Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

মধ্যপ্রদেশেরভোপালে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

মধ্যপ্রদেশেরভোপালে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

মধ্যপ্রদেশেরভোপালে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


শহীদগণঅমর হোন, অমর হোন, অমর হোন।

বন্দেমাতরম্‌!বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম!বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম! বন্দেমাতরম!

আমারসৌভাগ্য যে এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্তে আপনাদের মাঝে এসে দেশের বীরজওয়ানদের শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পেয়েছি। আমাদের দেশের সেনাদের স্মরণ অনুষ্ঠানে অধিকাংশক্ষেত্রেই তাঁদের উর্দি, অস্ত্রশস্ত্র ও দু’চোখে শত্রুর সন্ধানে অতন্দ্রতা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি এটাও ভাবা উচিত মানবতারজয়ধ্বজাকে দৃষ্টান্তমূলকভাবে উঁচু রাখার ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।যে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে, সাম্প্রতিক অতীতেই বদ্রীনাথ-কেদারনাথে তাঁরা যেভাবেপ্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে অসংখ্য পর্যটক ও স্থানীয় মানুষদের বাঁচিয়েছেন,নিজেদের জীবন বিপন্ন করে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তাকে নেহাতই পেশাদারিত্বের তকমা দিলে চলবেনা।

দু’বছরআগে শ্রীনগরে যে ভয়ানক প্লাবন হয়েছিল, এর আগে এমন বিপর্যয় শ্রীনগরবাসী দেখেননি। ঐপরিস্থিতির মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। ভারতীয় সেনা বিপর্যয় মোকাবিলারপ্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পেশাদারিত্বকে মানবতার সঙ্গে জুড়ে ঝাঁপিয়েপড়েছিল। তখন তাঁরা এটা মাথায় রাখেননি কারা ক’দিন আগে সেনার দিকে পাথর ছুঁড়েছিল,কারা সেনার চোখ উপড়ে নিয়েছিল, কাদের পাথরবৃষ্টিতে একাধিক সেনার মৃত্যু হয়েছে!তাঁরা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আবালবৃদ্ধবনিতা দুর্গতদের জীবন বাঁচিয়েছেন, বিপর্যয়পীড়িতদের আশ্রয়, আহার, চিকি ৎ সা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছেন।

পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে আমাদের দেশেওসংখ্যায় অনেক বেশি সৈন্য রয়েছে। কিন্তু যখনই বিশ্বের কোন বিবদমান অঞ্চলেরাষ্ট্রসঙ্ঘ শান্তিসেনা পাঠাতে চায়, তখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলাপরায়ণতা,সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁদের আচার-ব্যবহার ইত্যাদির নিরিখে বিশ্বে সর্বোচ্চ স্থানদেওয়া হয়। অন্যান্য দেশ থেকে দু’বছর বা তিন বছর সময়ের জন্য শান্তিসেনা চাওয়া হলেও,ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়মিত চাওয়া হয়। কারণ তাঁরা অন্য দেশে গিয়েও একইরকমশৃঙ্খলাপরায়ণ থাকেন, দেশের সম্মান রক্ষার্থে প্রয়োজনে অন্য দেশের মানবতার জয়ধ্বজাওড়াতে আত্মদানের জন্যও প্রস্তুত থাকেন। রাষ্ট্রসঙ্ঘের জন্মলগ্ন থেকে শান্তিসেনাহিসেবে সর্বাধিক নিয়োজিত হয়েছে ভারতীয় সেনা। এজন্য আমাদের গর্ব করা উচিত। নিছকইঅস্ত্রের ঝনঝনানি নয়, নৈতিকতার অধিষ্ঠানে, আচরণে, নিজেদের ব্যবহারে বিশ্ববাসীর মনজয় করেছে ভারতীয় সেনা।

সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় লাগাতার বোমাবিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে। ইয়েমেনে হাজারহাজার ভারতীয় নাগরিক আটকে পড়েছিলেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সেনাপাঠিয়েছি। তাঁদের পরাক্রম দেখুন। সন্ত্রাসদীর্ণ একটা দেশে গিয়ে ৫ হাজারেরও বেশিভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করে অক্ষত অবস্থায় আকাশপথে ভারতে ফিরিয়ে এনেছেন। শুধুআমাদের নাগরিকদের নয়, বিশ্বের অন্য অনেক দেশের নাগরিকদেরও তাঁরা উদ্ধার করেএনেছেন, পাকিস্তানি নাগরিকদেরও উদ্ধার করে এনে তাঁদের দেশে নিরাপদে পাঠিয়েছেন।কাজেই সেনার এই মানবিক ভূমিকাগুলি ভুলে তাঁদেরকে নিছকই সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরা,গুলি-বারুদ, বোমা, বন্দুক,পিস্তল ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্রের নিরিখে বিচার করা উচিতনয়। ভারতের ইতিহাস সাক্ষী, হাজার হাজার বছরের সাক্ষী রয়েছে; ভারতীয়রা কখনও অন্যদেশের এক ইঞ্চি ভূমি দখলের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করেনি, আমাদের পূর্বজরা কখনও পৃথিবীরকোনও দেশকে দখল করার প্রবৃত্তি নিয়ে সেসব দেশে অভিযান চালাননি। কিন্তু আক্রান্তহলে, আত্মরক্ষা করতে মূল্যবোধ ও আদর্শ থেকে ভারতীয় সেনা কখনও পিছপা হয় না।

আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, ভারতীয় সেনাপ্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেছে। কিন্তু ঐ বিশ্বযুদ্ধেআমাদের কোন স্বার্থ ছিল না। কোন পক্ষের জয়-পরাজয়ে আমাদের দেশ বা জনগণের লাভবানহওয়ার কোনরকম সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু ঐ দুই বিশ্বযুদ্ধে আমাদের দেশের দেড় লক্ষেরওবেশি বীর শহীদ হয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিশ্বের বড় বড় দেশ আজ অতীতে তাদের দেশেরনিরাপত্তা সুরক্ষিত করার স্বার্থে ভারতীয় সৈনিকদের আত্মবলিদানকে মনে রাখেনি।কিন্তু মানবতার খাতিরে, বিশ্বশান্তি সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আমাদের পূর্বজসৈনিকদের এই আত্মবলিদানের ইতিহাস আমরা তো কোনদিন ভুলতে পারব না। পাশাপাশি আমাদেরউচিত বিশ্ববাসীকে বারবার তাঁদের আত্মবলিদানের কথা স্মরণ করানো। এদেশে গৌতম বুদ্ধজন্মেছিলেন, মহাত্মা গান্ধী জন্মেছিলেন, অহিংসা ও মানবতার পরম্পরা আমাদের ধমনীতেপ্রবাহিত, আমাদের ডিএনএ-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য আমাদের স্বভাব, অহিংসা ও ভালোবাসায় বিশ্ববাসীর মন জয় করা। এই বৈশিষ্ট্য নিয়েই আমরাআমাদের সৈনিকদের শৌর্য ও সাহসের জন্য গর্ব অনুভব করি। জল, স্থল ও আকাশে আমাদের তিনবাহিনীর বীর সৈনিকরা ছাড়াও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সৈনিকরা, তটরক্ষী বাহিনী,ইন্দো-তিব্বত বর্ডার ফোর্স, সীমা সুরক্ষা বল, সিআরপিএফ – সকলের সকলের সমবেতঅতন্দ্র প্রহরার ফলস্বরূপ আমরা ভারতবাসী নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি। আর দেশবাসীনিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারলেই আমাদের সৈনিকরা সবচাইতে বেশি আনন্দ পান। কিন্তু আমাদেরযখন জেগে ওঠা উচিত তখনও আমরা ঘুমিয়ে থাকলে তাঁরা মনে দুঃখ পান। কিন্তুদুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা কখনও কখনও জেগে থাকার সময়ও শুয়ে থাকি। সংস্কৃতে কথিত আছে –“রাষ্ট্রায়ামজাগরয়াম বয়ম” –আত্মিক সতর্কতার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে হয়।

সর্বদা জেগে থাকুন। নাহলে শুধু সেনাজওয়ানরাই যদি জেগে থাকেন, তাহলে সেটা তাদের ওপর জুলুম করা হবে । আমাদেরও জেগেথাকার সময় জেগে থাকতে হবে। কেউ যদি ভাবেন, হাতেআধুনিক অস্ত্রশস্ত্র থাকলেই যুদ্ধ জেতা যায় সেটা ভুল ধারণা। সেনাবাহিনীর সবচাইতেবড় অস্ত্র হল তার মনোবল। সেই মনোবলের উ ৎ স অস্ত্রশস্ত্র হতে পারে না, তাঁদেরপেছনে ১২৫ কোটি ভারতবাসী দাঁড়িয়ে রয়েছেন; এই আস্থা তাঁদের মনোবল বৃদ্ধি করতে পারে।

