Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

মুম্বাইয়ে আয়োজিত সাহিত্য সৎকার সমারোহে জৈন আচার্য রত্নসুন্দর সুরিস্বরজী মহারাজের লেখা ‘মারু ভারত সারু ভারত’ বইটির প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শ্রোতা ও দর্শকদের উদ্দেশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

মুম্বাইয়ে আয়োজিত সাহিত্য সৎকার সমারোহে জৈন আচার্য রত্নসুন্দর সুরিস্বরজী মহারাজের লেখা ‘মারু ভারত সারু ভারত’ বইটির প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শ্রোতা ও দর্শকদের উদ্দেশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


এখানে উপস্থিত সকল আচার্য ভগবন্তঃ, সকল সাধ্বী, সাধু মহারাজ, সকল পূণ্যাত্মা শ্রোতাবৃন্দ,

কিছুক্ষণ আগেই, আপনাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু, প্রযুক্তির হয়তো কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। মাঝে ছেদ ঘটে, আর দূরদর্শনের ঘোষণায় যেমন বলা হয়, আমিও তেমনই বলছি, রুকাবট কে লিয়ে খেদ হ্যায়! আমি যখন এই গুরুত্বপূর্ণ পুস্তকটির আবরণ উন্মোচন করছিলাম, তখন হয়তো আপনারা আমাকে দেখতে পাচ্ছিলেন। সবার আগে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি, আমি ওখানে সশরীরে যেতে পারিনি, উপস্থিত সকল আচার্যদের চরণকমলের পাশে বসার সুযোগ পেলে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতাম। কিন্তু, কখনও কখনও সময়ের সীমাবদ্ধতা থাকে। কিছু এমন দায়িত্ব বর্তায় যে কিছু কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তা করে ওঠার সৌভাগ্য হয় না। অবশ্য, আমি ভৌগোলিক দিক থেকে আপনাদের থেকে অনেক দূরে থাকলেও অন্তর থেকে আপনাদের সঙ্গেই রয়েছি আর সকল আচার্য ভগবন্তদের চরণেই আশ্রিত।

আজ আমি এই ৩০০তম গ্রন্থের আবরণ উন্মোচনের সুযোগ পেয়েছি। কোথাও লেখা রয়েছে এগুলি সাহিত্য রচনা। আমি সামান্য ভিন্নমত পোষণ করি, এগুলি সাহিত্য রচনা নয়। একজন সন্ন্যাসীর তপস্যালব্ধ আত্মানুভূতি দিব্যের সাক্ষাতকার এখানে শব্দদেহে বিধৃত। সেজন্য এগুলি কোনও সাহিত্যিকদের তপস্যার পরিণাম নয়, এগুলি বাণীর সম্পুট, যাতে সমাজের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা সঞ্জাত পীড়া ও সম্ভাবনার কথা রয়েছে। সমাজ জীবনকে কিছু দেওয়ার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রকাশ রয়েছে।

৫০ বছর ধরে অবিরাম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শোনার জন্য পূজ্য মহারাজের মুখনিঃসৃত বাণী শোনার জন্য সর্বত্র হাজার হাজার মানুষের জমায়েত হয়। তিনি যেমন ভালো বক্তা তেমনই ভালো শ্রোতাও। শ্রোতাদের সঙ্গে কথা বলা, যাত্রাপথে অসংখ্য সাধারণ মানুষের কথা শোনার মাধ্যমে গোটা ভারতের জীবনকে আত্মস্থ করার অবিরাম প্রয়াস তাঁকে যে দিব্যশক্তি দিয়েছে তার প্রকাশ এই গ্রন্থের মাধ্যমে সকলে অনুভব করবেন।

সাধু-সন্ন্যাসীরা সাধারণত ধার্মিক পরম্পরার কথা বলেন, ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাতকারের অভিজ্ঞতা শোনান, এসব কথা শুনতে শ্রোতাদের ভালো লাগে। কিন্তু, পূজ্য মহারাজ সে পথে না হেঁটে সমাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি, পারিবারিক জীবনের নানা অধ্যায় ও ব্যভিচারের বিরুদ্ধে মুখর হয়েছেন। তাঁর বাণীতে কখনও থাকে জ্যোৎস্নার শীতলতা আবার কখনও থাকে অম্লের তীব্রতা। তাঁর শব্দাবলী দ্বিধাগ্রস্থ মানুষের উচাটন প্রশমিত করে, আবার সমাজের অনেক ঘটনায় তাঁর মন বিচলিত হন না। লেই লাভা বাণীরূপ পেয়ে সমাজকে জাগ্রত করার কাজে লেগে পড়ে। বইটি পড়ে অনুভব করেছি, তিনি যত না সাম্প্রদায়িক পরম্পরার কথা লিখেছেন, তারচেয়ে বেশি সমাজ-সংস্কারের কথা লিখেছেন। আর তারচেয়েও অনেক বেশি করে তিনি সকল ধর্মের উর্ধ্বে রাষ্ট্রধর্মকে স্থাপন করে পাঠককে দেশাত্মবোধে প্রেরিত করেছেন। আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, ভারতের এমন মহান ঐতিহ্য রয়েছে, এমন মহান মুনি-ঋষিরা রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের তপ্স্যা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রয়োগে দেশ ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের স্বার্থে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

