Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

মণিপুরের ইম্ফলে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


lang=”BN”>ভাই ও বোনেরা,

 

কাকতালীয়ভাবেই গত বছর জানুয়ারির শুরুতে বিজ্ঞান কংগ্রেসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে আপনাদের কাছে এসেছিলাম আর গতকালই পাঞ্জাবে এ বছরের বিজ্ঞান কংগ্রেসের উদ্বোধন করে আজ এখানে এসেছি। আপনাদের কাছে এলে সত্যিই আমার খুব আনন্দ হয়। এটি দেশের এমন এক স্থান যেখানে প্রত্যেক প্রান্তে বিবিধতার মধ্যে ঐক্য অনুভূত হয়। এখানকার মহিলারাও স্বাধীনতা আন্দোলনকে ক্ষুরধার করে তুলেছিলেন, লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মবলিদানকারী সেই বোনেদের এবং তাঁদের সহযোগী প্রত্যেক বীর সৈনিককে মাথা নত করে প্রণাম জানাই।

 

বন্ধুগণ, এখানকার মইরাং-এ অবিভক্ত ভারতের প্রথম অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। আমাদের উত্তর-পূর্ব ভারতের নাগরিকরা তখন আজাদ হিন্দ ফৌজের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তখন মণিপুরীতে একটি কথা প্রচলিত ছিল – ‘নোন পোক থোঙ হঙ্গানি’ অর্থাৎ, স্বাধীনতার পথ পূর্বের দরজা দিয়েই খুলবে। আজাদ হিন্দ ফৌজ যখন সেই দরজা একবার খুলে দিয়েছে, তখন শত্রুরা আর সেই দরজা বন্ধ করতে পারেনি।

 

বন্ধুগণ, যে মণিপুর তথা উত্তর-পূর্ব ভারতকে নেতাজি ভারতের স্বাধীনতার ‘সিংহদ্বার’ করে তুলেছিলেন, আমরা এখন এই অঞ্চলকে ‘নতুন ভারত’-এর উন্নয়ন গাঁথার মুখ্য অংশ করে তুলতে চাই। যেখান থেকে দেশের স্বাধীনতার প্রথম কিরণ দেখা গিয়েছিল, সেখান থেকেই নতুন ভারতের শক্তিশালী চিত্র আপনারা প্রত্যেক নিজেদের চোখে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন।

 

বন্ধুগণ, এই ভাবনা নিয়ে কিছুক্ষণ আগে এখানে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে এক ডজন প্রকল্পের উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস করা হয়েছে। সেজন্য আমি মণিপুরের ভাই ও বোনেদের শুভেচ্ছা জানাই। এই প্রকল্পগুলি আপনাদের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে। এগুলির মাধ্যমে আপনাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, যুবসম্প্রদায়ের কর্মসংস্থান, বয়স্কদের ওষুধ, কৃষকদের সেচ ব্যবস্থার পরিষেবা শক্তিশালী হবে।

 

বন্ধুগণ, আপনারা সকলে সাক্ষী আছেন যে পূর্ববর্তী সরকারগুলি মণিপুর তথা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কি কি করেছে। তাদের এই মনোভাব দিল্লিকে আপনাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। প্রথমবার মাননীয় অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলকে উন্নয়নের পথে আনার সূত্রপাত করেন। তাঁর সেই উদ্যোগকে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা দিল্লিকে আপনাদের দরজায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এখন আর আগের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং আধিকারিকরা প্রকল্পের ফিতে কেটে সেদিনই দিল্লি ফিরে যান না। তাঁরা এখানে এসে সরেজমিনে তদারকি করেন। আপনাদের মধ্যে থেকে আপনাদের কথা শোনেন, পরামর্শ দেন, আপনাদের সমস্যা বোঝেন।

 

আমি নিজে বিগত সাড়ে চার বছরে প্রায় ৩০ বার উত্তর-পূর্ব ভারতে এসেছি। আমার আধিকারিকদের থেকে রিপোর্টের জন্য অপেক্ষ করতে হয় না। সরাসরি আপনাদের থেকে সমস্ত তথ্য পেয়ে যাই। আগের সরকারগুলির সঙ্গে বর্তমান সরকারের এটাই পার্থক্য। এহেন নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা এই অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদকে প্রতিহত করে ঐক্যসূত্রে বাঁধতে সক্ষম হয়েছি।

