Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ভিডিও কনফারেন্সিং – এর মাধ্যমে তৃতীয় ‘পোটাটো কনক্লেভ’ – এ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


গুজরাটের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিজয় রূপানিজী, আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিমণ্ডলের সদস্য শ্রী নরেন্দ্র সিং তোমারজী, শ্রী পুরুষোত্তম রূপালাজী, গুজরাটের কৃষি মন্ত্রী শ্রী আর সি ফালদুজী, মঞ্চে উপস্থিত অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বৈজ্ঞানিকগণ এবং আমার প্রিয় কৃষক ভাই ও বোনেরা,

 

মহাত্মা গান্ধীর ভূমিতে, মহাত্মা মন্দিরে আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন, স্বাগত জানাই।

 

আমাকে বলা হয়েছে যে, ‘গ্লোবাল পোটাটো কনক্লেভ’ – এ বিশ্বের অনেক দেশ থেকে বিজ্ঞানীরা আজ এই কনক্লেভে এসেছেন, হাজার হাজার কৃষক বন্ধু আর অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও এই সমারোহে সামিল হয়েছেন। আগামী তিনদিনে আপনারা সবাই গোটা বিশ্বের খাদ্য এবং পুষ্টির চাহিদার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন, কিছু নতুন সমাধান বেরিয়ে আসবে।

 

এই কনক্লেভের বৈশিষ্ট্য এটাও যে এখানে ‘পোটাটো কনফারেন্স’, ‘এগ্রি এক্সপো’ এবং ‘পোটাটো ফিল্ড ডে’, তিনটি একসঙ্গে আয়োজিত হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে যে, প্রায় ৬ হাজার কৃষক ‘ফিল্ড ডে’ – এর সুযোগে সমগ্র গুজরাটের ক্ষেতগুলিতে দেখতে যাবেন। আমি মনে করি যে, এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংনীয় প্রচেষ্টা।

 

বন্ধুগণ, এটা অত্যন্ত ভালো কথা যে এবার ‘পোটাটো কনক্লেভ’ দিল্লির বাইরে আয়োজিত হয়েছে, হাজার হাজার আলু উৎপাদনকারী কৃষকের মাঝে হচ্ছে। গুজরাটে এই কনক্লেভের আয়োজন এজন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই রাজ্য আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে প্রথম।

 

বন্ধুগণ,

 

বিগত দু’দশক ধরেই আলু উৎপাদন এবং আলু রপ্তানির ‘হাব’ হয়ে উঠেছে গুজরাট। বিগত ১০-১১ বছরে ভারতের মোট আলু উৎপাদনের হার যেখানে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে গুজরাটে আলু উৎপাদনের হার ১৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আলু উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মানের উৎকর্ষ বৃদ্ধির কারণ হ’ল, বিগত দুই দশক ধরে এই রাজ্যে কৃষকদের অনুকূলে নানা নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সেচের আধুনিক ও পর্যাপ্ত সুবিধা সৃষ্টি। উন্নত নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলেই আজ দেশের বড় আলু প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলি গুজরাটেই গড়ে উঠেছে আর অধিকাংশ আলু রপ্তানিকারকও গুজরাটেরই মানুষ। গুজরাটে অত্যাধুনিক গুদামজাতকরণ ও ঠান্ডাঘরের একটি বড় ও আধুনিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলিতে বিশ্বমানের সুবিধা রয়েছে।

 

এছাড়া, আজ ‘সুজালাম সুফলাম’ এবং ‘সোনী যোজনা’র মাধ্যমে গুজরাটেই সেই ক্ষেত্রগুলিতে সেচ ব্যবস্থা পৌঁছে গেছে, যেগুলি আগে খরার কবলে থাকতো।

 

সর্দার সরোবর বাঁধের ফলে গুজরাটের একটি বড় অংশ সেচের আওতায় এসে গেছে। এত বড় সেচখাল নেটওয়ার্ক এত কম সময়ের মধ্যে গড়ে তোলা একটি অন্যতম সাফল্য।

 

