Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

লক্ষ্ণৌতে অটল বিহারী বাজপেয়ী মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল শ্রীমতী আনন্দিবেন প্যাটেলজী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার বরিষ্ঠ সহযোগী এবং এই ভূমির প্রতিনিধি শ্রী রাজনাথ সিংজী, এই রাজ্যের যশস্বী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথজী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী কেশব প্রসাদজী, দীনেশ শর্মাজী, বিধানসভার অধ্যক্ষ মহোদয় শ্রী নারায়ণ দীক্ষিতজী, উত্তর প্রদেশ সরকারের মন্ত্রীগণ, উত্তর প্রদেশের সাংসদগণ এবং উপস্থিত ভদ্র মহিলা ও ভদ্র মহোদয়গণ।

লক্ষ্ণৌর সাংসদ আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে কাশীর সাংসদ ধন্যবাদ জানাচ্ছে। আজ আমার সৌভাগ্য যে, দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি। আর উভয় কর্মসূচিতেই শ্রদ্ধেয় অটল বিহারী বাজপেয়ীজীর বন্দনা করার, তাঁর দূরদৃষ্টিকে সম্মান জানানোর সৌভাগ্য হয়েছে।

এখানে আসার আগে আমি দিল্লিতে অটল জল যোজনার শুভারম্ভ করেছি। ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশ সহ দেশের ৭টি রাজ্যে ভূগর্ভস্থ জলস্তর বৃদ্ধির ব্যবস্থা হবে।

এর পাশাপাশি, আজই হিমাচল প্রদেশকে লাদাখের সঙ্গে সংযুক্ত করা, রোহতাং সূড়ঙ্গের নামকরণ অটল টানেল করা হয়েছে। তাঁর এই সুদৃশ্য মর্মর মূর্তি লোকমন্দিরগুলিতে কর্মরত প্রত্যেককে নিরন্তর সুশাসন ও জনসেবার প্রেরণা যোগাবে।

বন্ধুগণ, এছাড়া আজ এখানে অটল বিহারী বাজপেয়ী মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হ’ল। যে লক্ষ্ণৌ অনেক বছর ধরে অটলজীর কর্মভূমি ছিল, যে লক্ষ্ণৌ থেকে তিনি বারবার জয়লাভ করে সংসদে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, সেই লক্ষ্ণৌতে এসে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিলান্যাস করার সুযোগকে আমি নিজের জীবনের অন্যতম সৌভাগ্য বলে মনে করি। আজ আমার জন্য সেই সৌভাগ্যের মুহূর্ত এসেছে।

অটলজী যখন এখানকার সাংসদ ছিলেন, তখন তিনি এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অনেক প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিলেন। রিং রোড, পুরনো লক্ষ্ণৌর পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা, বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ, বাল্মীকি – আম্বেদকর আবাস যোজনা, বায়োটেক পার্কের মতো লক্ষ্ণৌকে নতুন পরিচয় প্রদানকারী কয়েকশো কাজ অটলজী করেছিলেন। এখন এই অঞ্চলের সাংসদ হিসাবে শ্রদ্ধেয় রাজনাথজী সেই পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।

বন্ধুগণ, অটলজী বলতেন যে, জীবনকে টুকরো টুকরোভাবে দেখা উচিৎ নয়। তাকে সমগ্রতা নিয়ে দেখতে হয়।একথা সরকারের ক্ষেত্রেও ততটাই সত্য। সুশাসনের জন্য এটাই উপযুক্ত মানদন্ড।

যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা সমস্যাগুলিকে সম্পূর্ণতা নিয়ে না ভাববো, গোটা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা না করবো, ততক্ষণ পর্যন্ত সুশাসন সম্ভব নয়। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, যোগীজীর নেতৃত্বাধীন সরকারও একই রকম সমগ্রতার ভাবনা নিয়ে সরকার চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অটল মেডিকেল ইউনিভার্সিটি প্রকল্প এই ভাবনারই প্রতিফলন। এই বিশ্ববিদ্যালয় উত্তর প্রদেশে চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়নকে সমগ্রতা দেবে, পাঠ্যক্রম থেকে শুরু করে পরীক্ষা পর্যন্ত এতে একসূত্রতা, একরূপতা ও স্বাভাবিক সম্পূর্ণতা থাকবে।

মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, প্যারামেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ এবং চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কোর্সে ডিগ্রি প্রদানের জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে। এই অঞ্চলে সরকারি, আধা-সরকারি এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তিকরণ হবে। একটি কমন শিক্ষা ক্যালেন্ডার মেনে স্বচ্ছভাবে এই সমস্ত কলেজগুলিতে যথাযথ সময়ে পড়াশুনা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। ফলে, এই বিশ্ববিদ্যালয় উত্তর প্রদেশে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়নে উৎকর্ষবৃদ্ধি করবে।

বন্ধুগণ, উত্তরপ্রদেশ সহ গোটা দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী এবং কর্মপদ্ধতি – উভয়ই প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট। স্বাস্থ্যের পাশাপাশি, এর সঙ্গে যুক্ত পরিষেবা উন্নয়নকেও আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের জন্য সরকারের রোড ম্যাপ হ’ল – প্রথমত, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। দ্বিতীয়ত, সুলভ স্বাস্থ্য পরিষেবার যথাসম্ভব বিস্তারের চেষ্টা। তৃতীয়ত, সাপ্লাই সাইড ইন্টারভেনশন অর্থাৎ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী, যথাযথ সরবরাহ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা। চতুর্থত, মিশন মোড ইন্টারভেনশন অর্থাৎ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিকল্পনাগুলিকে মিশন মোডে পরিচালনা করা। আপনারা যদি আমাদের সরকারের সমস্ত পরিকল্পনাগুলি লক্ষ্য করেন, আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রেই এ রকম সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাই।

বন্ধুগণ, অসুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিৎসার খরচ বাঁচানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হ’ল অসুস্থ হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা। একেই আমরা বলি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবা। সেজন্য আমরা যত বেশি মানুষকে সচেতন করে তুলতে পারবো, তত বেশি প্রতিরোধ গড়ে উঠবে আর শরীর সুস্থ থাকবে।

আমাদের স্বচ্ছ ভারত অভিযান এমনই একটি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবার বড় অভিযান। আমাদের যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়াও তেমনই প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবার একটি ব্যয়বিহীন স্বাস্থ্য পরিষেবা।

উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে মায়েদের ধোঁয়া থেকে মুক্তি দেওয়া থেকে শুরু করে নাগরিকদের জন্য ফিট ইন্ডিয়া আন্দোলন, আয়ুর্বেদকে উৎসাহ প্রদানের মতো সার্বিক স্বাস্থ্য পরিষেবার চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমরা সফল হয়েছি।

প্রত্যেকেই চান, কোনও রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা। এক্ষেত্রে আয়ুষ, আয়ুর্বেদ বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আমরা যতটা গুরুত্ব দেবো, স্বাস্থ্য ক্ষেত্র নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা ততই হ্রাস পাবে। এতে এমনকি সংক্রমণমূলক রোগ প্রতিরোধ করাও সম্ভব হবে। অন্যদিকে, জীবনশৈলীর কারণে আমরা যে রোগগুলির শিকার হই, সেগুলি দূরীকরণেই কার্যকরি ভূমিকা পালন করবে।

বন্ধুগণ, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য দেশের গ্রামাঞ্চলে ১ লক্ষ ২৫ হাজারেরও বেশি ওয়েলনেস সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি যে কোনও রোগকে গোড়ার দিকে চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হয়ে উঠেছে। এভাবে সরকার টিকাকরণ প্রকল্পগুলির বিস্তারেও জোর দিয়েছে। পূর্ববর্তী টিকাগুলির পাশাপাশি, বেশ কিছু নতুন রোগ প্রতিরোধে কার্যকরি টিকা যুক্ত করে দেশের দূরদূরান্তে গ্রাম ও বনাঞ্চলেও এই টিকাকরণ অভিযান সাফল্যলাভ করেছে।