একটি পুরনো ঘটনা আমার মনে পড়ছে,১৯৬২-র যুদ্ধ-পরবর্তী দীপাবলীর সময় সাধারণ মানুষ সৈনিকদের প্যাকেট ভরা মিষ্টিপাঠিয়েছেন। শ্রদ্ধা, ভক্তি ও ভালোবাসা থেকে তাঁরা মিষ্টি পাঠিয়েছেন। সেই মিষ্টিপৌঁছতে দেরি হলেও তাঁরা পাঠাতেন। একবার শুনেছিলাম বরোদার একটি মেয়ে কোন এক সৈনিককেমিষ্টি পাঠিয়েছিল, মিষ্টির প্যাকেটে ঐ সৈনিকের ঠিকানা লেখা ছিল, লেখা ছিল তারনিজের ঠিকানাও। ঐ সৈনিক পরে সেই ঠিকানায় পৌঁছে যায়। আর তারপর সারাজীবন সেইমেয়েটিকে বোনের মতো স্নেহ দেয়, ভালোবাসতে থাকে। সেনার এই ভূমিকাকে আমরা কখনও কখনওবুঝে উঠতে পারি না। আমাদের সেনা কম কথা বলে, পরাক্রম দেখায়। কিছুদিন আগে অনেকেইদু’বেলা আমার সমালোচনা করতেন, মোদী ঘুমিয়ে আছেন, মোদী কিছুই করছে না! আমাদের সেনামুখে কোন কথা বলেনি, তাঁরা পরাক্রম দেখিয়েছে। আমাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীও কোন কথাবলেননি।

প্রিয় দেশবাসী, এই শৌর্য স্মারকনির্মাণের জন্য আমি মধ্যপ্রদেশ সরকারকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই। যুদ্ধ স্মারকনির্মিত হয়, শহীদ স্মারক নির্মিত হয়, কিন্তু শৌর্য স্মারকে অনেক কিছু সমাহিত থাকে,এতে ‘প্লাস’ বা অতিরিক্ত সম্মান, গর্ব ও অহংকার প্রকাশ করা হয়। সেজন্যই এই শৌর্যস্মারক আমাদের সকলের জন্য একটি তীর্থক্ষেত্র। আমাদের ভবিষ্য ৎ প্রজন্মের জন্য এটি প্রেরণা মন্দির।সেনা কারা? তাঁদের জীবন কেমন? কেমন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেক ধমনীতেদেশাত্মবোধ প্রবাহিত হয়? কিসের টানে তাঁরা বাড়ি-ঘর, আত্মীয়-পরিজনকে পেছনে রেখেদেশের নিরাপত্তার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন? আত্মবলিদানের মতো মহান ত্যাগ আর কী রয়েছ? এইমহান ত্যাগকে কোন শব্দ দিয়ে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। এঁদের বীরগাথা প্রত্যেকমুহূর্তে, প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের প্রেরণা যোগাবে। তাঁদের জীবন প্রত্যেকভারতবাসীকে দেশের জন্য বাঁচতে, দেশের জন্য কিছু করতে উদ্দীপ্ত করবে। আমাদের দেশেএমন কোন মহান কবি নেই যিনি দেশের বীর সেনানি, শহীদ ও বীর যোদ্ধাদের স্মরণ করেননি,শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেননি। আমরা ছোটবেলায় মাখনলাল চতুর্বেদীর কবিতা পড়েছি, মুঝেতোড় লেনা বনমালী, উস পথ পর দেনা তুম ফেঁক/ মাতৃভূমি পর শীশ চড়ানে, জিস পথ জাওয়েঁবীর অনেক।

