Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

রাউরকেলা ইস্পাত কারখানার ৪.৫ মেট্রিক টন সম্প্রসারিত অংশ জাতির উদ্দেশে সমর্পণের পর জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


s2015040163740 [ PM India 159KB ]

s2015040163741 [ PM India 166KB ]

s2015040163747 [ PM India 184KB ]

s2015040163744 [ PM India 152KB ]

s2015040163750 [ PM India 134KB ]

s2015040163739 [ PM India 195KB ]

নয়াদিল্লি, ০২ এপ্রিল, ২০১৫ জয় জগন্নাথ, মঞ্চাসীন সকল বরিষ্ঠ শ্রদ্ধাভাজন, আজ পবিত্র উৎকল দিবস, ওড়িশা প্রতিষ্ঠা দিবস, এই উপলক্ষে সমস্ত ওড়িশাবাসীদের অভিনন্দন জানাই। আজ আমার সৌভাগ্য যে উৎকল দিবসের পূণ্য উপলক্ষে জগন্নাথদেবের পবিত্র ভূমিতে আসতে পেরেছি। এই ওড়িশা গড়ে তুলতে অনেক মানুষ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, সাধনা করেছেন। আজ উৎকল দিবসে আমি বিশেষ করে, উৎকলমণি পণ্ডিত গোপবন্ধু দাস’কে প্রণাম জানাই। উৎকল গৌরব মধুসুদন দাস’কে নমস্কার জানাই। বীর সুরেন্দ্র ভাই’কে প্রণাম জানাই। আর, মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র গজপতিকেও স্মরণ করি। এই মাটি বীরসা মুন্ডার বিপ্লব শিখায় প্রজ্জ্বলিত, আমি বীরসা মুন্ডাকেও প্রণাম জানাই। আধুনিক ওড়িশা নির্মাণের জন্য প্রত্যেক ওড়িশাবাসী বিজু বাবুকে শ্রদ্ধা করেন। আমি এই সকল মহানুভবদের প্রণাম জানাই। আর আজ ওড়িশা দিবসে ওড়িশাবাসীদের হৃদয় থেকে শুভেচ্ছা জানাই। ওড়িশা উন্নতির নতুন উচ্চতা পার করুক। ওড়িশার নব যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক, তারা তেজস্বী হোক, রাষ্ট্রের কল্যাণে তাদের অমূল্য অবদান থাকুক। ওড়িশার কৃষক, মজুর, মৎস্যজীবী ভাই, ওড়িশার আদিবাসী এবং এই ভূমিকে গোটা ভারত সম্মান করে, এঁদের জন্য গর্ব অনুভব করে। এখানকার সূর্য মন্দির আজও হিন্দুস্তানকে আলো দেয়, নতুন আশার সঞ্চার করে। এই পবিত্র ভূমিকে আজ প্রণাম জানাই। আমি গত বছর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে রাউরকেলায় এসেছিলাম। সম্ভবত ৪ এপ্রিল এসেছিলাম। আর আজ এক বছরের মধ্যেই দ্বিতীয়বার আপনাদের মাঝে এসেছি। গত বছর এসে আপনাদের স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্খাগুলি বুঝতে চেয়েছিলাম। আজ, আপনাদের এক বছরের হিসাব দিতে এসেছি আর গণতন্ত্রে এটা আমাদের দায়িত্ব বর্তায় যে জনতা জনার্দনকে আমাদের কাজের হিসাব দিতে হবে। প্রত্যেক মুহূর্ত, প্রতিটি পয়সার হিসাব। ভাই ও বোনেরা, এই রাউরকেলা এক প্রকার ক্ষুদে ভারত। হিন্দুস্তানের প্রত্যেক প্রান্তের মানুষ এখানে বসবাস করেন। রাউরকেলায় কিছু হলে, তার স্পন্দন তৎক্ষণাৎ ভারতের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে যায়। আর ভারতের যে কোনও প্রান্তে যা কিছু হয় দু-এক মুহূর্তের মধ্যেই রাউরকেলার মানুষ তা জেনে যান। সম্পূর্ণ ভারতের সঙ্গে এই মাটি, এখানকার মানুষের সম্পর্ক এতই জীবন্ত। এহেন রাউরকেলা নির্মাণে, ভারত’কে ইস্পাতের শক্তি প্রদানে এই ক্ষুদে ভারত, এই রাউরকেলার অবদান অপরিসীম। ভারত’কে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করেছিলেন লৌহ পুরুষ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। আর স্বাধীনতার পর যে শহর প্রথম ভারত’কে ইস্পাতের শক্তি দিয়েছে তার নাম রাউরকেলা। এই