আমরা পশুদের পা ও মুখের রোগ প্রতিরোধেও প্রকল্প চালু করেছি। সম্প্রতি কানপুরে আমি এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছি। পশুরা সুস্থ থাকলেও মানুষের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ গড়ে ওঠে। এভাবেই সার্বিক স্বাস্থ্য পরিষেবার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের এগিয়ে চলতে হবে।

বন্ধুগণ, স্বাস্থ্য পরিষেবার দ্বিতীয় মাত্রা অর্থাৎ সুলভে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে উৎসাহ প্রদানের জন্যও সরকার বেশ কিছু বেশ কিছু ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

আয়ুষ্মান ভারত যোজনার মাধ্যমে দেশের প্রায় ৭০ লক্ষ গরিব অসুস্থ ব্যক্তিকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এই আয়ুষ্মান ভারত যোজনা বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য প্রকল্প। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর মোট জনসংখ্যারও বেশি মানুষ ভারতে এই প্রকল্পের সুফলভোগীদের তালিকায় রয়েছেন। এত কম সময়ে ৭০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন,যাঁদের অধিকাংশই ভেবে নিয়েছিলেন যে, তাঁরা আর সুস্থ হবেন না, যত দ্রত মৃত্যু আসে তত ভালো হবে। নিজেরা কষ্ট সহ্য করেও তাঁরা সন্তানদের ঋণে জর্জড়িত করে দূরারোগ্য রোগের চিকিৎসা কিংবা অপারেশন করাতে দেননি, হৃদযন্ত্র কিংবা ক্যান্সার চিকিৎসা না করিয়ে সমস্ত আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু আয়ুষ্মান ভারত যোজনা তাঁদের জীবনে নতুন বিশ্বাস ও উৎসাহ এনে দিয়েছে। আর এক টাকাও না খরচ করে ৭০ লক্ষ গরিব অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসা লাভ করেছেন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এই প্রকল্প প্রসারে উত্তর প্রদেশ সরকার অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। শুধু উত্তর প্রদেশেই প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্প দ্বারা লাভবান হয়েছেন।

এভাবে জনঔষধি যোজনার মাধ্যমে সুলভে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। অর্থাৎ যে ওষুধ আপনারা ১০০ টাকা দিয়ে বাজারে কেনেন, জনঔষধি কেন্দ্রে তা ৩০ – ৪০ টাকায় পাওয়া যায়। যাঁদের দীর্ঘ মেয়াদি ওষুধ খেতে হয়, জনঔষধি কেন্দ্রের মাধ্যমে তাঁদের মাসে ৮০০ – ১৫০০ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। সারা দেশে এই জনঔষধি কেন্দ্রগুলি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্টেন এবং হাঁটু প্রতিস্থাপনের খরচও অনেক কমেছে।

বন্ধুগণ, দেশের গরিব মানুষের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, স্বাস্থ্য পরিষেবার চাহিদাও তত বাড়ছে। চাহিদা বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন উন্নত মানের হাসপাতাল, ক্লিনিক ও নার্সিংহোম খুলছে।

বিগত পাঁচ বছরে মেডিকেল কলেজগুলিতে রেকর্ড সংখ্যক আসন বৃদ্ধি হয়েছে। এ বছর সারা দেশে ৭৫টি নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার আবেদন মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রায় প্রতি তিনটি লোকসভা কেন্দ্রের একটি করে মেডিকেল কলেজ চালু করার লক্ষ্য পূরণে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। উত্তর প্রদেশও এক্ষেত্রে অনেক সুফল পেয়েছে। বিগত দু – তিন বছরে উত্তর প্রদেশে দুই ডজনেরও বেশি মেডিকেল কলেজ স্বীকৃতি পেয়েছে। সেগুলির মধ্যে বেশ কিছু চালু হয়ে গেছে কিংবা নির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে।

বন্ধুগণ, সরকার নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যোন্নয়নে মিশন মোডে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রীয় পোষণ অভিযান সহ অনেক নতুন কর্মসূচি চালু করেছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ভারত থেকে সম্পূর্ণ রূপে যক্ষ্মা নির্মূল করার জন্য জাতীয় অভিযান শুরু হয়েছে। দেশের জনগণের স্বাস্থ্যোন্নয়নে এবং চিকিৎসার খরচ হ্রাস করার লক্ষ্যে এই চতুর্মুখী কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বন্ধুগণ, জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এই অভূতপূর্ব উদ্যোগের সুফল উত্তর প্রদেশবাসীকেও লাভবান করেছে। এ বছর এনসেফেলাইটিস নির্মূলকরণে যোগীজী ও তাঁর টিম প্রশংসনীয় কাজ করেছে। সেজনয আপনারা সকলেই অভিনন্দনযোগ্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনও উত্তর প্রদেশের এই সাফল্যকে সাধুবাদ জানিয়েছে। পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার অভিযান সফল করতে উত্তর প্রদেশ সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা উত্তর প্রদেশের জনগণের জীবনযাপনকে সহজ করে তোলার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ।

এখন আমাদের প্রচেষ্টা থাকা উচিৎ রাষ্ট্রীয় পোষণ মিশন এবং মিশন ইন্দ্রধনুষের কাজকে আরও ত্বরান্বিত করা, যাতে আগামী দিনে উত্তর প্রদেশের প্রতিটি শিশু সুরক্ষিত থাকে, প্রত্যেক নাগরিক সুস্থ থাকেন।

বন্ধুগণ, আজ সুশাসন দিবসে যখন আমরা নতুন বছর এবং নতুন দশকে প্রবেশ করতে চলেছি, তখন অটলজীর আরেকটি কথা অবশ্যই মনে রাখা উচিৎ। অটলজী বলতেন যে, প্রত্যেক প্রজন্মের মানুষের ভারতের প্রগতিতে অবদান রাখা নির্ভর করে দুটি বিষয়ের ওপর …. আমরা যে কাজই করি না কেন, এই দুটি বিষয়কে সামনে রেখে করা উচিৎ। এই দুটি বিষয়ের প্রথমটি হ’ল – আগে থেকেই আমাদের যে সমস্যাগুলি রয়েছে, তার কতগুলি আমরা সমাধান করেছি?আর দ্বিতীয়টি হ’ল – রাষ্ট্রের ভাবি উন্নয়নের জন্য আমরা নিজেদের চেষ্টার মাধ্যমে কতটা মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছি?

বন্ধুগণ, এই দুটি প্রশ্নের আলোয় আজ আমরা বলতে পারি যে, ভারত অভূতপূর্ব উপলব্ধি নিয়ে ২০২০ সালে পা রাখছে। আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে যেসব সামাজিক, আর্থিক এবং রাজনৈতিক সমস্যার সম্মুখীণ হয়েছি, সেগুলি সমাধানে আমরা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সংবিধানের ৩৭০ ধারা, কত পুরনো সমস্যা, কত কঠিন বিষয় আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছি। সকলের ধারণা ভুল প্রমাণ হয়েছে।

রাম জন্মভূমির এতো পুরনো মামলার শান্তিপূর্ণ সমাধান – দেশ স্বাধীন হয়েছে, বিভাজন হয়েছে, তখন থেকে আজ পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ দলিত, বঞ্চিত, শোষিত মানুষ এক কাপড়ে নিজের ধর্ম রক্ষার জন্য বাড়ির মেয়েদের ইজ্জত রক্ষার জন্য পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে শরণার্থী হয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই শরণার্থীদের নাগরিকতা প্রদানের পথ এ ধরনের অনেক সমস্যার সমাধান এদেশের ১৩০ কোটি মানুষ খুঁজে বের করেছেন। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব ছিল এহেন কঠিন সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করি।

এই আত্মবিশ্বাসপূর্ণ ভারত ২০২০ সালে পা রাখছে, এক নতুন দশকে পা রাখছে। আর এখনও যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলি সমাধানের জন্য পূর্ণ সামর্থ্য নিয়ে প্রত্যেক ভারতবাসী চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রত্যেক গরিবকে গৃহ প্রদান, প্রত্যেক বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়া কত বড় চ্যালেঞ্জ! আমরা এ ধরণের চ্যালেঞ্জকে চ্যালেঞ্জ জানানোকে নিজেদের স্বভাবে পরিণত করেছি।

