পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ০১ মে, ২০২৫
মহারাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দিবস আজ। ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের এই ভূমিতে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
গুজরাটেরও প্রতিষ্ঠা দিবস আজ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা গুজরাটি ভাই-বোনেদের অনেক অনেক শুভকামনা।
ওয়েভস শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল শ্রী সি পি রাধাকৃষ্ণজি, মহারাষ্ট্রের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশজি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবজি, শ্রী এল মুরুগনজি, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী একনাথ শিন্ডেজি, শ্রী অজিত পাওয়ারজি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুক্ত হয়েছেন সৃজনশীল জগতের বিশিষ্টজনেরা, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা তথ্য, যোগাযোগ, শিল্প ও সংস্কৃতি বিভাগের মন্ত্রীরা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং ভদ্রমহোদয়া ও ভদ্রমহোদয়গণ!
বন্ধুগণ,
এখানে আজ মুম্বাইয়ে ১০০রও বেশি দেশের শিল্পী, উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী ও নীতি-নির্ধারকরা একসঙ্গে একই ছাদের নীচে একত্রিত হয়েছেন। একদিক দিয়ে দেখতে গেলে আজ এখানে আন্তর্জাতিক মেধা ও সৃজনশীলতার এক বাস্তুতন্ত্রের ভিত গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশ্ব দৃশ্য-শ্রাব্য এবং বিনোদন শীর্ষ সম্মেলন অর্থাৎ ওয়েভস কেবল একটি শব্দ নয়, বাস্তবিক অর্থেই এ এক তরঙ্গ। সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, আন্তর্জাতিক বিষয়বস্তুর মেলবন্ধন গড়ে উঠছে এখানে। আমরা আজ এই তরঙ্গে প্রবাহিত হচ্ছি। চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, গেমস্, অ্যানিমেশন, স্টোরি টেলিং, সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে ওয়েভস এমন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আপনাদের মতো শিল্পী ও উদ্ভাবকরা নতুন নতুন চিন্তাভাবনার সঙ্গে সৃজনশীল বিশ্বে যুক্ত হচ্ছেন। এই ঐতিহাসিক এবং দুর্দান্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে যুক্ত হওয়া আপনাদের সকলকে অনেক অনেক অভিনন্দন। আমি আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানাই।
বন্ধুগণ,
আজ পয়লা মে, আজ থেকে ১১২ বছর আগে ১৯১৩ সালের ৩ মে ভারতে প্রথম তথ্যচিত্র রাজা হরিশচন্দ্র প্রকাশ পেয়েছিল। এর নির্মাতা ছিলেন দাদাসাহেব ফালকেজি। গতকালই ছিল তাঁর জন্মবার্ষিকী। বিগত এক যুগে ভারতীয় সিনেমা ভারত’কে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সফলভাবে পৌঁছে দিয়েছে। কান – এ সত্যজিৎ রায়ের জনপ্রিয়তা, অস্কারে আরআরআর – এর সাফল্য রাশিয়ায় রাজ কপুরজি’র জনপ্রিয়তা এই বিষয়টিকেই তুলে ধরে। গুরু দত্তের সিনেমাটিক কাব্য বা ঋত্বিক ঘটকের সামাজিক প্রতিচ্ছবি কিংবা এ আর রহমানজির সুর অথবা রাজামৌলিজির কাহিনী – সবকিছুই ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিধ্বনি হয়ে সমগ্র বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যায়। আজ ওয়েভস – এর এই মঞ্চে আমরা ভারতীয় সিনেমার অনেক বিশিষ্ট জনেদের ডাকটিকিটের মাধ্যমে স্মরণ করেছি।
বন্ধুগণ,
