পিএমইন্ডিয়া
প্রসূন যোশী – নমস্কার মোদীজি
প্রধানমন্ত্রী – আপনাকেও নমস্কার এবং সমস্ত দেশবাসীকে নমস্কার
প্রসূন যোশী – মোদীজি, আমরা সবাই জানি যে, আপনি কত ব্যস্ত কর্মসূচি থেকে সময় বের করে এখানে এসেছেন, সেজন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি ভারত সম্পর্কে কিছুদিন আগে লিখেছিলাম ……
‘ধরিত্রীর অন্তরে যিনি গভীরে নামবেন, তার দুই চোখে জীবনের রাগ ফুটে উঠবে
ধরিত্রীর অন্তরে যিনি গভীরে নামবেন, তার দুই চোখে জীবনের রাগ ফুটে উঠবে
যাঁর পা মাটিতে থাকবে, ধুলো লাগবে, তাঁর সঙ্গেই একদিন গোটা বিশ্ব হাঁটবে’।
আপনার জীবনের সফর শুরু হয়েছে রেল স্টেশনে আর আজ আপনি লণ্ডনের রয়্যাল প্যালেসে প্রধান অতিথি। এই সফরকে আপনি কিভাবে দেখেন?
প্রধানমন্ত্রী – প্রসূনজি আমি সবার আগে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। এখানে এত বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের সৌভাগ্য হয়েছে আর নিজের মাটির ধুলো নিয়ে কথা শুরু করার সুযোগ পেয়েছি। আপনি তো কবিরাজ, সেজন্য রেল স্টেশন থেকে রয়্যাল প্যালেস – আপনার জন্য এই তুলনা খুব সহজ! কিন্তু জীবনের পথ অনেক কঠিন। রেল স্টেশনের স্মৃতি আমার ব্যক্তিগত জীবনের গল্প। আমার জীবনের লড়াইয়ে একটি সোনালী পৃষ্ঠা, যা আমাকে বাঁচতে শিখিয়েছে, যুঝতে শিখিয়েছে আর এটা শিখিয়েছে যে জীবন নিজের জন্য নয়, অন্যদের জন্যও হতে পারে। রেল লাইনের ধারে ছুটতে থাকা আর রেলের শব্দ আমার ছোটবেলার অভিজ্ঞতা – এটাই আমার বাস্তব। কিন্তু রয়্যাল প্যালেস নরেন্দ্র মোদীর স্থান নয়, এটা আমার গল্প নয়।
প্রসূনজি – আর যা আপনার মনে …….
প্রধানমন্ত্রী – এই রয়্যাল প্যালেসে পা রাখা ১২৫ কোটি ভারতবাসীর সংকল্পের পরিণাম। এখানে ১২৫ কোটি ভারতবাসীর প্রধান সেবক পৌঁছছে, ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদী নয়। এটাই ভারতের গণতন্ত্রের শক্তি, সংবিধানের সামর্থ্য। কারণ, গণতন্ত্রে ক্ষমতা কয়েকটি পরিবারের হাতে কুক্ষিগত থাকে না। গণতন্ত্রে জনগণই ঈশ্বরের রূপ। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে একজন চা বিক্রেতাকেও প্রতিনিধি নির্বাচন করে রয়্যাল প্যালেসে পাঠাতে পারে।
প্রসূন যোশী – এই ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদী, আর যে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন – এই সত্ত্বা যখন এক হয়ে যায়, আর যখন আপনি এরকম স্থানে পৌঁছে দেখেন যে, আমি একটি যাত্রাপথ পেরিয়ে এসেছি, যা এক জায়গায় মিলে যায় আর একই ব্যক্তিতে সমন্বিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী – আসলে আমার এরকম হয় না। আমি তো একটা সময় আদি শঙ্করাচার্যের অদ্বৈতবাদ চর্চা করেছি, আমি জানি যে, যেখানে আমি নেই, শুধু তুমি আর তুমি; যেখানে দ্বৈত নেই, সেখানে দ্বন্দ্ব নেই, আর সেজন্য যেখানে দ্বৈত নেই, আমি নিজের মনে সেই নরেন্দ্র মোদীকে যদি নিয়ে যাই, তা হলে হয়তো দেশের সঙ্গে অন্যায় করে ফেলব। দেশের সঙ্গে আমি তখনই ন্যায় করতে পারব, যখন নিজেকে ভুলিয়ে দিতে পারব, নিজস্ব সত্ত্বাকে উৎসর্গ করতে পারব, তখনই সেই বৃক্ষ জন্ম নেবে। বীজও তো নিজেকে উৎসর্গ করে তবেই বটবৃক্ষের অঙ্কুরোদগম হয়। আর সেজন্য আপনি যা বলেছেন, তা আমি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি।
