Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ভারত-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্মেলনে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারত-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্মেলনে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারত-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্মেলনে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারত-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্মেলনে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারত-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্মেলনে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারত-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্মেলনে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারত-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্মেলনে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারত-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্মেলনে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারত-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্মেলনে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারত-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্মেলনে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী


ভারত ও সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য আমাদের এক সম্পদ বিশেষ। এক বিপুল সংখ্যক ভারতীয়দের বাস এই দেশে। সিঙ্গাপুরের জীবনযাত্রা ও কাজের পরিবেশকে তাঁরা আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অর্থনৈতিক কর্মব্যস্ততা আমাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তুলেছে। সিঙ্গাপুর হল আমাদের দশম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির মধ্যে এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম অবদান হল এই দেশটির। ২০০৫ সালের সুসংবদ্ধ অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদনের পর থেকে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে বহুগুণে। ভারতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর হল দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস। একইভাবে, সিঙ্গাপুরে ভারতের বিনিয়োগ সাম্প্রতিককালে বৃদ্ধি পেয়েছে বেশ উল্লেখযোগ্য হারে। তাই, ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে সিঙ্গাপুরের স্থান এখন শীর্ষে।

মঙ্গলবার, সিঙ্গাপুরে ভারত-সিঙ্গাপুর অর্থনৈতিক সম্মেলনে ভাষণদানকালে এই মন্তব্য করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে নথিভুক্ত রয়েছে প্রচুর ভারতীয় সংস্থা। একইভাবে, সিঙ্গাপুরের সংস্থাগুলি ভারতীয় বাণিজ্য ও বিপণন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে অঙ্গাঙ্গীভাবে। গত কয়েক দশক ধরে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ফলে দু’দেশেরই শিল্প ও বাণিজ্য মহল বিশেষভাবে লাভবান হয়েছে। এই দুটি দেশ এখন সম্ভাবনাময় নতুন নতুন ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা আরও জোরদার করে তুলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত মাসে সিঙ্গাপুরের সক্রিয় অংশগ্রহণে দুটি প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন তিনি। এর মধ্যে একটি হল অন্ধ্রপ্রদেশের নতুন রাজধানী নগরী অমরাবতী এবং অন্যটি হল মুম্বাইয়ে জে এন পি ডি-তে চতুর্থ কন্টেনার টার্মিনাল নির্মাণ। একইভাবে, সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরটির সঙ্গে দুটি ভারতীয় বিমানবন্দরের যোগাযোগ গড়ে তুলতে আমরা সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করছি। এই সমস্ত ঘটনাই হল আমাদের দৃঢ় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গীর ক্ষেত্রেও সিঙ্গাপুর হল আমাদের এক সহযোগী বন্ধু রাষ্ট্র। ‘পুবের দিকে তাকাও’ এবং ‘পূবের জন্য নীতি রূপায়ণ কর’– এর বাস্তবায়নে সিঙ্গাপুরকে আমাদের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেই আমরা মনে করি। এই নীতি রূপায়ণে সিঙ্গাপুরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা অনস্বীকার্য। তবে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ছাড়াও অন্যান্য দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত ও সিঙ্গাপুর রয়েছে পরস্পরের সঙ্গেই। উদাহরণস্বরূপ, আসিয়ান-এর অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সুযোগ-সুবিধার সম্ভাবনা সৃষ্টি ও তা সদ্ব্যবহারের ফলে দুটি দেশই উপকৃত হবে নানাভাবে। আঞ্চলিক ক্ষেত্রে যে সুসংহত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে তার মধ্যে রয়েছে আসিয়ানভুক্ত সবক’টি দেশ এবং তাদের সঙ্গে আলোচনারত ছ’টি সহযোগী রাষ্ট্র। এই ক্ষেত্রগুলিতেও দু’দেশের শিল্প সংস্থাগুলি নতুন নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার করতে পারে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-আফ্রিকা ফোরাম শীর্ষ বৈঠকে এক বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে উপস্থিত ছিল সিঙ্গাপুর। ভারত-সিঙ্গাপুরের ঘনিষ্ঠ মৈত্রী সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ঘটনা এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ, আফ্রিকার দেশগুলিতে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্র আমরা প্রস্তুত করে ফেলেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত বর্তমানে এক আর্থ-সামাজিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলেছে। আমরা তা সম্ভব করে তুলছি এমনই এক মাত্রা ও গতিতে সমগ্র বিশ্বে যার তুলনা মেলা ভার। গত বছর আমাদের উন্নয়নের হার ছিল ৭.