বন্ধুগণ, ২০১৪ থেকে ২০১৯ – এই পাঁচ বছরে আমরা এ ধরণের চ্যালেঞ্জকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কোনও সুযোগ হাতছাড়া করিনি। ২০১৪ সালের আগে দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষের শৌচালয় ছিল না। এখন প্রত্যেকের জন্য শৌচালয় রয়েছে। কোটি কোটি গরিব পরিবারের মা ও বোনেরা রান্নাঘরে ধোঁয়ায় কষ্ট পেতেন। এখন তাঁদের কাছে রান্নার গ্যাস পৌঁছে গেছে। আমাদের হাজার হাজার গ্রামের কয়েক লক্ষ পরিবার সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে জীবনযাপনে বাধ্য ছিলেন। এখন তাঁদের বাড়িতে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে গেছে।

জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ব্যাঙ্ক পরিষেবার আওতার বাইরে ছিলেন। তাঁদের জন্য এখন ব্যাঙ্কের দরজা খুলে গেছে। কোটি কোটি পরিবারের নিজস্ব বাড়ি ছিল না। এরকম ২ কোটি গরিব পরিবারকে বাড়ি বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে দেশের প্রত্যেক গৃহহীন গরিবকে পাকা বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

গ্রামে গ্রামে নতুন সড়ক পথ, রেলপথ পৌঁছনোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ২০২৪ সালের মধ্যে প্রত্যেক পরিবারে জল পৌঁছে দেওয়ার সংকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমরা সম্পূর্ণ তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে চলেছি।

এই সমাধানগুলি নতুন ভারতের প্রগতির জন্য মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলছে। এই মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমরা দেশকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ করে তোলার সংকল্প বাস্তবায়নের জন্য জোর কদমে কাজ করে চলেছি। যাতে কোটি কোটি ভারতবাসীর জীবনযাপনের মানোন্নয়ন করতে পারি।

বন্ধুগণ, এটাই সুশাসন, এটাই স্বশাসন, যার কল্পনা অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং মহামতী মালবীয়জী সহ সমস্ত রাষ্ট্র নির্মাতারা করে গেছেন। আমাদের সরকারের কাছে সুশাসনের অর্থ হ’ল –

সকলের কথা শোনা

পরিষেবাগুলি প্রত্যেক নাগরিককে পৌঁছে দেওয়া

প্রত্যেক ভারতীয়কে উন্নতির সুযোগ দেওয়া

প্রত্যেক ভারতবাসীকে নিরাপত্তা প্রদান

জনগণের জন্য প্রত্যেক সরকারি ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা

আমাদের জন্য সুশাসনের একটাই মন্ত্র সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, অউর সবকা বিসওয়াস।

এই দৃষ্টিভঙ্গী ও স্বভাব আমাদের সকলকে এক সাথে কাজ করার প্রেরণা যোগায়। আমাদের সরকার ক্ষমতার সুখভোগ থেকে বেরিয়ে এসে সেবাকে সংস্কারে পরিণত করতে চায়। আমরা মনে করি, সাধারণ মানুষের জীবনে সরকারের দখলদারি যত কম হবে, ততই মঙ্গল।

আমাদের সরকার কোনও কিছুকে না আটকে, জটিলতা সৃষ্টি না করে সমাধানের মাধ্যম হয়ে উঠতে চায়। আপনারা যদি এই সরকারের মূল্যায়ন করেন, তা হলে আপনারা প্রতি পদক্ষেপে এই প্রচেষ্টাগুলি অনুভব করবেন।

এখন দেশ সমস্ত দলিল প্রত্যয়নের যুগ থেকে বেরিয়ে এসেছে। জনগণ নিজেরাই নিজেদের দায়িত্ব নেবেন এটাই সরকারের জন্য যথেষ্ট।

