পিএমইন্ডিয়া
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তী। ৩১ অক্টোবর থেকে এক সপ্তাহের জন্যএই অভিযান শুরু হয়েছে। এ বছর এই অভিযানে জনসাধারণকে অংশীদার করার প্রচেষ্টা চালানোহয়েছে। একথা আমরা সবাই জানি যে, কোন্ পরিস্থিতিতে ১৯৬৪ সালে এই ব্যবস্থা শুরুহয়েছিল। এর আগে হয়তো প্রয়োজন অনুভূত হয়নি, কিন্তু ২০০৪ সালে মনে করা হয় যে, একজনসদস্য দিয়ে হবে না; সেজন্য তখন থেকে তিনজন সদস্য এই কাজ দেখেন। এখানে যাঁরাবয়োজ্যেষ্ঠ, তাঁরা জানেন, আজ থেকে ৫০ বছর আগে ‘বিশুদ্ধ ঘি-এর দোকান’ – এ জাতীয়কোনও সাইনবোর্ড দেখা যেত না। তখন সাইনবোর্ডে লেখা থাকতো ‘ঘি-এর দোকান’। বিশুদ্ধতাছিল প্রত্যেকের বিশ্বাসে। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। এখন ব্যবসা করতে হলে এই ‘বিশুদ্ধঘি-এর দোকান’ সাইনবোর্ড লাগাতে হয়।
সমাজ জীবনে মূল্যবোধের অবনমনই আজকে সর্বাধিক দুশ্চিন্তার বিষয়। আজ থেকে ৫০বছর আগেও স্কুল কলেজে নকল চলতো, কিন্তু যে নকল করতো – সে সঙ্কুচিত ও তটস্থ থাকতো।সে চাইতো, তার এই চুরি সম্পর্কে কেউ যেন জানতে না পারেন! আর এখন যারা নকল করে,তারা সঙ্গে ছুরি রাখে আর বাইরে এসে পরিদর্শককে বলে, আমি দেখে নেব! আমি তো পুরো নোটনিয়ে বসেই লিখব! মূল্যবোধ হ্রাসের ফলে যা যা অস্বাভাবিক ছিল, সেগুলিকেই স্বাভাবিককরে তোলা হচ্ছে। এভাবে ক্রমে অস্বাভাবিকটাই নিয়মে পরিণত হলে সমাজে ভীষণসঙ্কটাবস্থা দেখা দেবে।
ভারতের সামনে, আমাদের মতো গরিব দেশে এই দুর্নীতির প্রাচুর্যকে নিয়ন্ত্রণকরতে না পারলে দারিদ্র্য দূরীকরণও সম্ভব নয়। বেইমানদের পকেটেই সব চলে গেলে সাধারণমানুষ তাঁর ন্যায্য অধিকার কেমন করে পাবেন? অনেক সময় টাকা-পয়সার থেকেও সম্মানেরপ্রশ্ন বড় হয়ে ওঠে। পরিস্থিতির শিকার মানুষ বাধ্য হয়ে অনেক কিছু করে ফেলেন! এইপরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য জনচেতনা গড়ে তোলা ও সাধারণ মানুষের সংবেদনশীলতারমাত্রাকে ঝাঁকিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আর তখনই গিয়ে এ ধরনের অভিযান থেকে আমরাশক্তি সংগ্রহ করতে পারি, যা আমাদের স্বপ্ন পূরণে সর্বাধিক কাজে লাগে। আর আমরা সবাইজানি যে, এই খেলায় যারা অভ্যস্ত তাদের ভালোই সামর্থ্য থাকে। পারদর্শিতায়লেখচিত্রের দিকে নজর রাখলে লক্ষ্য করবেন যে, ১০ জন আধিকারিকের মধ্যে তিনিই সবচেয়েভালো দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। আর সেজন্যই ক্ষমতাসীন মানুষেরা জেনেশুনেও তাঁকেই কাজদিতে বাধ্য হন। এ ধরনের আচরণে যারা অভ্যস্থ, তাঁদের মধ্যে প্রভূত সৃজনশীলতাও থাকে।তাঁরা এমন এমন ক্ষেত্র থেকে কাজ করে দেখান, যা আমরা ভাবতেও পারি না।
