পিএমইন্ডিয়া
আমি শ্রদ্ধেয়া সুমিত্রা মহাজন’কে অভিনন্দন জানাই কারণ এই মহাসম্মেলন তাঁর ভাবনাপ্রসূত। যেভাবে এর অধিবেশনগুলি আয়োজিত হয়েছে, যে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আপনারা যেভাবে সক্রিয় ও স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ করেছেন, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী প্রায় সকল অধিবেশনে উপ্সথিত ছিলেন – সব খবরই আমি পেয়েছি। দিল্লি এলে সকলেরই অনেক ব্যক্তিগত কাজ থাকে। কিন্তু আপনাদের মনে এতো জিজ্ঞাসা ছিল, আপনাদের কাজের পরিবেশের নানা প্রতিবন্ধকতা নিরসনের তাগিদ ছিল।
যে স্বপ্নগুলি সফল করতে আপনারা সার্বজনিক জীবন বেছে নিয়েছেন, সেগুলিকে সাকার করার ক্ষেত্রে প্রতিদিন যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন সেগুলি সমাধানের পথনির্দেশ চাই। সেজন্যই গত দেড় দিন ধরে আপনারা অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। আমি আপনাদের সামনে একটি তৃতীয় বিষয় তুলে ধরতে চাই, এ ধরনের সম্মেলনে প্রথাবদ্ধভাবে যে বিষয়গুলি সম্পর্কে জানা যায়, কখনও কখনও চায়ের বিরতি, খাওয়ার সময়ে কিংবা সম্মেলনে আসা-যাওয়ার পথেও কোনও অভিজ্ঞ মানুষের কাছ থেকে তার থেকে বেশি জানা যায়, পরস্পরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া যায়। তারপর, আপনারা যখন মহাসম্মেলন শেষে নিজের নিজের কর্মপরিসরে ফিরে যাবেন, তখন অনেক অজানা প্রতিকূলতার মুখোমুখী হয়ে ইতিবাচক কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
এখানে শ্রদ্ধেয় সুষমা স্বরাজের একটি বক্তব্য উল্লেখিত হয়েছে, তাঁর এই বক্তব্য লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নারী ক্ষমতায়ন এবং হীনমন্যতা দূরীকরণেও তাঁর এই উক্তি প্রযোজ্য। যাঁদের হয়নি, তাঁদেরই তো ক্ষমতায়ন চাই, যাঁরা ইতিমধ্যেই ক্ষমতাশালী, পুরুষ হোন কিংবা নারী – তাঁদের ক্ষমতায়ন কে করাবে? নারী ক্ষমতায়নে পুরুষের মুখাপেক্ষী হওয়ারও কোনও প্রয়োজন নেই, নিজের শক্তিকে চিনতে হবে।
নিজের শক্তিকে না চিনলে আমরা সমস্যা মোকাবিলা করার সাহস জোটাতে পারবো না। বিভিন্ন সামাজিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্ত্রীর মৃত্যু হলে পুরুষ বেশিদিন পরিবার পরিচালনা করতে পারেন না এবং বেশিদিন বাঁচেনও না। কিন্তু, স্বামীর মৃত্যু হলে মহিলারা তুলনায় অনেক বেশিদিন সাফল্যের সঙ্গে পরিবার পরিচালনা করেন আর যতদিন তাঁর নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে, প্রায় ততদিনই বেঁচে থাকেন।
এটা মহিলাদের আত্মিক শক্তি ও সামর্থ্যের প্রমাণ। ঈশ্বর আপনাদের তুলনায় অধিক সামর্থ্য দিয়ে পাঠিয়েছেন। সেই সামর্থ্যকে চিনতে হবে। আজকাল ম্যানেজমেন্টের দুনিয়ায় ‘মাল্টি স্টার অ্যাক্টিভিটি’ এবং ‘মাল্টি টাস্ক অ্যাক্টিভিটি’ অত্যন্ত পরিচিত শব্দ। এর বিপরীতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই যে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটেছে, তা হল ‘সিঙ্গল টানেল অ্যাক্টিভিটি’। এক্ষেত্রে ব্যক্তির মেধা একদিকেই বিকশিত হয় এবং তিনি তাঁর অবদান রাখেন। কিন্তু, কোনও কারণবশত সেই সুড়ঙ্গে কোথাও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে তাঁর জীবনও থেমে যায়। যিনি নিয়মিত লিফট চড়ে দশ তলায় ওঠা-নামা করেন, হঠাৎ একদিন বিদ্যুৎ চলে গেলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামা করতে তাঁর খুবই কষ্ট হয়। সেজন্যই ম্যানেজমেন্টের দুনিয়ায় ‘বহুধা বিস্তৃত সক্রিয়তা’কে এতো গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের দেশের মেয়েদের দিক যদি তাকাই, তাঁরা প্রায় সকলেই দশভুজা। এফ এম চ্যানেল চালিয়ে গান শুনতে শুনতে, মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে তাঁরা রান্না করতে পারেন, ছেলেমেয়েদের হোমওয়ার্ক ও অন্যান্য নির্দেশও দিতে পারেন।
