পিএমইন্ডিয়া
শ্রদ্ধেয় রাষ্ট্রপতিজি, উপস্থিত সকল বরিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ,
আমাদের শাস্ত্রে সহস্র চন্দ্র দর্শনকে একটি বিশেষ মহত্ব প্রদান করা হয়েছে। ৫০তম, ৭৫তম জন্মজয়ন্তী থেকে ৮০তম জন্মজয়ন্তীর মাহাত্ম্য বেশি, কারণ মনে করা হয় ৮০তম জন্মদিনে যিনি পৌঁছোন, তিনি অবশ্যই তাঁর জীবৎকালে সহস্রবার চন্দ্র দর্শন করার সৌভাগ্য পেয়েছেন। আমাদের রাষ্ট্রপতি মহোদয়সহস্রবার চন্দ্র দর্শন করার পর সেই শীতলতার অনুভূতি সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আমি আজ অন্তর থেকে তাকে অভিনন্দন জানাই, শুভেচ্ছা জানাই। আমার বিশ্বাস তাঁর দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা একটি বড় সম্পদ হিসেবে আগামি অনেক বছর ধরে দেশের কাজে লাগবে, প্রেরণা জোগাবে আর দেশকে উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় পোউছে দেওয়ার যে স্বপ্ন আমরা সবাই দেখই, সেই স্বপ্ন সাকার করতে আশীরবাদস্বরূপ হয়ে উঠবে। আমি তাকে অনেক শুভেচ্ছা জানাই।
আজ এখানে দুটি গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হল। এটি একটি ভাবনা-যাত্রা, যার প্রসাদ দেশের মানুষ বিভিন্ন সময়ে পেয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে তিনি যা বলেছেন, শাসনব্যবস্থা এবং সমাজব্যবস্থা নিয়ে তাঁর ভাবনা সম্পূট, তাঁর দর্শন, তৎকালীন পরিস্থিতির পরিচয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতের বাতায়ন খুলে দেয়। সময় ও নানা পরিস্থিতির নিরিখে তাঁর চিন্তাবিশ্বের এই ব্যাখ্যা আগামীদিনেও দেশকে অবশ্যই পথ দেখাবে।
যারা সাংবাদিকতার ছাত্র, তাঁদের পাঠ্যপুস্তকে এখনই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা চিন্তাবিদদের নিবন্ধের সংকলন থাকে। পাশাপাশি, প্রকল্প হিসেবে এই ধরণের গ্রন্থ পাঠ ও বিশ্লেষন করে লেখার দায়িত্ব দিলে তাঁরা উপকৃত হবেন। ভাবনার পরিপ্রেক্ষিত বোঝার ক্ষমতা বাড়বে। কোনও সিদ্ধান্তই আচমকা হয় না, ভাবনাচিন্তার প্রেক্ষাপট থাকে, একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া থাকে। সর্বোচ্চ পদে বিরাজমান কোনও ব্যক্তির ভাবনার মূল স্বরূপ পাঠে তাঁর আলোচিত বিষয়গুলি বুঝতে সুবিধা হয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরণের সংকলন আগামীদিনে নতুন প্রজন্মকে অনেক প্রেরণা জোগাবে। পাশাপাশি আরেকটি গ্রন্থ উন্মোচনের সৌভাগ্য হল, যা আমাদের ঐতিহ্যের পরিচয়স্বরূপ। আমাদের একটি বড় ত্রুটি হল, আমরা ইতিহাস সচেতন জাতি নই। ফলে আমাদের যত বহুমূল্য ঐতিহ্য, সেগুলির জন্য যত গৌরব করা উচিত, সংরক্ষণ করা উচিত, আমাদের দেশে সেই সংরক্ষণের কাজটি যথাযথভাবে হয়ে ওঠে না। আমরা এই ধরণেরঐতিহ্যবাহী সম্পদকে সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মে সঞ্চারিত করে উঠতে পারিনি। হতে পারে তা মূল ভাবনা ‘আত্মবৎসব ভূতেষু’ হওয়ার ফলে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। কিন্তু যখন অবশিষ্ট বিশ্বের দিকে তাকাই, অনুভব করি—আমাদের কাছে কী নেই! ভারতের প্রত্যেক প্রান্তের প্রতিটি পাথরের একটি নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে, প্রতিটি পাথরের বলার মতো অনেক কথা আছে। কিন্তু সেসব কথা শোনার মানুষ কই? কে