ভাই ও বোনেরা, এই শৌর্য স্মারকউদ্বোধনের সময় আমি রামধারী সিং দিনকারের একটি কবিতার পংক্তিমালা উল্লেখ করতে চাই, কলম,কলম, আজ উনকি জয় বোল/ কলম আজ উনকি জয় বোল/ জলা অস্থিয়াঁ বারী বারী,/ জলা অস্থিয়াঁবারী বারী/ চিট্‌কাই জিনমে চিঙ্গারী/ জলা অস্থিয়াঁ বারী বারী, চিটকাই জিনমেচিঙ্গারিয়াঁ,/ জো চড় গ্যায়ে পূণ্য বেদী পর, জো চড় গ্যায়ে পূণ্য বেদী পর/ লিয়ে বিনাগর্দন কা মোল, লিয়ে বিনা গর্দন কা বোল,/ ওহ চড় গ্যায়ে পূণ্য বেদী পর ।

এই মহাপুরুষদের এই বীরপুরুষদের পক্ষথেকে বিগত কয়েক দশক ধরে দেশের প্রতিটি সরকারের কাছে ‘এক পদ এক পেনশন’-এর দাবিজানানো হচ্ছিল। এই দাবি নিয়েই অনেকে প্রয়াত হয়েছেন। এঁরা দাবি জানালেও ইউনিয়নবাজীকরেননি, সরকারের সঙ্গে কোন সংঘাতে যাননি। এক্ষেত্রেও এঁরা শৃঙ্খলাপরায়ণতা এবংধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছেন। প্রত্যেক সরকার তাঁদের প্রতি ভালো ভালো শব্দ ব্যবহার করেতাঁদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এমনকি সচেতনভাবে তাঁদের বাজেটে এই বাবদ দু’শো থেকেপাঁচশো কোটি টাকা বরাদ্দও করেছে।আমরাও ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের দাবি পূরণেরপ্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আর আমি বীর সৈনিকদের সামনে বিনম্রভাবে জানাই – আমরাপ্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। কিন্তু এত বেশি পরিমাণ টাকা একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব হয়নি,আমরা প্রত্যেককে চার কিস্তিতে বকেয়া টাকা দিচ্ছি। ইতিমধ্যেই সাড়ে পাঁচ হাজার কোটিটাকা অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেছে। কতটা লাভ হয়েছে? যিনিহাবিলদার ছিলেন, ১৭ বছর চাকরি করে অবসর নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি এতদিন মাসে ৪,০৯০টাকা পেনশন পেতেন। ‘এক পদ এক পেনশন’ ঘোষণা হওয়ার পর থেকে তিনি মাসে ৭,৬০০ টাকাপেনশন পাচ্ছেন। প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।

ভাই ও বোনেরা, সপ্তম বেতন কমিশনের রায়প্রকাশিত হয়েছে। প্রত্যেক বেতন কমিশনেই কিছু না কিছু অ্যানোমালি থাকে।প্রত্যেকবারই থাকে। সেগুলি সামাধানের জন্য অ্যানোমালি কমিটি গঠিত হয়। এবারও সেইকমিটি গঠিত হয়েছে। সপ্তম বেতন কমিশন ষষ্ঠ বেতন কমিশনের থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের সকলকর্মচারীদের বেতন ২.৫৭ গুণ বৃদ্ধির রায় দিয়েছে। ভূতপূর্ব সৈনিকদের ক্ষেত্রে আমরাএই রায় অনুসারে কাজ করিনি। তাহলে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকরা আরও কম টাকা পেতেন। আমরা ‘একপদ এক পেনশন’ কার্যকর করার পর তাঁদের পেনশন যত হয়েছে তাকে ভিত্তি করে তাঁদের পেনশনকতটা বাড়ানো যায় সে চেষ্টা করেছি। এতে তাঁদের দ্বিগুণ লাভ হলেও আমার দেশেরসৈনিকদের স্বার্থে এটা জরুরি ছিল।