আমি যখন ছোট ছিলাম, একটি হাস্যকৌতুক খুব শুনতাম, এখানে কোনও রেলকর্মী থাকলেতিনি যেন কিছু মনে না করেন! এক রেল কর্মচারী দক্ষ দুর্নীতিবাজ ছিল, আধিকারিকরাতাঁকে নিয়ে বিরক্ত হতেন, তার জন্য তাঁদের বিভাগে বদনাম হওয়ার দুশ্চিন্তা থাকত,সবাই এর একটা বিহিত চাইতেন। অবশেষে তাকে প্ল্যাটফর্মে রেলগাড়ি আসা-যাওয়ার ঘোষণারকাজ দেওয়া হয়, সবাই ভাবলেন, এবার সে আর কাউকে ঠকাতে পারবে না। কিন্তু সে এতইসৃষ্টিশীল ছিল যে, নতুন দায়িত্ব পাবার পর রেলগাড়ি আসা-যাওয়ার খবরের পাশাপাশি সেঘোষণা করতে শুরু করে যে, এত কেজি ওজনের বা অমুক আকারের ব্যাগ পরিবহণে কুলিদের ৫টাকা দেবেন আর তার থেকে বেশি হলে ১০ টাকা দেবেন। এবার কুলিরা যাত্রীদের কাছে এরবেশি দাবি করলে কেউ তাঁদের দিতে চাইতেন না। বাধ্য হয়ে কুলিরা একত্রিত হয়ে ওর সঙ্গেগিয়ে দেখা করে এই মালের ভাড়া সংক্রান্ত ঘোষণা বন্ধ করতে অনুরোধ করেন। সে তখনকুলিদের কাছে সাপ্তাহিক তোলা চায়। হ্যাঁ, আমরা জানি, ভিজিল্যান্স কমিশন তাকেকিভাবে ধরতে পারতো। কিন্তু যারা এগুলি করে, তারা অত্যন্ত পারদর্শী হন, প্রতিমুহূর্তে সতর্কতা অবলম্বন করেন। তারাও নিজেদের কাজে সত্যনিষ্ঠ হয় এবং নিজেরআদর্শের প্রতি ঐকান্তিক থাকে। আমার একটাঅভিজ্ঞতার কথা বলি, অনেক বছর আগে একবার আমি আমেদাবাদ থেকে দিল্লি যাচ্ছিলাম, তখনসম্ভবত সারা দিনে একটাই ট্রেন আমেদাবাদ থেকে ছেড়ে ২৪-২৫ ঘন্টা পর দিল্লি পৌঁছেদিত। দিল্লি মেল বা এরকম কিছু একটা নাম ছিল, আমার ঠিক মনে নেই, তো সেদিন আমি স্টেশনে পৌঁছেছি, আমি ছিলাম ফকিরগিরধারী।সাধারণ বগিতে যাব বলে ঠিক করেছিলাম। কিন্তু প্ল্যাটফর্মে পরিচিত একজনের সঙ্গে দেখাহয়, তিনি জিজ্ঞেস করেন, কোথায় যাচ্ছ? আমি বলি, একটা জরুরি কাজে দিল্লি যাচ্ছি।তিনি বলেন, চলো তোমাকে বসিয়ে দিই। আমি বলি টিকিট কেটেছি, রিজার্ভেশন নেই, সাধারণবগিতে বসে পৌঁছে যাব। তিনি বলেন, দাঁড়াও, তারপর তাঁর পরিচিত একজন টিটি’কে বলেরিজার্ভ কামরাতেই বসিয়ে দিয়ে বলেন, যাও এখন শুয়ে যেতে পারবে। আর টিটি’কে বলেন, ইনিএকজন সমাজসেবক। টিটি সাহেব আমাকে হেসে বসতে বলেন। ট্রেন ছেড়ে দেয়। কিন্তু তারপরবারংবার তাঁর কাছে গিয়ে বার্থের টিকিট করে দিতে