বিগত বছরে আমি বেশ কয়েকজন গেমিং ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। কখনও বা সঙ্গীত জগতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছি। চলচ্চিত্র নির্মাতা আবার কখনও বা স্ক্রিনে ঝক্ঝক্ করতে থাকা মানুষের সঙ্গেও মিলিত হয়েছি। আলোচনায় আমি সর্বদাই ভারতের সৃজনশীলতা এবং সৃজনশীল ক্ষমতার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা বলেছি। আমি যখনই আপনাদের মতো সৃজনশীল জগতের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি, সর্বদাই আপনাদের কাছ থেকে চিন্তাভাবনা গ্রহণ করেছি। এর ফলে, আমি নিজে এইসব বিষয়ে গভীরভাবে জানার সুযোগ পেয়েছি। এরপর, আমি এর এক প্রয়োগও করেছি। ৬-৭ বছর আগে যখন মহাত্মা গান্ধীজির ১৫০তম জন্মবার্ষিকী এল, তখন ১৫০টি দেশের গায়ক-গায়িকাদের গান্ধীজির প্রিয় গান ‘বৈষ্ণব জন’ গাইবার জন্য আমি উৎসাহ দিয়েছি। এই গান ৫০০-৬০০ বছরের পুরনো। কিন্তু, গান্ধীজির দেড়শোতম জন্মবর্ষে বিশ্বের সব শিল্পীরা এই গান পরিবেশন করেন। সমগ্র বিশ্ব এই গানের মধ্য দিয়ে একত্রিত হয়। এখানে এমন অনেকেই বসে আছেন, যাঁরা ‘গান্ধী ১৫০’ – এর সময় ২-৩ মিনিটের নিজেদের ভিডিও বানিয়েছেন। তাঁরা গান্ধীজির চিন্তাভাবনা প্রসারে সাহায্য করেছেন। ভারত ও বিশ্বের সৃজনশীল জগতের শক্তি একযোগে মিলিত হলে কতটা উল্লেখযোগ্য কাজ করতে পারে, তার এক ঝলক আমরা তখন দেখেছি। বর্তমানে সেই সময়ের কল্পনা আজ বাস্তব হয়ে ওয়েভস রূপে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।
বন্ধুগণ,
যেভাবে উদীয়মান সূর্য আকাশকে রাঙিয়ে দেয়, ঠিক সেভাবেই এই শীর্ষ সম্মেলন প্রথম মুহূর্ত থেকে ঝকমক করছে। ‘প্রথম মুহূর্ত থেকেই এই শীর্ষ সম্মেলন নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সোচ্চার’। ওয়েভস – এর প্রথম পর্যায়েই এটি সমগ্র বিশ্বকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করেছে। আমাদের পরামর্শ পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত সব বন্ধুরা যে পরিশ্রম করেছেন, তা আজ এখানে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আপনারা বিগত কয়েকদিন বৃহৎ আকারে ‘ক্রিয়েটর্স চ্যালেঞ্জ’ এবং ‘ক্রিয়েটোস্ফিয়ার’ অভিযান চালিয়েছেন। বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের ১ লক্ষের কাছাকাছি সৃজনশীল মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। ৩২টি চ্যালেঞ্জ থেকে ৮০০ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগী নির্বাচন করা হয়েছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে আসা সকল প্রতিযোগীকে আমি অনেক অনেক শুভকামনা জানাই। আপনাদের সামনে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া, কিছু করে দেখানোর সুযোগ এসেছে।
বন্ধুগণ,
আমাকে বলা হয়েছে যে, এখানে ভারত প্যাভিলিয়নে অনেক কিছু নতুন সৃষ্টি হয়েছে। আমি তা দেখার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী। আমি অবশ্যই যাব। ওয়েভস বাজারের উদ্যোগ আমার অত্যন্ত আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। এখান থেকে নতুন সৃজনশীল ব্যক্তিরা উৎসাহিত হবেন এবং কাজের বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। শিল্পকলা ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা যুক্ত হওয়ার এই চিন্তাভাবনা সত্যিই প্রশংসনীয়।
বন্ধুগণ,