সার্বজনিক ক্ষেত্রেও যেখানেই মহিলারা দায়িত্ব নির্বাহের সুযোগ পেয়েছেন, তাঁদের সাফল্যের স্তর অত্যন্ত ওপরে। দেশে কবে কে বিদেশ মন্ত্রী ছিলেন জিজ্ঞেস করলে দু’বার চিন্তা করতে হবে, কারণ আপনার মনে বিদেশ মন্ত্রী হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছেন শ্রীমতী সুষমা স্বরাজ।
আমাদের সংসদে অনেক অধ্যক্ষ সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে গেছেন, কিন্তু অধ্যক্ষ হিসেবে সর্বাধিক উজ্জ্বল মীরা কুমার এবং সুমিত্রা মহাজন-এর কর্মকাল। এখন অনেক রাজ্যেও মহিলা অধ্যক্ষ রয়েছেন, যাঁরাই সুযোগ পেয়েছেন, তাঁরাই সকলের মনে দাগ কাটার মতো সাফল্য অর্জন করেছেন। আজকের এই সম্মেলনেও বিভিন্ন রাজ্য থেকে অনেক মন্ত্রী মহোদয়া এসেছেন, আমি নিশ্চিত, তাঁরা অন্যাদের তুলনায় ভালো কাজ করছেন।
বিগত শতাব্দীর শেষের দিকে আফ্রিকার রোয়ান্ডায় একটি বড় গণহত্যা হয়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এঁদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন পুরুষ। বাধ্য হয়ে মহিলারা দেশের দায়িত্ব সামলান এবং সাফল্যের সঙ্গে উদ্ভুত পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন। আজ তাঁদের সংসদের নিম্ন কক্ষের প্রায় ৬৫ শতাংশ মহিলা জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। দেশের সড়ক, বিমানবন্দর এবং বিভিন্ন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে দেশের পরিকাঠামোকে অত্যাধুনিক করে তুলে তাঁরা দেশকে ইতিমধ্যেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো শক্তিশালী করে তুলেছেন।
রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে হলে দেশের সকল ব্যক্তির ক্ষমতায়ন চাই। কোনও মানুষের চরিত্র গঠনের কাজটি প্রথম করেন তাঁর মা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের মা ও বোনেরা দেশকে অনেক উজ্জ্বল রত্ন উপহার দিয়েছেন। সেজন্য আমাদের কোনও হীনমন্যতায় ভোগার প্রয়োজন নেই। আমি বলছি বলে নয়, নিজের মনকে জিজ্ঞেস করুন, তা হলেই দেখবেন আপনি কতো সামর্থ্য রাখেন।
আমাদের দেশের গরিবঘরে মায়েরা রুটি বানাতে বানাতেও অন্য কাজ করেন। উঠে গিয়ে তিনবার জানালা দিয়ে দেখেন তাঁর স্বামী ফিরছেন কি না। সামান্য অন্য মনস্ক হলে তাঁর হাতে ফোসকা পড়ে যায়। তিনি তাঁর স্বামীকে সেই ফোসকা দেখাতে চান না। কোনও মা বাজারে গিয়ে কোনওভাবে শুনতে পেলেন যে পাড়াতে আগুন লেগেছে, তিনি তখনই ছুটে বাড়ি চলে আসেন এবং তাঁর সন্তানকে রক্ষা করেন।
জনপ্রতিনিধি হিসেবেও আপনাদের অনেক কাজ করতে হয়। আইন প্রণয়নে অংগ্রহণ করা, খসড়াগুলিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে সংশোধনী আনা। প্রত্যেক জনপ্রতিনিধিকেই এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করতেই আপনাদের নির্বাচন করে পাঠিয়েছেন। পারিবারিক ক্ষেত্রেও কোনও বাড়ি বা ফ্ল্যাট নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থপতি যে নক্শা এঁকেছেন তাতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মহিলারাই পরিবর্তন আনেন যে, রান্নাঘর এদিকে হবে আর শৌচাগার ঐ দিকে। যে কোনও বিষয়কে আপনারা সময়ের আগে উপলব্ধি করতে পারেন, যা সম্ভবত পুরুষেরা পারেন না।
