Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

রাইজিং ইন্ডিয়া শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

রাইজিং ইন্ডিয়া শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

রাইজিং ইন্ডিয়া শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

রাইজিং ইন্ডিয়া শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


নেটওয়ার্ক-১৮ গ্রুপের এডিটর-ইন-চিফ রাহুল যোশী মহোদয়,

নেটওয়ার্ক-১৮-র সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সাংবাদিক বন্ধু,

ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বন্ধুগণ, এবং

এখানে উপস্থিত অন্য সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গ,

নেটওয়ার্ক-১৮-র দর্শকবৃন্দ এবং আমার প্রিয় বন্ধুগণ,

কিছুক্ষণ আগেই আমার রাষ্ট্রীয় যুদ্ধ স্মারক দেশকে সমর্পণ করার সৌভাগ্য হয়েছে। সংযোগবশতঃ এর ঠিক পরেই ‘রাইজিং ইন্ডিয়া’ শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছি যা আমার হৃদয়ের খুব কাছের বিষয়।

আমি নেটওয়ার্ক-১৮ টিমকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার সংগায়নের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রে রাষ্ট্র নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ একটি দেশ হিসেবে আমাদের অগ্রাধিকার কি হবে তা নিয়ে নিরন্তর আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের বন্ধুদের মাঝে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের পছন্দমতো পদ্ধতিতেই আলোচনা শুরু করতে চাইব। অর্থাৎ, আগে কি ছিল আর এখন কি হয়েছে। এর মাধ্যমে এটাও স্পষ্ট হয়ে যাবে যে আগে কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হত, আর এখন আমরা কি করছি। এটাও স্পষ্ট হবে যে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রনীতিকে অগ্রাধিকার দিলে কি ধরণের পরিণাম পাওয়া যেতে পারে।

বন্ধুগণ, ২০১৪ সালের আগে দেশের অবস্থা এমন ছিল যে, যেসব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল, সেসব ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ছিলাম। আর, যা হ্রাস পাওয়া উচিৎ ছিল তা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। যেমন, মূল্যবৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিৎ ছিল, কিন্তু বাস্তবে কী ছিল? বিগত সরকারের সময়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশ ছুঁয়েছিল। যাঁরা নিউজ রুমে বসেন, তাঁদের নিশ্চয়ই মনে আছে, কতবার তাঁদের মূল্যবৃদ্ধির প্রকোপ নিয়ে কলম চালাতে হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ পেরিয়ে গিয়েছিল। আর আমাদের সরকার মূল্যবৃদ্ধির হারকে ২-৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রনীতিকে অগ্রাধিকার দিলে এই ধরণের পরিণাম পাওয়া যেতে পারে!

বন্ধুগণ, আয়কর নিয়েও একই অবস্থা ছিল। মধ্যবিত্তরা প্রতিনিয়ত আয়কর ছাড়ের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আমরা সরকারের দায়িত্ব নিয়ে শুরুতেই আয়কর ছাড়ের সীমা আড়াই লক্ষ করে দিয়েছিলাম, তারপর, আমরা ৫ লক্ষ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করে দিয়েছিলাম। আর এখন ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত করে দিয়েছি।

বন্ধুগণ, জিডিপি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে আমাদের অগ্রাধিকার পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আপনারা জানেন, শ্রদ্ধেয় অটল বিহারী বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৪-এ ইউপিএ সরকারের হাতে ৮ শতাংশ জিডিপিসম্পন্ন অর্থ ব্যবস্থা সমর্পণ করেছিল। কিন্তু ২০১৩-১৪ সালে ইউপিএ সরকার আমাদের যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে তখন তা হ্রাস পেয়ে ৫ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল।

২০১৪-য় আমরা আবার এক্ষেত্রে বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে জিডিপি-কে ৭-৮ শতাংশে পৌঁছে দিয়েছি।