আমি একটি ‘প্রগতি’ কর্মপদ্ধতি চালুকরেছি। এই পদ্ধতিতে আমি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সকল রাজ্যের সকল বিভাগেরবিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিটি রাজ্যে সমানতালে উন্নয়ন যাত্রা সুনিশ্চিতকরি। এটা করতে গিয়ে আমি অবাক হয়ে দেখি যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনেক অনেক অভিযোগ মুলতুবিরয়েছে। আমরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে সেসব পাহাড়প্রমাণঅভিযোগের মীমাংসা করার চেষ্টা করছি। অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের সমস্যাগুলি সমাধানেরক্ষেত্রেও আমরা একইরকম দ্রুততার সঙ্গে কাজ করেছি। আমরা জানি নাগরিক সমাজ,বুদ্ধিজীবীরা এসব নিয়ে তেমন ভাবেন না। তাঁদের কাছে যৌবন উপভোগের বিষয়। ৩৫-৪০ বছরবয়স হলে তাঁরা ভোগে ক্লান্ত হয়ে একসময় অন্যরকম জীবনযাপন করতে চান । সেনাবাহিনীতেজীবন অন্যরকম হয়। জীবনের যে বয়স আমরা উপভোগ করি , তাঁরা সেই যৌবন কাটিয়ে দেন সীমান্তে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত,সপ্তাহ, মাস, বছরের পর বছর অতন্দ্র প্রহরায়। সুখ-সম্ভোগ, বৈভব-আরাম, আয়েশ,মৌজমস্তি, স্বপ্ন সবকিছু মা ভারতীর সেবায় দেশের মাটিকে উ ৎ সর্গকরে মাত্র ৩৫-৪০ বছর বয়সে তাঁরা অবসরগ্রহণ করেন। কিন্তু তখন সংসার চালানোর জন্যতাঁদেরকে আবার নতুন করে জীবিকা অন্বেষণে লেগে পড়তে হয়। এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়েনতুন লড়াই শুরু করতে হয়।

এখন আমরা প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজারঅবসরপ্রাপ্ত সৈনিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছি। ভারত সরকার আরেকটিগুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। অবসর গ্রহণের এক বছর আগেই সৈনিক ভাইদের সিভিল লাইফেকর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করেছি। ভারত সরকারের স্কিলডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে আমাদের জল, স্থল ও বায়ুসেনার একটি মউ স্বাক্ষরিতহয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নের পর প্রত্যেক সৈনিককে সরকারের পক্ষ থেকে শংসাপত্র দেওয়া হয়।তারপর তাঁদের কমিউনিকেশন এক্সপার্টদের দ্বারা প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরির ইন্টারভিউদেওয়ার উপযোগী করে তোলা হয়। সেনাবাহিনীতে তাঁদের যে দক্ষতা রয়েছে তার সঙ্গে এইদক্ষতা যুক্ত করে সরকারের পক্ষ থেকে শংসাপত্র দেওয়া হয় যাতে তাঁদের বাইরে চাকরিপেতে অসুবিধা না হয়।

অনেকেই হয়তো জানেন না, দেশেরপ্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বিবেচনাধীন একটি অর্থরাশি বাজেট বরাদ্দ থাকে। অবসরপ্রাপ্ত এবংপ্রয়াত সৈনিকদের পরিবার-পরিজনদের নানা সমস্যা, নানা প্রয়োজনীয়তা, ছেলে-মেয়েদেরপড়াশোনা, মেয়ের বিয়ে ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য আগে বছরে গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজারমানষ লাভবান হতেন। আমাদের বর্তমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সক্রিয় অংশগ্রহণে বর্তমানেগড়ে ৫০ হাজার পরিবার উপকৃত হচ্ছেন। আগে ভূতপূর্ব সৈনিকদের ছেলে-মেয়েরা যেছাত্রবৃত্তি পেত তা তাদের হাতে পৌঁছতে বছরখানেক লেগে যেত। আমরা এই প্রযুক্তি যুক্তকরে এই প্রক্রিয়াকেও ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হয়েছি। তারা এখন অনেক কম সময়ের মধ্যেইছাত্রবৃত্তি পাচ্ছে। ছাত্রবৃত্তির টাকাও ৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫,৫০০ টাকা করাহয়েছে। ৯০ শতাংশ সৈনিক হাবিলদার বা তার নিচের র‍্যাঙ্ক থেকে সেবানিবৃত্ত হন। আগেহাবিলদার পদ থেকে যাঁরা সেবানিবৃত্ত হতেন তাঁদের কন্যার বিবাহের জন্য এককালীন ১৬হাজার টাকা দেওয়া হত। আমাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সেই অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করে৫০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। যুদ্ধে আহত হয়ে যাঁরা শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন,তাঁদেরকে স্বাস্থ্য শংসাপত্রে বিশেষজ্ঞ চিকি ৎ সক লিখে দেন ২০ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ৪৫,৫০ কিংবা ৫৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী। সেই মানদণ্ড অনুসারে তাঁরা আর্থিক সহায়তা পেতেন।আমরা এই ব্যবস্থাকে সরলীকরণ করে ৫০ শতাংশের কম, ৫০-৭৫ শতাংশ এবং ৭৫ শতাংশের অধিক –এই তিন পর্যায়ে ভাগে করে দিয়েছি। এর ফলে দেশের সেবায় প্রতিবন্ধী হয়ে অবসর জীবনেরকষ্ট ভুগতে থাকা মানুষেরা অনেকটাই স্বস্তি পাবেন।

