Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত পরিদর্শক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত পরিদর্শক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত পরিদর্শক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত পরিদর্শক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত পরিদর্শক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত পরিদর্শক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত পরিদর্শক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত পরিদর্শক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


শ্রদ্ধেয় রাষ্ট্রপতি মহোদয়, আমার মন্ত্রী পরিষদের সহযোগিবৃন্দ এবং উপস্থিত সকল সম্মানীত ব্যক্তিবর্গ,

আমি শ্রদ্ধেয় রাষ্ট্রপতি মহোদয়-এর কাছে কৃতজ্ঞ, আপনি এই ব্যবস্থাকে সদর্থক ও প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। না হলে, এমনি এসে দেখা করা, কথাবার্তা বলা, আর তারপর বিদায় – এই শুষ্ক পারম্পরিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী অংশগ্রহণ, যুক্ত থাকা এবং সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে ব্যবস্থাটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। এই নববিকশিত ব্যবস্থার মন্থনে যে অমৃত উঠে আসে তা দেশের ভবিষ্যতের উন্নয়ন যাত্রার পথনির্দেশিকা রচনা করবে। এতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সামর্থ্য যুক্ত হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনসাধনে জোর দেবে। ব্যক্তির জীবন গঠনে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যক্তিকে তার শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করে আর উচ্চ শিক্ষা তার মনে আকাশ স্পর্শ করার ইচ্ছে জাগায়। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যক্তির বুনিয়াদকে মজবুত করে আর উচ্চ শিক্ষা জাতির বুনিয়াদকে মজবুত করে।

শক্তিশালী জাতি নির্মাণের পথনির্দেশিকা, তার একটি ব্লু প্রিন্ট এই কালখন্ডে গড়ে উঠেছে, এতে আপনাদের এবং আপনাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান-সমূহের অংশগ্রহণ রাষ্ট্রের উন্নয়ন যাত্রাকে অনুকূল শক্তি জুগিয়েছে। পূর্ববর্তী কোনও শতাব্দীতে প্রযুক্তির এত ব্যাপক প্রভাব ছিল না। বর্তমান শতাব্দীতে মানব সমাজ যে রকম প্রযুক্তিচালিত, তার গুরুত্বকে স্বীকার করে নিয়ে, ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা কিভাবে সুলভ প্রযুক্তিকে বেছে নেবো। যে প্রযুক্তি আমাদের স্থায়ী উন্নয়নের সহায়ক হবে, তেমন প্রযুক্তি আমাদের আবিষ্কার করতে হবে। লক্ষ লক্ষ সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে, সেসব সমস্যার মোকাবিলা করতে আমাদের কাছে কোটি কোটি মস্তিষ্কও রয়েছে। কিন্তু, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই মস্তিষ্কগুলি আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত না হবে, ততক্ষণ আমরা ক্রেতা হয়ে থেকে যাবো। কিন্তু, এই কোটি কোটি মস্তিষ্ক এমনি আবিষ্কারের পথে যেতে পারবে না। আবিষ্কারের জন্য চাই গবেষণা। গবেষণার জন্য যথাযথ পরিবেশ এবং পরিকাঠামো গড়ে দিতে না পারলে আমাদের আবিষ্কারের স্বপ্ন কেমন করে সাকার হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই পরিবেশ এবং পরিকাঠামো নির্মাণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আজ আমরা বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং পরিবেশের সঙ্কট নিয়ে দু’চিন্তায় রয়েছি। এই বিশ্ব উষ্ণায়ন অনেকের জন্য আবার বাজারের সম্ভাবনা। তারা এই সমস্যাকে সুযোগের রূপান্তরিত করার কথা ভেবেছেন। নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তারা বিশ্ব উষ্ণায়নের নামে বিশ্ব বাজার দখল করতে চান। এর বিপরীতে, ভারত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার কথা ভেবে আবিষ্কারের মাধ্যমে মানব জীবনে পরিবেশ-বান্ধব সুলভ প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে চায়। এক্ষেত্রে একটি সুসংহত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে এদেশের কোটি কোটি মানুষের সমবেত পদক্ষেপ আবহাওয়া পরিবর্তনের সমস্যা নিরসনে বিশ্বকে নতুন পথ দেখাতে পারবে।