বন্ধুগণ, ইউপিএ সরকার ২০১৩-র মধ্যেই ভারতকে বিশ্বের ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ বা পাঁচটি ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশের তালিকাভুক্ত করেছিল। আমরা দৃঢ় নিশ্চয় এবং ১২৫ কোটি ভারতবাসীর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে ভারতকে ইতিমধ্যেই বিশ্বের সর্বাধিক দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া বড় অর্থনীতির দেশে পরিণত করেছি। অনেক বছর ধরেই আমরা পড়ছিলাম যে একবিংশ শতাব্দী ভারতের শতাব্দী হতে চলেছে। কিন্তু এই লক্ষ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ গত সাড়ে চার বছর ধরেই নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

বন্ধুগণ, সহজে ব্যবসা-বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে র‍্যাঙ্কিং-এ বিগত সরকারের বিদায়কালে দেশ ১৩২তম স্থান থেকে ১৪২তম স্থানে পৌঁছে গিয়েছিল। দেশে ব্যবসার আবহকে তারা ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছিল। স্পেকট্রাম থেকে শুরু করে ডুবোজাহাজ, কয়লা থেকে শুরু করে ক্যাগ – এই সমস্ত কেলেঙ্কারির ফলেই দেশে দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছিল। সুপ্রিম কোর্ট, ক্যাগ এবং সংবাদমাধ্যমে সরকারি দুর্নীতির একাধিক ফাইল খুলতে হয়েছিল। সেখান থেকে আমরা কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে ৬৫ ধাপ উন্নত করে ৭৭তম স্থানে পৌঁছে দিয়েছি। আজ রাজনৈতিক বিরোধীতা চরিতার্থ করতে আমাদের বন্ধুরা ভুল পদ্ধতিতে আদালতের শরণাপন্ন হন আর আদালত কর্তৃক তিরষ্কৃত হন। আদালত সরকারকে প্রশংসা করে। সরকারি ব্যবস্থায় নানা সংস্কারের মাধ্যমে আমাদের সরকার এই পরিবর্তন আনতে পেরেছে।

ভাই ও বোনেরা, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার কিভাবে একটি প্রকল্পের সঙ্গে অন্য প্রকল্পকে জুড়ে ব্যবস্থাকে মসৃণ ও স্বচ্ছ করে তুলেছে তার আরেকটি উদাহরণ আমি আপনাদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে চাই। আপনাদের হয়তো মনে আছে যে যখন আমরা চার বছর আগে জন ধন যোজনা শুরু করেছিলাম, তখন আমাদের নিয়ে কত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা হয়েছিল। অনেকে এমনও বলেছিলেন যে যাঁদের খাবার পয়সা নেই, তাঁরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে কী করবে?

বন্ধুগণ, এই মানসিকতার ফলেই স্বাধীনতার পর এত বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষের কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল না। কিন্তু আমরা এই অল্প সময়ে ৩৪ কোটিরও বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলিয়েছি। জন ধন অ্যাকাউন্টকে আধার নম্বরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং যথাসম্ভব মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত করে সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি সরকারি প্রকল্পগুলির অনুদানের টাকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আগে কিভাবে মানুষ টাকা পেতেন, আর মাঝে কারা খেয়ে যেতেন, সে সম্পর্কে আপনারা ভালোই জানেন। একজন পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, সরকার ১ টাকা পাঠালে জনগণের কাছে মাত্র ১৫ পয়সা পৌঁছয়। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের ৬ লক্ষ কোটি টাকা সরাসরি সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিয়েছি। এভাবে প্রায় ৮ কোটি ভুতুড়ে সুবিধাভোগীর হাত থেকে ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা গেছে।

বন্ধুগণ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, তথ্য ও প্রযুক্তির এই শক্তি আজ বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির ভিত্তি হয়ে উঠেছে। আজ আয়ুষ্মান ভারত যোজনার মাধ্যমে দেশের প্রায় ৫০ কোটি গরিব মানুষ বছরে পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অর্থ সরাসরি হাসপাতালের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। ২০১৫ সালে প্রকাশিত আর্থ-সামাজিক সমীক্ষার ভিত্তিতে উপকৃতদের নির্বাচন করে তাঁদের আধার নম্বরের সঙ্গে হাসপাতালের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর যুক্ত করে স্বচ্ছতার সঙ্গে এই পরিষেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।