আমরা দেখেছি যে, ছোট শিশুর জীবনের প্রারম্ভ থেকেই তার জীবন মায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে। মায়ের কাছ থেকেই সে প্রথম স্বর শোনে। একজন মা যেভাবে তাঁর সন্তানের স্বপ্ন রচনা করেন, সেইভাবেই সৃজনশীল জগতের মানুষ একটি যুগের স্বপ্ন তৈরি করে। ওয়েভস – এর লক্ষ্য এ ধরনের মানুষকে একত্রিত করা।
বন্ধুগণ,
লালকেল্লা থেকে আমি সকলের প্রচেষ্টার কথা বলেছিলাম। আজ আমার এই বিশ্বাস আরও মজবুত হয়ে গেল যে, আপনাদের সকলের প্রচেষ্টা আগামী দিনে ওয়েভস’কে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। এই শিল্প জগতের বন্ধুদের প্রতি আমার আবেদন, যেভাবে আপনারা এই প্রথম সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন, আগামী দিনেও তা আপনারা বজায় রাখবেন। এখন তো ওয়েভস – এ আরও নানা ধরনের সুন্দর তরঙ্গ আসা বাকি রয়েছে। ভবিষ্যতে ওয়েভস পুরস্কারও চালু হবে। এটি শিল্পকলা ও সৃজনশীল জগতে সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত পুরস্কার হবে। আমাদের এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। আমাদের জনগণের মন জয় করতে হবে।
বন্ধুগণ,
বর্তমানে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে ওঠার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। ভারত গ্লোবাল ফিনটেক তালিকাতেও নিজের স্থান করে নিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল উৎপাদনকারী দেশ ভারত। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ বাস্তুতন্ত্রও ভারত। বিকশিত ভারতের জন্য আমাদের পথ চলা শুরু হয়েছে। ভারতের কাছে আরও অনেক কিছু করার রয়েছে। ভারত বিলিয়ন প্লাস জনসংখ্যার পাশাপাশি বিলিয়ন প্লাস কাহিনীরও দেশ। ২ হাজার বছর আগে যখন ভরত মুনি ন্যায়শাস্ত্র রচনা করেছিলেন, তখন তাঁর বার্তা ছিল, কলা ও সংস্কার চিন্তাভাবনা রচনা করে, অনুভব গড়ে তোলে। বহু বছর আগে যখন কালিদাস অভিজ্ঞান শকুন্তলম্ রচনা করেছিলেন, তখন শকুন্তলা ভারতের নাট্য জগতে এক নতুন দিশা দেখিয়েছিল। ভারতের প্রতিটি গলিতেই নতুন নতুন গল্পগাঁথা রয়েছে। প্রতিটি পাহাড়-পর্বত একেকটি সঙ্গীত। সব নদী থেকেই কিছু না কিছু সুর প্রতিধ্বনিত হয়। আপনারা যদি ভারতের ৬ লক্ষেরও বেশি গ্রামে যান, তা হলে দেখবেন প্রতিটি গ্রামেরই এক নিজস্ব লোকসংস্কৃতি ও লোকগাঁথা রয়েছে। নিজেদের একটি কাহিনীও রয়েছে। বিভিন্ন সমাজে লোকগাঁথার মাধ্যমে নিজের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়। আমাদের এখানে সঙ্গীত-ও একটি সাধনা। ভজন, গজল, শাস্ত্রীয় বা সমসাময়িক সব সুরেই রয়েছে এক কাহিনী। সব তালেই রয়েছে এক আত্মা।
বন্ধুগণ,
আমাদের এখানে নাদ ব্রহ্ম অর্থাৎ শব্দকে ব্রহ্ম রূপে কল্পনা করা হয়। আমাদের ঈশ্বরও নিজেকে সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভগবান শিবের ডমরু সৃষ্টির প্রথম ধ্বনি, মা সরস্বতীর বীণা ও বিবেক এবং বিদ্যার লয়, শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি সৌন্দর্য ও প্রেমের চিরকালীন বার্তা দেয়, বিষ্ণুর শঙ্খ বা শঙ্খধ্বনি ইতিবাচক শক্তিকে আহ্বান করে। এত কিছু রয়েছে আমাদের কাছে। এখানে কিছুক্ষণ আগে যে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে, সেখানেও এর ঝলক দেখতে পাওয়া গেছে। এজন্যই আমি বলি যে – এখনই সময়, সঠিক সময়। এখন ভারতে তৈরি সমগ্র বিশ্বের জন্য তৈরি এই ভাবধারার