পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি, ২২ জুন, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ রিপাবলিক সামিটে ভাষণ দিয়েছেন। সামিটে অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানান তিনি। বিশ্ব যখন দ্রুত একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী হচ্ছে, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে ‘মহাশক্তি ভারত: দেশ প্রথম’ শীর্ষক আলোচনাসভা আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রী উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন জানান।
সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ প্রথম’ এই চেতনাই গত দশকে ভারতের সাফল্য এবং এক বিশ্বশক্তি হিসেবে এর উত্থানের চালিকাশক্তি। ভারত এমন এক সভ্যতা, যার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অগ্রগতি ও প্রতিকূলতা – দুই থেকেই শিক্ষা গ্রহণের অনন্য ক্ষমতা আছে ভারতের। বর্তমানে যে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে, তা আগামী শতাব্দীগুলিতে দেশের ভবিষ্যতের ভিত্তি স্থাপন করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত আজ কেবল বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশশীল অর্থনীতি হিসেবেই নয়, এক বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছে। ভারতের উত্থান আস্থা, স্থিতিশীলতা এবং বৃহত্তর বিশ্ব কল্যাণের অঙ্গীকারের উপর প্রতিষ্ঠিত।”
জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে তাঁর সাম্প্রতিক অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে নেতারা ‘দেশ প্রথম’ নীতির প্রতি ভারতের অবিচল অঙ্গীকারকে স্বীকৃতি দেন। উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলার সময় এই পথনির্দেশক দর্শনই দেশের নীতি, অগ্রাধিকার এবং আকাঙ্ক্ষাকে রূপদান করে চলেছে।
সরকারের ১২ বছরের কার্যকালের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছ ভারত, মেক ইন ইন্ডিয়া, খাদির প্রচার এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারের মতো প্রধান জাতীয় উদ্যোগগুলি সফল হয়েছে কারণ নাগরিকরা দেশকে প্রথমে রাখার চেতনা গ্রহণ করেছেন। আদিবাসী এবং বামপন্থী চরমপন্থা-প্রভাবিত অঞ্চলে এই পদ্ধতির রূপান্তরমূলক প্রভাবের উপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেসব এলাকা একসময় হিংসা ও অনুন্নয়নে জর্জরিত ছিল, সেখানে এখন অভূতপূর্ব অগ্রগতি হচ্ছে। গত এক দশকে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলিতে ১২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা, ৯,৫০০-র বেশি মোবাইল টাওয়ার, ব্যাংকিং পরিষেবা, ডাকঘর এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে মাওবাদী হিংসা বিগত দশকগুলিতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উন্নয়নের দ্রুত গতির সম্মিলিত প্রভাবে তা এখন শেষের পথে। “ওই অঞ্চলের ভয় ও অনিশ্চয়তাকে মুছে দিয়ে বস্তার অলিম্পিকের ক্রমবর্ধমান সাফল্য তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিভার প্রমাণ হয়ে উঠেছে,” বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের উত্থানের উপর জোর দিয়ে শ্রী মোদী বলেন, ভারত আজ হতাশার যুগ থেকে আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার যুগে প্রবেশ করেছে। ‘পরিবর্তন সম্ভব’—এই বিশ্বাসই আজ ভারতের অন্যতম প্রধান শক্তি। “উচ্চাকাঙ্খী জেলা ও ব্লক কর্মসূচি দেশের সবচেয়ে অনুন্নত কিছু অঞ্চলকে বিকাশের চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করেছে। এইসব প্রয়াস লক্ষ লক্ষ নাগরিকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং তাঁদের কাছে সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে”।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের সুফল কেবল ব্যক্তিগত সুবিধাভোগীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা সমগ্র সমাজের সমৃদ্ধিতে অবদান রাখে। “সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসায় একটি বৃহৎ নব্য-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থান ঘটেছে, এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শক্তিশালী হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ প্রসারিত করেছে। দারিদ্র্য নির্মূল কেবল একটি জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্য নয়, এটি বিকাশ, আকাঙ্ক্ষা এবং সামাজিক গতিশীলতার অনুঘটক”।
গত এক দশকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উপর সরকারের মনোযোগের কথা তুলে ধরে শ্রী মোদী বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এক প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে। আটকে থাকা আবাসন প্রকল্পগুলির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বকেয়া থাকা আবাসিক প্রকল্পগুলির কাজ শেষ করার জন্য ২৫,০০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছিল, যার ফলে সারা দেশে হাজার হাজার বাড়ি ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “সহজে গৃহ ঋণের সুবিধা, ডিজিটাল পরিষেবা এবং উন্নত নগর পরিকাঠামো নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। সাশ্রয়ী ও মধ্যম-আয়ের আবাসনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা (SWAMIH) তহবিলের মতো পদক্ষেপগুলি হাজার হাজার আটকে থাকা আবাসনের কাজ সম্পূর্ণ করতে এবং বাড়ি ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করতে সাহায্য করেছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ভারতের পরিবহণ এবং সংযোগ পরিকাঠামোর উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে। “মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক এখন প্রতিদিন এক কোটিরও বেশি যাত্রীকে পরিষেবা দিচ্ছে, অন্যদিকে বন্দে ভারত, নমো ভারত এবং অমৃত ভারত ট্রেনের মতো উদ্যোগগুলি দেশজুড়ে সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে। সম্প্রসারিত সড়ক নেটওয়ার্ক, মহাসড়ক এবং বিমানবন্দরগুলি যাতায়াতের সুবিধা বাড়িয়েছে এবং শহরাঞ্চল ও উদীয়মান উন্নয়ন কেন্দ্র উভয় জায়গাতেই নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে”।