প্রসূন – কিন্তু যখন দেশের প্রশ্ন ওঠে আপনি সেটাকে অত্যন্ত ‘ফোকাস’ করে দেখেন আর সবাই আজ পরিবর্তনের কথা বলছেন। পরিবর্তন আগে ভাবনায় আসে তারপর কর্মে, অবশেষে, একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। আপনার থেকে ভালো করে একথা আর কে জানেন। কিন্তু পরিবর্তন নিজের সঙ্গে নিয়ে আসে মোদীজি – অধৈর্য্য, কাতরতা, অসহিষ্ণুতা। আমি কী বলতে চাইছি তা এই ভিডিওটি দেখিয়ে বলতে চাইছি!
মোদীজি, এক্ষুনি আমরা সবাই দেখলাম এবং ট্যুইটারে প্রশান্ত দীক্ষিতজিও একটি প্রশ্ন করেছেন যে, অনেক কাজ হচ্ছে, সড়কপথ তৈরি হচ্ছে, রেল লাইন প্রসারিত হচ্ছে, দ্রুত আবাসন নির্মিত হচ্ছে। আগে দু-পা এগোনোর অভ্যাস থাকলে এখন আমরা অনেক গুণ বেশি এগিয়ে যাচ্ছি, তবুও অধৈর্য্য – এখন, এখন, এখনই কেন নয় ……. এইও ব্যাপারটাকে আপনি কিভাবে দেখেন?
প্রধানমন্ত্রী – আমি এই বিষয়টিকে একটু অন্যভাবে দেখি। যে মুহূর্তে আমাদের মনে আত্মতুষ্টির জন্ম নেয়, জীবন আর সামনে এগোয় না।যুগে যুগে বাঁচার লড়াই জীবনের প্রত্যেক পর্যায়ে কিছু না কিছু নতুন প্রাপ্তির উৎসাহ যোগায়। না হলে জীবন থেমে যায়। কেউ যদি বলেন যে, অধৈর্য্য খারাপ জিনিস, আমি মনে করব, তিনি এখন বৃদ্ধ হয়েছেন। আমার দৃষ্টিতে অধৈর্য্য একটি তারুণ্যের লক্ষণ এবং আপনারা লক্ষ্য করেছেন, যাঁর বাড়িতে সাইকেল আছে, তিনি ভাবেন, স্কুটার থাকলে ভালো হ’ত। যাঁর বাড়িতে স্কুটার আছে, তিনি চার চাকার স্বপ্ন দেখেন। এই উৎসাহ না থাকলে পরদিন সাইকেলও আর থাকবে না। সে বলবেন, ছাড়ুন তো বাসেই চলে যাব। সেটা প্রাণশক্তির লক্ষণ নয়।
আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, ১২৫ কোটি দেশবাসীর হৃদয়ে আমি একটি উৎসাহ, উদ্দীপনা, আশা-আকাঙ্খা সৃষ্টি করতে পেরেছি। অন্যথা, দীর্ঘ সময় ধরে দেশবাসী নিরাশার গহ্বরে নিমজ্জিত ছিলেন। আর এমন অবস্থা হয়েছিল যে, সবাই ধরেই নিয়েছিলেন যে আর কিচ্ছু হবে না। আমি অত্যন্ত আনন্দিত, মানুষের মনে আমাদের জন্য এই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে, আমরা অবশ্যই করে দেখাব।
আপনাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন আগেই ভারত থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তাঁরা হয়তো জানেন না যে, আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগে খরা পরিস্থিতি তৈরি হলে গ্রামের মানুষে সরকারি দপ্তরে গিয়ে আবেদনপত্র জমা দিতেন। সেই আবেদনে লেখা থাকত যে, আমাদের এলাকা খরাক্রান্ত, এই অঞ্চলে মাটি কাটার কাজ দিন, আমরা গ্রামের কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করতে চাই। তখনও মানুষ ততটাই অধৈর্য্য ছিলেন। এমনকি, আমি অনেককে অপেক্ষা করতে দেখেছি যে, খরা এলে মাটি কাটার কাজ পাওয়া যাবে। তবেই গ্রামে কাঁচা সড়ক নির্মাণ হবে। কিন্তু কয়েক বছর আগে যখন আমি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, ততদিনে তাঁদের প্রত্যাশা বদলে গেছে। যে এলাকায় সিঙ্গেল লেন সড়ক রয়েছে, তাঁরা ডবল লেনের জন্য আবেদন জানাতেন। আর যেখানে ডবল লেন রয়েছে, সেখানে আরও উন্নত মানের সড়কপথের আবেদন জানাতেন।