বললেও তিনি আমাকে তেমন আমল না দিয়েবারবারই ইশারায় বলেন, যাতে চুপচাপ বার্থে বসি। আমি জানতাম যে, আবু স্টেশন ……আবু রোডে তাঁর ডিউটি শেষ, ততক্ষণে কাগজ বানাতে না পরলে কী হবে, তা ভেবে বুককাঁপছিল। আবু স্টেশনে ঢোকার আগে অন্যরা যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আমি আবারতাঁর কাছে গিয়ে অনুরোধ করি, আমার টিকিট কেটে দিন, না হলে নেমে পেছনের বগিতে চলেযাই। তিনি তখন বললেন, চিন্তা করবেন না, আবু রোডে নতুন টিটি উঠবেন, তাঁর সঙ্গেপরিচয় করিয়ে দেব। তিনি আপনাকে রিজার্ভেশনের টিকিট দেবেন।
আমি বলি, তিনি তো আমাকে চেনেন না, আপনিই দিয়ে দিন
তিনি বলেন, না আমার নীতি হচ্ছে, ঘুষ ছাড়া কাজ করি না, কিন্তু আপনার সঙ্গেএমন একজন পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন যে, আমি টাকা নিতে পারব না, সেজন্য পরবর্তী টিটি’কেহ্যান্ডওভার করে দেব। সে আপনাকে ঘুষ ছাড়া টিকিট দিয়ে দেবে।
আপনারাই বলুন, এরকম নীতিপরায়ণ মানুষ কখনও দেখেছেন কি? এই যে দেশের অবস্থা,আমরা সকলেই কোনও না কোনওভাবে ভুক্তভোগী! এমনকি অন্য পদস্থ কর্মচারীদেরও ওরা ছাড়েনা। বলে, এখন আমি এই পদে আছি, আমার অধিকার, আমার প্রাপ্যটা দিয়ে দাও। পরে যখন আমারকাজে তোমার কাছে যাব, নিয়ে নিও।
দেশের এমন পরিস্থিতি! কিন্তু আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আজও সততাআছে। তাঁদের জন্য কাজ করতে হবে। আর সেজন্য আমাদের এই সাধারণ মানুষের কথা ভেবেসংকল্প নিতে হবে। এই মানুষেরা দেশের ভালর জন্য কষ্ট সহ্য করতে রাজি। কিন্তু তাঁদেরআস্থা অর্জন করতে হবে। আস্থা বাড়ালে তাঁরাই আমাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন। যেকোনও নিয়ম, যে কোনও আইন যদি সবার জন্য হয়, তাঁদের সেটা পালন করতে কোনও আপত্তি থাকেনা! তাঁদের আস্থা আমরা কিভাবে অর্জন করব? একথা সত্যি যে দেশে সবচাইতে বদনাম,সবচাইতে দুর্নীতিগ্রস্থ হ’ল – রাজনীতিবিদেরা। প্রায় সমস্ত খারাপ কাজে তাদের হাতথেকে কিংবা তাদের সায় থাকে। সাধারণ মানুষের মনে এখন কোনও রাজনীতিবিদের এমন ছবিইগড়ে উঠেছে। কারণ, তাঁরা ভুক্তভোগী। তাঁদের দৃষ্টিতে প্রায় সব রাজনীতিবিদরাই চোর!এই নিরাশাজনক পরিবেশে সাধারণ মানুষ যদি এই শুচিতার অভিযানকেও সন্দেহের চোখে দেখেন,তা হলে তাঁদের কোনও দোষ দেওয়া যায় না।
আমি আগেও শুনেছি আর এখানে এসে কিছুটা জেনেছি। একজনকে জিজ্ঞেস করছিলাম,‘পঞ্চনামা’ শব্দটা হিন্দিতে আছে কি?
