Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

লখনউ এর আয়েশবাগ রামলীলা ময়দানে আয়োজিত দশেরা মহোৎসবেউপস্থিত দর্শনার্থীদের উদ্দেশে প্রধান মন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ।

লখনউ এর আয়েশবাগ রামলীলা ময়দানে আয়োজিত দশেরা মহোৎসবেউপস্থিত দর্শনার্থীদের উদ্দেশে প্রধান মন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ।

লখনউ এর আয়েশবাগ রামলীলা ময়দানে আয়োজিত দশেরা মহোৎসবেউপস্থিত দর্শনার্থীদের উদ্দেশে প্রধান মন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ।


জয়শ্রীরাম, বিপুল সংখ্যায় আগতপ্রিয় ভাই ও বোনেরা।

আপনাদের সকলকে বিজয়া দশমীর অনেকঅনেক শুভেচ্ছা। আজ আমার একটি অতি প্রাচীন রামলীলা সমারোহে আপনাদের সঙ্গে মিলিতহওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। ভারতের মাটির এই ভূভাগ আমাদের উপহার দিয়েছে দুই মহাজীবন-প্রথমজন প্রভু রাম আর দ্বিতীয়জন শ্রীকৃষ্ণ। এহেন পুণ্যভূমিতে বিজয়া দশমীর পবিত্রঅনুষ্ঠানে এসে কপাল ঠেকানোর চাইতে বড় সৌভাগ্য জীবনে আর কী হতে পারে!

বিজয়াদশমীঅসত্যকেহারিয়েসত্যেরজয়েরপরব । প্রতিবছরএইদিনেরাবণকেজ্বালিয়েআমরাএইপরম্পরাথেকেকীশিক্ষানিই ? রাবণকেজ্বালানোরসময়আমাদেরএকটাইসংকল্পথাকাউচিতযেআমরাওনিজেদেরসামাজিক গঠনপ্রণালীতে, আমাদের জাতীয় জীবনে যা কিছু খারাপ রয়েছে, সেগুলিকেও এমনিভাবেইধ্বংস করে ফেলবো। প্রতিবছরএইদিনেরাবণকেজ্বালানোরসময় আমাদের এই সংকল্পকে আরও দৃঢ়করতে হবে, মনে মনে হিসাব করতে হবে গত একবছরে আমি কতটা ‘কু’কে ধ্বংস করতে পেরেছি!

আজ হয়তো তখনকার মতো রাবণ আর নেই,রাম-রাবণের যুদ্ধও আর হবে না। কিন্তু আমাদের মনে ভাল আর খারাপের অন্তর্দ্বন্দ্বসবসময়ই চলতে থাকে। কাজেই আমরা এখন প্রত্যেকেই দশেরায় নিজের দশটি ‘কু’কে দূর করারসংকল্প নেব। সমাজের সকল ‘কু’ বিনাশ করার ক্ষমতা সবার থাকে না, কিন্তু নিজের ভেতরের‘কু’ বিনাশ করার সামর্থ্য ঈশ্বর আমাদের সকলের মধ্যে দিয়েছেন।সেই সামর্থ্য দিয়েআমাদের মনে বাসা বাঁধা নানা সামাজিক, জাতীয় এবং ব্যক্তিগত কুসংস্কার, কুবিচার এররাবণকে ধ্বংস করে এই দেশকে গৌরবান্বিত করতে হবে।

