পিএমইন্ডিয়া
ভাই ও বোনেরা,
কিছুক্ষণ আগে সুপ্রিয়ানজী বলছিলেন যে, শুধু এই পরিসরে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি স্থাপন করলেই হবে না, তাঁকে আমাদের মনমন্দিরে আমাদের হৃদয়ে তাঁকে স্থাপন করতে হবে। আমি জানি এটা সহজ কাজ নয়। আমি বললাম আর সবাই অন্তরে বিবেকানন্দ’কে প্রতিষ্ঠা করে নেবেন, এতটা আমি আশা করি না। বিবেকানন্দ কেবলমাত্র একজন ব্যক্তির নাম নয়, তিনি সনাতন ভারতের হাজার হাজার বছরের প্রাচীন আত্মার প্রতীক।
বেদ থেকে শুরু করে বিবেকানন্দ পর্যন্ত আমাদের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। আর উপনিষদ থেকে শুরু করে কৃত্রিম উপগ্রহ পর্যন্ত আমাদের আর্থিক, সামাজিক, বৈজ্ঞানিক বিকাশ যাত্রা দেশকে সামর্থ্য দিয়েছে।
উপনিষদ থেকে যাত্রা শুরু করে উপগ্রহ পর্যন্ত আমাদের পৌঁছে দিয়েছে, আমাদের আত্মিক শক্তি, এটাই আমাদের আসল পরিচয়। এই বিজয়রথ’কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে আমি নিজের অন্তরে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও শিক্ষাকে সঞ্জীবিত রাখার চেষ্টা করছি।
রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং নরেন্দ্র এই দুইয়ের মধ্যেযে চিন্তাবিশ্ব তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারলেই আমরা হয়তো বিবেকানন্দ’কে বুঝতে পারবো। নরেন্দ্র কখনও গুরুর সন্ধানে ছিলেন না। তিনি ছিলেন সত্য সন্ধানী। ঈশ্বর আছেন কি নেই, তাঁর মনে দ্বিধা ছিল যে, পরমাত্মার আদৌ কোনও অস্তিত্ব আছে কি না!
রামকৃষ্ণ পরমহংস-ও কোনও শিষ্যের সন্ধানে ছিলেন না। তিনি গুরুই হতে চাননি। তাঁর কোনও আশ্রম স্থাপনেরও পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু তিনি ছিলেন সত্যে সমর্পিত। একজনের সত্যসন্ধান এবং আরেকজনের সত্যসমর্পনই দু’জনের মধ্যে এক আশ্চর্য যোগসূত্র গড়ে দেয়।
সেই যোগসূত্রকে বুঝতে হলে সত্যসন্ধানের স্বরূপ বুঝতে হবে, সত্যের পথে চলা কত কঠিন, আর কিভাবে সিদ্ধিলাভ করা যায়, তা আমরা বিবেকানন্দের জীবন থেকে জানতে পারি।
বিবেকানন্দ যে সময়ে সত্যের সন্ধান করছিলেন, সেই কালখন্ডে ধর্মের প্রভাব, পূজা পদ্ধতির রীতিরেয়াজের মাহাত্ম্য, ধর্মগুরু এবং ধর্মগ্রন্থগুলির মাহাত্ম্য ছিল তুঙ্গে। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে একজন নবযুবক ঐসব ঐতিহ্যের দিকে কীভাবে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তা ভাবলে আজও অবাক হতে হয়।
অধিকাংশ অধ্যাত্মবাদীদের ধারণা ছিল ঠাকুরঘরে ঘণ্টার পর ঘন্টা ধরে পূজার্চনা করলে, নিত্যনতুন পুষ্পাঞ্জলি এবং প্রসাদ বিতরণ করলে জীবনের পাপ ধুয়ে যায় এবং মোক্ষলাভ হয়। সেই মোক্ষ মানুষের জীবনের এনে দেয় পরম আনন্দ। সেই সময় দাঁড়িয়ে বিবেকানন্দ সদর্পে বলেছিলেন, ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় তাঁদের পাশে দাঁড়ালে, দরিদ্রের সেবা করলেই ঈশ্বরের কাছে যাওয়া সম্ভব।