একবার গুজরাটের একটি সীমান্তবর্তী তহশিল উচ্ছ্বল নিঝর, এলাকা থেকে কয়েকজন ড্রাইভার আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তাঁরা আমার কাছে উন্নতমানের সড়ক নির্মাণের আবেদন জানান। আমি বললাম, ভাই আমি তো এক সময়ে তোমার এলাকায় স্কুটারে করে ঘুরতাম, বাসে যেতাম। বছরের পর বছর আমি ওখানকার অরণ্য অঞ্চলে কাজ করেছি। তোমাদের ওখানে তো ভালো রাস্তাই আছে। তাঁরা বলেন, রাস্তা তো আছে কিন্তু আমরা কলার চাষ করি, আমাদের উদ্বৃত্ত কলা বিদেশে রপ্তানি হয়। এখন যে রাস্তা রয়েছে, ঝাঁকুনির ফলে ট্রাকে কলা চেপে যায়। আমাদের ২০ শতাংশ লোকসান হয়। সেজন্য মসৃণ পথ চাই। আমাদের দেশের আদিবাসীদের মনেও এই প্রত্যাশা, অধৈর্য্য – আমার মতে, প্রগতির বীজ বপন করে। সেজন্য আমি অধৈর্য্যকে খারাপ কিছু ভাবি না।
দ্বিতীয়ত, আপনারা হয়তো পরিবারের মধ্যেও দেখেছেন, এক পরিবারে তিনটি ছেলে থাকলে, বাবা-মা তিন জনকেই ভালোবাসেন। কোনও কাজ পড়লে যে নিজে উৎসাহ দেখিয়ে করে, পরবর্তী সময়ে তাকেই আবার ঐ কাজটি করতে বলা হয়। তেমনভাবেই আজ দেশ আমার কাছ থেকে বেশি প্রত্যাশা করছে। এজন্য করছেন যে, তাঁরা আমাকে ভরসা করেন। তাঁরা ভাবেন যে, আমার মাথায় একবার ঢুকিয়ে দিতে পারলে আজ নয়তো কাল কাজটি করেই ছাড়ব।
আমি মনে করি যে, এটাই ঠিক। দেশবাসী কখনও ভাবেননি যে দেশ এত তীব্রগতিতে কাজ করতে পারে। আগে ‘ইনক্রিমেন্টাল চেঞ্জ’ হলেই মানুষ সন্তুষ্ট হয়ে যেতেন। কিন্তু এখন আর হন না। আগে প্রতিদিন যে গতিতে সড়কপথ নির্মিত হ’ত, আজ তার প্রায় তিন গুণ গতিতে কাজ হচ্ছে। রেলপথ প্রসারণের কাজ, সৌরশক্তি প্রকল্প স্থাপনের কাজ শৌচাগার নির্মাণের কাজ – প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এই প্রত্যাশা অত্যন্ত স্বাভাবিক। আমার ওপর তাঁদের ভরসা আছে বলেই তাঁরা প্রত্যাশার করেন।
প্রসূনজি – হ্যাঁ, আগে মানুষ চাইতেন যে, তাঁদের বাসস্থান পর্যন্ত সড়কপথ পৌঁছাক। কিন্তু যখন সড়কপথ পৌঁছে যায়, তখন তাঁরা বিশ্বের দরবারে পৌঁছতে চান। তা হলে একদিকে যেমন এই আশা জাগানোর কথা বলেন, তখন অধৈর্য্যকে আপনি ভালোভাবে বুঝেছেন এবং তার ইতিবাচক দিক হ’ল, তা এগিয়ে যাওয়ার ভাবনার দ্যোতক।
মোদীজি, একদিকে যেমন মানুষের অধৈর্য্য, অন্যদিকে আপনিও কি যে সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করছেন, কখনও সেই ব্যবস্থার কারণে ধৈর্য হারান? কখনও কি মনে হয় যে সরকারি কর্মপদ্ধতি আপনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেই গতিতে এগুচ্ছে না? যে বুলেট ট্রেনের গতিতে আপনার মন চায়! আপনি কি কখনও নিরাশ হন।