আজ গোটা বিশ্বে এক নতুন সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে – ছুঁড়ে ফেলার সংস্কৃতি। এই ছুঁড়ে ফেলার সংস্কৃতি আজ দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। পুনর্ব্যবহার এবং পুনর্নবীকরণ কিভাবে করতে হবে তা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। ভারতের মতো এত বড় দেশে আমরা যদি নানা ধরণের বর্জ্য পদার্থকে সম্পদে রূপান্তরিত করার পদ্ধতিগুলি আবিষ্কার করতে পারি, তা হলে মানবসভ্যতাকে পথ দেখাতে পারবো। মনে করুন, ৫ কোটি গৃহ নির্মাণ করতে হবে, তার জন্য যে কাঁচামাল প্রয়োজন, সেগুলি নিয়ে একটি সুসংহত ভাবনা আমরা ভাবতে পারি। আমাদের দেশে নদীর বালি চোরা চালান হয়। এক রাজ্য থেকে চোরা পথে অন্য রাজ্যে গিয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়। এই চোরা চালানকে কঠোরভাবে রোধ করতে পারলে, পাশাপাশি আমাদের কাছে যে বর্জ্য পদার্থ রয়েছে সেগুলি পুনর্নবীকরণের মাধ্যমে সুসংহতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আমরা এই সমস্যাগুলির সমাধান করতে পারবো। যে অঞ্চলে সপ্তাহে একদিনও সূর্য দেখা যায় না, সেখানে প্রতিটি বাড়িতে চারিদিকে কাঁচ লাগাতে হয়, যাতে যতটা সূর্যালোক পাওয়া যায় পুরোটাই কাজে লাগানো যায়। সেক্ষেত্রে কাঁচের দেওয়ালে পর্দা লাগাতে হবে, যাতে ঘরের ভেতরের তাপ আমাদের প্রয়োজন অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। অর্থাৎ, প্রয়োজন অনুসারে আমাদের বাস্তুকলাকে গড়ে তুলতে হবে। তা না করে আমরা বাইরের প্রযুক্তি ব্যবহার করলে যথেষ্ট সময় ও অর্থের অপচয় করেও সমস্যার সমাধান করতে পারবো না। বিজ্ঞান সার্বজনিক কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহার হওয়া উচিত স্থানিক। ফলিত বিজ্ঞানই হওয়া উচিত আমাদের প্রযুক্তির আধার। মনে করুন, অসমে জল সরবরাহের ক্ষেত্রে মূল্যবান স্টিলের পাইপ ব্যবহার না করে বাঁশের নল ব্যবহার করলে অনেক সুলভে অধিকতর স্থায়ী জল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাঁশ পাওয়া যায়, সেখানে অহেতুক ইস্পাতের ব্যবহার করবো কেন? আমরা কই তেমন একটি ভারচ্যুয়াল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে পারি? আমি এ ধরণের একটি ওয়েবসাইট দেখেছি। আমরা যদি তেমন একটি ভারচ্যুয়াল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে পারি, যেখানে বিশ্বের কোন্‌ অঞ্চলে এ ধরণের বিকল্প সুলভ ও পরিবেশ-বান্ধব ব্যবস্থা জনপ্রিয় হয়েছে সেগুলি সম্পর্কে জানতে পারবো। তা হলে, আমরা তাঁদেরকে আমন্ত্রণ জানাবো, তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সেসব ব্যবস্থা যদি আমাদের দেশের কোনও অঞ্চলের পরিবেশের অনুকূল হয়, আমরা সেই সুলভ প্রযুক্তিকে সেসব অঞ্চলে ব্যবহার করতে পারি। আমাদের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র ভর্তি হয়। সেই প্রবেশিকা পরীক্ষায় যে ধরণের প্রশ্ন আসে ছাত্ররা সে ধরণের প্রশ্নের উত্তর তৈরি করার উপযোগী পড়াশুনা করে। দেশের আনাচে-কানাচে সে ধরণের প্রশ্নের উত্তর তৈরি করার উপযোগী পড়াশুনার প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এতে আমরা ঐ ছাত্রছাত্রীদের সত্যিকারের প্রতিভা এবং ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারি না। আমাদের ব্যবস্থা এই রকম যে, ভর্তির পর নলের একদিক দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দিক দিয়েই বের হতে হবে। তাদের জন্য কোনও বিকল্প রাস্তা খোলা থাকে না। ২,৪০০ ঘন্টা পড়াশুনা করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কেউ যখন আই এ এস অফিসার হন, তিনি নলের অন্যদিক দিয়ে সচিব হয়ে বেড়িয়ে আসবেন।এই র্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন কেমন করে আনবো।না হলে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের রক্ত জল করা টাকা এমনভাবেই বিফলে যাবে।আমাদের দেশে এত বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করতে হয়, দেশের বাজেটের একটা বড় অঙ্ক প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করতে হয়।আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি কি গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবে? আমাদের দেশের বিপুল মানবসম্পদের প্রতিভা এবং সামর্থকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অনেক অর্থ সাশ্রয় হয়।আসুন, সকল কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমবেত প্রচেষ্টায় আগামী ১০ বছরে আমরা দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি ৫০ শতাংশ হ্রাস করি।এতে যে টাকা সাশ্রয় হবে তা আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সংস্কারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবো, দেশের কতো লাভ হবে।