যথার্থ সময়। বর্তমানে সমগ্র বিশ্ব যখন গল্প বলার জন্য নতুন ধারণা খুঁজে বেড়াচ্ছে, তখন ভারতের কাছে হাজার বছরের পুরনো কাহিনীর সম্পদ রয়েছে। এই সম্পদ কালোত্তীর্ণ, চিন্তাভাবনা করতে সাহায্য করে এবং যথার্থই আন্তর্জাতিক। এমনটা নয় যে, এতে সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত কোনও বিষয় রয়েছে। এখানে রয়েছে বিজ্ঞান, খেলাধূলা, শৌর্য, ত্যাগ ও তপস্যার কাহিনী। আমাদের এই গল্পগাথার আসরে বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান – সবকিছুই রয়েছে। ভারতের এই সম্পদের ভান্ডার বিশাল। এই সম্পদ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া এবং আগামী প্রজন্মের সামনে নতুন আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে নিয়ে আসাই ওয়েভস প্ল্যাটফর্মের বড় দায়িত্ব।
বন্ধুগণ,
আপনাদের মধ্যে অনেকেই জানেন যে, আমাদের এখানে স্বাধীনতার কয়েক বছর পরেই পদ্ম পুরস্কার শুরু হয়েছিল। এতদিন এই পুরস্কার প্রদান করা হত। কিন্তু, আমরা এই পুরস্কারকে জনগণের পদ্ম হিসেবে তৈরি করেছি। যে মানুষ দেশের দূরদূরান্তে, প্রতিটি প্রান্তে দেশের জন্য জীবনধারণ করছেন, সমাজের সেবা করছেন, আমরা তাঁদের পরিচিতি দিয়েছি, প্রতিষ্ঠা দিয়েছি। আর এইভাবেই বদলে গেছে পদ্ম পুরস্কারের ধরণ। বর্তমানে সমগ্র দেশে মনে করা হয় যে, এখন এই পুরস্কার কেবল এক আয়োজন নয়, সমগ্র দেশের এক উৎসব। ওয়েভস-ও এইভাবেই সৃজনশীল বিশ্বে, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, অ্যানিমেশন এবং গেমিং জগতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাকে একটি মঞ্চ প্রদান করবে।
বন্ধুগণ,
কন্টেন্ট ক্রিয়েশন বা বিষয়বস্তু তৈরি করা ভারতের অপর বিশেষত্ব। আমরা মনে করি যে, বিভিন্ন বিষয় থেকেই আমাদের কাছে শুভ চিন্তাভাবনার উদয় হবে। আমাদের নাগরিক জীবনের উন্মুক্ত মানসিকতার এ এক প্রমাণ। এই চিন্তাভাবনার নিয়েই পার্সিরা এখানে এসেছেন। এখনও পার্সি সম্প্রদায় গর্বের সঙ্গে ভারতে রয়েছেন। জৈনরা এসেছেন এবং ভারতীয় হয়ে রয়ে গেছেন। বিশ্বে সব সমাজ সব দেশের নিজের নিজের উদ্দেশ্য রয়েছে। এই আয়োজনে এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীগণ, প্রতিনিধিরা সেইসব দেশের সাফল্য, চিন্তাভাবনা, শিল্প নিয়ে এসেছেন। সেই সবকিছুকে সম্মান জানানো আমাদের সংস্কৃতির শক্তি। এজন্যই আমরা সকলে মিলে বিভিন্ন সংস্কৃতির নানা দেশের চিন্তাভাবনার সঙ্গে যুক্ত উন্নত মানের বিষয়বস্তু তৈরি করতে পারি।
বন্ধুগণ,
আমি আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকেও এই বিশ্বাস দিতে চাই যে, ভারতের বাইরে যে সৃজনশীল জগতের মানুষ রয়েছেন, তাঁদেরও এই বিশ্বাস দিতে চাই যে, আপনারা যখন ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবেন, যখন আপনারা ভারতের কাহিনী জানবেন, তখন আপনারা এমন সব বিষয়বস্তু পাবেন, যা দেখে মনে হবে, আরে! এরকমটা তো আমার দেশেও হয়। আপনারা ভারতের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করবেন। তখন আপনাদের ক্রিয়েট ইন ইন্ডিয়া বা ভারতের নির্মিত আমাদের এই মন্ত্র আরও সহজ মনে হবে।
বন্ধুগণ,
