Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ভারত- বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড ট্রান্সমিশন লাইন উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষন

ভারত- বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড ট্রান্সমিশন লাইন উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষন


এই মুহূর্তটিকে আমি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে মনে করি। বিশ্বের ইতিহাসে এরকম মুহূর্ত খুব কমই এসেছে যখন দু-দেশের প্রধানমন্ত্রী আর একজন মুখ্যমন্ত্রী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাহায্যে সম্মিলিতভাবে কোনও কর্মসূচির শুভ-উদ্বোধন করছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি এই মুহূর্তটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে মনে করি। বাংলাদেশের শ্রদ্ধেয়া প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এই কর্মসূচির গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারীত বলেছেন। সেজন্যে তাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ভারতের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক ছিল। আপনিও সেই সংকটের দিনগুলিতে ভারত কিভাবে পাশে দাঁড়িয়ে আপনাদের দুঃখসুখের অংশীদার হয়েছিল, সেকথা বারবার স্মরণ করেছেন, ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। আপনার আজকের বক্তব্যেও সেই তীব্র আবেগ স্পষ্ট।

তখন বাংলাদেশ দুঃখ ও যন্ত্রণার সমুদ্র অতিক্রম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। আজ বাংলাদেশ উন্নতির উচ্চতা অতিক্রম করছে। আজও আমরা আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলেছি। আমরা মিলিতভাবে বিশ্বের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছি, প্রতিবেশীর সঙ্গে আদর্শ সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত। পরস্পর নির্ভরশীল বিশ্ব গড়ে তুলতে একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের সম্পর্ক কতটা নিবিড় হওয়া উচিত, সর্বোত্তম সহযোগিতার মাধ্যমে পরস্পরের সামর্থ্যকে কিভাবে বাড়িয়ে তোলা যায়, আমার বিশ্বাস, বিশ্ব সমুদায় এই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি দেখে তা অনুভব করবেন।

আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারত থেকে নিয়মিত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল। পাশাপাশি বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের জন্য ডিজিটাল গেটওয়ে খুলছে। এতদিন আমাদের দুটো গেটওয়ে ছিল, একটি পশ্চিমে, আরেকটি দক্ষিণে। কিন্তু আমি যেহেতু ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি নিয়ে চলেছি, আমার জন্যে এই নতুন উদ্বোধিত পূর্বের গেটওয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এবার যে পূর্বের গেটওয়ে উন্মোচন করছি তা বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতকে, বিশেষ করে আসাম, ত্রিপুরা ও সিকিম সহ উত্তরপূর্ব ভারতের অষ্টলক্ষী রাজ্যের নবীন প্রজন্মের মানুষদের জন্যে নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনার অবসর গড়ে দেবে। আজকের বিশ্ব যোগাযোগের শক্তি নির্ভর। আমরা দুই দেশ সম্মিলিতভাবে এই শক্তি আহরণ করব। এক্ষেত্রে ভারতকে সহযোগিতা করার জন্য আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাই।

আমরা যে বিদ্যুতের তার লাগিয়েছি সেগুলির অনেক বেশি বিদ্যুৎ পরিবহণ করার ক্ষমতা রয়েছে। যাতে প্রয়োজনে আরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়। আমাদের নিরন্তর প্রচেষ্টা থাকবে বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুসারে যতটা সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। কিছুদিন আগে আমরা বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত এবং ভূটানের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ উন্নত করার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আর আজ বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন ব্যবস্থা ও একবিংশ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ডিজিটাল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছি। অর্থাৎ, জল, স্থল কিম্বা আকাশ, আমরা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলেছি।

এখন আমাদের মহাকাশেও এগুতে হবে। বঙ্গবন্ধু কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপনের ক্ষেত্রেও ভারত আপনাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, সড়কপথ, জলপথ, ডিজিটাল যোগাযোগের পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রেও আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমি আর একবার আপনাদের শুভেচ্ছা জানাই। আজ ভারতে হোলি উৎসব পালন করা হচ্ছে। হোলি আমাদের পবিত্র উৎসব, বাংলাদেশের কিছু এলাকায় হোলি উৎসব পালন করা হয়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই পবিত্র উৎসবের দিনে আজকের শুভ উদ্বোধন আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন রঙে রাঙিয়ে তুলবে।

আজ ভারত আর বাংলাদেশের ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপে মুখোমুখি। আমি উভয় দলকে শুভেচ্ছা জানাই। ভারত আর বাংলাদেশ যখন খেলে, আমাদের নবযুবকেরা জয় পরাজয়ের উর্ধ্বে উঠে সম্পর্কে খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবের শক্তি জোগান দেয়। বিদ্যুৎ যেমন নতুন শক্তি জোগায়, আমাদের খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব তেমনি নতুন শক্তি জোগায়। আজও আমাদের দু-দেশের দল তেমনি খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব নিয়ে খেলে বিশ্বের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক। আমি উভয় দলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদেরও অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

PG/SB