সেচের ক্ষেত্রেও বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর দৃষ্টিকোণ লাগাতার সংস্কারের পথে চলেছে। প্রতি বিন্দুতে অধিক ফসল – এই মন্ত্রকে শিরোধার্য করে প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলি করা হয়েছে। ক্ষুদ্রসেচকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ‘ড্রিপ’ এবং ‘স্প্রিংকলার’ সেচ বাড়ানো হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

গুজরাটের এই প্রয়োগ বিগত ৫ বছরে গোটা দেশে প্রয়োগ করা হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে আমরা লাগাতার এগিয়ে যাচ্ছি এবং অনেক সাফল্য অর্জন করছি। গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, কৃষকদের প্রচেষ্টা এবং সরকারের নীতির সমন্বয়েরই পরিণাম হ’ল যে, অনেক শস্য এবং অন্যান্য খাদ্য উৎপাদনে ভারত বিশ্বের শ্রেষ্ঠ তিনটি দেশের অন্যতম। এক সময়ে আমাদের ডাল নিয়ে সঙ্কট ছিল, প্রচুর পরিমাণে ডাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হ’ত। কিন্তু বছর পাঁচেক আগে দেশের কৃষকরা এই সঙ্কটমোচনের সংকল্প নিয়ে ডালচাষে নেমে পড়েন এবং জয়লাভ করেন।

 

বন্ধুগণ,

 

কৃষিকে লাভজনক করতে সরকার ক্ষেত থেকে শুরু করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বিতরণ কেন্দ্র পর্যন্ত এক আধুনিক এবং ব্যাপক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। আগামী পাঁচ বছরে শুধু সেচ এবং চাষের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নে কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

 

শুধু তাই নয়, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত ক্ষেত্রটিকে উন্নত করতে কেন্দ্রীয় সরকারও অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ক্ষেত্রকে ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে ‘পিএম কৃষক সম্পদা যোজনা’র মাধ্যমে মূল্য সংযোজন এবং মূল্য শৃঙ্খল উন্নয়নে সহায়তা, প্রতিটি স্তরে চেষ্টা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে অনেক কম সময়ে হাজার হাজার কোটি টাকার অনেক প্রকল্প দেশে বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

সরকার চায়, চাষে বিনিয়োগ হ্রাস পাক, কৃষকের খরচ কম হোক। সেজন্য সরকার প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির মাধ্যমে, কৃষকদের অনেক ছোট ছোট ব্যয়নির্বাহের ক্ষেত্রে সাহায্য করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৮ কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। এ মাসের গোড়াতেই প্রায় ৬ কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা সরাসরি ট্রান্সফার করা হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

কৃষক এবং উপভোক্তার মধ্যে স্তর কমিয়ে উৎপাদিত ফসলকে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্যের অপচয় হ্রাস করাও আমাদের অগ্রাধিকার। সেজন্য ঐতিহ্যগত কৃষিকে উৎসাহ যোগানো হচ্ছে। কৃষকদের জন্য ঋণ, উন্নত প্রযুক্তি এবং বাজারীকরণ পরিষেবা সহজ করতে ‘ফার্মার প্রডিউসার অর্গানাইজেশন’ গড়ে তুলতে উৎসাহ যোগানো হচ্ছে। সরকার চেষ্টা করছে যাতে আগামী পাঁচ বছরে এরকম ১০ হাজার নতুন কৃষক সংগঠন গড়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, ই-ন্যাম নামক একটি জাতীয় পর্যায়ে কৃষি বাজার কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে।

 

বন্ধুগণ,

 

সরকার কৃষি প্রযুক্তি-ভিত্তিক ‘স্টার্ট আপ’গুলি উন্নয়নে জোর দিচ্ছে, যাতে ‘স্মার্ট’ এবং ‘প্রিসিজন’ বা নিখুঁত কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় কৃষকদের ডেটাবেস এবং ‘এগ্রিস্টেক’ – এর উপযোগ করা যায়। ফলে কৃষকরা সেচের জল, খাদ্য এবং কীটনাশকের সঠিক ব্যবহারে সাহায্য পাবে। এতে বিনিয়োগ হ্রাস পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় কৃশকদের বেশি অংশীদারিত্বও সুনিশ্চিত হবে।