 

আজ উত্তর-পূর্ব ভারত পরিবর্তনের আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে থেমে থাকা, ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলি এখন অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পূর্ণ করা হচ্ছে। দেশের যে ১৮ হাজার গ্রাম রেকর্ড সময়ে বৈদ্যুতিকীকরণের মাধ্যমে অন্ধকার থেকে মুক্তি প্রদান সম্ভব হয়েছে, তার মধ্যে সর্বশেষ গ্রামটি হল মণিপুরের এই লেইশাঙ্গ জেলারই কাঙ্গপোকপি গ্রাম। ভারতের প্রত্যেক গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার অভিযানের কথা উঠলেই এখন লেইশাঙ্গ এবং মণিপুরের নাম অবশ্যই নেওয়া হবে।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

আজ মণিপুর ১২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট উপহার পেয়েছে। এটি নিছকই একটি চেক পোস্ট নয়। কয়েক ডজন পরিষেবা প্রদান কেন্দ্র এটি। ভারত-মায়ানমার সীমান্ত চেকপোস্টে যাত্রী এবং বাণিজ্যকে উন্নত পরিষেবা প্রদান করবে। পাশাপাশি, কাস্টম্‌স ক্লিয়ারেন্স, বিদেশি মুদ্রা বিনিময়, অভিবাসন সংক্রান্ত ছাড়পত্র, এটিএম, বিশ্রাম গৃহ ইত্যাদি পরিষেবা থাকবে। এখানে দেশের স্বাধীন ভূখণ্ডের প্রতীকস্বরূপ স্মারক নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

বন্ধুগণ, আজ এখানে যতগুলি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে, সেগুলি উন্নয়নের প্রতি আমাদের সরকারের দায়বদ্ধতাকে তো স্পষ্ট করেই, পূর্ববর্তী সরকারগুলির কর্মসংস্কৃতির সঙ্গে পার্থক্যও অনুভূত হয়।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

দোলাইথাবি বাঁধের ফাইল ১৯৮৭ সালে খোলা হয়েছিল। ১৯৯২ সালে ১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মাণ কার্য শুরু হয়েছে। কিন্তু তারপর সব থেকে যায়। ২০০৪ সালে একে বিশেষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ করা হয় কিন্তু তারপর আবার ১০ বছর ঝুলে থাকে। ২০১৪ সালে আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সারা দেশে এরকম প্রায় ১০০টি প্রকল্পের সমীক্ষা করা হয়। তারপর এই প্রকল্পের কাজ আবার শুরু হয়। ১৯ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে খরচ হয় ৫০০ কোটি টাকা। সময়ের কাজ সময়ে না করাকে আমি ‘ক্রিমিনাল নেগলিজেন্স’ বলে মনে করি। দেরি হওয়াতে দেশের কত বেশি টাকা খরচ হল। এই টাকা ভারতের নাগরিকদের, আপনাদের। তাঁরা নষ্ট হতে দিয়েছে।

 

বন্ধুগণ, এই প্রকল্প আগে সম্পূর্ণ হয়ে গেলে এখানকার হাজার হাজার কৃষকদের বিন্দু বিন্দু জলের জন্য হা-পিত্যেশ করতে হত না। এভাবে এখানকার যুবসম্প্রদায়ের কর্মসংস্থান প্রদানকারী থঙ্ঘল সুর বা ইকো ট্যুরিজম কমপ্লেক্সও ২০১১ সালে শুরু হয়েছিল। রাজ্যে আমাদের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই সেই কাজে গতি আসে আর আজ আপনাদের সেবার জন্য প্রস্তুত। তপুলের সুসংহত পর্যটন গন্তব্য প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এরকম হয়েছে। ২০০৯ সালে শুরু হলেও আমাদের সরকার এসে কাজ সম্পূর্ণ করেছে।

 