আজ সবাই সৌরশক্তি নিয়ে ভাবছেন। ১৭৫ গিগাওয়াট অনেক বড় উচ্চাকাঙ্খী পরিকল্পনা। বিশ্বের যে কোনও দেশে নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, তাঁরা ভাবতেই পারেন না যে কোনও দেশ এরকম পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু, আমরা যদি কারিগরি ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের মাধ্যমে সৌরশক্তি উৎপাদন ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত সুলভ যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করে সুলভে অধিক শক্তি উৎপাদনে সাফল্য পাই, তা হলে আমরা দেশ ও মানবজাতির কত বড় উপকারসাধন করতে পারবো।

সম্প্রতি আমি একটি বিজ্ঞান পত্রিকা পড়ছিলাম। এমনিতে আমার পড়াশুনার দৌড় খুবই সীমিত। কিন্তু, ঐ বিজ্ঞান পত্রিকাটির পাতা উল্টে দেখি একটি সুন্দর বায়ুশক্তির প্রয়োগের কথা লেখা রয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতাকে কাজে লাগিয়ে উইন্ড টারবাইনগুলি জল উৎপাদন করছে। মাত্র ২৪ ঘন্টায় বাতাসের আর্দ্রতা থেকে ১০ হাজার লিটার মিষ্টি পানীয় জল উৎপাদনে সক্ষম ঐ যন্ত্রটি। আমরা যদি মরু অঞ্চলের গ্রামগুলিতে এ ধরণের উইন্ড টারবাইন লাগাতে পারি, তা হলে সেই গ্রামগুলিকে ২৪ ঘন্টায় ১০ হাজার লিটার করে পরিশ্রুত মিষ্টি পানীয় জলের যোগান দিতে পারবো। এতে তাদের দূষিত জলজাত বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবো, তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটাতে পারবো। আমাদের দেশের নবীন প্রজন্মের কাছে আমার আবেদন, আপনারা এগিয়ে আসুন, কারিগরি বিদ্যাকে এ ধরণের বহুমুখি ফলিত বিজ্ঞানে রূপান্তরিত করুন। আমাদের দেশের সবকটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে এক একটি ‘ইন হাউস ইনকিউবেশন সেন্টার’-এ রূপান্তরিত করা যায়? তা হলে দেখবেন, এই ‘ইন হাউস ইনকিউবেশন সেন্টার’গুলি থেকে পাশ করে নবীন প্রজন্মের বিজ্ঞানীরা কর্পোরেট দুনিয়ায় মহার্ঘ্য হয়ে উঠবেন। আমাদের কারিগরি উদ্ভাবন এবং পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি আমরা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত উপাদান-সমূহ বিশ্ব বাজারে রপ্তানি করতে পারবো।