আপনারা জানেন যে গতকালই আমাদের সরকার প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা চালু করেছে। দেশের প্রায় ১২ কোটি কৃষক পরিবারের সাম্বাৎসরিক প্রয়োজন মেটাতে বীজ, সার, পশুখাদ্য ও কীটনাশক কেনার জন্য সরকার বছরের প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করছে। এখন আর ‘পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি’ হওয়া সম্ভব নয়। কারণ এখন টাকা ব্যাঙ্কে জমা হলে সরাসরি কৃষকের মোবাইল ফোনে মেসেজ আসে। সেজন্যই তো তারা হাত ধুয়ে এখন আমাকে গালি দিচ্ছে।

ভাই ও বোনেরা, যাঁদের কথা ভেবে আমরা এই লুঠের পথ বন্ধ করেছি, তাঁরা পারস্পরিক বিরোধিতা ভুলে সবাই এক মঞ্চে একত্রিত হয়ে আমাকে এত গালি দিচ্ছেন যে অতীতে কোন প্রধানমন্ত্রীকে তা শুনতে হয়নি। এখন তাঁদের অগ্রাধিকার হল মোদীকে গালি দেওয়া, আর আমার অগ্রাধিকার হল দেশের করদাতাদের পরিশ্রমের অর্থের এক-এক পয়সার সঠিক ব্যবহার। আমাদের দেশে জনগণের পয়সাকে জনগণের স্বার্থে খরচ না করার যে পরম্পরা চলছিল, সে সম্পর্কে আপনারা ভালোভাবেই অবহিত, না হলে দশকের পর দশক ধরে এত হাজার হাজার প্রকল্প অসম্পূর্ণ থেকে যেত না। সেজন্য আমাদের সরকার প্রকল্পের কাজ দেরিতে শুরু এবং দেরিতে শেষ করাকে অপরাধ বলে মনে করে।

বন্ধুগণ, প্রায় চার দশক আগে উত্তরপ্রদেশে বাণসাগর নামক একটি সেচ প্রকল্প শুরু হয়েছিল। অনুমান করা হয়েছিল যে এটি শেষ হতে ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে। কিন্তু চার দশক ধরে এই প্রকল্পের কাজ ঝুলে থাকায় ২০১৪ সালে আমরা এসে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করলে সম্পূর্ণ করতে ৩ হাজার কোটি টাকা লেগেছে। এমন তো নয় যে পূর্ববর্তী সরকারগুলিকে কেউ কাজ করতে বাধা দিচ্ছিল। ৩০০ কোটি টাকার অভাব ছিল, এটাও আমি মানি না! নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার ইচ্ছেশক্তি ছিল না বলেই তাঁরা করে উঠতে পারেন নি বলে আমি মনে করি। ঝাড়খণ্ডের মণ্ডল বাঁধের ক্ষেত্রেও তেমনি ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পকে আমরা এসে ৮০গুণ, প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা খরচ করে সম্পূর্ণ করেছি।

ভাই ও বোনেরা, আপনারা কেলেঙ্কারির খবর শুনে সতর্ক হয়ে যেতেন। কিন্তু এ ধরণের হাজার হাজার প্রকল্পে দেরির কারণে দেশের যে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা, আপনাদের মতো সৎ করদাতাদের পরিশ্রমের টাকা নষ্ট হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে প্রত্যেক রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং প্রত্যেক মন্ত্রকের সচিবদের নিয়ে একসঙ্গে বসে এই সমস্ত প্রকল্প কেন দেরি হয়েছে সে সম্পর্কে অবহিত হয়ে, সেসব সমস্যা দূর করে দ্রুত কাজ শুরু করি যাতে জনগণের টাকা আর বেশি অপচয় না হয়। ১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি পুরনো প্রকল্পের সমীক্ষা আমি নিজে করেছি। এর মধ্যে অধিকাংশই ছিল পূর্ব ভারত ও উত্তর-পূর্ব ভারতের। আমরা পূর্ব ভারত তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশে উন্নয়নের ভারসাম্য আনতে কাজ শুরু করেছি। ফলস্বরূপ, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অনেক স্থানে স্বাধীনতার পর প্রথমবার আমাদের সময়ে রেল পৌঁছেছে, বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে, বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। আমরা এরকম আরও অনেক পুরনো দাবি যেমন, উচ্চবর্ণের দরিদ্র মানুষদের ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, অসংগঠিত শ্রমিকদের পেনশন চালু করার সিদ্ধান্ত, যাযাবরদের উন্নয়নের জন্য ডেভেলপমেন্ট বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত, দেশের কোটি কোটি মৎস্যজীবীদের জন্য আলাদা দপ্তর – এই সমস্ত কিছু আমরা ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্রকে মাথায় রেখে সম্পাদন করেছি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় নতুন ভারতের নতুন আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠেছে।

