Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ‘রান ফর রিও’অনুষ্ঠানের শুভ সূচনার পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ‘রান ফর রিও’অনুষ্ঠানের শুভ সূচনার পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ‘রান ফর রিও’অনুষ্ঠানের শুভ সূচনার পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


আমি সবার আগে এখানে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ’কে ঢলকে অনুরোধ করবো, আপনারা সবাই রিওতে খেলতে যাওয়া ১১৯জন ভারতীয় খেলোয়াড়দের সমর্থনে তাদের উৎসাহ জোগাতে, আমার সঙ্গে সমস্বরে বলুন, ভারত মায়ের জয়, ভারত মাতার জয়, ভারত মাতার জয় ।

এই ১১৯ জন ভারতীয় খেলোয়াড় ভারত মায়ের জয়গান গাইতে অনেক কঠোর তপস্যা করে রিও পৌঁছেছেন । অনেক প্রতিস্পর্ধা অতিক্রম করে এগিয়েছেন। মনের মধ্যে জয়ের অদম্যস্পৃহাও সংকল্প নিয়ে তাঁরা গেছেন। সেই জয় শুধুই নিজের জন্য নয়, ১২৫ কোটি ভারতবাসীর মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য তাঁরা বদ্ধপরিকর।

অধিকাংশ খেলার পরিণাম জয় ও পরাজয়ে সীমিত থাকে। কিন্তু কোনও খেলার পরিণামকে কেবল জয় ও পরাজয়ে সীমাবদ্ধ করে রাখা সম্ভব নয় । খেলার উদ্দেশ্যই হল খেলোয়াড়দের যুক্তকরা । নিজের সমস্তশক্তি ও দক্ষতা দিয়ে , পূর্ণশক্তি দিয়ে খেলোয়াড়রা দেশের সম্মান বৃদ্ধির জন্যে যুঝতে থাকে । এটাইহয়তাদেরসবচাইতেবড়প্রতিস্পর্ধা ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস , ১২৫ কোটি জনগণের শুভেচ্ছা সঙ্গে নিয়ে আমাদের এই ১১৯ জন খেলোয়াড় দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির খাতিরে নিজেদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবেন । আর আমাদের দল যখন বিদেশে থাকবেন , তখন শুধু খেলার মাঠেই নয় , অলিম্পিক চলাকালে তাদের কথাবার্তা, চলাফেরা সকল ক্ষেত্রেই তাঁরা বিশ্ববাসীর হৃদয় জয় করে ফিরবেন। তাদের আচার আচরণ ও ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের মহান ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করাবেন।

আজ আমরা বড় আশা নিয়ে রিওর দিকে তাকিয়ে আছি । আমাদের খেলোয়াড়রা সেখানে কী করেন! বিগত একশো বছর ধরে ভারত অলিম্পিক ক্রীড়ার সঙ্গে যুক্ত। একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছি।

কিন্তু বিগত শতাব্দীকালের মধ্যে এই প্রথমবার আমরা ১১৯ জনের এত বড় দল অলিম্পিকেপাঠাতে সক্ষম হয়েছি।

২০২০তে টোকিওতে অলিম্পিকের আসর বসবে। আমার দেশের নবীন প্রজন্মকে আহ্বান জানাই,ভারতের ৬০০র-ও বেশি জেলাকে আহ্বান জানাই, আপনারা সংকল্প করুন, টোকিও অলিম্পিকে প্রত্যেক জেলা থেকে কেউ না কেউ খেলতে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন। তবেই আমরা আগামী অলিম্পিকে ২০০ জনেরও বেশি বিশ্বমানের প্রতিযোগী পাঠাতে সক্ষম হব।

আজ আমাদের দেশে যেসব খেলার প্রচলন নেই, আমাদের উচিত এখন থেকেই সেসব খেলাতেও আমাদের নবীন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করার কাজ শুরু করা। ভারতের নবীন প্রজন্মের সেই সামর্থ্য রয়েছে, মেধা রয়েছে, সংকল্প রয়েছে, আর তাঁরা বড় বড় স্বপ্নও দেখতে জানে। এবার আমরা বেশি সময় পাইনি। দু বছর হল আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু শুরুতেই আমরা ক্রীড়া দপ্তরের সক্রিয়তা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে এর সংবেদনশীলতা বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছি। আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। এমন কিছু পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি যে, দেশের নবীন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা অনুভব করবেন আমরা এখন থেকেই কেমন করে টোকিও অলিম্পিকের প্রস্তুতিনিতে শুরু করেছি।

আগে আমাদের খেলোয়াড়রা বিশ্বের যেকোনও দেশে খেলতে গেলে, অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে গেলে তাদের খেলা শুরু হওয়ার দু’দিন আগে পাঠানোর রীতি ছিল। এই অল্প সময়ে জেট ল্যাগ এর ধকল কাটিয়ে, পরিবর্তিত আবহাওয়ায় শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার আগেই খেলার মাঠে পৌঁছে যেতে হতো। এবার আমরা খেলোয়াড়দের ১৫দিন আগেই রিও পৌঁছে দিয়েছি। যাতে তাঁরা নিজেদের পরিবেশের সঙ্গে ভালভাবে খাপ খাইয়েনিতে পারেন, মাঠগুলিকে ভালভাবে চিনে নিতে পারেন, সেখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন।

আমার দেশের প্রিয় ভাই ও বোনেরা, খেলোয়াড়রা পরিশ্রম করতে প্রস্তুত থাকেন। কিন্তু কিছু স্বাচ্ছন্দেরও প্রয়োজন থাকে। ২০-২৫ দিন বিদেশে থাকার সময় তাদেরকে সে দেশের খাবারই খেতে হয়। তখন তাদের মনে পছন্দমতো দেশের খাবার খাওয়ার ইচ্ছা প্রবল হয়ে ওঠে। এদিকটা মাথায় রেখে এবার আমরা বিশেষ বাজেট অনুমোদন করেছি। খেলোয়াড়দের চাহিদা অনুযায়ী দেশের খাবার আর তাদের খেলার উপযোগী পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। যাতে এসব তুচ্ছ কারণে তাঁরা পিছিয়ে নাপড়েন!