বন্ধুগণ, কৃষক হোক কিংবা যুবক-যুবতী, বিগত সরকারগুলির কর্মসংস্কৃতিতে ঢিমেতেতালের ফলে প্রত্যেকের অত্যন্ত লোকসান হয়েছে। আমাদের সরকার ব্যবস্থার এই স্থবিরতা দূর করে দ্রুত ও সময় নির্দিষ্ট কাজ করার কর্মসংস্কৃতি চালু করার সৎ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। একই ব্যবস্থা, একই আধিকারিক, একই কর্মচারী, একই দপ্তর, একই ফাইল – শুধু কর্মসংস্কৃতির পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে।

 

বন্ধুগণ, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আমার সামনে সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এই দশকের পর দশক ধরে ঝুলে থাকা অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলিকে সম্পূর্ণ করা। শিলান্যাসের মাধ্যমে ভোটের রাজনীতির অতীতকে বিস্মৃত হওয়া এত সহজ নয়। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, ১০০ কোটির প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে তখন ২০০-২৫০ কোটি টাকা খরচ হত। এই লোকসান আমি মেনে নিতে পারছিলাম না। সেজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলি, যথাসম্ভব উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করি, এর নাম রাখি ‘প্রগতি’। ‘প্রগতি’র বৈঠকে আমি কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারগুলির উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হই। প্রতিটি প্রকল্প ধরে ধরে নিজে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তদারকি করি। কোথায় কোথায় কি কি সমস্যা রয়েছে তা বোঝার চেষ্টা করি। তারপর সবাই মিলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সে সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। আধিকারিকদের উৎসাহিত করি, বোঝাই, তাঁদেরকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিই।

 

বন্ধুগণ, আমার লাগাতার বৈঠক চলতে থাকে, এখন পর্যন্ত ১২ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প এভাবে কালের গহ্বর থেকে তুলে এনে বাস্তবায়নের পথে আমরা দ্রুত এগিয়ে চলেছি। ফাইলচাপা যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও চুরি হয়েছে, সেগুলিকেও খুঁজে খুঁজে চালু করার কাজ করছি। এভাবে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক বিভাগের প্রত্যেক আধিকারিক মিলেমিশে কাজ করবে, কেন্দ্র ও রাজ্য মিলেমিশে কাজ করবে, রাজ্যের সমস্যা কেন্দ্র বুঝতে পারবে; এরকম একটি উত্তর যুক্তরাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে আমরা গড়ে তুলেছি।

 

বন্ধুগণ, আমরা যে সঙ্কল্প গ্রহণ করি, তাকে সিদ্ধ করার জন্য প্রাণপন পরিশ্রম করি। আমরা জানি, যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হলে সবচাইতে বেশি ক্ষতি হয় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। যাঁরা স্বপ্ন দেখে, কোনও কিছু করে দেখাতে চান, তাদের ক্ষতি হয়। যে গরিবরা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, তাঁদের আরও কষ্টে ভুগতে হয়। সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়। আমি আপনাদের কিছু উদাহরণ দিতে চাই।

 

সাওমবাঙ-এ আজ মণিপুরের খাদ্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এফসিআই-এর একটি গুদামঘর উদ্বোধন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৬-র ডিসেম্বরে আর আজ উদ্বোধন করতে পেরেছি। নির্দিষ্ট সময়ে সম্পূর্ণ হওয়ায় আমাদের অতিরিক্ত খরচ করতে হয়নি। আর মণিপুরের প্রয়োজন অনুসারে ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত শস্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নির্মিত হয়ে গেল। মণিপুরের সংরক্ষণ ক্ষমতা দ্বিগুণ করার জন্য অনেক প্রকল্পের কাজ চলছে। সেগুলিও দ্রুত সম্পূর্ণ হবে।

 

তেমনই উখরুল ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলির কয়েক হাজার পরিবারের পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের প্রয়োজন দেখে ২০১৫-র নভেম্বরে এই বাফার ওয়াটার রিজার্ভার প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। আর আজ তা উদ্বোধনও করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত এখানকার প্রয়োজন মেটানোর স্থায়ী সমাধান হয়েছে।

 

চুরাচান্দপুর, জোন থ্রি প্রকল্পের কাজও ২০১৪ সালে শুরু হয়েছে। আর আজ চার বছরের মধ্যে উদ্বোধনও করে দেওয়া গেছে। এর মাধ্যমে ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবারের পানীয় জলের প্রয়োজন মিটবে। লুম্বইয়ের স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবারের তৃষ্ণা মেটানোর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। তিন বছরের মধ্যে আজ সেটিরও উদ্বোধন হয়েছে।