আজ অধিকাংশ সরকারি পরিষেবা অনলাইন করে দেওয়া হয়েছে, ডিজিটাইজড্‌ করা হয়েছে, জন্ম প্রমাণপত্র থেকে শুরু করে পেনশনের জন্য প্রয়োজনীয় জীবন প্রমাণপত্র পর্যন্ত অধিকাংশ পরিষেবা অনলাইন হয়েছে। আগে যেমন সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দলিল দস্তাবেজ নিয়ে সরকারি অফিসে চক্কর লাগাতে হ’ত, তা এখন করতে হয় না। কাজেই সাধারণ মানুষের জীবন সহজ হয়েছে।

বন্ধুগণ, আমরা সুশাসনের সেই পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছি, যেখানে জনগণের আবেদনের প্রয়োজন নেই, বরং সরকার তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবেদন করে জানতে চাইবে, কোনও সমস্যা আছে কিনা। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন, জনস্বার্থে যতগুলি প্রকল্প চালু রয়েছে, সেগুলির সুফলভোগীদের চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে সুফল প্রদানের প্রযুক্তি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সুফল সরাসরি হবে, সরবরাহ দ্রুত হবে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে হবে–আমাদের সরকার এই কর্মসংস্কৃতি চালু করার চেষ্টা করেছে। এতে স্বচ্ছতার পাশাপাশি, দক্ষতা বেড়েছে, পরিষেবা দ্রুত হয়েছে, দেশের সৎ করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।

বন্ধুগণ, আজ অটল সিদ্ধির এই মাটি থেকে আমি উত্তর প্রদেশের যুবক-যুবতীদের এবং এখানকার প্রত্যেক নাগরিককে একটি অনুরোধ জানাতে এসেছি।

স্বাধীনতার পর থেকে আমরা এত বছর ধরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি জনগণের অধিকারের ওপর। কিন্তু এখন আমরা স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তির দিকে এগিয়ে চলেছি। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্ন পূরণের জন্য এখন সময়ের দাবি হ’ল আমরা যেন নিজেদের কর্তব্য সচেতন হই এবং কর্তব্য পালন করি।

একথা আমি এজন্য বলছি যে, যেভাবে উত্তর প্রদেশের কিছু মানুষ বিরোধ প্রদর্শনের নামে হিংসার আশ্রয় নিয়েছে। সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে। তারা ঘরে বসে নিজের কাছে প্রশ্ন করুক যে, এই পথ কি ঠিক ছিল? যা কিছু জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, নষ্ট করা হয়েছে – সেগুলি কি তাদের ছেলেমেয়েদের কাজে লাগতো না!

এই বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং হিংসায় যতজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যে সাধারণ মানুষ ও পুলিশ কর্মীরা আহত হয়েছেন, তাঁদের ও তাঁদের পরিবারবর্গের কথা একবার ভেবে দেখুন তো, তাঁদের ওপর দিয়ে কি গেছে? সেজন্য আমার অনুরোধ গুজবে কান দিয়ে হিংসার আশ্রয় নেবেন না। যারা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে, তাদের আমি বলতে চাই যে, উন্নত সড়ক, যানবাহন ব্যবস্থা, উন্নত পয়ঃপ্রণালী, নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা তো নাগরিকদেরও দায়িত্ব।

অধিকার ও দায়িত্ব আমাদের পাশাপাশি মনে রাখতে হবে। উন্নত ও সুলভে শিক্ষা আমাদের অধিকার, কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা, শিক্ষকদের সম্মান প্রদর্শন এগুলি আমাদের দায়িত্ব।

চিকিৎসা ও নিরাপত্তার অধিকারের ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য, স্বাস্থ্য কর্মী ও সুরক্ষা কর্মীদের নিরাপত্তা ও সম্মান আমাদের দায়িত্ব। আমাদের সরকারের দায়িত্ব হ’ল পাঁচ বছরের পাঁচ প্রজন্মের কথা ভেবে কাজ করা। আমি আনন্দিত যে, উত্তর প্রদেশ সরকার এই দায়িত্ব পালনে সফল। আমি আরেকবার উত্তর প্রদেশের জনগণকে অটল মেডিকেল ইউনিভার্সিটির জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। এক সপ্তাহ পর যে নতুন বছর আসছে, এই ২০২০’র জন্য উত্তর প্রদেশের জনগণকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

CG/SB/SB