Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি (২৯ আগস্ট,২০১৬)

মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি (২৯ আগস্ট,২০১৬)


মাননীয় প্রেসিডেন্ট ইউ টিন কিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ,

মায়ানমারের মাননীয় প্রেসিডেন্ট ইউ টিন কিয়া-কে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি সমানভাবে আনন্দিত তাঁর বিশেষ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত সম্ভাষণ জানানোর সুযোগ পাওয়ার জন্য ।

মাননীয় প্রেসিডেন্ট, দেশের বাইরে আপনার প্রথম দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফরসূচিতে ভারতকে বেছে নেওয়ার জন্য আমরা বিশেষভাবে সম্মানিত বোধ করছি।

বন্ধুগণ,

মায়ানমার আমাদের এক বিশেষ বন্ধু রাষ্ট্র।

ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে এক বিশেষ অবস্থান ও অস্তিত্ব রয়েছে এই রাষ্ট্রটির।

এই দেশের মধ্য দিয়েই ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থলপথে যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

আমাদের দু’দেশের সমাজ ব্যবস্থার সুপ্রাচীন সাংস্কৃতিক তথা ঐতিহাসিক বন্ধন আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক মজবুত বনিয়াদ গড়ে তুলেছে।

প্রেমও দয়া এবং সকল ধর্মের মধ্যে সমতার যে নীতির উল্লেখ রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মে, তা আমাদের গতিপথকে সুনির্দিষ্ট করে তুলেছে।

মাননীয় প্রেসিডেন্ট,

আপনাদের মহান দেশ তথা জাতি এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।

আপনার নেতৃত্বের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি আপনার দেশবাসীর অঙ্গীকার এই যুগটিকে এক বিশিষ্টতা দান করেছে।

মায়ানমারকে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল করে তুলতে আপনার দৃঢ় বাসনা ওসুস্পষ্ট চিন্তাভাবনা এই যুগের আরেকটি বৈশিষ্ট্য।

মায়ানমারের নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে কয়েকটি বিশেষ লক্ষ্যে :

• কৃষির বিকাশ;

• শিল্প ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন;

• শিক্ষাক্ষেত্রেরশক্তিশালী বনিয়াদ;

• দক্ষ যুবশক্তি;

• নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন এবং বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলিরশক্তি বৃদ্ধি;

• সামাজিক সুরক্ষা;

• অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্টপন্থাপদ্ধতির অনুসন্ধান; এবং সর্বোপরি

• আধুনিক জাতি গঠনের জন্য এক উচ্চাকাঙ্ক্ষার অনুসরণ।

আমিএই মর্মে আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে আপনাদের এই যাত্রাপথে সর্বদাই সঙ্গী হবে১২৫ কোটি ভারতবাসী। কারণ আপনারা একাধারে আমাদের বন্ধু তথা সহযোগিতার অংশীদার।

বন্ধুগণ,

আমাদেরদ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়গুলি নিয়ে মাননীয় প্রেসিডেন্ট এবং আমি সামগ্রিকভাবেআলোচনা সেরে ফেলেছি।

নিরাপত্তারক্ষেত্রে আমাদের দু’দেশের স্বার্থ যে পরস্পরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সে কথাও আমরাস্বীকার করে নিয়েছি।

পরস্পরেরকৌশলগত স্বার্থ এবং উদ্বেগ-আশঙ্কার বিষয়গুলির প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠার প্রশ্নেওএকমত হয়েছি আমরা।

এইলক্ষ্যে আমাদের দু’দেশের জনসাধারণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্যআমরা একযোগে কাজ করেযাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ।

এইঅঞ্চলে হিংসা ও সন্ত্রাসের সাধারণ চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতারপ্রশ্নেও একমত হয়েছি আমরা।

একুশশতকের প্যাংলং সম্মেলনের কর্মসূচি অনুযায়ী শান্তি প্রচেষ্টা ও প্রক্রিয়ায় ভারতেরপূর্ণ সমর্থনের কথাও আমি ব্যক্ত করেছি।

বন্ধুগণ,

ভারত-মায়ানমারঅংশীদারিত্বের বিষয়টি শুধুমাত্র ভালো ভালো কথার মধ্যেইসীমিত বা সীমাবদ্ধ নয়। বরং,অকৃত্রিম বাসনা ও অঙ্গীকার আমাদের অংশীদারিত্বকে বিশিষ্টতা দান করেছে।