আপনারা দেখেছেন, প্রত্যেক অলিম্পিকের পর প্রায় ১৫ দিন থেকে একমাস ধরে খবরের কাগজগুলির এবং বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমের ক্রীড়া সাংবাদিকরা সমালোচনার ঝড় তোলেন। কিন্তু মাস ঘুরে গেলে সবাইভুলে যান। আবার চারবছর পর পরবর্তী অলিম্পিকের সময় তাঁরা জেগে ওঠেন। বিগত অলিম্পিকগুলির সঙ্গে তুলনা করেন। আমরা এবার দু বছর আগে থেকেই বিগত অলিম্পিকের সময় সংবাদমাধ্যমে কী কী সমালোচনা হয়েছিল সেগুলি সমীক্ষা করা শুরু করেছি। সরকারে বসার পর সেই ত্রুটিগুলি দূর করার জন্যেপদক্ষেপ নিতে করি। আমরা সমালোচনাগুলিকে সুযোগে রূপান্তরিত করতে শুরু করি। আপনারা আগে খবরের কাগজে পড়তেন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে যে সরকারি বাবুরা যেতেন তাদের দৈনিক ভাতাহতো ১০০-১৫০ ডলার আর যে খেলোয়াড়রা দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যে জীবন বাজি রেখেখেলেন, তাঁরা দৈনিক ভাতা পেতেন ৫০ ডলার করে। আমরা দায়িত্ব নিয়ে সেই বৈষম্য দূরকরেছি। এখন দলের সবাই ১০০ ডলার করে দৈনিক ভাতা পাবেন।

আমাদের দেশে অনেক প্রতিভা রয়েছেকিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকে, নিয়ম-পদ্ধতি থাকে সেগুলি সম্পর্কে আমাদের খেলোয়াড়রা অবগত থাকেন না। তাদের জন্যে আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রীড়াভ্যাসের প্রয়োজন রয়েছে। সেজন্যে এবার যে খেলোয়াড়দের নির্বাচন করা হয়েছে,তাঁরা যাতে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিতে পারেন, সেজন্যে তাঁদের ইচ্ছেমতো বিশ্বের যেকোনও শহরে যে কোনও প্রশিক্ষককে নিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেজন্যে ভারত সরকার খেলোয়াড় পিছু ৩০ লক্ষ থেকে দেড় কোটি টাকা খরচ করেছে।

আগে প্রত্যেক অলিম্পিক বাবদ সরকারের বাজেট হতো ১৫-২০কোটি টাকা। আমরা এসে সেই বরাদ্দ বাড়িয়ে করেছি ১২৫কোটিটাকা। আর আমার নবীন প্রজন্মের ভাইবোনেরা, বিদ্যালয়ের ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীরা এখনথেকে প্রস্তুতি নাও যাতে তোমরা ২০২০য় টোকিও অলিম্পিকে খেলতে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারো। আমি তোমাদের আশ্বস্ত করছি, এই সরকার আমাদের খেলোয়াড়দের মাধ্যমে বিশ্বেদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যে আগামী চার বছরে সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। আমি আজ যেখেলোয়াড়ের নামে ভারত গর্ববোধ করে তাকে সাক্ষী রেখে ক্রীড়া জগতের মহান পরম্পরাকেস্মরণ করে রিওতে যে মহাক্রীড়া প্রতিযোগিতা সংঘটিত হতে যাচ্ছে তার আয়োজক দেশকে, অংশগ্রহণকারী সকল দেশকে, নিজের নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করারজন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকা প্রতিযোগীদের ১২৫ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে অনেকঅনেক শুভেচ্ছা জানাই।

আমার বিশ্বাস, এই মহাক্রীড়াপ্রতিযোগিতা বিশ্বের সকল প্রান্তে বন্ধুত্বের বার্তাপৌঁছে দেবে, সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে, এতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আয়োজক দেশের মর্যাদাও বাড়বে,সেজন্যে আমার শুভেচ্ছা জানাই। ১২৫ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১১৯ জন ভারতীয় খেলোয়াড়কে শুভেচ্ছা জানাই।

রিও’তে আপনারা বিশ্বের অনেক দেশের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের দেখছেন, তাঁদের সান্নিধ্যে আসছেন; কিন্তু ১২৫ কোটি ভারতবাসী আপনাদের পেছনে সর্বস্ব বাজি রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আগামী ১৫ আগস্টে আমরা ভারতে ৭০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলন করবো, আমার বিশ্বাস, সেইসপ্তাহে আপনারা রিও’তে প্রতিদিনই ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলনের স্পর্ধা অর্জন করবেন । আপনাদের সাফল্যে আমরা গর্বিত হব ।

ভাই ও বোনেরা,খেলাধুলো আমাদের জীবনের প্রয়োজন , এখন আন্তর্জাতিকক্ষেত্রে এটি দেশের প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে । আসুন খেলি , খেলি আর প্রস্ফুটিত হই । আমাদের দেশও প্রস্ফুটিত হোক , বিকশিত হোক ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

PG/SB/SB