এই আত্মবিশ্বাসের প্রেক্ষিতেই আমি আপনাদের অত্যন্ত প্রিয় বিষয়টি তুলে ধরতে চাইব সেটি হল কর্মসংস্থান। আমাকে বলা হয়েছে যে, নেটওয়ার্ক-১৮-তে রাহুলজি বলেছেন, ২০১৪-র পর একজন মানুষেরও কর্মসংস্থান হয়নি। এই তথ্য সঠিক কিনা, সেটা আপনারাই বিচার করবেন। একটু ভাবুন, ভারত যখন বিশ্বের সর্বাধিক দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা অর্থ ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে, তা কি কোন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে সম্ভব হয়েছে? দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ যখন সর্বোচ্চ, তা কি কোন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেনি? যখন বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক রিপোর্ট বলছে যে ভারত সবথেকে দ্রুতগতিতে দারিদ্র্য দূরীকরণে সফল হয়েছে, তখন কোন কর্মসংস্থান ছাড়াই কি দরিদ্রদের দারিদ্রসীমার ঊর্ধ্বে ওঠা সম্ভব হয়েছে? আগের তুলনায় দেশে কয়েকগুণ বেশি গতিতে সড়ক ও রেলপথ বেড়েছে, এসব ক্ষেত্রেও কি কোন কর্মসংস্থান হয়নি? গরিবদের জন্য লক্ষ লক্ষ নতুন গৃহ, নতুন সেতু, নেতুন বাঁধ, নতুন নতুন বিমানবন্দর গড়ে তোলার মতো পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ কি কোন কর্মসংস্থান ছাড়াই সম্ভব হয়েছে? পর্যটন ক্ষেত্রে যখন রেকর্ড বিনিয়োগ হচ্ছে, সেটা কি কোন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে সম্ভব হচ্ছে?

আপনারা চারপাশের পরিবেশে অনেক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের ব্যবসা বৃদ্ধি হতে দেখেছেন। আয়কর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুসারে, বিগত চার বছরে ৬ লক্ষেরও বেশি নতুন পেশাদার যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যেক পেশাদারের সহায়ক কর্মীরও নিশয়ই প্রয়োজন হয়েছে। তাহলে এই পেশাদারদের মাধ্যমেই বিগত চার বছরে কত লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে? আপনাদের ফিল্ম সিটি নয়ডাতে আগে অর্ধেক জায়গা খালি ছিল, আর এখন সেখানে গাড়ি পার্কিং-এর জায়গা পাওয়া যায় না। এই যে এত নতুন গাড়ি এসেছে, বিগত পাঁচ বছরে পরিবহণ ক্ষেত্রে যে বৃদ্ধি হয়েছে সেখানে কি কর্মসংস্থান হয়নি? বাণিজ্যিক বাহনের ক্ষেত্রে শুধু গত বছরেই ভারতে ৭ লক্ষ গাড়ি বিক্রি হয়েছে। কোনরকম কর্মসংস্থান ছাড়াই কি এই গাড়িগুলি পথে চলছে?