আমি এই অনুষ্ঠানের আয়োজক সমিতিরকাছে কৃতজ্ঞ, শ্রদ্ধেয় লোকমান্য তিলক যেমন গণেশ উৎসবকে সার্বজনিক উৎসবের রূপ দিয়েসামাজিক চেতনা জাগিয়ে তোলার একটি উপায়ে রূপান্তরিত করেছিলেন, আপনারাও তেমনি এইরামলীলা মঞ্চায়নের মাধ্যমে প্রতিবছর সমবেত জনতা, নবীন প্রজন্মের মানুষদের নানাকুসংস্কার, সামাজিক অন্যায় ও ব্যাধির বিরুদ্ধে প্রচার করেন, যা কিছু ভাল সেগুলিরসপক্ষে শৈল্পিক প্রচারের নানা কৌশল রপ্ত করেন। এভাবে আপনারা দেশের নানা প্রান্তথেকে আসা মানুষদের প্রেরণা জোগান। আপনাদের বার্তা দেশের কোণায় কোণায় পৌঁছে যায়।রামায়ণের মাধ্যমে আধুনিক জীবনের জন্যেও যেসদর্থক বার্তা প্রেরণ করা যায়, এই পৌরাণিক পালায় যে এখনও এই সামর্থ্য রয়েছে তাআপনারা দেখিয়ে দিয়েছেন। গোটা দেশের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপ্ন করেছেন। এটাই আমাদেরদেশের বৈশিষ্ট্য, হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রজন্মথেকেপ্রজন্মান্তরেসঞ্চারিত করার এটাই সর্বোৎকৃষ্ট উপায়। আমাদের সামাজিক জীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

এবার আপনারা মঞ্চায়নের জন্যযথার্থভাবেই বিষয় বেছে নিয়েছেন –সন্ত্রাসবাদ । এই সন্ত্রাসবাদমানবতার শত্রু। প্রভুরাম মানবতার প্রতীক,মানবতারউচ্চমূল্যেরপ্রতীক , মানবতারআদর্শেরপ্রতীক,মানবতারমর্যাদাকেরেখাঙ্কিতকরে , আরআমাদেরমনেবিবেক , ত্যাগ ও তপস্যার দৃষ্টান্ত স্থাপনকরে। এইসন্ত্রাসবাদএর বিরুদ্ধে প্রথম লড়াইকে লড়েছিলেন? কোন সৈন্য নয়, কোন নেতা নয়।

রামায়ণ সাক্ষী এইসন্ত্রাসবাদএরবিরুদ্ধেপ্রথমলড়াইলড়েছিলেনজটায়ু । একনারীরসম্মানরক্ষার্থেরাবণেরমতোশক্তিশালীশত্রুরবিরুদ্ধেতিনিযুঝতেথাকেন , অসীমসাহসেরডানায়ভরকরেলড়তেথাকেনএকঅসমলড়াই । তাঁরএইলড়াইআজওআমাদেরপ্রেরণাজোগায় । আর সেজন্যেই আমার প্রিয় ১২৫ কোটীভারতবাসী ভাই ও বোনেরা, আমরা রাম হতে না পারলেও অনাচার, অত্যাচার ওসন্ত্রাসবাদএরবিরুদ্ধেজটায়ুরভূমিকাপালনকরতেপারি । ১২৫কোটিভারতবাসী যদি সদা সতর্কথাকি, তাহলে সন্ত্রাসবাদএতসহজেসাফল্যপাবেনা ।