আমরা তেমন জাতি, যাঁদেরকে বিশ্বের যেভাবে বোঝা উচিত ছিল, সেভাবে এখন পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারেনি। ভারত এমন একটা দেশ, যাঁরা বিশ্বকে কোনও বিশেষ সম্প্রদায় বা সাম্প্রদায়িক বার্তা দেয়নি, শুধু যুগ যুগ ধরে যুগোপযোগী আধ্যাত্মিক বার্তা দিয়েছে। সম্প্রদায় কখনও কখনও নানা সমস্যার কারণ হয়ে ওঠে, আধ্যাত্ম সেসব সমস্যার উপশমের উপায়। আমাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ এ পি জে আব্দুল কালাম প্রায়ই বলতেন মানবজাতির নানা সমস্যা সমাধানের উপায় রয়েছে অধ্যাত্মবাদে। পূজ্য মহারাজ তাঁর অবিরাম প্রয়াসে যে রাষ্ট্রধর্ম জাগ্রত করতে চলেছেন তাঁর এই গ্রন্থে তা-ই পরিস্ফুট হয়েছে।

৩০০তম গ্রন্থ বড় অল্প কথা নয়। ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে রাষ্ট্র, রাষ্ট্র থেকে বিশ্ব ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এমন কোনও বিষয় নেই, যা নিয়ে তিনি লেখেননি। যখন থেকে লিখতে শুরু করেছেন, তখন থেকে প্রায় প্রতি মাসে একটি করে বই প্রকাশিত হতে হতে আজ ৩০০তম বই প্রকাশ সম্ভব হয়ছে, ভারতীয় সমাজের জন্য এই গ্রন্থগুলি একেকটি বড় বড় উপহার।

সাধারণত, আমরা যেসব সাহিত্যিক রচনা পড়ি, সেগুলি সমাজ ও সমাজের সমস্যাগুলিকে জানা ও বোঝার কাজে লাগে। কিন্তু, পূজ্য মহারাজ আমাদের বাঁচার পথও চিনিয়ে দিয়েছেন, নানা পারিবারিক সঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ দেখিয়েছেন। কুপথে চলে যাওয়া সন্তানকে বাবা বা মা পরিস্থিতি অনুসারে পূজ্য মহারাজের লেখা একটি বাক্য যদি বলে দিতে পারেন, তা হলেই দেখবেন সে সঠিক পথে চলে এসেছে, বাবা-মায়ের অনুগত ও বাধ্য হয়ে উঠেছে। অসৎপথে যত অর্থ উপার্জনের হাতছানিই থাকুক না কেন, পূজ্য মহারাজের একটি বাক্য তাঁর মনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। শুধু তাই নয়, দেখবেন সে সমাজের সেবায় লেগে পড়বে, দরিদ্র দুঃখী মানুষদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে। এভাবে এই গ্রন্থ একটি সামাজিক বিপ্লবের সূচনা করতে পারে, যা আগামীদিনে আমাদের সকলকে প্রেরণা জোগাবে।

আমি আজ আচার্য ভগবন্ত রত্নসুন্দরসুরিস্বরজী মহারাজের চরণে প্রণাম জানানোর সৌভাগ্য পেয়েছি। যে গুরুজনদের সঙ্গে বসে এক সাচ্চা শিষ্যরূপে তিনি নিজের জীবনকে গড়ে তুলেছেন, তা উত্তম গুরু-শিষ্য পরম্পরার উদাহরণও বটে। এখন তিনি নিজে গুরুপদে অধিষ্ঠিত হয়ে উত্তর শিষ্য পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর আশীর্বাদ লাভের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তাঁর পরামর্শ ও মতামত আমাকে ঋদ্ধ করেছে। আজ তাঁর ৩০০তম গ্রন্থের আবরণ উন্মোচনের সৌভাগ্য আমার কাছে দেশভক্তি প্রকাশের মতোই আনন্দ দিয়েছে।

আমরা কিভাবে ভারতমাতার সেবা করবো? কিভাবে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করবো, ১২৫ কোটি ভারতবাসীর স্বার্থে পরিচ্ছন্ন ভারতের স্বপ্ন কিভাবে সফল করবো? দেশের জনসংখ্যা ৮০ শতাংশ ৩৫ বছরের কম বয়সী নবীন প্রজন্মের মানুষের যথাযথ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তন কিভাবে করবো? এই সকল স্বপ্ন বাস্তবায়নের স্বার্থে আমরা সবাই মিলে অবিরাম প্রয়াস জারি রেখেছি।

আমি আজকের এই শুভ উপলক্ষে, এই সুচারু আয়োজনের জন্য সমিতিকে অভিনন্দন জানাই, পূজ্য মহারাজকে প্রণাম জানাই। আর, ভগবান মহাবীরের চরণে প্রার্থনা করি যে, এ ধরনের আচার্য ভগবন্তদের সকলকে এরকম শক্তি প্রদান করুন, দিব্যশক্তি দিন, যাতে আগামী শতাব্দীগুলিতেও তাঁরা মানবজাতির কল্যাণে পথ দেখাতে থাকেন। আমি আরেকবার আপনাদের সকলকে প্রণাম জানাই, পূজ্য মহারাজকে প্রণাম জানাই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/SB……11_January_2016