জবাব পেলাম, আছে!
আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে, কোনও দুর্ঘটনা হলে তার তদন্ত করা হয়। কিন্তুএকটা জিনিস কি লক্ষ্য করেছেন যে এক্ষেত্রে পঞ্চের ভূমিকা পালন করেন সরকারিআধিকারিকরা। কোনও আধিকারিক অন্যায় করেছে এই অভিযোগে তাঁকে সরিয়ে তদন্ত করা হয়।কিন্তু এটা ভেবে দেখা হয় না যে, তাঁকে সরানো হলেও তাঁর সহকর্মী আধিকারিকরা যখন তদন্তকরছেন, নিরপেক্ষতা বজায় থাকে কি? আর যাঁরা তদন্তের দায়িত্বে আছেন, সেই পঞ্চকেযেহেতু সমাজের ভালো নাগরিক মানা হয়, তাঁদের আধার নম্বর দিয়ে যাচাই করা যায় কি না?নাকি একই আধার নম্বরবিশিষ্ট ব্যক্তি পঞ্চের স্থান দখল করে গেছেন। আর তারপর আদালতেনাম বদলানোর জন্য কাকে কত টাকা ঘুষ দিয়েছেন। তাঁর টেলিফোন নমবর কত, সেই টেলিফোনেররেকর্ড কী বলে, তাঁর সঙ্গে কার কার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল? আমরা ব্যবস্থার প্রতিটিজিনিসকে এভাবে ধরার চেষ্টা করব। সকলের সচেতনতা বাড়ছে। সবাই এসব জানেন ………।এই সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব। প্রযুক্তি অনেক সাহায্য করতে পারে।
আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে, আমরা আধার নম্বরের মাধ্যমে সকল প্রকারভর্তুকি ও ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা প্রত্যক্ষ নগদ হস্তান্তর চালু করেছি।আমি হিসাব নিয়ে দেখেছি যে, এর ফলে ইতিমধ্যে দেশের ৩৬ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়হয়েছে। এই টাকা দুর্নীতিবাজদের পকেটে যেত। আমরা কিন্তু এই সাশ্রয়কৃত টাকা রাজকোষেরেখে দিই নি। আমরা এই টাকা উন্নয়নের কাজেখরচ করার ব্যবস্থা করেছি। তাই বলি, আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়াতে পারব,ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে, নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে ততই সুবিধা হবে।কখনও আমাদের দেশে ‘সিলো টাইপ অ্যাক্টিভিটি’ ফলে একটি আইন বা ব্যবস্থার লাভ দ্বিতীয়আইন কিংবা ব্যবস্থায় বর্তায় না। দুর্নীতিবাজরা এই আইনের ফাঁক দিয়ে গলে বেরিয়ে যেতেপারে। আপনারা শুনে অবাক হবেন যে, এমন সচেতন মানুষও আছেন যিনি একসঙ্গে ৮টিস্কলারশিপ পান। আধারের মাধ্যমে যাচাই করে ধরা পড়ে যে তিনি অমুক শ্রেণীতে স্কলারশিপেরপাশাপাশি তমুক শ্রেণীতেও পান, আরও ৬টি উপায়ে পান। ফলে আরও ৭ জন সম্ভাব্য স্কলারশিপপ্রাপক বঞ্চিত হন। এরকম কত বলব! আমরা এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এইব্যবস্থাকে যতটা ঠিক করতে পারব, ততই সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সফল হব।
আমি একবার দেখছিলাম, চণ্ডীগড়ে সাধারণত একটি আর্থিক স্তরের উপরের মানুষেরাবসবাস করেন। প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতেই রান্নার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। তবুওচণ্ডীগড়ে ৩০ লক্ষ লিটার কেরোসিনের কোটা রয়েছে। সেই কোটার তেল, তা হলে কোথায় যায়বলুন তো! আমি আধিকারিকদের বিষয়টি দেখতে বলি, তাঁরা প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করেদেখে বলেন, প্রায় ৫ হাজার পরিবারে রান্নাঘরে গ্যাস সংযোগ পৌঁছে দিতে পারলেচন্ডীগড়ে আর ১০০ গ্রাম কেরোসিনেরও প্রয়োজন হবে না!
সরকার অভিযান চালিয়ে ঐ ৫ হাজার পরিবারে রান্নার গ্যাস সংযোগ দিয়ে ৩০ লক্ষলিটার কেরোসিন পাঠানো বন্ধ করে। কত টাকা সাশ্রয় হ’ল ভাবুন তো? না হলে ঐ তেল কালোবাজারে কিনে অসাধু ব্যবসায়ীরা ডিজেলে মিশিয়ে লাভবান হ’ত, ব্যবহারকারীদের ইঞ্জিনেরবারোটা বাজতো আর ধোঁয়া থেকে পরিবেশ দূষণ হ’ত। কিন্তু আমরা প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েপরিস্থিতি বদলের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।
সবাই জানেন যে, আমাদের দেশে চাকরি পাওয়ার জন্য মানুষকে কী কী করতে হয়।মা-বাবাও ভাবেন যে, যাই হোক না কেন, সন্তানের যে কোনও সরকারি পদে চাকরি হলে বাকিজীবন নিশ্চিত। ড্রাইভার হোক কিংবা পিওন, একবার ঢুকতে পারলে সে নিজেরটা করে খেতেপারবে । অনেকেই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন ্যপিডব্লুউডি’র কোনও কেরানী ইত্যাদি খোঁজেন। সমাজে এমনই একটি ধারনা তৈরি হয়েছিল।আমরা সরকারে এসে কেন্দ্রীয় সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নিয়োগেরক্ষেত্রে ইন্টারভিউ তুলে দিলাম। আপনারাই বলুন ইন্টারভিউ কেন? যাঁরা ইন্টারভিউ নেন,তাঁরা কি এত বড় বিশারদ যে মাত্র ত্রিশ সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে যাচাই করতেপারবেন যে, চাকরির আবেদনকারী ঐ পদের জন্য ভালো হবে না খারাপ হবে! তার মানে যারজন্য কেউ সুপারিশ করত – সেই চাকরি পেত! সুপারিশ কিভাবে আসতো – পকেট ভরার মাধ্যমে।এই ইন্টারভিউ বন্ধ করে দেওয়ায় ধরে নিলাম যে ৫-১০ শতাংশ তেমন লোক নির্বাচিত হবে –যাঁরা এই কাজের অযোগ্য। কিন্তু এতদিন সুপারিশের মাধ্যমে নির্বাচিতদের মধ্যে আরওবেশি সংখ্যক অযোগ্য লোক থাকতেন। সেজন্য আমরা ইন্টারভিউ প্রথা বন্ধ করে দিয়ে মেধারভিত্তিতে কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এভাবে ব্যবস্থা থেকে দুর্নীতি হ্রাসেরচেষ্টা করেছি। এখন এক টাকা ঘুষ না দিয়েও গরিব বিধবা মায়ের ঠিকানায় যখন ছেলেরচাকরির নিয়োগপত্র আসবে, তিনি খুশি হবেন কি না? আমরা সেটাই চাই।
দ্বিতীয়ত, সরকার পরিচালনায় অনেক ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করতে হয়, কিন্তুঅনেক সময় সেই গোপনীয়তাও বিপদের কারণ হয়ে ওঠে। অনেক আইন প্রণয়নের আগে এত গোপনীয়তারক্ষা করা হ্য যে, এক চেম্বার থেকে অন্য চেম্বার, এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে ফাইলচালাচালিরও খবর গোপন থাকে। আমি বলি, কেন ভাই? এর যত খসড়া তৈরি হয় সবকটা পাবলিকডোমেইনে রেখে দাও। সাধারণ মানুষও বিতর্কে অংশ নিক। আগ্রহী গোষ্ঠীগুলি বিতর্কেঅবতীর্ণ হোক। কেউ যুক্তি দেখিয়ে কোনও অংশকে ভুল বলুন আবার অন্য কেউ এর সমর্থনে কথাবলবেন। ঐ যুক্তিগুলি নিয়ে খসড়াকারী