আমি দেখেছি, মহিলা জনপ্রতিনিধিরা যদি কাউকে কথা দেন যে, অমুক দিন সকাল ৮টায় তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন, তা হলে ঝড়-বৃষ্টি যাই থাকুক না কেনো তিনি দেখা করেন-ই। এভাবেই তাঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন। আমরা হলে টেলিফোন নম্বর দিয়ে বলতাম, আসার আগে ফোন করে নেবেন, আমি থাকলে তবেই আসবেন।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাদের রাজনীতির ময়দানে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। স্পর্ধা ও ঈর্ষার খেলা চলে। কোনও জনপ্রতিনিধি যদি দেখেন, তাঁর এলাকায় ২-৪ জন তেজস্বিনী রয়েছেন, তা হলে তিনি অনেক সতর্ক থাকেন। সবসময় নিজেকে গড়তে গড়তেই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়। আর ভাবতে হয় যে আগামীদিনে আমি এতো শক্তিশালী হয়ে উঠবো যে প্রতিপক্ষকে ছাপিয়ে যাব। এই জেদই আপনাকে আত্মসমীক্ষায় বাধ্য করবে। নিজের আত্মিক শক্তিকে আবিষ্কার করতে পারলে, আপনাকে কেউ আটকাতে পারবে না।
সার্বজনিক ক্ষেত্রে নিজের শক্তি আর ব্যক্তিত্ব নিজেকেই গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রত্যেক কর্মপরিসরে, গ্রামসভা কিংবা নগরপালিকায়, বিধানসভা কিংবা লোকসভায় এক-তৃতীয়াংশ জনপ্রতিনিধি এখন মহিলা। অন্যদের কথা ছাড়ুন, এই এক-তৃতীয়াংশ মহিলা জনপ্রতিনিধি যদি তাঁর এলাকার সকল মহিলাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ক্ষমতায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তা হলেই অদূর ভবিষ্যতে দেশের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মহিলা ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত হবে।
শ্রদ্ধেয় সুমিত্রা মহাজন, এখানে আপনাদের জন্য যা কিছু শেখার সুযোগ করে দিয়েছেন, আমার আশা, আপনারা সকলেই নিজস্ব কর্মক্ষেত্রে ফিরে গিয়ে সেগুলি প্রয়োগ করবেন।
আরেকটি বিষয় আমি বলতে চাই, সমাজের সকল ক্ষেত্রে এখন প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আপনাদের সেগুলি সম্পর্কে অবগত হতে হবে এবং নিজেদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। আপনারা যেমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রান্নার সরঞ্জাম দ্রুত নিজেদের রান্নাঘরে প্রয়োগের ক্ষেত্রে পারদর্শিতা দেখান, তেমনই সামাজিক ক্ষেত্রেও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন, যে কোনও বাণিজ্যিক পণ্যকে বাজারজাত করার আগে সেই পণ্যের কোন বিষয়টি মহিলাদের বেশি ভালো লাগবে, তা ভেবে কোম্পানিগুলি উৎপাদন করেন। সেজন্য, তারা সামাজিক সমীক্ষা করেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবেও আমার এলাকার মানুষের কল্যাণে কোন্ প্রযুক্তি অধিক ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ধারণ করতে হলে আমাদের সেই প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে হবে, নিজেদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। আজ আপনাদের এলাকায় ২ শতাংশ মানুষও এমন নেই যে যাঁরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। আপনাদের সকল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাঁদের এই মোবাইল যোগাযোগকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে পারেন, সে সম্পর্কে ভাবুন।
আমার অভিজ্ঞতার কথা বলি, ‘নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ’-এ দেশের সকল প্রান্তের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন আমাকে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানান। যে কোনও খবর আমার কাছে দ্রুত চলে আসে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে যে mygov.in প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, সেখানেও লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ যুক্ত রয়েছেন। আপনারাও নিজেদের মতো করে এই ধরণের ব্যবস্থা চালু করতে পারেন। আমি লোকসভা ও রাজ্যসভাকে অনুরোধ করবো যে তারা মহিলা জনপ্রতিনিধিদের জন্য সরকারিভাবে