Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

মুখ্যমন্ত্রীদের প্রধানমন্ত্রীর চিঠি


প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, চতুর্দশ অর্থ কমিশনের সুপারিশগুলি সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর চিঠির সারাংশ :-

“আপনি জানেন যে দিন থেকে আমাদের সরকার কার্যভার গ্রহণ করেছে, আমি আমাদের যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা মজবুত করতে ও সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রসারে কাজ করে চলেছি। দেশের জনগণের তাঁদের সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রয়েছে এবং তাঁরা আর অপেক্ষা করতে চান না। তাই, একেবারে সূচনাকাল থেকেই বিকাশের দ্রুত ও সার্বিক প্রক্রিয়ার প্রতি আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ থেকেছি। দেশের বৈচিত্র্যতার প্রতি লক্ষ্য রেখে আমরা উপলব্ধি করেছি যে, সামগ্রিকভাবে দ্রুত এই উদ্দেশ্য অর্জনের একমাত্র উপায় হল প্রকৃত ও গতিশীল যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা ।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, শক্তিশালী রাজ্যই বলিষ্ঠ ভারতের ভিত্তি। মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়েও আমি একথাই বলেছি যে, রাজ্যগুলির অগ্রগতির ওপরই দেশের এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করে। তাই, এই সরকার সম্ভাব্য সবরকম উপায়ে রাজ্যগুলিকে ক্ষমতা প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এটাও বিশ্বাস করি যে, আর্থিক বিচক্ষণতা ও শৃঙ্খলার বিষয়টিকে নজরে রেখে, রাজ্যগুলিকে আরও বেশি আর্থিক শক্তি ও স্বশাসন দিয়ে নিজেদের কর্মসূচি ও প্রকল্প তৈরি করতে দেওয়া উচিত। আমরা বিশ্বাস করি যে, রাজ্যগুলির এই ক্ষমতা ছাড়া, স্থানীয় উন্নয়নের চাহিদাগুলি পূরণ করা যায় না আর প্রান্তবর্তী সম্প্রদায় ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলকেও তাই মূল ধারায় সামিল করা সম্ভব নয়।
এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই, আমরা যোজনা কমিশনের বদলে নিতি আয়োগ স্থাপন করেছি। উদ্দেশ্য হল, নিতি আয়োগ’কে এমন একটি অভিন্ন মঞ্চে পরিণত করা, যার মাধ্যমে উন্নয়নের জাতীয় পরিকল্পনাগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এই ধরণের একটি পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়নে যে পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি, তা আমাদের জনগণের উন্নয়নমূলক আশা-আকাঙ্খাগুলি পূরণে সাহায্য করবে।
এই প্রেক্ষিতেই, আমরা চতুর্দশ অর্থ কমিশনের সুপারিশগুলি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছি। যদিও এর ফলে, কেন্দ্রের আর্থিক ভাণ্ডারের ওপর বিরাট চাপ তৈরি হচ্ছে। চতুর্দশ অর্থ কমিশন রাজ্যগুলিকে বিভাজ্য সম্পদ ভাণ্ডার থেকে হস্তান্তর ১০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। বিগত অর্থ কমিশনের সুপারিশ থেকে এই বৃদ্ধির পরিমাণ খুবই সামান্য। ২০১৪ -১৫ – এর তুলনায় ২০১৫-১৬’তে রাজ্যগুলিকে মোট দেয় অর্থ পরিমাণ অনেক বেশি।
স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে খুব কম অর্থ থাকবে। কিন্তু, এসব সত্ত্বেও আমরা চতুর্দশ অর্থ কমিশনের সুপারিশগুলি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে গ্রহণ করেছি কারণ, এতে আপনার রাজ্যের আর্থিক অবস্থা আরও মজবুত হবে এবং আপনার রাজ্যের অগ্রাধিকার ও চাহিদা অনুযায়ী আপনি প্রকল্প রচনা ও রূপায়ণ করতে পারবেন।