বিশেষজ্ঞরাও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একে চূড়ান্তকরবেন! আর কোনও নিহিত স্বার্থে কিছু তৈরিহলে সমালোচনার চাপে তা আর বাস্তবায়িত হবে না। আমার এই মনোভাব দেখে এখনই যে কোনওআইন প্রণয়নের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষজ্ঞরা খসড়া কপি অনলাইনে রাখা শুরুকরেছেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগ্রহী ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীগুলি নিজেদের ইনপুট দেয়। এতেদুটি লাভ হয়। নিহিত স্বার্থে রচিত যে কোনও প্রস্তাব সমালোচনার তোড়ে আটকে যায়। আরসৎ মনোভাব নিয়ে রচিত খসড়াতেও দু-একটি বিষয় ছাড়া পেয়ে যায়। আগ্রহী ব্যক্তি বাগোষ্ঠীগুলির ইনপুট থেকে চূড়ান্ত প্রস্তাব পেশ করার সময় সেই বিষয়গুলি জুড়ে নেওয়াযায়। ফলস্বরূপ আমরা একটি প্রয়োজনীয় এবং পরিণত আইন প্রণয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারি।
তৃতীয়ত, আমি দেখেছি যে, এই সমস্যার শেকড়ে একটি বীজ থাকে। সেটা হ’ল বৈষম্য।আমরা যখন আইন প্রণয়ন করি, তাতে অনেক সময় অস্পষ্টতা থাকে। তার মানে এটাও হতে পারেআবার ওটাও হতে পারে! এই ফাঁক দিয়েই দুর্নীতি ঢুকে পড়ে। আর সেজন্যই দেশ নীতি দ্বারাপরিচালিত হওয়া উচিৎ। ব্যক্তির খামখেয়ালিপনায় দেশ পরিচালনা করা উচিৎ নয়। দেশ নীতিদ্বারা পরিচালিত হলেও, ‘যদি’ এবং ‘কিন্তু’র জন্য অনেক সীমাবদ্ধতা দেখা যায়। আরযেখানে এই ‘যদি’ আর ‘কিন্তু’ থাকে না, সেখানে বৈষম্যের কোনও সুযোগ থাকে না। ঘরে বসেইযে কেউ বুঝতে পারেন যে, এটা আমার প্রাপ্য – আমার অধিকার, আর ওটা আমার জন্য নয় –আমি পেতে পারি না। তাঁকে আর বাইরে বেরিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। আর যা প্রাপ্য, তাওঅগ্রাধিকার অনুসারে তাঁর কাছে আসবে। নীতি দ্বারা পরিচালিত দেশে আইন নিজেই কথাবলবে। ব্যবস্থাও নিজে থেকে কাজ করবে। সেজন্য আমরা চাইছি, যাতে আমাদের বিষয়গুলিনীতিসম্মত হয়; লিখিত নীতি থাকে, যাতে কারও এর থেকে নড়চড় করার সুযোগ না থাকে। আরআইন প্রণয়নের সময় আমরা যত বেশি মানুষের মস্তিষ্ককে কাজে লাগাতে পারব, তত ভালো আইনপ্রণীত হবে। কোনও রকম গোপনীয়তার প্রয়োজন থাকবে না। অবশ্য, সরকারের বার্ষিক বাজেটইত্যাদি ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা জরুরি। না হলে, সুযোগসন্ধানী ধনী ব্যবসায়ীরাআগে থেকেই বাজারে নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে তা থেকে ব্যবসা বাড়িয়েঅনায়াসে ফুলে-ফেঁপে উঠবে। কিন্তু যেসব বিষয় বছরের পর বছর ধরে আলোচনার বিষয়বস্তুএবং কোনও না কোনোভাবে আইনের অংশ কিন্তু সংস্কার প্রয়োজন – এই বিষয়গুলি এমন যেসমাজের সাধারণ মানুষকে যুক্ত করলে এতে তীক্ষ্ণতা ও সূচিতা বৃদ্ধি পায়, অধিক উপযোগীপ্রমাণীত হয়! আর সেজন্য এই পথ অবলম্বনই শ্রেয়।