বাংলার যুবকরা যখন তাঁর কাছে ঈশ্বরপ্রাপ্তির উপায় জানতে চেয়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন, ফুটবল খেলো, মনপ্রাণ দিয়ে খেলাধূলা করে শরীর গঠন কর। তখন ভারত ছিল পরাধীন। স্বাধীনতার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারতেন না। কিন্তু, স্বামীজী ছিলেন দূরদ্রষ্টা। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি চোখেরসামনে দেখতে পাচ্ছি যে, ভারতমাতা উঠে দাঁড়িয়েছেন, তিনি জগৎগুরুর স্থানে বিরাজমান, আমি এক স্বাধীন ভারতমাতাকে দেখতে পাচ্ছি, শীঘ্রই তিনি শৃঙ্খলমুক্ত হবেন’। স্বামী বিবেকানন্দের এই ভবিষ্যৎ বাণী তৎকালীন যুবকদের মনে স্বাধীনতার স্পৃহা জাগিয়ে তুলতে সফল হয়েছিল।
শুধু ভারত নয়, সেই সময় এশিয়ার প্রায় সবকটি দেশেই অধ্যাত্মচিন্তার প্রাধান্য ছিল। তার ঠিক বিপরীতে পাশ্চাত্য বিচারধারা ছিল অর্থ-কেন্দ্রিক। এই আধ্যাত্মিক জীবন দর্শন আর অর্থ-কেন্দ্রিক জীবন দর্শনের মধ্যে কয়েক শতাব্দী ধরে সংঘাত চলছিল। সেই সংঘাতে অর্থ-কেন্দ্রিক জীবন দর্শন ক্রমশ আধ্যাত্মিক জীবন দর্শনকে গ্রাস করে নিচ্ছিল। সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্খার কেন্দ্র হয়ে উঠছিল নানা ভোগসামগ্রীর চাহিদা ও লেনদেন। তেমনই ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩২ বছর বয়সে পাশ্চাত্যে গিয়ে তিনি গোটা বিশ্বকে আধ্যাত্মিকতার সদর্থক বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। এশিয়ার আধ্যাত্মিক শক্তির সঙ্গে বিশ্বকে পরিচিত করিয়েছিলেন। সারা বিশ্ব বুঝতে পেরেছিল যে, এশিয়ার মাটিতে ভিন্ন ভিন্ন জীবন দর্শন, নানারকম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে, যা বিশ্ববাসীকে শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। তাঁর এই সদর্প ঘোষণা আজও খুবই প্রাসঙ্গিক। গতকাল আমি এখানে আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলাম, আর আজ এখানেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছি, যেখানে বারবার একটি কথা উঠে এসেছে ‘ওয়ান এশিয়া’।
এই ‘ওয়ান এশিয়া’র ধারণা যা আজ আমাদের সকলের প্রয়োজন হয়ে উঠেছে, এশিয়ার সকল দেশের অর্থ ব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সরকারগুলির নানা উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বয়ের প্রয়োজন আজ আমরা অনুভব করছি কিন্তু অনেকেই জানেন না স্বামী বিবেকানন্দই প্রথম আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ‘এক এশিয়া’র ধারণা প্রচার করেছিলেন। আমি আপনাদের সামনে একটি পুরনো ঘটনা তুলে ধরতে চাই ……।
প্রাচ্যের জীবন দর্শন এবং সম্ভাবনার কথা পাশ্চাত্য দেশগুলির সামনে তুলে ধরার পর জাপানের ওকাকুরা, ক্যারিনজো, ভারতের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহর্ষি অরবিন্দ, আনন্দ কুমার স্বামী এবং বিনয় সরকারের মতো মহাপুরুষরা স্বামী বিবেকানন্দের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ওকাকুরা স্বামী বিবেকানন্দ’কে জাপানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, সঙ্গে পাঠিয়েছিলেন একটি ৩০০ টাকার চেক্। ১৯০২ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি তিনি নিজে কলকাতায় এসে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তারপর দু’জনে একসঙ্গে বুদ্ধগয়ায় গিয়েছিলেন। ঐক্যবদ্ধ এশিয়ার প্রতীক ছিলেন