প্রধানমন্ত্রী – আমি জানতাম না যে, কবির মনেও একজন সাংবাদিক বসে থাকতে পারে। আমি স্বীকার করি যে, যেদিন আমার অধৈর্্য শেষ হয়ে যাবে, সেদিন আমি আর দেশের কাজে লাগব না। আমি চাই যে, এটা বজায় থাকুক। কারণ, অধৈর্য্য আমার জন্য প্রাণশক্তি, অধৈর্য্য আমাকে শক্তি দেয়, আমাকে দৌড় করায়। প্রতি রাতে যখন ঘুমাতে যাই, পরের দিনের স্বপ্ন নিয়ে ঘুমাই আর ঘুম থেকে উঠেই তা বাস্তবায়নে লেগে পড়ি।
নিরাশার কথা যদি বলেন, আমি মনে করি যে, যখন নিজের জন্য কিছু নিতে হয়, পেতে হয়, নিজেকে কোনও কিছু হতে হয়, তবেই আশা ও নিরাশা বেশি প্রভাবিত করে। কিন্তু যখন আপনারা ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’ সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যান, তখন নিরাশার প্রশ্নই ওঠে না।
অনেকে কখনও কখনও মনে করেন যে, কিছুই হবে না। সরকার বাজে, নিয়ম বাজে, আইন বাজে, প্রশাসন বাজে, কায়দা-কানুন সবই বাজে; এ ধরণের কথাবার্তা বলার মতো এক ধরণের লোক পাওয়া যায়। আমি অন্য ধরণের মানুষ। যদি একটি গ্লাসে অর্ধেক ভরে থাকে, তখন কেউ বলতে পারেন যে, অর্ধেক গ্লাস খালি আর অন্যজন বলতে পারেন যে, অর্ধেক গ্লাস ভরা। আর আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তা হলে বলব, অর্ধেক গ্লাস জলে ভরা আর বাকি অর্ধেক বাতাস ভরা।
সেজন্য আপনারা দেখবেন, একই ব্যবস্থা সেই আইন, সেই প্রশাসন, সেই কর্মপদ্ধতি থাকা সত্বেও বিগত চার বছরের হিসাব নিলে দেখতে পাবেন! আমি অন্য কোনও সরকারের সমালোচনা করার জন্য এই মঞ্চ ব্যবহার করতে চাই না। আমার করাও উচিৎ নয়। কিন্তু বোঝার জন্য তুলনামূলক চর্চার প্রয়োজন হয় যে, গত ১০ বছরে কিভাবে কাজ হ’ত, তা হলেই বুঝব এই চার বছরে কিভাবে কাজ হয়েছে। আপনাদের হয়তো মনে আছে যে, তখনকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, তখনকার কর্মধারা – আপনারা আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখতে পাবেন। কারণ, যখন স্পষ্ট নীতি, স্বচ্ছ চিন্তাভাবনা এবং সৎ উদ্দেশ্য থাকে, আর ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’ উদ্দেশ্য থাকলে তখন একই ব্যবস্থাকে থেকেও আপনারা ইপ্সিত পরিণাম পেতে পারেন।
আমার চিন্তা প্রক্রিয়ার ভিত্তি এরকম হওয়ার ফলে আমি যখন যেরকম চাই, সবসময় সেরকম না হলেও নিরাশ হই না। কারণ, আমি বোঝার চেষ্টা করি, কেন হয়নি। পরবর্তী সময়ে নতুনভাবে করার চেষ্টা করি। আর করেই ছাড়ি।
প্রসূন – মোদীজি এখন আমি ভিডিও-র মাধ্যমে একটা প্রশ্ন নেব। দিল্লি থেকে প্রিয়াঙ্কা বর্মা আপনাকে একটি প্রশ্ন করেছেন, চলুন দেখি।
প্রিয়াঙ্কা, মোদীজি, আই অ্যাম প্রিয়াঙ্কা ফর্ম দিল্লি। আমার প্রশ্ন হ’ল – আমরা সরকার নির্বাচন করি, যাতে সরকার আমাদের জন্য কাজ করে। কিন্তু যখন থেকে আপনি দায়িত্ব নিয়েছেন, পুরো ব্যবস্থাটাই বদলে গেছে। আপনি তো সরকারের পাশাপাশি আমাদের মতো ছেলেমেয়েদেরও কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন। আমি আপনার কাছে জানতে চাই যে, আগে এরকম কেন হ’ত না? ধন্যবাদ।