প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে ৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়ে দেশে যে ১৫ কোটিরও বেশি নতুন শিল্পোদ্যোগী নিজেদের কোম্পানি শুরু করেছে, আর এর মধ্যে ৪ কোটি নবীন শিল্পোদ্যোগী প্রথমবার ব্যবসার জন্য ঋণ নিয়েছেন তাঁরা কি কাউকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে তাঁদের সংস্থা চালাতে পারছেন?

বন্ধুগণ, কর্মসংস্থান সম্পর্কে সরকার কর্মচারী ভবিষ্যনিধি থেকেও অনেক তথ্য জানতে পারে। কর্মচারী ভবিষ্যনিধির মাধ্যমে কোটি কোটি কর্মচারীর বেতন থেকে টাকা কাটা হয় আর নিয়োগকারীও তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করে। কর্মচারী ভবিষ্যনিধির পরিসংখ্যান আর ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে তৈরি করা পরিসংখ্যান এক নয়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রত্যেক মাসে প্রায় ৫ লক্ষ কর্মচারী ভবিষ্যনিধির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এভাবে এমপ্লয়িজ স্টেট ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশনের সঙ্গেও ঐ সময়ে প্রত্যেক মাসে প্রায় ১০ থেকে ১১ লক্ষ কর্মচারী যুক্ত হয়েছেন। আমি এই দুই সংস্থার পরিসংখ্যানের ৫০ শতাংশকে যদি ওভারল্যাপ বলে মেনে নিই, তাহলেও সংগঠিত ক্ষেত্রে প্রত্যেক মাসে প্রায় ১০ লক্ষ করে নতুন কর্মচারী যুক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ, বছরে ১ কোটি ২০ লক্ষ চাকরি সৃষ্টি হয়েছে।

বন্ধুগণ, বিগত চার বছরে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ ঐতিহাসিক বৃদ্ধি হয়েছে। পর্যটন থেকে বিদেশি মুদ্রার রোজগারও বিগত চার বছরে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতের বিমান পরিষেবা ক্ষেত্রেও ঐতিহাসিক বৃদ্ধি হয়েছে। গত বছর ১০ কোটিরও বেশি মানুষ বিমানে সফর করেছেন। এইসব কিছু থেকেও কি কোন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি?

হতে পারে, অনেকেই মোদীর বক্তব্য মানবেন না বলে ঠিক করে নিয়েছেন। কিন্তু আপনারা মনে রাখবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারই শুধু দাবি করছে যে গত বছর তারা ৯ লক্ষ মানুষকে কর্মসংস্থান দিয়েছে। আর, ২০১২ থেকে ২০১৬-র মধ্যে ৬৮ লক্ষ চাকরি দিয়েছে। কর্ণাটক সরকারও দাবি করে যে বিগত পাঁচ বছরে তারা ৫৩ লক্ষ চাকরি দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ এবং কর্ণাটকে যদি কর্মসংস্থান হয়ে থাকে, তাহলে ভারতে হয়নি সেটা কি করে সম্ভব?

বন্ধুগণ, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আমি মনে করি এখনও দেশে অনেক কিছু করা বাকি। কিন্তু আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে অদূর ভবিষ্যতেই বিশ্বের সামনে ভারতের কর্মসংস্থান একটি উদাহরণ হয়ে উঠবে।

বন্ধুগণ, এই নতুন ভারত নির্মাণে ও ক্ষমতায়নে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও ব্যবস্থার ত্রুটিগুলি তুলে ধরার অধিকার আপনাদের রয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি দেশের ইতিবাচক আবহকেও ক্ষমতায়িত করার দায়িত্ব আপনাদের রয়েছে।

আমি আপনাদের সাধুবাদ জানাই যে আপনারা এই ইতিবাচক ভূমিকাকে অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে পালন করছেন। সমাজ ও ব্যবস্থায় সংস্কার সম্পর্কে আপনারা সততার সঙ্গে জনজাগৃতির কাজ করেছেন।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নতুন ভারতের উত্থানে আপনাদের এই ভূমিকা আরও দৃঢ় হবে। অবশেষে, আপনাদের সবাইকে এই শীর্ষ সম্মেলন কর্মসূচিতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।

ধন্যবাদ।

CG/SB/DM