ভারতের কমলা অর্থনীতির উদীয়মান সময় এটি। বিষয়বস্তু, সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতি – এই তিনটি হ’ল কমলা অর্থনীতির তিন আধার। ভারতীয় চলচ্চিত্র এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। বর্তমানে ১০০টিরও বেশি দেশে ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রকাশ পায়। বিদেশী দর্শক এখন ভারতীয় চলচ্চিত্রের সমঝদার হয়ে উঠছেন। ভারতে ওটিটি শিল্প বিগত কয়েক বছরে ১০গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্দার আকার ছোট হলেও এক্ষেত্রে সুযোগ অপরিসীম। বর্তমানে ভারতের খাবার সমগ্র বিশ্ব পছন্দ করে। আমার বিশ্বাস, আগামী দিনে ভারতের গানও সমগ্র বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়ে উঠবে।
বন্ধুগণ,
ভারতের সৃজনশীল অর্থনীতি আগামী দিনে জিডিপি’তে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে ভারত চলচ্চিত্র নির্মাণ, গেমিং, ফ্যাশন ও সঙ্গীতে আন্তর্জাতিক হাব হয়ে উঠছে। লাইভ কনসার্ট – এর সঙ্গে যুক্ত শিল্প ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অ্যানিমেশন বাজার ৪ হাজার ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আগামী ১০ বছরে এটি দ্বিগুণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতে অ্যানিমেশন ও গ্রাফিক্স শিল্প ক্ষেত্রের জন্য এ এক বড় সুযোগ।
বন্ধুগণ,
কমলা অর্থনীতির এই যুগে আমি ওয়েভস – এর মঞ্চ থেকে দেশের প্রত্যেক যুবক নির্মাতাদের বলতে চাই যে, আপনারা গুয়াহাটির সঙ্গীত শিল্পী হন, কোচির পডকাস্টার কিংবা বেঙ্গালুরুর গেম ডিজাইনার বা পাঞ্জাবের চলচ্চিত্র নির্মাতা। আপনারা সকলেই ভারতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন তরঙ্গ বয়ে আনছেন। সৃজনশীলতার তরঙ্গ এক এমন গতি সঞ্চার করছে, যা আপনাদের পরিশ্রম ও প্যাশন’কে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। দক্ষ ভারত থেকে শুরু করে স্টার্টআপ বা ওয়েভস – এর মতো প্ল্যাটফর্ম সবকিছুই আপনাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে। আমরা এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলছি, যেখানে আপনাদের চিন্তাভাবনা ও কল্পনা যথাযথ গুরুত্ব পাবে। নতুন স্বপ্নের সূচনা হবে এবং আপনারা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবেন। ওয়েভস শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে আপনারা একটি বড় প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছেন। এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে সৃজনশীলতা ও কোডিং একসঙ্গে হবে। সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত হবে স্টোরি টেলিং। আপনারা এই মঞ্চের যথাযথ সদ্ব্যবহার করুন। আরও বড় স্বপ্ন দেখুন ও তা বাস্তবায়িত করুন।
বন্ধুগণ,
আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে যে, আপনারা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর্স হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করবেন। কোনও বাধাবিপত্তির পরোয়া না করে আপনারা আপনাদের সৃজনশীলতাকে সঙ্গে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন। সম্প্রতি আমি কয়েকজন তরুণ ক্রিয়েটর্স, গেমার্স – এর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি। সামাজিক মাধ্যমেও আমি আপনাদের সৃজনশীলতা দেখি। রিলস্, পডকাস্ট, গেমস্, অ্যানিমেশন, স্টার্টআপ – এর মতো নানাভাবে আপনারা অত্যন্ত ভালো কাজ করছেন। ওয়েভস আপনাদের প্রজন্মের জন্য যথাযথ। আপনাদের সামর্থ্য ও সৃজনশীলতা দিয়ে আপনারা নতুন নতুন কাজ করুন।
বন্ধুগণ,