ওকাকুরা। তাঁর লেখা বই ‘আইডিয়াল্স অফ দ্য ইস্ট’-এর পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের অন্তরঙ্গ অনুগামী পাশ্চাত্য ললনা ভগিনী নিবেদিতা। তাঁর বইয়ের প্রথম বাক্যটি-ই ছিল ‘এশিয়া এক ও অভিন্ন’। স্বামী বিবেকানন্দের ঐক্যবদ্ধ এশিয়ার ভাবনা এখানে স্পষ্ট প্রতিফলিত। ওকাকুরার দ্বিতীয় বইটির সূত্রপাতও স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মমহাসভায় প্রদত্ত ভাষণের প্রতিধ্বনি দিয়ে হয়, তিনি সেখানে, ‘আমার এশিয়ার ভাই ও বোনেরা’ সম্বোধন দিয়ে শুরু করেন।
সেজন্যই বলছিলাম, বিবেকানন্দের ঐক্যবদ্ধ এশিয়ার সেই মন্ত্র তৎকালীন মহান দার্শনিকরা যেমন নিজেদের জীবনের মূল মন্ত্র করে তুলেছিলেন, আজ ১০০ বছর পরও অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঐক্যবদ্ধ এশিয়ার প্রয়োজনীয়তা সমান প্রাসঙ্গিক। বিবেকানন্দ বিশ্বের সঙ্কট মুক্তির উপায় হিসেবে এশিয়ার আধ্যাত্মিক একাত্মতাকে চিহ্নিত করেছিলেন, আজও তেমনই বিশ্ব যে দুটি প্রধান সংকটে বিদীর্ণ সেগুলির সমাধানও এশিয়ার মাটি থেকেই খুঁজে বের করা সম্ভব। আবহাওয়া পরিবর্তন তথা বিশ্ব উষ্ণায়নের সঙ্কট এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্কটের মোকাবিলা করার জন্য এই এশিয়ার ভগবান বুদ্ধের করুণারদর্শন ওসমগ্র বিশ্বকে আত্মীয় ভাবার হিন্দু দর্শন বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে। আমাদের পূর্বজরা বলে গেছেন, ‘একং সত, বিপ্রা বহুধা বিধন্তি’ অর্থাৎ সত্য এক, জ্ঞানীরা তাকে নানা পথে সন্ধান করেন। এই মূল মন্ত্র সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে তুলতে, পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত কড়ার শক্তি যোগায়। সন্ত্রাসবাদের সমাধান এতে রয়েছে, ‘হোলিয়ার দ্যান দাউ’-এর কল্পনাও কোথাও নেই, প্রতিটি সত্যকেই আমাদের এখানে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, এখানে সংঘাতের কোনও স্থান নেই, সেজন্য সংঘর্ষেরও কোনও সম্ভাবনা নেই। আর সংঘর্ষ না থাকলে সন্ত্রাসবাদের পথে যাওয়ার কোনও কারণ থাকে না।
বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে প্রাচ্যের দর্শনই সমাধানের পথ দেখাতে পারে। আমরাই প্রথম বৃক্ষগুল্মে পরমাত্মা দর্শন করেছি। আমাদের ঈশ্বরের কল্পনা যে রকমই হোক না কেন, তা প্রতিটি ক্ষেত্রেই কোনও প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে যুক্ত। কোনও বৃক্ষের নীচে বসে সাধনা করা, নানা পশুপাখি লালন-পালনের সহজ বার্তা আমাদের ঐতিহ্যে রয়েছে। আমরা প্রকৃতিকে শোষণ করতে চাই না। আমরা প্রকৃতির সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে তার কোনও না কোনও উপাদান থেকে শিক্ষা নেওয়ার সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করি। এই প্রকৃতি-বান্ধব সংস্কৃতি-ই মানবজাতিকে বিশ্ব উষ্ণায়ন থেকে বাঁচাতে পারে।
আমার মনে হয়, স্বামী বিবেকানন্দ আমাদের যে পথ দেখিয়ে গেছেন, তাঁকে অনুসরণ করলেই আমাদের অন্তরে কোনও নতুন বিবেকানন্দ’কে প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন পরবে না। তাঁর জীবে প্রেম করার বাণী অনুসরণ করে এগিয়ে গেলেই আমরা আগামী শতাব্দীতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক কিছু করে যেতে পারবো।