আজথেকে৩০ -৪০বছরআগেভারতযখনসন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতো বিশ্বেরবড় বড় দেশ আমাদের কথা শুনতে চাইত না। আমার মনে আছে ৯২-৯৩ সালে আমেরিকার বিদেশমন্ত্রকের সচিবকে আমি যখন সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বলেছিলাম, তিনি বলেছিলেন, এটি আপনাদেরআভ্যন্তরীণ আইন ও শৃংখলার বিষয়। সেদিন আমি তাঁকে কোনভাবেই বোঝাতে পারিনি যে এটিআমাদেরআভ্যন্তরীণআইনওশৃংখলারবিষয়নয় । সন্ত্রাসবাদ অন্য কিছু। কিন্তু২৬/১১র পর থেকে গোটা বিশ্ব মানতে বাধ্য হয় যে সন্ত্রাসবাদ ভয়ংকর। কেউ যদি মনে করেনযে আমরা সন্ত্রাসবাদ থেকে সুরক্ষিত তাহলে তিনি ভ্রমের দুনিয়ায় বসবাস করছেন। সন্ত্রাসবাদ-এর কোন সীমা নেই। সন্ত্রাসবাদ-এরকোনমর্যাদানেই । সন্ত্রাসবাদযেকোনজায়গায়গিয়েমানবতারউপরআক্রমণহানতেপারে । আরসেজন্যেইবিশ্বেরসকলমানবতাবাদীশক্তিরউচিতঐক্যবদ্ধভাবেসন্ত্রাসবাদ-এরবিরুদ্ধেযুদ্ধঘোষণাকরা । যারাসন্ত্রাসেসামিলতাদেরকেআমূলউৎপাটিতকরতেহবে , আরযারাসন্ত্রাসবাদকেপ্রশ্রয়দেয় , সাহায্যকরে ,তাদেরকেআররেহাইদেওয়াউচিতনয় । গোটাবিশ্বধ্বংসেরমুখে , দুদিনধরেআমরাটিভিতেসিরিয়ারএকটিছোটমেয়েকেদেখছি । চোখজলেভরেআসে । কিভাবেঅসহায়নির্দোষমানুষদেরনির্বিচারেহত্যাকরাহচ্ছে । আরসেজন্যেইআমরাআজযখনরাবণবধকরছি , রাবণজ্বালাচ্ছি , তখনশুধুআপনিআরআমিনয় ,শুধুভারতবাসীনয় , বিশ্বেরসকলমানবতাবাদীশক্তিরউচিতঐক্যবদ্ধভাবেসন্ত্রাসবাদেরবিরুদ্ধেযুদ্ধঘোষণাকরা । সন্ত্রাসবাদকে সমূলে ধ্বংস না করতেপারলে মানব সভ্যতাকে রক্ষা করা যাবে না, মানবতাকে রক্ষাকরাযাবেনা ।

রাবণের আরেক রূপ হল অপরিচ্ছন্নতা।এই অপরিচ্ছন্নতা থেকে অনেক রোগ হয়। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর অনেক গরিবমানুষ মারা যান। সেজন্যে আমাদের এইঅপরিচ্ছন্নতারূপীরাবণেরহাতথেকেমুক্তিপেতেইহবে । আমাদেরপরিবেশকেনির্মলকরেতুলতেহবে । নানারকমকুসংস্কারওঅন্ধবিশ্বাসরূপীরাবণেরহাতথেকেওমুক্তিপেতেহবে ।

আজ আমরা বিজয়া দশমী পালন করছি,পাশাপাশি গোটা বিশ্বের সঙ্গে আমরা কন্যা সন্তান দিবসও পালন করছি। আমি আজ নিজেকেজিজ্ঞেস করছি, আমার দেশবাসীকেও জিজ্ঞেস করতে চাই, এক সীতামায়ের অপহরণকারী রাবণকেতো আমরা পুরুষানুক্রমে প্রতিবছর জ্বালানোর সংকল্প নিয়েছি, কিন্তু আমরা কি ভেবেদেখেছি, আমরা আজও পুত্র আর কন্যাসন্তানকে কেন সমান দৃষ্টিতে দেখি না? কেন আজওআমাদের বৈষম্যের শিকার হয়ে কত সীতাকে মায়ের গর্ভেই মরে যেতে হয়! আমাদের ভেতরের এইরাবণকে কে মারবে? এই একবিংশ শতাব্দীতেও ভারতে কন্যাভ্রুণহত্যা চলতে থাকবে? একসীতাকে রক্ষার জন্যে আত্মবলিদান করেছিলেন জটায়ু, আমাদের ঘরে ঘরে কন্যাভ্রুণহত্যা থামানোর দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে। বাড়িতেপুত্রসন্তান জন্ম নিলে যতটা আনন্দ উৎসব হয়, কন্যাসন্তানের আগমনে তার থেকে বেশিআনন্দ উৎসব পালন করা উচিত। আমাদের স্বভাবে পরিবর্তন আনতে হবে।