প্রসূন – প্রিয়াঙ্কার প্রশ্নটি সরকারের কাজ নিয়ে। তা সে রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি নিয়ে হোক কিংবা অন্যকিছু। অনেক কিছু বিষয়ে আপনি জনগণের কাছ থেকে কিছু প্রত্যাশা করেন, সেটা কিরকম?
প্রধানমন্ত্রী – প্রিয়াঙ্কা খুব ভালো প্রশ্ন করেছেন। আর দেখুন, ১৮৫৭ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত দেশে প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছিল ১৮৫৭ সালে। তারপর থেকে যে কোনও বছরকে বেছে নিন, ভারতের যে কোনও প্রান্তের কথা বলুন, কেউ না কেউ স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ হয়েছেন কিংবা সমগ্র যৌবন কারান্তরালে কাটিয়েছেন। অর্থাৎ স্বাধীনতা সংগ্রাম কোনও সময়েই থেমে ছিল না।
কিন্তু মহাত্মা গান্ধী কি করেছেন? মহাত্মা গান্ধী এই গোটা ভাবনাকে একটি নতুন রূপ দিয়েছেন। তিনি তাঁর আন্দোলনে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীরা তাঁর নির্দেশে ঝাড়ু হাতে নিয়ে সাফাই অভিযানে নেমেছেন। তখন যে কোনও সাধারণ মানুষও বলতেন, আচ্ছা ভাই তোমাদের দেশের স্বাধীনতা চাই না? আপনি শিক্ষক হলে ছাত্রদের ভালো করে পড়ান। যিনি বয়স্কদের শিক্ষার কাজ করেন কিংবা যিনি খাদির কাজ করেন, তাঁদেরকে গান্ধীজি সেই কাজটি করে যাওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলতেন, তোমরা সবাই প্রভাত ফেরি শুরু করতে পার।
মহাত্মা গান্ধী স্বাধীনতা আন্দোলনকে জনআন্দোলনে পরিবর্তিত করেছিলেন। সাধারণ মানুষকে তাঁদের ক্ষমতা অনুসারে কাজ দিয়েছিলেন। তুমি চরকা নিয়ে বসে যাও, সুতো কাটো – দেশ স্বাধীন হবে। আর মানুষের মনে আস্থা জন্মায় – হ্যাঁ, এভাবেও স্বাধীনতা আসতে পারে।
আমি মনে করি যে, এমনিতেও তো কত মানুষই মারা যান, কিন্তু দেশের জন্য যাঁরা মারা যান, তাঁদেরকে শহীদ বলা হয়। আর একজন যখন শহীদ হন, তখন তাঁর পেছনে আরেকজন দাঁড়িয়ে যান, তিনিও শহীদ হন।
গান্ধীজি একসঙ্গে ভারতের সমস্ত প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মানুষকে এভাবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। সেজন্য স্বাধীনতা আন্দোলন গতি পেয়েছিল। উন্নয়নের জন্যও তেমনই গণআন্দোলন গড়ে তোলা উচিৎ। তবেই দ্রুত পরিবর্তন আসবে উন্নয়ন হবে; স্বাধীনতার পর আরেকবার এরকম পরিবেশ গড়ে উঠেছে। আগে গ্রামে একটি গর্ত থাকলে গ্রামবাসী একসঙ্গে হয়ে আবেদনপত্র লিখিয়ে জীপগাড়ি ভাড়া নিয়ে তহশিলে গিয়ে জমা দিতেন। ঐ জীপ ভাড়ায় পয়সাতেই হয়তো গর্তটি বুজিয়ে দেওয়া সম্ভব হ’ত। কিন্তু মানুষের মনে ধারণা ছিল যে, এটা সরকারের কাজ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এমনই পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। ফলে, জনগণ ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ক্রমে সেই দূরত্ব বাড়তে থাকে। আপনারা অনেকেই হয়তো লক্ষ্য করেছেন, বাসে যেতে যেতে সময় কাটানোর জন্য অনেকে সিটের মধ্যে আঙুল ঢুকিয়ে দেয়, যে ফুটো তৈরি হয়, ধীরে ধীরে সেটিকে আরও বড় করে দেয়। কিন্তু নিজের গাড়ি হলে কি কেউ এই কাজটা করে? যে মুহূর্তে কারও মনে হবে যে সরকার আমার, দেশ আমার – তখন সেই ভাব আর থাকে না।