একটি স্বতন্ত্র ই-প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুক। সেই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে দেশের সকল বিধানসভার মহিলা জনপ্রতিনিধিরা যাতে যুক্ত থাকতে পারেন সেই ব্যবস্থা রাখা হোক। প্রযুক্তির একটা নিজস্ব শক্তি আছে। আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, একবার রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চল পার্বত্য তহশিল কাপরাডা’য় যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। গুজরাটের অধিকাংশ মুখ্যমন্ত্রী তাদের শাসনকালে একবারও সেই অঞ্চলে যাননি। আমি রাজ্যের সকল এলাকায় যেতাম কিন্তু আমারও সেখানে যেতে তিন বছর লেগে গিয়েছিল। সেখানে আমার অন্তত একটি বৃক্ষ রোপনের ইচ্ছা ছিল। কিন্তু, আমার আগ্রহ দেখে রাজ্যের আধিকারিকরা ৫০-৬০ লক্ষ টাকা খরচ করে ঐ এলাকায় একটি দুগ্ধ সংরক্ষণের জন্য ঠান্ডাঘর নির্মাণ করলে তার উদ্বোধনের জন্য আমি গেলাম। এই ছোট প্রকল্পের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ডাকতে তাঁরা সঙ্কোচবোধ করছিলেন। কিন্তু আমি জোর করেই গেলাম। সেখানে আয়োজিত একটি জনসমাবেশে ৩০-৩৫ জন আদিবাসী গোয়ালিনী এসেছিলেন। তাঁরা একটি নিরাপত্তা বেষ্টনির বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। আর প্রত্যেকের হাতেই ছিল মোবাইল ফোন, তাঁরা আমার ছবি তুলছিলেন। আমি আজ থেকে ১০ বছর আগের কথা বলছি। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম তাঁদের, এই ছবি নিয়ে আপনারা কী করবেন? এক বোন জবাব দিলেন, স্টুডিও’তে নিয়ে গিয়ে ডাউনলোড করবো। তার মানে ভাবুন, এক পাহাড়ি প্রত্যন্ত এলাকার গ্রামে তেমন লেখাপড়া না জানা মহিলারা আজ থেকে ১০ বছর আগেই ডাউনলোড শব্দটির সাথে পরিচিত ছিলেন। প্রযুক্তির প্রসার এতই সর্বব্যাপী।
আর একটা কথা, ভালো বক্তা সকলেই হন না, কিন্তু সেজন্য হীনমন্যতার প্রয়োজন নেই। আপনারা সকলে চেষ্টা করলে নিজের মতো করে নিজের কথা বলতে পারবেন। প্রত্যেকের মোবাইল ফোনে একটি ছোট আই-প্যাড রাখুন। না থাকলে ডাইরি লিখতে পারেন। প্রতিদিন খবরের কাগজে পড়া কোনও বিষয়, নিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের কোনও প্রসঙ্গ, শিক্ষা, সেচ, নগরোন্নয়ন, গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিটি বিষয় যদি সংক্ষেপে লিখে রাখতে পারেন, তা হলে দেখবেন এক বছর পর আপনার জ্ঞান ভাণ্ডার কতটা বেড়ে গেছে। সাংবাদিক সম্মেলনের সময়ে যে কোনও জটিল প্রশ্নের জবাব দিতে আপনাকে আর বেগ পেতে হচ্ছে না। সব তথ্য আপনার হাতের মুঠোতেই রয়েছে।
নিজের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে আপনার ব্যক্তিত্ব গঠনের পাশাপাশি, তথ্যের জ্ঞানও গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য আলাদা সারণী তৈরি করুন। আর যে বিষয়ে আপনার বেশি দখল সে বিষয়ের প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য আপনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লিখে রাখুন। তা হলে দেখবেন, বিধানসভা কিংবা লোকসভায় বলার সময়ে আপনি সংক্ষেপে এতো মূল্যবান বক্তব্য রাখতে পারবেন যে সকলে আপনার দিকে শ্রদ্ধার চোখে তাকাবে। আমি অনেক সময় নিয়েছি, আপনাদের খাওয়ার দেরী হয়ে যাচ্ছে। এরপর, আপনাদের সমবেত ছবি তুলতে হবে। আমি আরেকবার সুমিত্রাজী’কে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। আপনাদেরসকলকেও অভিনন্দন জানাই। আরেকটি কথা মনে পড়ে গেল, বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর সেই এলাকায় সংসদীয় দল পরিদর্শনে যান, বিধায়ক দল পরিদর্শনে যান। তাঁদের তদন্তের সুবিধার্থে আমি জানাই, আপনারা যদি সেখানকার মহিলা জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে এক ঘন্টা আলাপ-আলোচনা করেন, তা হলে দেখবেন, ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে সব তথ্যই আপনার হাতে চলে আসবে। আমি বিশেষ করে, মহিলা সাংসদদের অনুরোধ জানাই, এখানে বিভিন্ন রাজ্যের যে যে মহিলা বিধায়কদের সঙ্গে আপনার পরিচয় হয়েছে, তাঁদের টেলিফোন নম্বর অবশ্যই নোট করে রাখবেন। ভবিষ্যতে সেই রাজ্যের কোনও বিষয় নিয়ে আপনাকে কিছু জানতে হলে এই পরিচিত বিধায়ক মহিলাই আপনাকে ঘোড়ার মুখের খবর দেবেন।