শুধু তাই নয়, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের চিকি ৎ সারজন্য আমরা সারা দেশে আরও ৪৭২টি নতুন হাসপাতালকে তালিকাভুক্ত করেছি যেখানে তাঁরাবিনা খরচে চিকি ৎ সার সুবিধা পাবেন। আমাদের মধ্যপ্রদেশে এমনই ৬৪টি নতুন হাসপাতালতালিকাভুক্ত করেছি। একের পর এক এমনই অনেক পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি যাতে আমাদেরঅবসরপ্রাপ্ত সৈনিকরা উপকৃত হন। আমাদের দেশের গর্ব এই মানুষদের উন্নয়নকে অগ্রাধিকারদিয়ে আমরা নবীন প্রজন্মের যুবকদের সেনাবাহিনীর প্রতি আকর্ষিত করতে চাই। যাঁরাসক্ষম, যাঁরা মেধাবী, যাঁদের মনের জোর রয়েছে, আত্মবিশ্বাস রয়েছে, তাঁরা যাতে এগিয়েআসেন। বিগত দু’বছর ধরে আমরা এই লক্ষ্যে লাগাতার কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাসআমাদের এই নিরন্তর প্রয়াস সেনাবাহিনীর শূন্যপদগুলি পূরণ করার পাশাপাশি নবীনপ্রজন্মের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কার্যকরী হয়ে উঠবে। এর ফলে আমরা নিজেদেরপ্রয়োজনীয়তা পূরণের পর নিজেদের শক্তি মানবতার অগ্রগতির কাজে লাগাতে পারব।

আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমি আরেকবারবীর শহীদদের প্রণাম জানাই। সেই মায়েদের প্রণাম জানাই যাঁরা এই বীর যোদ্ধাদের জন্মদিয়েছেন। সেই বোনেদের প্রণাম জানাই যাঁরা তাঁদের প্রিয়তমকে হারিয়েছেন, তারপরওদেশের সেবার জন্য নিজের সন্তানকে বড় করে তুলছেন, পিতার বীরত্বের কথা শুনিয়েপরবর্তী প্রজন্মকে প্রেরণা যোগাচ্ছেন। আমি শহীদ পরিবারগুলির প্রত্যেক সদস্যকেপ্রণাম জানাই।

ভাই ও বোনেরা, বিশ্বের অনেক দেশে আমিদেখেছি বিমানবন্দরে কিংবা অন্য কোথাও যেখানে অনেক মানুষ প্রতীক্ষারত, হঠা ৎ ইসেখান দিয়ে কয়েকজন ইউনিফর্ম পরিহিত সৈনিককে হেঁটে যেতে দেখে উপস্থিত সকলে উঠেদাঁড়িয়ে সম্ভ্রম জানাচ্ছেন। আমাদের দেশেও কি আমরা ধীরে ধীরে এই সংস্কৃতি গড়ে তুলতেপারি? শুধু যুদ্ধের সময়ই নয়। অন্য সময়ও কি আমরা তাঁদের সম্মান জানানোর অভ্যাস গড়েতুলতে পারি? আপনারা সকলে মেনে চলবেন তো? দেখবেন তাহলে এরপ্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হয়ে উঠবে। আমার বিশ্বাস শৌর্য স্মারকের মত ব্যবস্থা আমা দের দেশের মানুষকে সম্মান প্রদর্শনের প্রশিক্ষণদেবে। এভাবে আমরা ভবিষ্য ৎ প্রজন্মকে সম্মান প্রদর্শনে প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারব। একে আমরা একটিমুক্ত বিদ্যালয় কিংবা মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। আরেকবারআপনাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাই। আমার সঙ্গে মুষ্টিবদ্ধ হাতে জোরে বলুন, শহীদোঅমর রহো। এই আওয়াজ অনেক দূরে পৌঁছে যাক। শহীদো অমর রহো, শহীদো অমর রহো,শহীদো অমর রহো ।

অনেক অনেকধন্যবাদ।

PG/SB/DM