প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মানে শুধুই আধার কার্ড নয়। মনে করুন, চেকপোস্টগুলিতে যে সিসিটিভি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক থাকে, সেগুলি চালু থাকলে অনেক কাজেলাগে। অনেক সময় সিসিটিভি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক থাকলেও চালু রাখা হয় না। চালু করলেবিদ্যুতের বিল ওঠে। আর চালু না থাকলে অনেকের স্বার্থসিদ্ধি হয়। যে চেক পোস্ট দিয়েমানুষের আসা-যাওয়া ও পণ্য পরিবহণ বেশি হয়, সেখানে বাড়তি রোজগারও হয়। সেজন্যসিসিটিভি নিয়মমাফিক লাগানো থাকা কিন্তু চালু না থাকার মধ্যে অনেকের স্বার্থ নিহিতথাকে। সেজন্য প্রযুক্তি সম্বলিত ব্যবস্থা থাকাই যথেষ্ট নয়, চালু থাকা সুনিশ্চিতকরতে হয়। তবেই ব্যবস্থায় শুচিতা আনা সম্ভব।
একথা সত্যি যে অধিকাংশ মানুষই আজ আর আইনকে ভয় পান না। সরকারি ক্ষেত্রেওদুর্নীতিবাজরা বেপরোয়া, বরখাস্ত করে দিলেও অর্ধেক বেতন ঘরে বসে পাওয়া যায়। বিভাগীয়তদন্ত সামলে নেওয়ার পদ্ধতি তাদের জানা আছে। আর বিভাগীয় তদন্ত নাগালের বাইরে চলেগেলে বকেয়া বেতনও পাওয়া যায়। এহেন ব্যবস্থাগুলি পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত। আর সেজন্যযিনি সততার লড়াই লড়ছেন, সৎভাবে কিছু করতে চাইছেন, তাঁকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। সেব্যবস্থায় প্রত্যেকের চক্ষুশূল হয়। এই আপদ আমাদের বিভাগে কোথা থেকে এল – খাবেও নাখেতেও দেবে না! অনেক সরকারি আধিকারিকই এই বেইমানদের পথের কাঁটা হয়ে পদে পদেঅসহযোগিতার শিকার হন। সৎ মানুষদেরই বেশি সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। আজও সর্বস্তরেএই ধরনের সৎ মানুষরাই বেশি রয়েছেন। অধিকাংশ সাধারণ মানুষ বেইমান নন। সাধারণ সরকারিকর্মচারীরাও বেইমান নন। দেশের অধিকাংশ মানুষই সৎভাবে জীবনযাপন করেন। কিন্তুসামান্য কিছু হাতে গোনা বেইমানের জন্য এই প্রেসক্রিপশন দিতে হয়। সাধারণ মানুষসচরাচর এরকম ভাবেন যে, আমার অধিকার ছিল না, তাই হয়নি। আমি কাউকে ঘুষও দিইনি। আবারকিছু মানুষ তো থাকেনই, যাঁরা বাজারের থলি নিয়ে ঘুরতে থাকেন! হ্যাঁ ভাই, তোমারইন্টারভিউ’র ডাক এসেছে, ৫০ হাজার ঘুষ দিলে চাকরি হয়ে যাবে।
তারাও এতই ইমানদার যে চাকরি না হলে ঘুষের পাইপয়সা ফেরৎ দিয়ে যায়। তাদেরঅঙ্কটা হ’ল, ১০০ জনের কাছ থেকে ঘুষ নিলে এর মধ্যে ৫ জনেরও যদি এমনি এমনি হয়ে যায়,তা হলেই তো ওর পকেটে আড়াই লক্ষ থেকে গেল। তাকে এজন্য লোক দেখানো সরকারি অফিসেঘোরাঘুরির বেশি কিছুই করতে হয়নি। এই ইমানদার মানুষদের বেইমানিতেই দেশের সর্বনাশহচ্ছে।