আমি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র স্বপ্ন দেখি। এই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র সবচেয়ে বড় শক্তি কী? সকল ক্ষেত্রে কাঁচামাল জোগানের ক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু, আমাদের রয়েছে বিপুল মানবসম্পদ। সেই মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নকে ভিত্তি করে আমরা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারি। আমরা যে বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করছি, যেমন – পেট্রোলিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়, গ্যাস-ভিত্তিক অর্থনীতি – আমাদের ছোট ছোট গ্রামগুলিতে গ্যাস সরবরাহ সম্পর্কিত কারিগরি বিদ্যা, পাইপ সারানো, বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে অনেক অর্ধ শিক্ষিত ও অল্প শিক্ষিত ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবো। আমাদের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি কি এক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা নির্মাণের অনুকূল পাঠ্যক্রম তৈরি করতে পারবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়া বৈজ্ঞানিক এবং শিক্ষাবিদরা তাঁদের নির্দেশানুযায়ী কাজ করার উপযোগী যথেষ্ট কারিগর তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি, ‘ব্যাক-আপ’-এর উপযোগী মানবসম্পদও গড়ে তুলতে পারে। প্রয়োজনে এই প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ প্রতিবেশী দেশগুলি এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে গিয়েও কাজ করতে পারবে। ভাবুন তো কত বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু, আমরা সবাই বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করি। সুসংহত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে না পারলে, এই সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। আমাদের দেশের সম্পদ এবং সামর্থকে ব্যবহার করে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বা ১০ বছরের পরিকল্পনায় এই বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিলে তবেই কাজ হবে। আমি যখন সবে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি তখন আই টি আই’গুলির উন্নীতকরণে অগ্রাধিকার দিয়েছিলাম। কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে এই আই টি আই’গুলিকে আমি প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র বলে মনে করি। আমি দেখলাম, সেই আই টি আই’গুলিতে পুরানো আমলের অটোমোবাইল পাঠ্যক্রম চালু রয়েছে। ঐ ধরণের গাড়ি আর বাজারে চলে না। ছাত্ররা সেগুলি সম্পর্কে জেনে কী করবে? আমি আধুনিক অটো মোবাইল পাঠ্যক্রম চালু করাই।

এই ‘ইমপ্রিন্ট’-এর মাধ্যমেও আপনারা বড় অবদান রাখতে পারেন। সেজন্য একটি নতুন দর্শন এবং দূরদৃষ্টি থাকার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা ভাগ্যবান যে আমাদের রাষ্ট্রপতি নিজেই একজন চলমান বিশ্ববিদ্যালয়।আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করেন যে, প্রধানমন্ত্রী হয়ে সবচেয়ে বড় লাভ কী হয়েছে, আমি বলবো, সবচেয়ে বড় লাভ হল এহেন রাষ্ট্রপতির সান্নিধ্য। যখনই দেখা হয়, আমি ঋদ্ধ হই। তিনি একজন জ্ঞানের সাগর। আমি অন্তর থেকে বলছি, তাঁর অপার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এবং প্রতিটি জিনিসকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার করার ক্ষমতা আমাদের কাছে আলোকবর্তিকা-স্বরূপ। এখন আর আমাদের কেউ আটকাতে পারবে না। আকাশই আমাদের সীমানা। এখন থেকে আমরা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের আদেশ এবং তাঁর ইচ্ছানুসারে কাজ করবো। এতেই দেশের মঙ্গল হবে। আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আপনাদের সবার মধ্যে আসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের কাছে কৃতজ্ঞ।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/SB/S