আজ এখানে একটি যোগ সম্পর্কিত গ্রন্থ প্রকাশের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমাদের ভারত সরকারের কৃত আধিকারিক শ্রীমান সাহু এখানকার স্থানীয় ভাষায় এই বইটি লিখেছেন। এই বইটি প্রকাশ করে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজ গোটা বিশ্ব যোগ সম্পর্কে আগ্রহী। দুশ্চিন্তা মুক্ত জীবনের পথ খুঁজতে যোগ একটি নতুন বাতায়ন খুলে দেয়। প্রত্যেকেই সেই বাতায়নের মাধ্যমে মুক্ত বায়ু সেবন করতে চান, শান্তি পেতে চান।
এই বছর থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রথম বছরেই বিশ্বের ১৭৭টি দেশ এর সহযোগী হয়েছে এবং বিশ্বের সবকটি দেশ এই আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করেছে। এ থেকে প্রমাণ হয় যে, সমগ্র মানবজাতি আজ দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনের পথ খুঁজছে। আত্মিক স্বাস্থ্যেরপথে পা বাড়াচ্ছে। সবাই ভাবেন, দিনের মধ্যে মাত্র আধ ঘন্টা থেকে ১ ঘন্টা সময় যোগাভ্যাস করলে মন, বুদ্ধি এবং শরীর একটি সংহত পথে গোটা দিনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিশ্বকে যোগের উপকারিতা সম্পর্কে বোঝানোর দায় আমাদের নেই কিন্তু গোটা বিশ্বেযোগ শিক্ষক যোগান দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের ওপর বর্তেছে। বিশ্বমানের যোগ শিক্ষক গড়ে তোলার দায়িত্বও আমাদের, যাতে আগামী প্রজন্ম যোগবিদ্যাকে সঠিকভাবে জানতে পারে, মানবজাতি এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে। যত বেশি আধুনিক ভাষায় যোগবিদ্যার প্রচার হবে, যোগচর্চার প্রসার তত সহজ হবে। যোগ প্রশিক্ষণ যেন নেহাতই পেশা হয়ে না উঠে সাধারণ মানুষের ভালবাসা ও সখ-এ পরিণত হয়, তা দেখবেন যোগ্য যোগ প্রশিক্ষকরা। তা হলেই সকলে সারা দিনে ৫০টি কাজের মধ্য থেকে একটি ঘন্টা বের করে নিয়ে যোগ শিখতে আসবেন। তবেই আমরা গোটা বিশ্বে উন্নতমানের যোগ শিক্ষক সরবরাহ করার মতো অবস্থায় পৌঁছব। এই পবিত্র স্থানে আসার সুযোগ যিনি করে দিয়েছেন, আমি সেই স্বামী সুপ্রয়ানন্দজীর কাছে কৃতজ্ঞ। স্বামী বিবেকানন্দের এই মূর্তি উন্মোচনের সৌভাগ্য আমার হল। আমি বিশ্বাস করি, গোটা বিশ্ব থেকে যাঁরা এখানে ঘুরতে আসবেন, প্রত্যেকেই এখান থেকে প্রেরণা পাবেন, এই শুভেচ্ছা সহ আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SB/SB/S
Will inaugurate a statue of Swami Vivekananda & later interact with Indian community at 6 PM (3:30 PM IST). Looking forward.
— Narendra Modi (@narendramodi) November 22, 2015
Recalled the strong bond between Ramakrishna Paramhansa & Swami Vivekananda while inaugurating Swami ji's statue. pic.twitter.com/fx5rFlhk7M
— Narendra Modi (@narendramodi) November 22, 2015
Swami Vivekananda rightly taught us Jan Seva is Prabhu Seva. From the Vedas to Vivekananda, India is very proud of our rich culture.
— Narendra Modi (@narendramodi) November 22, 2015