কর সংস্কারের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী করদাতাদের ব্যয়যোগ্য আয় বৃদ্ধি এবং নিয়মকানুন পালনের বোঝা কমানোর লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলির ওপর আলোকপাত করেন। মুখবিহীন প্রক্রিয়া এবং অনলাইন ফাইলিং সিস্টেমসহ সরলীকৃত ও প্রযুক্তিনির্ভর কর প্রশাসন, কর ব্যবস্থার সুবিধা এবং স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জন ঔষধি কেন্দ্রের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবারগুলির স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় হ্রাস করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের আওতায় প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলি লক্ষ লক্ষ পরিবারের কাছে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং তাঁদের খরচ কমাতে সাহায্য করেছে।
মধ্যবিত্তদের সুবিধার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সংস্কারের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর ছাড়ের ব্যবস্থাগুলি করমুক্ত আয়ের সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে, যার ফলে মানুষের ব্যয়যোগ্য আয় বেড়েছে। তিনি প্রযুক্তি-চালিত সংস্কারের মাধ্যমে কর প্রশাসনকে সহজ করার বিষয়টিও তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে অনলাইন ফাইলিং ব্যবস্থা এবং ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতি, এগুলি নিয়ম পালনের বোঝা কমিয়েছে এবং স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে।
নাগরিকদের পরিবর্তিত আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের উন্নয়ন যাত্রা ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশার একটি সংস্কৃতি তৈরি করেছে, যেখানে মানুষ উন্নত পরিকাঠামো, দ্রুততর পরিষেবা এবং উচ্চতর জীবনযাত্রার মান চায়। এই আকাঙ্ক্ষাগুলি দেশের ভবিষ্যতের প্রতি আস্থার এক ইতিবাচক লক্ষণ। অগ্রগতি করা যে সম্ভব, নাগরিকরা এখন তা বিশ্বাস করেন।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব প্রেক্ষাপটে উদীয়মান সুযোগগুলোকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ভারতের তরুণ, উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং স্টার্টআপগুলি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তিনি ‘দেশ প্রথম’ নীতিতে পরিচালিত সংস্কার, উদ্ভাবন এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক শাসনের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একদিকে দ্রুত উন্নয়নশীল ভারতের আকাঙ্ক্ষা যেমন রয়েছে, তেমনি তার বিপরীতে রাজনৈতিক বিরোধিতা ও নেতিবাচকতাও রয়েছে বলে শ্রীমোদী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নাগরিকরা যখন ক্রমশ উন্নত পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, সংযোগ এবং সুযোগ-সুবিধা চাইছেন, তখন কিছু গোষ্ঠী উন্নয়নমূলক উদ্যোগের বিরোধিতা করে, অথচ এর সুফল ভোগ করতে তারা পিছপা হয় না। দেশগঠনে অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের, বিশেষ করে তরুণদের, ভারতের উন্নয়ন লক্ষ্য এবং ‘দেশ প্রথম’ নীতির ওপর মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অভূতপূর্ব নানা পরিবর্তনের সাক্ষী হচ্ছে, যা প্রচলিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং একইসঙ্গে বিকাশ ও উদ্ভাবনের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। তিনি ভারতের তরুণ, উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং স্টার্টআপগুলিকে এই সুযোগ গ্রহণ করে দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এই রূপান্তরের যাত্রাপথে সরকার জনগণের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। দেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছে এবং এই গতি আরও শক্তিশালী হতে থাকবে”। ১৪০ কোটি ভারতীয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আকাঙ্ক্ষা ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি শুনতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন –
SC/SD/SKD
Speaking at the Republic Summit. @republic https://t.co/SWnVKuCT9V
— Narendra Modi (@narendramodi) June 22, 2026
India is not only a fast-growing economy, but also a credible one.#RepublicSummit2026 pic.twitter.com/45Jt0eQyGx
— PMO India (@PMOIndia) June 22, 2026
Along with being a rising power, India is also a reliable power. pic.twitter.com/BTWavM4f0N
— PMO India (@PMOIndia) June 22, 2026
For India, Nation First is the highest guiding principle. pic.twitter.com/BObBRFQEDo
— PMO India (@PMOIndia) June 22, 2026
Maoist terror is breathing its last in India. pic.twitter.com/0IJpVGbd5x
— PMO India (@PMOIndia) June 22, 2026
The shift in mindset from "this can never be done" to "this will be done" is India's greatest achievement. pic.twitter.com/DaNBzvERuA
— PMO India (@PMOIndia) June 22, 2026
Empowering the poor and middle-class. pic.twitter.com/KLyi9NsMBR
— PMO India (@PMOIndia) June 22, 2026
The collective efforts of 140 crore Indians will realise the dream of a Viksit Bharat. pic.twitter.com/5jHnaIEYP1
— PMO India (@PMOIndia) June 22, 2026