তথ্যের স্রোত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমরা আর কিছু শিখি বা না শিখি অন্ততপক্ষে যাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, দলমত নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন, সম্পর্ক গড়ে তুলবেন। মাঝে মধ্যে আধ ঘন্টা এক ঘন্টা কথা বললে, পরস্পরের কর্মপদ্ধতি এবং ভাব বিনিময় হলে দেখবেন উভয়েই উপকৃত হবেন। আমরা যে দলই করি না কেন, প্রত্যেকেই এই দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করি। আপনাদের ক্ষমতায়ন যত ত্বরান্বিত হবে, দেশের নারী ক্ষমতায়নও তত দ্রুত অগ্রসর হবে। ক্রমে আমাদের দেশ মহিলাদের নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। আপনাদের সকলকে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানাই।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SB/SB
Want to congratulate Sumitra ji for having envisioned this programme & I congratulate all of you who joined the programme: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 6, 2016
In addition to structural component of programmes like this, experiences shared during personal meets, over tea, meals are invaluable: PM
— PMO India (@PMOIndia) March 6, 2016
It's important to understand ourselves and our strengths. And this happens when we face challenges: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) March 6, 2016
When it comes to multi task activities, nobody can beat women. Such is the strength and we must be very proud of it: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 6, 2016
We've had many Foreign Minister's but everybody knows about the outstanding work of @SushmaSwaraj: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 6, 2016
Budgets & infrastructure don't only strengthen nations. Every citizen of India strengthens the nation & a Mother strengthens a citizen: PM
— PMO India (@PMOIndia) March 6, 2016
Am going to speak on technology. We will have to cope up with it and I am convinced women can adapt better to technology : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 6, 2016
Through the Narendra Modi App and MyGov I have received so many enriching thoughts and views: PM @narendramodi on why technology matters
— PMO India (@PMOIndia) March 6, 2016
PM emphasises not only on women development but also women-led development.
— PMO India (@PMOIndia) March 6, 2016
Yesterday & today I joined the National Conference of Women Legislators. I congratulate Speaker Sumitra Mahajan ji for this great initiative
— Narendra Modi (@narendramodi) March 6, 2016
Today, I spoke about women-led development & why women lawmakers must use technology to connect with citizens. https://t.co/rQ3V8qPXwg
— Narendra Modi (@narendramodi) March 6, 2016