সামর্থ বজ্র সামর্থ। যে দেশের এহেন সামর্থ রয়েছে সেই রাষ্ট্র কখনও পিছিয়ে পড়ে না। উন্নতির নতুন নতুন উচ্চতা পার করতে থাকে। অনেক বছর আগে এখানে ডঃ রাজেন্দ্র বাবু ইস্পাত কারখানার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এখানকার মজুররা হয়তো ভাবেন, আমি মাটির তালের মতো দেখতে খনিজ পদার্থ, আকরিক লোহাকে ইস্পাতে পরিণত করি; মজবুত ইস্পাত, ভালো ইস্পাত! আমার রাউরকেলার ভাই ও বোনেরা, আপনারা কেবল ইস্পাতের প্লেট বানান না, এতটা চওড়া, এতটা মোটা প্লেটই শুধু বানান না। আপনারা যে ঘাম ঝরান, যে পরিশ্রম করেন, সেই ভয়ঙ্কর উত্তাপের মাঝে দাঁড়িয়ে থেকে নিজের শরীরকে উত্তপ্ত করতে থাকেন। এভাবে শুধুই ইস্পাতের প্লেট নির্মাণ করেন না, আপনারা ভারতের সেনাবাহিনীকে শক্তি যোগান, দেশের নিরাপত্তা বাড়াতে অপরিসীম শক্তি, বজ্রের মতো শক্তি নির্মাণ করেন। আজ ভারত সামুদ্রিক নিরাপত্তায় দেশজ সরঞ্জামের ব্যবহারে স্বয়ম্ভর হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আমাদের যুদ্ধ জাহাজগুলি আমরাই নির্মাণ করতে চাই। আপনারা প্রচণ্ড উত্তাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে যে ইস্পাত উৎপাদন করেন, তা দিয়েই দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে যুদ্ধজাহাজ নির্মিত হয়। শত্রুর আক্রমণের মোকাবিলা করার জন্য আমাদের সৈনিকরা যে মজবুত ট্যাঙ্কে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করে সেই ট্যাঙ্কও আপনাদের উৎপাদিত ইস্পাত দিয়ে তৈরি হয়। সেজন্য আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, দূর হিমালয়ের কোলে ট্যাঙ্কে দাঁড়িয়ে যে সৈন্যরা যুদ্ধ করে তাঁরা আপনাদের পৌরুষের ঘ্রাণে উদ্দীপ্ত হন। এভাবেই রাষ্ট্র নিরাপদ থাকে এবং এভাবেই ইস্পাত উৎপাদনের সঙ্গে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা জুড়ে থাকে। এই ইস্পাত উৎপাদনের কাজ শুধু ওড়িশার অর্থনীতি নয়, সমগ্র দেশের আর্থিক জীবনে নতুন শক্তি জোগায়। এই শিল্প এই পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের রোজগারের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। এখানকার দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর ব্যক্তির রুজি-রুটি নিশ্চিত করেছে এবং আগামীদিনে তাঁদের আরও বেশি রোজগারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিকাশের নতুন পরিসর নির্মিত হবে। আজ এই প্রকল্পের সম্প্রসারণ হচ্ছে, আর দু-চার কদম নয়, এর ক্ষমতা দ্বিগুণ হচ্ছে। এই বর্ধিত ক্ষমতার ফলে, দেশের সার্বিক ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতাও অনেকটা বেড়ে যাবে। দেখতে দেখতে হিন্দুস্তান ইস্পাত উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমেরিকাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু এখনও আমরা চিনের থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। আর যখন আমি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র কথা বলি, তার মানে আমরা কারও থেকে পিছিয়ে থাকতে চাই না। তাই, অনেক কিছুই করার বাকি রয়েছে। আমাদের দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষই নবীন প্রজন্মের। ভারত মায়ের কোলে ৬৫ শতাংশের বেশি সন্তান-সন্ততি ৩৫ বছরের কম বয়সী। কত বড় শক্তি আমাদের কাছে রয়েছে। এরা