এবারের অলিম্পিকে দেশের মেয়েরাইআমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমাদের মনে এই ছেলে আর মেয়ের মধ্যে ব্যবধানরূপী রাবণকেও জ্বালিয়ে দিতে হবে। শিক্ষিত, অশিক্ষিত, ধনী,গরিব, শহুরে, গ্রামীন, হিন্দু-মুসলমাণ-শিখ-খ্রিষ্টান প্রত্যেক পরিবারে মেয়েদেরসমান অধিকার থাকা উচিত, সমান কদর হওয়া উচিত। আর্থিক , সামাজিক , ধর্মকিম্বাপরম্পরানির্বিশেষেআমাদের দেশেরমেয়েদের একবিংশ শতাব্দীর ন্যায় ও অধিকার দিতেই হবে। মেয়েদের নিয়ে গর্ব করতে হবে, তাঁদেরবাঁচাতে হবে। সেজন্যেই আমি লক্ষণের নগরীতে দাঁড়িয়ে, গোস্বামী তুলসীদাসেরপুণ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে বলছি, শ্রীকৃষ্ণের জীবনে যুদ্ধ এসেছিল, শ্রীরামের জীবনেওযুদ্ধএসেছিল,কিন্তু আমরা যুদ্ধ চাই না। এই দেশের মানুষ যুদ্ধ থেকে বুদ্ধের পথকেই বেশি পছন্দকরে। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে যুদ্ধ অনেকসময় অপরিহার্য হয়ে ওঠে। এই দেশ সুদর্শনচক্রধারী মোহনকে যুগপুরুষ মানে যিনি যুদ্ধের ময়দানেও গীতার বাণী দেন, এইদেশচরকাধারীমোহনকেওযুগপুরুষমানেযিনিবিশ্বকেঅহিংসারবাণীশুনিয়েছেন । এইদেশেরবৈশিষ্ট্যহলযেআমরাদাঁড়িপাল্লারভারসাম্যরক্ষাকরেচলি । সেজন্যেইআমরাযুদ্ধথেকেবুদ্ধেরপথেচলাবেশিপছন্দকরি । আমরাআমাদেরঅন্তরেররাবণকেধ্বংসকরারসংকল্পনিতেপারি । আমাদেরদেশকেসুজলাংসুফলাংকরে তোলার সংকল্পওনিতেপারি ।

এইপ্রাচীনরামলীলাররঙ্গমঞ্চেপুরুষানুক্রমেছেলেরাকখনোরাম , কখনোলক্ষণ , কখনোমাসীতারভূমিকায়অভিনয়করেআসছে । এই অভিনয়ের সময় তাঁরা আর মানুষথাকেন না, তাঁরা ভক্তিতে চরিত্রের সঙ্গে লীন হয়ে দেবতা হয়ে ওঠেন, পরমাত্মার রূপধারণ করেন। আসুন, এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আজআমাদের ভেতরের জাতিবাদ, বংশবাদ, জাতিভেদ, সাম্প্রদায়িকতা আর যা কিছু ‘কু’ রয়েছেসকল কুরূপী রাবণকে হত্যা করে এক ঐক্যবদ্ধ ভারত, এক আত্মা এক প্রাণ ভারত গড়ে তোলারসংকল্প গ্রহণ করি। তাহলেই বিজয়া দশমীর পবিত্র অবসরে ভগবান রাম আমাদের আশীর্বাদকরবেন, যাতে আমরা মানবতার পথে এগিয়ে চলার শক্তি পাই, বুদ্ধের পথই যেন আমাদেরঅন্তিম পথ হয় এই আশা রেখে আপনাদের সবাইকে বিজয়াদশমীর অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।আমার সঙ্গে পূর্ণ শক্তি দিয়ে জোরে বলুন, জয় শ্রীরাম! এই আওয়াজ যেন বহুদূর থেকেওশোনা যায়। জয়শ্রীরাম ! জয়শ্রীরাম !জয়শ্রীরাম ! জয়জয়শ্রীরাম !

PG/SB/Kol/11-10-16