৩ শতাংশ। এ বছর এই মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্ব ব্যাঙ্ক এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে। প্রধান প্রধান দেশগুলির মধ্যে দ্রুততম হারে বেড়ে উঠছে ভারতীয় অর্থনীতি। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এর সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে আমরা এখন কঠোর পরিশ্রম করে চলেছি। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে আমরা গ্রহণ করেছি বেশ কয়েকটি বড় বড় কর্মসূচি। আমাদের কৌশলসূত্রই হল –অর্থনীতিতে শক্তি ও গতির সঞ্চার, জনসাধারণের ক্ষমতায়ন, অবহেলিত ক্ষেত্রগুলিতে অর্থের যোগান, দরিদ্র মানুষের নিরাপত্তা এবং সকলের রুজি-রোজগারের সীমা বৃদ্ধি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক মানুষের কাছে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা আমাদের পৌঁছে দিতেই হবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই দেশে খোলা হয়েছে ১৯ কোটি নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার সুফল দরিদ্র মানুষের কাছে যাতে পৌঁছে যায় তা আমরা নিশ্চিত করেছি। শুধু তাই নয়, এই ব্যবস্থায় সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও এসেছে শৃঙ্খলা। আমরা চালু করেছি নতুন নতুন বিমা ও পেনশন প্রকল্পও। মুদ্রা ব্যাঙ্ক ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করেছি আমরা। সকলের জন্য বাসস্থান, জল, বিদ্যুৎ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমরা বেঁধে দিয়েছি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সময়সীমা। আর এইভাবেই, ভারত এখন পৌঁছে গেছে এক অর্থনৈতিক বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে। এর ফলে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এখন বেশি মাত্রায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন ভারতে বাণিজ্যিক বিনিয়োগের লক্ষ্যে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন সম্ভাবনাকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে আগ্রহী আমাদের নীতি ও দেশের জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে। ‘ডিজিটাল ভারত’ এবং ‘দক্ষ ভারত’ কর্মসূচি দুটির পরিকল্পনা করা হয়েছে এমনভাবে যাতে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা যায় সাধারণ মানুষকেও। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে গড়ে উঠছে নতুন নতুন স্টার্ট আপ শিল্প সংস্থা। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি বিশ্বের বড় বড় শিল্পোদ্যোগীদের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে দিয়েছে। এই কর্মোদ্যম ও কর্মশক্তির পূর্ণ সদ্ব্যবহারে আমরা শুরু করেছি ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া’ অভিযান – যার স্লোগানই হল –‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’। গত কয়েক মাসে ভারত সম্পর্কে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ ও উৎসাহ বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণে। এখানকার বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণবিধি ও কর ব্যবস্থার জন্য তাদের মধ্যে যে শঙ্কার ভাব ছিল তা দ্রুত দূর করতে আমরা বেশ কিছু সংস্কার ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমাদের কর ব্যবস্থা যাতে স্বচ্ছ ও সরল হয়ে ওঠে তা সুনিশ্চিত করার কাজে আমরা বিশেষভাবে নজর দিয়েছি। সেইসঙ্গে, কর সংক্রান্ত বিষয়ে প্রকৃত বিনিয়োগকারী এবং সৎ করদাতারা যাতে দ্রুত ও দক্ষ পরিষেবা পেতে পারেন তা নিশ্চিত করতেও আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এইভাবে মাত্র ১৮ মাসের মধ্যেই বিশ্বের বিনিয়োগ কর্তাদের কাছে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা আমরা সাফল্যের সঙ্গে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। আমরা ক্ষমতায় আসার পরেই প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগকে আরও উদার করে তুলেছি। চালু করেছি বেশ কিছু নতুন সংস্কারমূলক ব্যবস্থা। রেল প্রকল্পে ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি আমরা দিয়েছি এবং বিমা ও প্রতিরক্ষা শিল্পে এর মাত্রা ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। গৃহীত এই সমস্ত ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বর্তমানে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উদারতম অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। নতুন নতুন বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রকে পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের লক্ষ্যে। অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ছাড়পত্রদানের ব্যবস্থাটিকে করে তোলা হয়েছে স্বয়ংক্রিয়।

