পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ১৩ মার্চ, ২০১৫ আজ শ্রীলঙ্কার বণিকসভায় ভাষণকালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দু’দেশের সম্পর্ককে দৃঢ়তর করবে। এই সহযোগিতা মানুষের জীবনে পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। আমাদের অর্থনৈতিক বাচ-বিচার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, অনেকে হয়তো মনে করবেন, ভারতের চাহিদার আকারের প্রেক্ষিতে তাঁর প্রতিবেশীর প্রয়োজনীয়তা যৎসামান্য। আবার অনেকে হয়তো মনে করেন ভারতের অর্থনৈতিক আকার তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ক্ষতি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুই মতের কোনটাতেই তিনি সহমত নন। আমাদের অঞ্চল সম্পদক্ষেত্রে যথেষ্ট সমৃদ্ধ। আমরা একে-অপরের প্রশংসা করি। অতএব দু’দেশের সহযোগিতাই সকলের কাছে ব্যাপক লাভজনক হয়ে উঠতে পারে বলে শ্রী মোদী তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন। এই প্রেক্ষিতে শ্রী মোদী জানান, ভুটান যেমন জলবিদ্যুৎ রপ্তানি করে ভারতে, তেমনই নেপাল-ও বহু উৎপাদনসামগ্রী রপ্তানি করে ভারতে। পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ, সরবরাহ শৃঙ্খল, চিরাচরিত হস্তশিল্প, আধুনিক উৎপাদনধর্মী সামগ্রী, পর্যটন এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে আমাদের দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্ভাবনার কোন সীমা-পরিসীমা নেই বলে মত প্রকাশ করেন শ্রী মোদী। সারা বিশ্বে এক-ষষ্ঠাংশ জনসংখ্যার এই অঞ্চলটি সমগ্র বিশ্বের কাছে একটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগের সৃষ্টি করেছে। ভারতের সঙ্গে বিশ্বের যোগাযোগের একটি নতুন মাত্রা সংযোজিত হলেও ভারত তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতবর্ষ তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বিকাশে সহযোগী হতে পারলে আনন্দিত হবে বলেও তিনি জানান। অতএব, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ধ্যান-ধারণার আদান-প্রদান এবং দু’দেশের মধ্যে সহজে নির্ঝঞ্ঝাটভাবে যাতায়াত করার সুযোগ আসবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আনন্দিত এই দেখে যে বাণিজ্য বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক যোগাযোগ দৃঢ়তর হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল, তথা দু’দেশই দু’দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে মতামত আদান-প্রদান করা সহজতর হয়ে উঠবে – তা চিকিৎসার ক্ষেত্রে মোকাবিলা, বা মহাকাশ বিজ্ঞানই হোক। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এও জানান, শ্রীলঙ্কার সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক সহযোগী ভারতবর্ষ এবং এই দেশ বিনিয়োগের একটি বৃহত্তম উৎস। ২০০০ সালের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এই পদক্ষেপের সূচনা করে এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে গতির সঞ্চার করে। ঐ দিনটি থেকে ভারতবর্ষে শ্রীলঙ্কা থেকে রপ্তানি ষোলগুণ বেড়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। শ্রী মোদী বলেন, বাণিজ্য ক্ষেত্রে ভারতীয় বাজারকে যাতে শ্রীলঙ্কা সহজে আহরণ করতে পারে তার জন্য তিনি সচেষ্ট হবেন। শ্রী মোদী এও বলেন, তিনি চান পরিবর্তনকামী এবং প্রতিযোগী বিশ্বে শ্রীলঙ্কা যাতে পিছিয়ে পড়তে না পারে সে ব্যাপারে ভারতবর্ষ সহযোগিতা করবে। এই প্রেক্ষিতে একটি সুসংবদ্ধ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বিষয়ক চুক্তিতে আসতে দু’দেশই বদ্ধপরিকর বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী। তাঁর মতে, ভারতের বিনিয়োগের ফলে শ্রীলঙ্কার পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নে গতি আসবে। সামপুর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি, তিনি মনে করেন দু’দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক মহাসাগরীয় অর্থনীতির উন্নয়ন ও সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেবে অনেকাংশে। শ্রীলঙ্কার মানুষের জন্য ভারতে আগমনের প্রেক্ষিতে ভিসা প্রদান ব্যবস্থা আগামী ১৪ এপ্রিল চালু হচ্ছে। এর ফলে দু’দেশের মধ্যে বিমান ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ বিস্তারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, পর্যটনের মাধ্যমেও মানুষে-মানুষে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সুযোগের সৃষ্টি করে বলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, শ্রীলঙ্কায় রেল সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ভারত ঋণ দেবে ৩১ কোটি ৮০ লক্ষ মার্কিন ডলার। পাশাপাশি, মুদ্রা বিনিময় ক্ষেত্রেও ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক শ্রীলঙ্কার সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ককে সাহায্য করবে যাতে শ্রীলঙ্কায় টাকার স্থায়িত্ব অনেকাংশের বৃদ্ধি পায় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। পরিশেষে তিনি জানান, এই সফর কেবলমাত্র উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের পরিচায়ক না, এটি একে-অপরকে জানবার সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে ভারতের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রতিপন্ন করতে পারবে শ্রীলঙ্কা এই আশা প্রকাশ করেন শ্রী মোদী।