 

ভাই ও বোনেরা, সরকারের কর্মসংস্কৃতি পরিবর্তনের ফলে আমাদের সরকার উত্তর-পূর্ব ভারতের সমস্ত রাজ্যেই এমনই অনেক প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পূর্ণ হয়েছে কিংবা দ্রুত সম্পূর্ণ হওয়ার পথে। আগামীদিনে এখানে খবাম লামখাই থেকে হন্নাচাঙ্গ হেগাঙ্গ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ, ইম্ফলে সংক্রামক রোগ চিকিৎসা কেন্দ্র, নতুন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং মিনি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের কাজ শুরু হবে।

 

বন্ধুগণ, কেন্দ্রীয় সরকার হোক কিংবা মণিপুরে বীরেন সিংহের সরকার, আমাদের মূলমন্ত্র হল – ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’। কোনও ব্যক্তি কিংবা ক্ষেত্রে যেন বাকি না থেকে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। পাহাড়ে হোক কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামে, রাজ্য সরকারের গণ-অংশীদারিত্বকে সরকারি প্রকল্পের অংশ করে তোলার প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ফলস্বরূপ, আজ মণিপুর হরতাল এবং অবরোধের দিনগুলি থেকে বেরিয়ে এসে আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করতে শুরু করেছে।

 

বন্ধুগণ, উন্নয়নের জন্য শান্তি এবং উন্নত আইন ব্যবস্থার প্রয়োজন তো থাকেই, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও ততটাই প্রয়োজন। সেজন্য আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে রূপান্তরণ – এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। বিগত সাড়ে চার বছরে গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক সম্প্রসারিত হয়েছে। এর মধ্যে মণিপুরেই ৩০০ কিলোমিটার সম্প্রসারিত হয়েছে। মণিপুরে রাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে।

 

বন্ধুগণ, আমরা রেলপথের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবক’টি রাজ্যের রাজধানীকে যুক্ত করার কাজ চলছে। প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিময়ে ১৫টি রেল লাইনের কাজ চলছে। মণিপুরেও জিরিবাম থেকে টুপুল-ইম্ফলের মধ্যে নতুন রেল লাইন পাতা হচ্ছে। দেশের কারিগরি দক্ষতার উদাহরণ জিরিবাম-ইম্ফল সেতুও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে অনেক বড় অবলম্বন হয়ে উঠবে।

 

বন্ধুগণ, মহাসড়ক এবং রেলপথের পাশাপাশি বিমান পরিষেবাও উন্নত করা হচ্ছে। ইম্ফল থেকে জিরিবাম, জমেঙ্গালাঙ্গ এবং মোরের মতো প্রান্তিক অঞ্চলকে হেলিকপ্টার পরিষেবার মাধ্যমে যুক্ত করা হচ্ছে। উড়ান যোজনার মাধ্যমে পাঁচটি হেলিপ্যাড গড়ে তোলা হচ্ছে। ইম্ফল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিস্তৃত করা হচ্ছে। আগামীদিনে এখানে এয়ার কার্গো টার্মিনালও চালু হবে। মণিপুরে হাইওয়ে, রেলওয়ে, এয়ারওয়ের পাশাপাশি আই-ওয়ে এবং ইনফরমেশন ওয়ে গড়ে তোলার কাজ চলছে। দ্রুত মণিপুরের সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রকে ডিজিটাল ব্রডব্যান্ড আই-ওয়ের মাধ্যমে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে জনগণ সরাসরি বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পগুলি দ্বারা উপকৃত হবেন। এর জন্য কয়েক কোটি টাকা অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকেও উন্নত করা হচ্ছে। আজই ৪০০ কেভির শিলচর-ইম্ফল লাইন দেশবাসীকে উৎসর্গ করা হয়েছে। ৭০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বিনিয়োগে নির্মীয়মান এই লাইন লোডশেডিং বা পাওয়ার কাটের সমস্যা দূর করবে।

 