সৃজনশীলতার এই বিশ্বে আমি আপনাদের মতো বিশিষ্ট জনদের সামনে আরও একটি বিষয়ে কথা বলতে চাই, তা হ’ল – সৃজনশীল দায়িত্ব। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে একুশ শতক হ’ল প্রযুক্তিচালিত শতক। সকলের জীবনে প্রযুক্তির ভূমিকা ক্রমাগত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মানবিক ও সংবেদনশীল মনোভাব বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত প্রয়াস চালানো জরুরি। আমরা মানুষকে রোবটে পরিণত করতে চাই না, আরও বেশি সংবেদনশীল মানুষ গড়ে তুলতে হবে আমাদের। সঙ্গীত, কলা ও নৃত্যকে তাই বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আমি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলতে চাই যে, আজ আমাদের যুব প্রজন্মের সামনে ওয়েভস এমন একটি মঞ্চ, যেখানে তাঁরা মানবিক কাজ প্রদর্শন করতে পারবেন। প্রযুক্তি সৃজনশীল বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত আকাশ গড়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষভাবে জরুরি। আমার বিশ্বাস, এই প্ল্যাটফর্ম আমাদের উদ্ভাবক ও আন্তর্জাতিক কাহিনীকারদের যুক্ত করবে। আমাদের গেমার্সদের আন্তর্জাতিক স্তরে জয়ী করে তুলবে। আমি সব আন্তর্জাতিক উদ্ভাবক ও ক্রিয়েটর্স-দের আমন্ত্রণ জানাই। আপনারা ভারতকে নিজের কাহিনীর বিষয়বস্তু করে তুলুন। বিশ্বের নির্মাতাদের আমি বলতে চাই, বড় স্বপ্ন দেখুন ও নিজের কথা বলুন। বিনিয়োগকারীদের আমি বলি, বিনিয়োগ করুন। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও মঞ্চে নয়, বিনিয়োগ করুন ভারতীয় যুব প্রজন্মের প্রতি। আপনাদের কয়েক কোটি কাহিনী তুলে ধরুন সমগ্র বিশ্বের কাছে।
আপনাদের সকলকে প্রথম ওয়েভস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা জানাই। আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
নমস্কার।
SC/PM/SB
Addressing the @WAVESummitIndia in Mumbai. It highlights India's creative strengths on a global platform. https://t.co/U4WQ4Ujv8q
— Narendra Modi (@narendramodi) May 1, 2025
A wave of culture, creativity and universal connect. pic.twitter.com/FpfM4THC5y
— PMO India (@PMOIndia) May 1, 2025
India, with a billion-plus population, is also a land of a billion-plus stories. pic.twitter.com/qtijqtd5Ii
— PMO India (@PMOIndia) May 1, 2025
Create in India, create for the world. pic.twitter.com/cycxbiZZo7
— PMO India (@PMOIndia) May 1, 2025
The dawn of the Orange Economy in India. pic.twitter.com/g2hEX8fjHL
— PMO India (@PMOIndia) May 1, 2025
Even though the screen size is getting smaller, the scope is becoming infinite. pic.twitter.com/n0akwUrv3C
— PMO India (@PMOIndia) May 1, 2025
Today, India is emerging as a global hub for film production, digital content, gaming, fashion, music and live concerts. pic.twitter.com/ubo3q8tx7S
— PMO India (@PMOIndia) May 1, 2025
To the creators of the world — dream big and tell your story.
— PMO India (@PMOIndia) May 1, 2025
To investors — invest not just in platforms, but in people.
To Indian youth — tell your one billion untold stories to the world: PM @narendramodi pic.twitter.com/g7rwE4urf8