 

বন্ধুগণ,

 

সরকারের এই প্রচেষ্টা আরও সফল তখনই হবে, যখন আপনাদের মতো বিজ্ঞানী ও গবেষকরা পচনশীল সব্জিকে আরও বেশি সময়ের জন্য পচন থেকে রক্ষা করার সুলভ উপায় আবিষ্কার করতে পারবেন। আগামী দশকগুলি সম্ভাব্য প্রয়োজন ও সমস্যার কথা ভেবে উৎপাদন বৃদ্ধি, সুলভ ও দীর্ঘকালীন সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষকরা যাতে ফসলে সঠিক দাম পান – এরকম সমাধান বের করতে হবে।

 

এজন্য আমাদের এমন বীজও তৈরি করতে হবে, যা কম জলে অধিক ফলন দেয় আর উৎপন্ন ফসলের পচনশীলতা হ্রাস পায়। আমাদের এই প্রচেষ্টা থাকা উচিৎ, যাতে বীজের দামও কম হয় আর এর সঙ্গে যুক্ত ‘ইনপুট কস্ট’ও বেশি না হয়।

 

এর পাশাপাশি, কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক জৈব প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লক চেন ও ড্রোন প্রযুক্তির মতো নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার কিভাবে সুলভে বৃদ্ধি করা যায়, তা নিয়ে আপনাদের পরামর্শ এবং সমাধান গুরুত্বপূর্ণ হবে। আলুর উপযোগিতা বিশ্লেষণ করে ‘পোটাটো সাব সেক্টর’কে উৎসাহ প্রদানের জন্য নতুন নীতি এবং গবেষণা প্রকল্প রচনার সময় এসেছে। এই নীতি ও প্রকল্পের ভিত্তি হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণ।

 

আপনাদের মতো মেধাবী বন্ধুরা এসব করতে সক্ষম। আপনাদের প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপ ও আমেরিকায় আলু নানা রোগে যে কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেই বিপর্যয় আর ফিরে আসেনি।

 

একবিংশ শতাব্দীতেও যেন কেউ ক্ষুধার্ত না থাকেন এবং অপুষ্টিতে না ভোগেন, তা সুনিশ্চিত করার বড় দায়িত্বও আপনাদের মতো কৃষক, কৃষি ব্যবসায়ী, বৈজ্ঞানিক, খাদ্য প্রক্রিয়াকারকদের আগামী দিন ধরে আপনারা এই লক্ষ্যে কার্যকরী চিন্তাভাবনা ও আলাপ-আলোচনা করবেন। আরেকবার গুজরাট তথা ভারতে আসার জন্য আপনাদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি দিল্লির বাইরে এই কনক্লেভ আয়োজনের জন্য কেন্দ্রীয় কৃষি বিভাগকেও অভিনন্দন জানাই। আপনারা এখানে শুধু এত বড় মাপের শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজনই করেননি, দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিদের আপনারা কৃষি ক্ষেত্রেও নিয়ে যাবেন, কৃষকদের সঙ্গে মুখোমুখী কথা বলাবেন। এই মাটির সঙ্গে যুক্ত কর্মসূচি ভবিষ্যতে কতটা সফল হবে, তা আমি আন্দাজ করতে পারছি। আমি আরেকবার গুজরাটে আপনাদের স্বাগত জানাই। আপনাদের এই সফল মঙ্গলময় হোক। আপনারা গুজরাটের অদ্ভূত আতিথেয়তাকে উপভোগ করুন, গান্ধীজীর স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলি ঘুরে দেখুন। স্ট্যাচু অফ ইউনিটির স্মৃতি নিয়ে ফিরুন, এই কামনা নিয়ে আপনাদের অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

জয় জওয়ান, জয় কিষাণ!

 

ধন্যবাদ!!!

 

CG/SB/SB