পিএমইন্ডিয়া
নতুন ভারত, স্মার্ট ইন্ডিয়ার সংকল্প বাস্তবায়িত করতে আপনারা যাঁরা ব্রতী হয়েছেন, সেই নবীন বন্ধুদের অনেক অনেক অভিনন্দন।
এই নিয়ে তৃতীয়বার আমি প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি। ২০১৭ সালে যখন আমরা এই অভিযান শুরু করেছিলাম, তখন থেকে নিরন্তর এর কর্মকান্ড সম্প্রসারিত হচ্ছে।
বন্ধুগণ, স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন জাতীয় স্তরে অনুষ্ঠিত বৃহত্তম ‘ওপেন ইনোভেশন মডেল’ হিসাবে উঠে এসেছে। এখানে একই মঞ্চে বহুসংখ্যক শিল্পোদ্যোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, পেশাদার এবং ছাত্রছাত্রীরা মিলেমিশে কাজ করছেন। ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রী নিয়ে শুরু হওয়া এই হ্যাকাথনে আজ অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২ লক্ষে পৌঁছেছে। আজ আমি বলতে পারি যে, আমরা সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছি।
বন্ধুগণ, পূর্ববর্তী দুটি হ্যাকাথন থেকে অনেক উদ্ভাবক ধারণা উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে শুরুতে শুধুই সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার বেশ কিছু শিল্পোদ্যোগও নিজেদের সমস্যা আপনাদের সামনে এনে রেখেছেন।
এর মাধ্যমে নিশ্চিতভাবেই আপনাদের প্রচেষ্টার সম্প্রসারণ ঘটবে এবং একজন আবিষ্কারক বাজারে আপনাদের পরিচিতি বৃদ্ধি পাবে। বন্ধুগণ, আমাদের অর্থনীতি একটি নতুন ট্র্যাকে ছুটছে। আমরা সবাই মিলে যে নতুন ভারতের নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছি, তা এই উদ্ভাবন ও স্টার্ট আপ বিশ্বে সাফল্যের আলো দেখছে।
গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে আজ আমরা ৫৭তম স্থানে পৌঁছে গিয়েছি। ২০১৪’য় আমরা সেই তালিকায় ৮১ নম্বর স্থানে ছিলাম। অর্থাৎ আমরা সাড়ে চার বছরে ২৪ স্থান অতিক্রম করেছি। আমরা এখন যে মেজাজে কাজ করে চলেছি, অতি শীঘ্রই আমরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ২৫টি দেশের মধ্যে পৌঁছে যাব। ভারত আজ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট আপ দেশে পরিণত হয়েছে। বিগত ৩ -৪ বছরে ১৫ হাজারেরও বেশি স্টার্ট আপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই স্টার্ট আপগুলি শুধুই বড় বড় শহরে সীমাবদ্ধ নেই, দেশের প্রায় প্রত্যেক জেলাতেই এখন এই ধরণের স্টার্ট আপ স্থাপিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হ’ল নতুন স্থাপিত স্টার্ট আপগুলির প্রায় অর্ধেক ছোট ছোট শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এভাবে দেশের প্রায় ১৫০টি ‘টেকনোলজি বিজনেস ইনকিউবেটার্স’ – এর মধ্যে স্টার্ট আপ – এর সংখ্যা তিন বছর আগে যেখানে ১ হাজার ৬০০ ছিল, তা এ বছর দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ হাজারে পৌঁছে গেছে। বন্ধুগণ, উদ্ভাবন ও স্টার্ট আপের জন্য ইতিবাচক আবহ গড়ে তুলতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
অটল ইনকিউবেশন মিশন সম্পর্কে তো আপনারা ভালোভাবেই পরিচিত। সারা দেশে ৫ হাজারেরও বেশি বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যেই অটল টিঙ্কারিং ল্যাবস্ চালু হয়েছে। এগুলির মাধ্যমে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই ছাত্রছাত্রীরা ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হচ্ছে।
বন্ধুগণ, প্রশাসন এবং শিল্পোদ্যোগগুলির যে সমস্যা আপনাদের সামনে রাখা হয়েছে, সেগুলির পাশাপাশি, আমি আপনাদের একটি অনুরোধও জানাতে চাই।
শিশু ও মহিলাদের প্রতি অপরাধ দেশের ক্রমবর্ধমান সমস্যাগুলির মধ্যে অন্যতম। একটি উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে আমাদের এগুলি সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা কি এমন কোনও ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম উদ্ভাবন করতে পারেন, যার মাধ্যমে বাড়ি থেকে শুরু করে বিদ্যালয় পর্যন্ত শিশুদের সমস্ত গতিবিধি তদারকি করা যাবে। বাড়ি ও বিদ্যালয়ের পাশাপাশি, স্থানীয় পুলিশ স্টেশন এবং পেট্রোলিং ভ্যানকেও যাতে সঠিক সময়ে সক্রিয় করা যায়, এরকম একটি ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম উদ্ভাবন করতে পারলে আপনারা দেশ ও সমাজের অনেক উপকার করবেন।
একইভাবে, সড়কপথ ও গলিপথগুলিতে যাঁরা ফল ও সব্জি বিক্রি করেন, তাঁদের জন্য ই-মার্কেট প্লেসের মতো কোনও প্রযুক্তিগত সমাধান, যার মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে বাড়ি বাড়ি ফল-সব্জি সরবরাহের একটি সহজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
বন্ধুগণ, স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথনকে শুধুই একটি বার্ষিক কর্মতৎপরতা হিসাবে না দেখে একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া হিসাবে দেখতে হবে। যা সারা বছর ধরে চলবে, যাতে কোনও শিল্পোদ্যোগ বা সরকারি দপ্তরের সমস্যার অভিনব সমাধানের ক্ষেত্রে সমাধানকারীকে পুরস্কার প্রদান করা যায়! আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনাদের মতো অনেক নবীন প্রজন্মের বন্ধু নিরন্তর এই কর্মযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইবেন আর তাহলে এই সমস্যাগুলিরও সমাধান করা সম্ভব হবে।
আপনাদের সবার ওপর, আমার দেশের নবীন বন্ধুদের ওপর আমার সম্পূর্ণ ভরসা আছে। আপনারা সবাই নতুন ভারতের নতুন আত্মবিশ্বাসের প্রধান ভিত্তি।