যদি সুযোগ পান , এরা যদি রোজগার করতে পারেন, যদি ওদের দক্ষতার সঠিক বিকাশ করা যায়, তা হলে গত ৬০ বছরে হিন্দুস্তান যেখানে এসে পৌঁছেছে আগামী ১০ বছরে তার থেকে বেশি গতিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, নবীনদের নিয়ে এ আমার দৃঢ় প্রত্যয়। আর সেজন্যই ভাই ও বোনেরা, দেশের শিল্পের বিকাশ হোক, ভারতের ভূগর্ভে খনিজ সম্পদ রয়েছে। এই কাঁচামাল বিদেশে রপ্তানি করে সেই টাকা উপার্জন করে আমাদের সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়। এতে আমাদের হয়তো ভালোই চলবে কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে না। সেজন্য, আমাদের সামর্থে ভ্যালু অ্যাডিশন হওয়া উচিত, তার প্রসেসিং হওয়া চাই, তার মূল্য বৃদ্ধি হওয়া উচিত। আমাদের উৎপাদিত বস্তুসমূহ বিশ্বের বাজারে সর্বোৎকৃষ্ট সামগ্রী হিসেবে বিক্রি হলে তা ভারতের আর্থিক সম্পন্নতাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে। আর সেজন্য আমরা আমাদের কাঁচামাল নির্ভর শিল্পের নেটওয়ার্ক তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের নবীন প্রজন্মকে সুযোগ দিতে চাই, তাদের জন্য ব্যাঙ্ক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণের ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশকে একটি নতুন শিল্প বিপ্লবের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। ভাই ও বোনেরা, একটা সময় ছিল যখন কেউ ভারতের দিকে চোখ তুলে তাকাতে চাইতো না। গত এক দশক ধরে এমনই সঙ্কটপূর্ণ সময় গেছে, যার ফলে সমগ্র বিশ্ব আমাদের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু আজ ভাই ও বোনেরা, আমি গর্বের সঙ্গে বলছি, গত দশ মাসের মধ্যেই নিরাশার মেঘ সরে গিয়ে আশার সূর্য আরেকবার মধ্য গগনে পৌঁছে গেছে। আর সমগ্র বিশ্ব আজ হিন্দুস্তানে অর্থ বিনিয়োগ করতে চায়। আসুন, আপনারা নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করুন। ভারতের মাটি উর্বরা। এখানে যাঁরা বিনিয়োগ করবেন, তাঁরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যতটা আয় করেন, তার থেকে বেশি লাভ দেওয়ার ক্ষমতা এই মাটির রয়েছে। আর সেজন্য, আমি বিশ্বকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, শুধু দেশের পশ্চিমাংশের উন্নয়ন হলেই সমগ্র ভারতের উন্নয়ন হতে পারে না। মহারাষ্ট্র এগিয়ে যাক, গুজরাট এগিয়ে যাক, গোয়া এগিয়ে যাক, রাজস্থান এগিয়ে যাক, হরিয়ানা এগিয়ে যাক, পাঞ্জাব এগিয়ে যাক, কিন্তু শুধু এতেই কাজ হবে না। তারা এগিয়ে যাক এবং এগিয়ে যেতে থাকুক, কিন্তু দেশের উন্নতি তখনই হবে, যখন ওড়িশা এগিয়ে যাবে, ছত্তিশগড় এগিয়ে যাবে, বিহার-পশ্চিমবঙ্গ-অসম-পূর্ব উত্তর প্রদেশ এগিয়ে যাবে। সমগ্র হিন্দুস্তানের মানচিত্র দেখুন। পূর্ব ভারতের অঞ্চলগুলিরও এগিয়ে যাওয়া উচিত, যতটা পশ্চিমাঞ্চল এগিয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব হবে তা দেখার জন্য সরকার সমস্ত পরিকল্পনার অভিমুখ পরিবর্তন করছে। এতদিন পর্যন্ত এটাই পরম্পরা ছিল যে, দিল্লির সরকার নিজেদের বড় ভাবতো আর রাজ্য সরকারগুলিকে ছোট ভাবতো। আমরা এই চরিত্র বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই পরম্পরা আমি পছন্দ করি না। কেন্দ্র হোক বা রাজ্য, সমান অংশীদার হোক, কেউ উঁচু নয়, কেউ নীচু নয়। কেউ দেবে না, কেউ নেবে না, দু’পক্ষই পরস্পরের হাত ধরে এগিয়ে চলবে। আর সেজন্যই আমরা কো-অপারেটিভ ফেডারেলিজম – এর কথা বলি। ভাই ও বোনেরা, রাজ্যগুলি আমাদের কাছে চায়নি, কিন্তু আমরা মানি, কেন না আমি নিজে অনেক বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম এবং দেশের মধ্যে প্রথমবার এরকম দীর্ঘ সময়কাল মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর কেউ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। সেজন্য মুখ্যমন্ত্রীদের কি সমস্যা হয়, রাজ্যগুলির কি সমস্যা হয়, তা আমি খুব ভালোভাবে বুঝি। আমি দিল্লিতে বসেও ওড়িশার কষ্ট খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি। একটা সময় ছিল, আপনাদের কাছে অনেক কয়লা খনি রয়েছে, কিন্তু তার রয়্যালটির জন্য বারবার দিল্লির দ্বারস্থ হতে হতো। আমরা সরকারে আসার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অনেক বছর ধরে পড়ে থাকা রয়্যালটির মামলাগুলি নিষ্পত্তি করবো। আর তা করেও দিয়েছি। রয়্যালটি বাড়িয়েও দিয়েছি, কারণ আমরা মনে করি, রাজ্যের হাতে অর্থ থাকলে রাজ্যগুলি উন্নতির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে না। ভাই ও বোনেরা, রাজ্যগুলিকে ফিন্যান্স কমিশনের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়। গত বছর ভারত সরকার ফিন্যান্স কমিশনের মাধ্যমে ওড়িশা সরকারকে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। স্বাধীনতার ৬০ বছর পর বছরে ১৮ হাজার কোটি টাকা। আমরা আসার পরই এই টাকা বাড়িয়ে এ বছর ২৫ হাজার কোটি টাকা করে দিয়েছি, ২৫ হাজার কোটি। রাজ্যের উন্নতি হলেই, দেশের উন্নতি হবে। রাজ্যগুলি মিলেমিশে উন্নতি করলে দেশেরও বিকাশ ঘটবে। এই মন্ত্র সম্বল করেই আমরা এগিয়ে চলেছি এবং আমরা বিশ্বাস করি, এভাবে ভারত সরকার বিকাশের নতুন মাত্রা স্পর্শ করবে। যে রাজ্য অগ্রগামী হবে, যে রাজ্য দীর্ঘকাল ধরে পরিকল্পিতভাবে এই অর্থের সদ্ব্যবহার করবে সে রাজ্য দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করতে সময় নেবে না। আমি আপনাদেরকেও এই আশ্বাস দিতে এসেছি, এখন রাজ্যগুলিকেও দায়িত্ব নিতে হবে যে, তারা নিজেদের অগ্রগতির পথ তৈরি করুক, পরিকাঠামোর উন্নতি মজবুত করুক। তাৎক্ষণিক লাভের প্রকল্প নয়, দীর্ঘকালীন ক্ষমতায়নের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাক। আপনারা দেখবেন যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুখে থাকবে। ওড়িশায় সেই শক্তি রয়েছে, স্বর্ণময় ইতিহাস রয়েছে। আরেকবার ওড়িশায় সেই স্বর্ণযুগ ফিরে আসতে পারে, আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সেই সুযোগ আপনাদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে। ভাই ও বোনেরা, আপনারা জানেন, কখনও ওড়িশার জনগণের মনে হতো যে আমাদের ভাগ্যে কয়লার কালিমা-ই রয়েছে, কিছু্ই পাওয়া যেত না। কয়লা এক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, আজ আমরা কয়লাকে হীরক-এ পরিণত করেছি, হীরে বানিয়ে দিয়েছি ভাই, কয়লা খনিগুলির নিলাম করেছি, যে কয়লায় হাত লাগাতে সকলে ভয় পেতেন, আজ সেই কয়লাকে হীরকে পরিণত করার কাজ করেছি। যখন ক্যাগ – এর রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল, আমরা জেনেছিলাম যে, কয়লা কেলেঙ্কারিতে দেশের অর্থ ভাণ্ডারের প্রায় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা লুঠ করা হয়েছে। আমি গত বছর এপ্রিল মাসে এখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলাম, তখন আমাকে অনেকে বলেছিলেন, ‘সাহেব কিছুটা নিয়েছে হবে, কিন্তু এতটা হবে না, ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা হবে না’। আমি তখন চুপ ছিলাম, কেন না তর্ক করতে চাইনি। ক্যাগের অভিযোগ অনুসারে, সুপ্রিম কোর্ট ২০৪টি কয়লা খনিকে বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা ঠিক করলাম , স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিলাম করবো, সমগ্র বিশ্বের সামনে নিলাম করবো, মিডিয়ার উপস্থিতিতে নিলাম করবো। ভাই ও বোনেরা, সেই ২০৪টির মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২০টি খনির নিলাম হয়েছে, অন্যগুলি এখনও বাকি আছে। আপনারা জানেন, যে ২০৪টি খনি থেকে ভারতের কোষাগারে এক টাকাও আসতো না, তার মধ্যে শুধুমাত্র ২০টির নিলামে ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ দেশের কোষাগারে এসেছে। আমরা এই অর্থের সিংহভাগ যে সমস্ত রাজ্যে সেই কয়লা খনিগুলি রয়েছে তাদের কোষাগারে পাঠাবো। ওড়িশার কোষাগারে, ছত্তিশগড়ের কোষাগারে, ঝাড়খন্ডের কোষাগারে। রাজ্যগুলির ক্ষমতা বাড়বে। ভাই ও বোনেরা, বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করলে কত বড় পরিবর্তন আনা যায়, তার নিদর্শন আপনাদের সামনে রাখলাম। ওরা কি দায়ী ছিল না? ওদের কি জবাব দেওয়া উচিত নয়? এই ২ লক্ষ কোটি টাকা মাত্র ২০টি খনি থেকে কেমন করে এলো? তা হলে আগের টাকা কোথায় গেলো? ভাই ও বোনেরা আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যদি আপনারা আমাকে দিল্লিতে সেবা করার সুযোগ দেন, তা হলে এমন কিছু করবো না যাতে দেশবাসীকে মাথা নত করে বেঁচে থাকতে হয়। আর আজ আমি বুক ফুলিয়ে আপনাদের সামনে হিসাব দিতে এসেছি, দশ মাস হয়েছে এই সরকারের, একটিও দাগ লাগেনি। ভাই ও বোনেরা, আমরা এখন নতুন খনিজ পদার্থ আইন প্রণয়ন করেছি, আর আমি নবীন বাবুর কাছে কৃতজ্ঞ যে তাঁর দল সংসদে আমাদেরকে এই আইন প্রণয়নে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলস্বরূপ, রাজ্যসভাতেও এই আইন অনুমোদন পেতে কোনও অসুবিধে হয়নি। আমরা সকলে মিলেমিশে দেশের কল্যাণে কাজ করি, আর আমরা এভাবেই কাজ চালিয়ে যাব। ভাই ও বোনেরা, আগেরবার যখন এসেছিলাম তখন আমি প্রধানমন্ত্রী ছিলাম না। কিন্তু এখানকার জনগণ আমার কাছে একটি দাবি রেখেছিলেন। রাজনীতির স্বভাব হল পুরোনো কথা ভুলে যাওয়া, যত দ্রুত সম্ভব ভুলে যাওয়া, কিন্তু ভাই ও বোনেরা, আমি রাজনৈতিক নেতা নই, আমি তো আপনাদের সেবায় নিযুক্ত। আমি পুরোনো কথা ভুলতে চাই না। আমি নিজে এসে মনে করাচ্ছি যে, গত বছর ৪ এপ্রিল এই মাঠে দাঁড়িয়ে যে সমস্ত কথা বলেছিলাম। আপনারা আমাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন এবং আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার এসে সে সব প্রতিশ্রুতি পুরণ করে বলতে চাই যে, এখনকার ইস্পাত জেনারেল হাসপাতালকে ভারত সরকার মেডিকেল কলেজ কাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভাই ও বোনেরা, আমি চাই না যে আপনাদের কখনও সেই হাসপাতালে রোগী হয়ে ভর্তি হতে হয়। আমি আজ উৎকল দিবসে আপনাদের শুভেচ্ছা জানাই যে, ভারতে উৎকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্ট মানের হাসপাতাল তৈরি হোক কিন্তু বারো মাস খালি থাকুক। কেউ অসুস্থ না হোন, কোনও পরিবার সমস্যায় না পড়ুন, কাউকে হাসপাতালে না যেতে হোক কিন্তু এখানকার মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে দক্ষ নবীন চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মী দেশের সেবার জন্য প্রস্তুত থাকুন। আরেকটি দাবি ছিল, ব্রাহ্মণী নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের। আমি আপনাদের সমস্যা জানি। আজ আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, ব্রাহ্মণী নদীতে দ্বিতীয় সেতুটিও নির্মাণ করে দেওয়া হবে। আর তার ফলে, রাউরকেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার কতটা উন্নতি হবে তা আপনারা কল্পনা করতে পারেন। ভাই ও বোনেরা, আজ আমি দূর থেকেই জগন্নাথদেবকে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিচ্ছি, কিন্তু সম্পূর্ণ ওড়িশা তথা দেশ ও বিশ্বের জগন্নাথ-ভক্তরা তাঁর নবকলেবরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক বছর পর পর তিনি নবকলেবরে আসেন। ওড়িশার মানুষ তখন সমগ্র বিশ্ব থেকে সমাগত পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য সজাগ হয়ে ওঠেন। রেল ও বিমানের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। আরও অনেক ব্যবস্থাপনা যেমন শৌচাগারের ব্যবস্থা – ভারত সরকার ওড়িশা সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। সেজন্য নবকলেবর উপলক্ষে, ভারত সরকারের অতিরিক্ত ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ভাই ও বোনেরা, আজ এই ইস্পাত কারখানা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যাব এবং আরও এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প নিয়ে ঘরে ফিরবো। এমনই বিকাশের নতুন উচ্চতায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সমস্ত রাজ্যগুলিকে আমি আমন্ত্রণ জানাই। আসুন, একটি নতুন যুগের শুভারম্ভ করার এই তো সময়। দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা আমাদের বিকাশের ভিত্তিকে মজবুত করুক। তাৎক্ষণিক লাভের সম্ভাবনা থেকে মুক্ত হয়ে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের জন্য নিজেদের পথগুলিকে প্রশস্ত করি। আমি আরেকবার সেইল – এর সমস্ত বন্ধুদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এখানকার ছোটখাটো ইস্পাত কারখানাগুলিতে কর্মরত আমার ভাই ও বোনেদের অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আমি ওড়িশা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। আর আমি কল্পনাও করতে পারি না ভাই ও বোনেরা, কোনও সরকার আয়োজিত সভায় এত জনসমাগম হতে পারে। চারদিকে যেদিকেই তাকাই না কেন শুধু মানুষের মাথা দেখতে পাচ্ছি। আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, এই ভালোবাসা আসলে উন্নয়নের প্রতি আপনাদের সমর্থনের অভিব্যক্তি। হিন্দুস্তানের দরিদ্র মানুষ, কৃষকদের ক্ষমতা বাড়াতে, আপনাদের স্বপ্নগুলিকে সফল করতে যে সংকল্প তাকে সমর্থন জানানোর এই প্রয়াস। আমি তার জন্য আমার ওড়িশাবাসী ভাই ও বোনেদের প্রণাম জানাই, অভিনন্দন জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। জয় জগন্নাথ-জয় জগন্নাথ-জয় জগন্নাথ।