পিএমইন্ডিয়া
নিউইয়র্ক শহরে রাষ্ট্রসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ৭০তম বার্ষিকী স্মরণে এক বিশেষ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্স-এর মাধ্যমে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন :
“অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের মাননীয় সভাপতি এবং ভদ্রমণ্ডলী,
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ৭০তম বার্ষিকী স্মরণে আজকের এই বিশেষ সমাবেশে বক্তব্য রাখার জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানানোয় পরিষদের সভাপতিকে ধন্যবাদ জানাই।
এই উপলক্ষে, রাষ্ট্রসংঘের সকল সদস্যকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন।
মাননীয় সভাপতি মহোদয়,
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ হল রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোর মূল স্তম্ভ।
যেভাবে রাষ্ট্রসংঘের একটি বিশেষ অঙ্গ হিসেবে এটি গড়ে তোলা হয়েছে, তাতে রাষ্ট্রসংঘের প্রতিষ্ঠাতাদের মূল লক্ষ্যবিন্দু ছিল যে উন্নয়ন, তা প্রমাণিত হয়েছে।
বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন আর্থ-সামাজিক বিকাশ, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং ক্ষুধা ও বঞ্চনার অবলুপ্তি।
মাননীয় সভাপতি মহোদয়,
এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় ভারত নিজেকে গর্বিত মনে করে।
ভারতের বিশিষ্ট নাগরিক আর্কট রামস্বামী মুদালিয়ার ছিলেন অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের মূল স্থপতি।
১৯৪৬ সালে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রথম সভাপতি হওয়ার সুযোগ তিনি লাভ করেছিলেন।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বলেছিলেন যে, সেই সময়কার পরিস্থিতি তিনি যা প্রত্যক্ষ করছেন, তাতে পরবর্তী বছরগুলিতেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদকে এই ভূমিকা পালন করে যেতে হবে।
এই প্রসঙ্গে তিনি যা বলেছিলেন, আমি এখানে তা উদ্ধৃত করছি :
‘পরিষদের কাজকর্ম এবং জটিল প্রকৃতির গূঢ় অর্থনৈতিক সমস্যাগুলির সমাধানে তার দক্ষতার ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ বিশ্বের প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়টি’।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কাজকর্ম, বিশেষত, মানুষের অবস্থার উন্নয়নে এবং সকলের জন্য মর্যাদাময় এক জীবন সম্ভব করে তোলার ক্ষেত্রে যেভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে চলেছে তা রাষ্ট্রসংঘের সামগ্রিক কর্মসূচিতে এক বিশেষ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।
এই প্রতিষ্ঠান গঠনের পর অতিক্রান্ত হয়েছে ৭০টি বছর। একুশ শতকের ১৫তম বছরটিও আমরা অতিক্রম করে এসেছি। কিন্তু, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতাদের প্রত্যাশাপূরণ কি বাস্তবায়িত হয়েছে?
গত ৭০ বছরে অনেক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সাক্ষী রয়েছি আমরা। কিন্তু, দারিদ্র্য নির্মূল করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি বিংশ শতাব্দীতেও আমরা শেষ করতে পারিনি। রাষ্ট্রসংঘের যে সমস্ত উদ্দেশ্য অপূর্ণ থেকে গেছে এটি হল তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মাননীয় সভাপতি,
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ৭০তম বার্ষিকীর এই মূহুর্তটি তাই বিশেষভাবে তাৎপর্যময়।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উন্নয়নকে আজ এক নতুন দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে।
নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত যে কর্মসূচি ছকে ফেলা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রসংঘের ভূমিকা ও উদ্দেশ্যকে আরও সফল করে তোলার সু্যোগ এখন উপস্থিত।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের এখন দায়িত্বই হল এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে কর্মসূচিকে সফল করে তোলা।
অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশগুলি যে সমস্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তারই প্রতিফলন ঘটেছে ২০৩০ সাল পর্যন্ত রচিত কর্মসূচিতে।
বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করে দেশবাসীর উন্নততর জীবনের আশা-আকাঙ্খা পূরণই যথেষ্ট নয়। আমাদের এই কাজ করে যেতে হবে এমনভাবে যাতে তা বিশ্ব ও বিশ্বের পরিবেশের ক্ষেত্রে অনুকূল পরিস্থিতি বজায় রাখতে পারে।
অন্যদিকে, নিজেদের অর্থনীতির নিরন্তর অগ্রগতি এবং জীবনশৈলীর গুণগতমান রক্ষা করার পাশাপাশি অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির পাশে দাঁড়ানোর গুরু দায়িত্ব এসে পড়েছে উন্নত দেশগুলির ওপর।
সহায়সম্পদজনিত কোনও অভাব আমাদের নেই। প্রযুক্তি আমাদের সমাধানের পথ দেখিয়েছে; এক সময় যা ছিল কল্পনারও অতীত।
আমাদের চ্যালেঞ্জ হল প্রাপ্ত সম্পদ ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে জরুরি সমস্যাগুলির মোকাবিলা করে যাওয়া।
এটি যে একটি বিশেষ সুযোগ তা আমাদের সকলকেই মনে রাখতে হবে। পরিষদকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করে তুলতে হবে, তাকে করে তুলতে হবে কর্মকেন্দ্রিক এবং নীতিগতভাবে প্রাসঙ্গিক, যাতে জনসাধারণের চাহিদা ও আশা-আকাঙ্খা পূরণ বাস্তবায়িত হতে পারে।
এই কাজ করতে হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের পথপ্রদর্শনের দর্শন হওয়া উচিৎ দরিদ্রতম মানুষটিরও কল্যাণ, যা আমাদের ভারতীয় চিন্তাভাবনায় ‘অন্ত্যোদয়’ বলে পরিচিত।
যতদিন বিশ্বে দারিদ্র্যের অস্তিত্ব থাকবে, যে কোনও দেশেরই হোন না কেন, সেখানকার নাগরিকরা যতদিন পর্যন্ত ন্যূনতম প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা, স্বাধীনতা, সুযোগ ও অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন ততদিন অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কাজ অপূর্ণই থেকে যাবে।
রাষ্ট্রসংঘের প্রতিষ্ঠা পুরুষদের স্বপ্নকে সাকার করে তুলতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ যে উদ্যোগী হবে এ বিষয়ে স্থির বিশ্বাস আমার রয়েছে।
ধন্যবাদ।
PG/SKD/SB
Happening now: PM @narendramodi addressing ECOSOC. Watch. https://t.co/Sakjbw8j25
— PMO India (@PMOIndia) January 22, 2016
Highlighted ECOSOC's importance in @UN structure, its role today & India's association with it during my address. https://t.co/IDGIowmvkt
— Narendra Modi (@narendramodi) January 23, 2016