আমি মনে করি যে, দেশে এই মনোভাব তৈরি হওয়া উচিৎ। দ্বিতীয়ত, গণতন্ত্র কোনও চুক্তিপত্র নয় যে, আজ তোমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি, পাঁচ বছর কাজ কর, তারপর জিজ্ঞেস করব কী করেছ? পছন্দ না হলে অন্যকে ভোট দেব। এটা শ্রমিক চুক্তি নয়, এটি অংশীদারিত্বের কাজ। আমাদের অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র গড়ে তুলতে হবে। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে, যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে সরকার থেকে বেশি করে সমাজের অনেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর তাঁরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের শক্তি অর্জন করে – কিভাবে? আসলে জনতার সম্মিলিত শক্তি অনেক বেশি। জনগণের ওপর যত বেশি আস্থা রাখবেন, তত বেশি পরিণামও আসবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি শৌচালয় নির্মাণ অভিযান শুরু করি। শুধু সরকার চেষ্টা করলে কটাই বা শৌচাগার আমরা বানাতে পারতাম? একটি নির্দিষ্ট সময়ে আগের সরকার ৫ হাজার শৌচালয় নির্মাণ করে থাকলে আমরা বড় জোর সেই সময়ের মধ্যে ১০ হাজার শৌচাগার নির্মাণ করতে পারতাম। কিন্তু জনগণ সচেষ্ট হওয়ায় আমরা অনেক গুণ বেশি সাফল্য পেয়েছি।
জনগণের শক্তি এমনই। ভারতে রেলে রিজার্ভেশনের ক্ষেত্রে বয়স্ক নাগরিকদের টিকিটের দামে ছাড় আছে। আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর রেলকে বলি, রিজার্ভেশন ফর্মে একটা লাইন লিখে দিতে যে, আমি প্রবীণ নাগরিক হওয়া সত্বেও ছাড় চাই না। আমি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কোনও আবেদন করিনি, কিন্তু আপনারা শুনলে অবাক হবেন যে, ভারতের এমনই বৈশিষ্ট্য, সাধারণ মানুষের দেশভক্তি এতই প্রবল যে, এই তো কিছুদিন আগেই রিজার্ভেশন ফর্মে এই লাইনটি লেখা হয়েছিল আর ইতিমধ্যেই ৪০ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক স্বেচ্ছায় ছাড় নেবেন না বলে লিখে পুরো টাকা দিয়েই টিকিট কেটেছেন।
আমরা যদি আইন করে প্রবীণ নাগরিকদের কোথাও এই ছাড় বন্ধ করতাম, তা হলে মিছিল বের হ’ত, কুশপুত্তলিকা দাহ হ’ত। তারপর দেখা যেত, মোদীর জনপ্রিয়তা কমে গেছে।
সরকারে আসার পর লালকেল্লার প্রাকার থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বলেছিলাম, যাঁরা স্বচ্ছল তাঁদের কি রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি নেওয়া উচিৎ? আগে বছরে কটা গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাবে, সেই ভিত্তিতে নির্বাচনী লড়াই চলত। কেউ বলতেন, আমাকে প্রধানমন্ত্রী করুন, তা হলে ৯টার জায়গায় ১২টা সিলিন্ডার পাবেন। কিন্তু আমি শুধু ভর্তুকি ত্যাগের অনুরোধ রেখেছিলাম আর আপনারা শুনলে অবাক হবেন যে ভারতের প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ পরিবার রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি ত্যাগ করেছেন। আমার দেশে সৎ লোকের কোনও অভাব নেই। দেশের জন্য আত্মবলিদানকারী মানুষেরও কোনও অভাব নেই।