বন্ধুগণ, আজ মণিপুরের মানুষ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানে অংশ নিয়ে মণিপুর দ্রুত নিজের রাজ্যকে উন্মুক্ত স্থানে প্রাকৃতিক কর্মমুক্ত ঘোষণা করে দিয়েছে। চন্দেল জেলা দেশের শতাধিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলার অন্তর্গত হওয়া সত্ত্বেও সমস্ত মাপকাঠিতে অনেক উন্নতি করেছে।

 

ভাই ও বোনেরা, মণিপুরের যুবক-যুবতীদের উচ্চশিক্ষা এবং পেশাদারী শিক্ষার জন্য যাতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যেতে না হয় সেটিকে লক্ষ্য রেখে আজ শিক্ষা, দক্ষতা এবং ক্রীড়া সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়েছে। এছাড়া, কারিগরি মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পের জন্য অর্থ মঞ্জুর করা হয়েছে।

 

বন্ধুগণ, মহিলা ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে মণিপুর অত্যন্ত এগিয়েরয়েছে। আমাদের সরকার তাঁদের ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করতে তিনটি নতুন বাজার নির্মাণের কাজ শুরু করবে। তাছাড়া, সরকার এ রাজ্যের প্রায় ৫ লক্ষ বোনেদের জন ধন অ্যাকাউন্ট খুলিয়েছে। মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে এ রাজ্যের প্রায় ২৫ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে ১ লক্ষ বোনকে উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে বিনামূল্যে রান্নার গ্যাসের উনুন প্রদান করা হয়েছে।

 

বন্ধুগণ, দেশের মহিলা শক্তির প্রতীক মেরী কমের জন্মভূমি ও কর্মভূমি মণিপুরের ক্রীড়া ক্ষেত্রে সাফল্যের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে। ভারতকে ক্রীড়াক্ষেত্রে সুপার পাওয়ার করে তুলতে উত্তর-পূর্ব ভারত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তুলতে চলেছে। বিগত চার বছরে সমস্ত আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খেলোয়াড়রা দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। সেজন্য আমরা মণিপুরের জাতীয় ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছি। আজকে যে প্রকল্পগুলির শিলান্যাস হয়েছে, সেগুলির মধ্যে হকি স্টেডিয়ামে ফ্লাড লাইট এবং ফুটবল স্টেডিয়ামে অ্যাস্ট্রোটার্ফ লাগানোর প্রকল্পও রয়েছে। পাশাপাশি, আমরা প্রশিক্ষণ ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করে তুলেছি। ফলে কমনওয়েলথ গেমস্‌, এশিয়ান গেমস্‌, প্যারা এশিয়ান গেমস্‌, যুব অলিম্পিক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় দেশের সাফল্য অভূতপূর্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

ভাই ও বোনেরা, দুর্নীতি ক্রীড়াক্ষেত্রে হোক কিংবা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে, দেশ আর একে মেনে নিতে পারবে না। সেজন্য আমাদের সরকার এমন ব্যক্তিদেরও আইনের কাঠগড়ায় নিয়ে এসেছে যাদের সম্পর্কে আগে কেউ ভাবতেও পারেনি। আপনারাও বুঝতে পারছেন, যারা দেশকে ধোঁকা দিয়েছে, যারা দুর্নীতিকেই সরকারি নীতিতে রূপান্তরিত করেছিল, তাদেরকে আজ আদালতের সম্মুখীন হতে হয়েছে। দেশের সৎ করদাতাদের অর্থে নিজেদের আখের গোছানো ব্যক্তিদের আমরা যথাস্থানে পৌঁছে দিয়ে তবেই শান্তি পাব, এই আশ্বাস আমি আপনাদের দিচ্ছি।

 

উন্নয়নযুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত নতুন ভারতের সঙ্কল্প নিয়ে আপনাদের আশীর্বাদ সম্বল করে আমরা জয়ী হবো। আর একবার আপনাদের আজ উদ্বোধিত ও শিলান্যাস করা প্রকল্পগুলির জন্য শুভেচ্ছা জানাই। “পুম না মাকপু অমুক্কা হন্না খ্রুমজারি।”

 

ভারত মাতার জয় ভারত মাতার জয় ভারত মাতার জয়।

 

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

 

SSS/SB/DM/…