে বড় বিপদ বলে তাঁরা মনে করেন।
দুই নেতা সব ধরনের জঙ্গি তৎপরতার নিন্দা করেন। ধিক্কার জানান ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলার অধ্যায়কে।
দুই নেতা রাষ্ট্রসংঘে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সর্বাত্মক কনভেনশন (সিসিআইটি) দ্রুত গৃহীত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
দুই নেতা একটি সুস্থিত ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর মধ্যে ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘ কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস) –এর মর্যাদা রক্ষার কথা বলেন তাঁরা।
ভারত পোল্যান্ডকে ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় মহাসাগর উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
দুই নেতা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী দ্রুততর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘ কাঠামো কনভেনশন প্রক্রিয়া ও প্যারিস চুক্তির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি, জলবায়ু সুরক্ষা এবং শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা উন্নত করতে জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থায় দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পরিচ্ছন্ন জ্বালানির অংশ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর তাঁরা জোর দেন। ভারত পোল্যান্ডের দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো বিষয়ক জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। পোল্যান্ডকে আন্তর্জাতিক সৌর জোট এবং গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্সে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
প্রধানমন্ত্রী টাস্ক তাঁকে ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ আতিথেয়তা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ধন্যবাদ জানান। দুই নেতা ভারত–পোল্যান্ড কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর ও বহুমুখী করার এবং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে ২০২৪–২০২৮ সালের কর্মপরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী টাস্ক প্রধানমন্ত্রী মোদীকে পোল্যান্ড সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
SC/AC/DM