চতুর্দশ অর্থ কমিশন তার সুপারিশ রচনার সময় আর্থিক রাজস্ব ব্যয়ের নক্শায় মৌলিক পরিবর্তন করেছে। রাজ্যের পরিকল্পনা রাজস্ব ব্যয়ের জন্য প্রদেয় সমস্ত কেন্দ্রীয় সহায়তাকে রাজ্যের রাজস্ব ব্যয়ের অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে স্বায়ত্বশাসন নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ কমিশনের রিপোর্টের ৭.৪৩ নং অনুচ্ছেদে বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। অধিকাংশ রাজ্যের পক্ষ থেকেই মত ব্যক্ত করা হয়েছে যে, সম্পদের একটি বিপুল পরিমাণ অংশই কর হস্তান্তর থেকে আসা উচিত এবং সি.এস.এস. – এর সংখ্যা কমানো হোক। সেইহেতু, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প ও অনুদানভিত্তিক সহায়তার পরিবর্তে কর হস্তান্তরের লক্ষ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে। আর এজন্যই বিভাজ্য সম্পদের ৪২ শতাংশ হস্তান্তরিত করা হচ্ছে।
চতুর্দশ অর্থ কমিশন অনুযায়ী, রাজ্যের পরিকল্পনা রাজস্বের সমস্ত খরচ রাজ্যকে প্রদেয় সম্পদ থেকেই পূরণ করা হবে। এত বিপুল পরিমাণ হস্তান্তর সত্ত্বেও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, দারিদ্র্য দূরীকরণ, এম.এন.আর.ই.জি.এ., শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামোন্নয়ন, কৃষি সহ আরও কয়েকটি সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার প্রাপ্ত থেকে সহায়তা প্রদান বজায় রাখা হবে। আপনি এ বিষয়ে সহমত হবেন যে, চতুর্দশ অর্থ কমিশনের সুপারিশগুলি গ্রহণ করে, আমরা জটিল কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা এবং ‘ওয়ান সাইজ ফিট্স ফর অল’ দৃষ্টিকোণ থেকে সরে আসছি। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজ্যগুলি কেন্দ্রের এই দৃষ্টিভঙ্গীর বিরোধিতা করে আসছে। দেশের পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই ঘাটতি ও উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, রাজ্যগুলিকে আরও অধিক পরিমাণে অর্থ হস্তান্তরিত করে, তাদের নিজেদের বিকাশের পরিকল্পনা রচনায় যেন প্রয়োজনীয় অধিকার প্রদান করা যায়। এই ১০ শতাংশ অতিরিক্ত সম্পদ আপানাদের সেই অধিকারই প্রদান করবে।
আমাদের সিদ্ধান্তে আমরা খুশি যে, ঐ সম্পদ সঠিক জায়গাতেই যাচ্ছে। দারিদ্র্য দূরীকরণে, কর্মসংস্থানের সৃষ্টিতে, আবাসন নির্মাণে, পানীয় জল সরবরাহে, সড়ক, বিদ্যালয় ও হাসপাতাল নির্মাণে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সুনিশ্চিত করতেই রাজ্যগুলিকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এরকম ঘটনা দেশে আগে কখনও ঘটেনি।
এছাড়াও, সম্প্রতি আমরা খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে রয়্যালিটি হার সংশোধন করেছি। এর ফলে, বহু রাজ্য লাভবান হচ্ছে।
আপনি সম্মত হবেন যে, অর্থ যেখানেই থাকুক না কেন, তা যেন দেশের সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলি রয়েছে তার জন্য ব্যয় করা হয়। তবে, বিশেষভাবে নজর থাকবে দরিদ্র, কৃষক, সাধারণ নারী ও পুরুষ, যুব সম্প্রদায় ও শিশুদের স্বার্থে ব্যয় করার ওপর।
আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রতিককালে আমার সফরগুলির সময় ভারত’কে নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা লক্ষ্য করা গেছে এবং বিনিয়োগের আগ্রহও দেখা গেছে। প্রত্যেকেই ভারতের বিকাশের অংশীদার হতে চায়। এটা কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারেরই নয় বরং সারা দেশের কাছেই একটা সুযোগ।
আপনার রাজ্য ও সব মিলিয়ে দেশ যে সমস্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হচ্ছে তা দূর করতে আপনার সহযোগিতা চেয়ে আমার এই চিঠি। আমি আশা করি, প্রতিটি রাজ্যই তার প্রধান অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলির জন্য পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসবে এবং এই লক্ষ্যে সম্পদেরও সংস্থান করবে। প্রকল্প ও কর্মসূচিগুলির জন্য আমাদের একটি কঠোর মূল্যায়ন ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে। এই লক্ষ্যে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করব। কাজের গুণমান ও তার দ্রুত সম্পাদনের দিক থেকে আমরা একসঙ্গে একটি মাপকাঠি স্থির করব। আসুন, আমরা সকলেই এই লক্ষ্যে কাজ করি। এই লক্ষ্য পূরনে আমি যে কোনও সময়ে পরামর্শের জন্যও প্রস্তুত।