বুঝবে সেগুলির কথা, কে ব্যাখ্যা করবে? সেজন্যে এত বড় ইতিহাস মূক পাথর হয়ে রয়ে গেছে। এখন সময়ের দাবি হল, সেসব পাথরে আরেকবার প্রাণসঞ্চার করতে হবে। রামচন্দ্র পাথরে প্রাণসঞ্চার করে অহল্যাকে বাঁচিয়ে তুলেছিলেন, আমি রামায়ণ বিশেষজ্ঞ নই, কিন্তু এটা বুঝি ভারতের প্রত্যেক প্রান্তের প্রতিটি পাথরে বিধৃত ইতিহাস আমাদের ঐতিহ্যকে ধারণ করছে। আমাদের আরেকবার সেগুলিতে প্রাণসঞ্চার করতে হবে। এই ঐতিহ্য নিয়ে লেখা এই বইয়ে লেখা রয়েছে আমাদের বর্তমান ব্যবস্থাসমূহ, আমাদের এই স্তম্ভগুলি কোন পরিপ্রেক্ষিতে লেখা রচিত হয়েছে, কেমন করে রচিত হয়েছে, কোন প্রেক্ষাপটে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ? আমি মনে করি… বিশেষ করে অমিতাজী এই বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী, তিনি একটি ভাল কাজ করেছেন। সেজন্যে বিশেষ করে তাকে ধন্যবাদ জানাই।
প্রণবদা সেই ভাগ্যবান ব্যক্তি, তিনি সরস্বতীর বরপুত্র। মা সরস্বতীরআশীর্বাদধন্য এই মানুষটির লেখা অনেক গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর চিন্তাভাবনা ও পরিস্থিতির মূল্যায়নের গভীরতা, এই গ্রন্থসমূহে কম শব্দে ক্ষুরধার লেখার ক্ষমতা একজন প্রজ্ঞাবান মানুষের সঙ্গে পরিচয় করায়। এত দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন রাজনৈতিক জীবন, এত বছর ধরে সংসদ সদস্য থাকা, নানা পদ অলংকৃত করা…, ভারতের ইতিহাসে এত বৈচিত্রপূর্ণ দায়িত্ব আর কেউ পালন করেছেন বলে মনে হয় না। বানিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা, অর্থ থেকে বিদেশ মন্ত্রক, শুধু আমাদের দেশে কেন, গোটা বিশ্বে এমন কেউ রয়েছেন বলে মনে হয় না।
আমার সৌভাগ্য এহেন ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে এসেছি। আপনারা দেখেছেন, বক্তব্য রাখার সময় তাকে কখনও রেফারেন্স খুঁজতে হয় না। তিনি যে কোনও বিষয়ের গভীরে গিয়ে এত পুঙ্খানুপুঙ্খ বলেন, জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই এরকম বলা সম্ভব। তিনি ভালভাবে বাঁচতে জানেন। বাঁচেন তো সবাই, বড় বড় পদ অলংকৃত করেন, কিন্তু যিনি সকল পরিস্থিতিতে আহরণ করেন, জ্ঞানকে নিজের মধ্যে জারিত করেন, অভিজ্ঞতার কষ্টিপাথরে যাচাই কর্রেন, তিনিই ভালভাবে বাঁচেন, তাঁর অন্তরে নিরন্তর বহমান অমৃতধারা সহস্র চন্দ্র দর্শনের সময়ও তেজোময় থাকে, আবার শীতলতাও প্রদান করে, আলোও দেয়।
আজ আমাদের রাষ্ট্রপতি মহোদয়ও তা-ই করছেন। আমি তাকে অসংখ্য প্রণাম জানাই, অভিনন্দন জানাই। এই অনুষ্ঠানে আসার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SB/DM
President Mukherjee can talk about any issue. Such is his depth: PM @narendramodi https://t.co/7g7Lisg4jR @RashtrapatiBhvn
— PMO India (@PMOIndia) December 11, 2015
On Rashtrapati ji's birthday, released 2 books. The books give an insight to the thoughts & vision of our President. https://t.co/CbP91KLWQR
— Narendra Modi (@narendramodi) December 11, 2015
Recalled PranabDa's distinguished political career in my speech. Am fortunate to have got the opportunity to work with him @RashtrapatiBhvn
— NarendraModi(@narendramodi) December 11, 2015