এইসম্পর্কের ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে রূপ ও আকার দিয়েছে আমাদের বলিষ্ঠ উন্নয়ন সহযোগিতারসম্পর্ক যার মূলে রয়েছে “জনসাধারণই প্রথম”– এই বিশেষ দর্শন ও উপলব্ধিটি।

ভারতের২ বিলিয়ন ডলারের মতো উন্নয়ন সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে মায়ানমারের সাধারণ অধিবাসীদেরজীবনযাত্রাকে স্পর্শ করার লক্ষ্যেই ।

সংযোগও যোগাযোগ, পরিকাঠামো, দক্ষতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবংসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রেরপ্রকল্পগুলিতে প্রসারিত আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক।

আমাদেরঅংশীদারিত্বের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দৃষ্টান্ত হল :

• কালাডান প্রকল্প, বন্দর ও জলপথ সম্পর্কিত এইপ্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ হতে চলেছে এ বছরের শেষের দিকে;

• ভারত-মায়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপাক্ষিক মহাসড়কপ্রকল্প;

• মায়ানমারের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান;

• কৃষিশিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত এক উৎকর্ষকেন্দ্র;এবং

• শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শিল্প প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রেবিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রকল্প।

আমাদেরকর্মসূচি রূপায়ণ সংক্রান্ত যে দুটি চুক্তি আজ স্বাক্ষরিত হয়েছে আজ তা ৬৯টি সেতুরনির্মাণ ও উন্নয়ন এবং ত্রিপাক্ষিক মহাসড়ক প্রকল্পের কালেওয়া-ইয়ারগি অংশটিরনির্মাণে বিশেষ সহায়ক হবে।

কৃষি,বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রেও আমাদের সহযোগিতাকে আরও গভীর করে তুলতেসঙ্কল্পবদ্ধ আমরা।

পুনর্নবীকরণযোগ্যজ্বালানি এবং প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কিত সহযোগিতা চুক্তিগুলি সংশ্লিষ্টক্ষেত্রগুলিতে আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করে তুলবে।

ডালশস্যেরবাণিজ্যের ক্ষেত্রে পারস্পরিক কল্যাণ সম্ভব করে তুলতে আমরা এক দীর্ঘস্থায়ীব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সম্মত হয়েছি।

এবছরএপ্রিল মাসে মায়ানমারের তামু-তে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে একটি ছোট্ট পদক্ষেপওগ্রহণ করেছি আমরা।

আমাদেরবিদ্যুৎ যোগান ব্যবস্থাকে যে আরও যথেষ্ট মাত্রায় উন্নত করে তুলতে আমরা আগ্রহী সেসম্পর্কে মাননীয় প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেছি আমি।

মাননীয়প্রেসিডেন্ট,

মায়ানমারেরসঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতার প্রসারে ভারত সর্বদাই প্রস্তুত।

মায়ানমারেরসরকারের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই এই কাজে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী আমরা।

বন্ধুগণ,

আমাদেরপারস্পরিক সম্পর্কের মূল কেন্দ্রের আরেকটি বিষয় হল সংস্কৃতি।

আমাদেরসহযোগিতার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে মায়ানমারের বাগান-এ আনন্দ মন্দিরের সংস্কার ওপুনরুদ্ধার সম্ভব হতে চলেছে একথা জানতে পেরে আমি আনন্দিত।

গতসপ্তাহের ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মায়ানমারের ঐতিহাসিক স্মারক ও বৌদ্ধ মন্দিরগুলিরসংস্কার ও পুনরুদ্ধারেও প্রস্তুত আমরা।

মাননীয়প্রেসিডেন্ট,

আপনারএই সফর সঠিক ও সময়োচিত।

আজআমাদের আলোচনা ও মতবিনিময় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার রূপরেখা এবং কার্যপরিকল্পনা গড়েতুলতে দুটি দেশকেইবিশেষভাবে সাহায্য করবে।

আমাদেরসম্পর্ককে এখন এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করতে আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করে যেতে আমিবিশেষভাবে উৎসুক ও আগ্রহী।

মায়ানমারেরউজ্জ্বল ভবিষ্যৎ শুধু আপনারই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নয়।

একইসঙ্গেতা আমাদেরও আশা-আকাঙ্ক্ষা।

মাননীয়প্রেসিডেন্ট, আরও একবার আপনাকে জানাই ভারতে সাদর ও আন্তরিক অভিনন্দন।

ধন্যবাদ,

আপনাদেরসকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SKD/DM