আমি জানি যে, এদের ধরতে পারলে কঠিন আইন রয়েছে। কিন্তু ওরা যাতে সেই আইনেরফাঁক দিয়ে বেরিয়ে না যেতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। অনেক কিছুই হয়তো আমরাবুঝতে পারব না, তারা কোন্ পদ্ধতিতে কিভাবে কাজ করে বেরিয়ে যাচ্ছে! সেজন্য আমরা যেযেখানে আছি, প্রতিটি স্তরে সতর্ক থাকতে হবে! প্রতিটি স্তরে আমাদের ইতিবাচক ভূমিকাপালন করার চেষ্টা করতে হবে। সমষ্টিগত প্রচেষ্টায় আজও পৃথিবীতে সততাই নিয়ম, তা হলেভারতে এমনটি কেন হবে না! এটা ঠিক যে সম্প্রতি সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনেররিপোর্ট বলছে যে, দেশের দুর্নীতির পরিমাপ যা ১০০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, তা হ্রাসপেয়ে এখন ৭৬ শতাংশের কাছাকাছি এসেছে। উন্নত হয়েছে। কিন্তু এটুকু উন্নতিতেআত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। আমাদের আরও উন্নতির জন্য সতর্কতার পথ অবলম্বন করতেহবে, তা হলেই আমরা সর্বাধিক সুফল পাব।
এই সরকারের উদ্দেশ্য হ’ল – এ ধরনের শক্তিগুলিকে উৎসাহ দিয়ে ক্ষমতায়ন করা।সাধারণ মানুষ সততার স্বার্থে অনেক অসুবিধা মেনে নিতে অনেক সমস্যা সহ্য করতে রাজি।সামান্য কিছু মানুষই হৈচৈ করে। যাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরতে শুরু করে, তারা তোচেঁচাবেনই। সাধারণ মানুষ ভালো জিনিসের মাধ্যমে চলতে চান। আমরা সেই সাধারণ মানুষদেরঅনুসরণ করব। ভালো কিছু নিষ্কাশিত হলে আমরা মনে মনে আরও অনেক শক্তি পাব। সমাজেরওসহযোগিতা পাওয়া যাবে। আর সমাজ সঙ্গে থাকলে পরিণামও ভালো পাওয়া যায়।
আমি আরেকবার গণঅংশীদারিত্বের মাধ্যমে সতর্কতার অভিযানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারজন্য আপনাদের সম্পূর্ণ টিমকে ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে,বিগত এক সপ্তাহের চেষ্টায় লক্ষ লক্ষ মানুষকে আপনারা এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করতেপেরেছেন। এখন আপনারা আর হাতে গোনা কয়েকজন নন, লক্ষ লক্ষ মানুষ আপনাদের সঙ্গে যুক্তহয়েছেন। আপনাদের জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG /SB/ SB
Corruption is not something we can have in our system: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 7, 2016
Technology has a major role to bring in transparency: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 7, 2016
The state has to be policy driven. Things can't depend on the whims and fancies of individuals: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 7, 2016
While making laws and policies it is essential to have a broad range of inputs: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 7, 2016