ভারতের বিনিয়োগ পরিকাঠামোকে পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী পরিকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং বিশুদ্ধ জ্বালানির অন্বেষণ এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। মূল পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ছাড়াও দেশের সামাজিক পরিকাঠামো গঠন এবং শিল্প ও কৃষি পরিকাঠামোর প্রসারে অধিকতর বিনিয়োগে আমরা মনোনিবেশ করেছি। দেশের জনসাধারণের জন্য উন্নততর জীবন এবং অধিকতর আয় বা উপার্জন যাতে সুনিশ্চিত করে তোলা যায় সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই সংস্কার প্রক্রিয়া।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যয়ের রাশ টেনে ধরতে আমরা বিশেষ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা চালু করেছি। এর ফলে, সরকারি ক্ষেত্রে মূলধনী বিনিয়োগের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেইসঙ্গে, আমরা গঠন করছি ‘জাতীয় বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো তহবিল’। কর্পোরেট বন্ডের বাজারকে আরও প্রসারিত করতে করমুক্ত পরিকাঠামো বন্ড আমরা চালু করতে চলেছি। এর ফলে, দীর্ঘ মেয়াদে অর্থ লগ্নির সুযোগ সৃষ্টি হবে পরিকাঠামোর প্রসারে। পরিকাঠামোর দিকে লক্ষ্য রেখেই কয়েকটি দেশে আমরা রুপি বন্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সিঙ্গাপুর হল এই দেশগুলির অন্যতম। এক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করতে আমরা বিশেষভাবে আগ্রহী।

দেশের যুবশক্তির উৎসাহ ও কর্মোদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতে ৮০ কোটি নাগরিকের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং দক্ষতা ভারতের অর্থনৈতিক রূপান্তর যজ্ঞে বিশেষভাবে শক্তি ও উৎসাহের যোগান দিয়েছে। দেশের এই যুব সমাজকে উৎপাদনশীলতার কাজে নিয়োগ করা আমাদের আশু প্রয়োজন। এটি আমাদের কাছে এক চ্যালেঞ্জ বিশেষ। এর মোকাবিলায় আমাদের নজর দিতে হবে নির্মাণ শিল্পের দিকে। গত কয়েক দশক ধরেই মাত্র ১৬ শতাংশেই এর বৃদ্ধি আটকে রয়েছে। এই মাত্রাকে আমাদের অবিলম্বে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা চালু করেছি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ। দেশে বিশ্বমানের উৎপাদন তথা নির্মাণ শিল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ দক্ষতার নজির গড়ে তুলতে আমরা আগ্রহী। ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহজতর করে তোলার লক্ষ্যেও আমরা করে চলেছি কঠোর পরিশ্রম। সরকারি ও বেসরকারি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আমরা এমন কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহদান করছি যেখানে আগে শুধুমাত্র সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাই চালু ছিল। বাজারে শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় আমাদের বিনিয়োগের মাত্রাও আমরা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের দেশের অর্থনীতির সংহতিসাধন আমাদের আরেকটি প্রধান লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংস্কার ও উন্নয়নের কাজে আমাদের পরিচালিত করছে দুটি প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি। তার একটি হল এই কর্মযজ্ঞের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে দেশের সাধারণ মানুষের অবস্থান এবং অন্যটি হল জলবায়ু ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিকাশ ও উন্নয়ন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদের মোকাবিলায় আমাদের প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার অর্থনীতি বা রাজনীতির তাগিদে নয়, ভীতি বা অনুগ্রহের জন্যও নয়, আমাদের এই অঙ্গীকারের মূল কারণ হল প্রকৃতিকে আমরা জননী বসুন্ধরা জ্ঞান করি। প্রকৃতির দানেই আমাদের জাগতিক অস্তিত্ব। তাই, প্রকৃতিকে লালন করার দায়িত্ব আমাদেরই। এই লক্ষ্যে প্রয়োজনে আমরা সাধ্যাতীতভাবে পরিশ্রম করে যাব।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের প্রধান ভারতকে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি উজ্জ্বল কেন্দ্রবিন্দু বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু অর্থনীতির সেই উজ্জ্বলতা স্বাভাবিক গতিতে কবে আমরা দেখতে পাব সেই অপেক্ষায় বসে থাকতে আমি নারাজ। তাই, এই কাজ ত্বরান্বিত করার দায়িত্ব নিতে হবে আমাদের সকলকেই।

SSS/SKD/DM/S