দেশের এই সামর্থ্যকে বুঝতে হবে। সরকারকেই যে শুধু দেশ চালাতে হবে, তার কোনও মানে নেই। সরকারকে সেই অহঙ্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জনগণের শক্তিকে পুঁজি করে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই আমরা যেমনটি চাই, জনগণ হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে তার থেকে ভালো পরিণাম এনে দেবেন। আমি এরকমই চিন্তা নিয়ে এগিয়ে চলেছি।
প্রসূন – বাহ্ মোদীজি। আমার একটি কবিতার দুটি লাইন মনে পড়ছে। সরকার আর জনতার মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় এই লাইন দুটি লেখা হয়েছিল।
‘কি হাম নীচী নজর করকে দেখত হ্যায় চরণ তুমরে, তুম যাইকে বইঠে হো ইক উঁচি অটরিয়া মাঁ’।
প্রধানমন্ত্রী – আমি জনতা- জনার্দনের কাছে এই প্রার্থনাই করবো যে, আপনারা আমাদের আশীর্বাদ দিন, আমার যেন এমন অভ্যাস না হয়!
প্রসূন – শ্রী ময়ূরেশ ওঝানিজি একটি প্রশ্ন করতে চান। ময়ূরেশজি এদিকে আসুন!
ময়ূরেশ ওঝানি – নমস্কার মোদীজি, আপনি যখন সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের গুরুত্বপূর্ণ, ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন আপনার মনে কেমন ভাবনা জেগে উঠেছিল?
প্রসূন – ইনি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে জানতে চাইছেন!
প্রধানমন্ত্রী – আপনি শব্দের মাধ্যমে নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে পারছেন না, তবু আকার ইঙ্গিতের মাধ্যমে প্রশ্ন করেছেন বলে আমি আপনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এই দৃশ্য আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। লঙ্কা ত্যাগের সময় ভগবান রামচন্দ্রের সঙ্গে লক্ষণের যে কথোপকথন হয়েছিল, সেখানেও আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হতে দেখেছি। কিন্তু যখন কেউ সীমান্তপার থেকে সন্ত্রাসবাদীদের পাঠানোর উদ্যোগ নেয়, সাধারণ নাগরিককে হত্যা করে সেই পিঠে ছুড়ি মারা শত্রুকে এই মোদী তাঁদের ভাষাতেই জবাব দিতে জানে।
যাঁরা এসে আমাদের তাবুতে শুয়ে থাকা ক্লান্ত সৈনিকদের গোপনে হত্যা করে, আপনারা কি চান, আমি তাঁদেরকে ক্ষমা করব? সেজন্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছি। আমার দেশের সৈনিকদের নিয়ে আমি গর্বিত। যেমন পরিকল্পনা নিয়েছিলাম, ১ শতাংশও ভুল না করে সেই কাজ সফলভাবে করে তাঁরা সূর্যদয়ের আগেই ফিরে এসেছিলেন। আর আমাদের সততা দেখুন, দেশের মানুষ জানার আগে সংবাদ মাধ্যম সেখানে পৌঁছনোর আগে আমরাই পাকিস্তানের সেনাদের ফোন করে জানিয়ে দিয়েছি যে, আজ রাতে আমরা এটা করেছি, অমুক জায়গায় লাশগুলি রেখে এসেছি, তোমরা গিয়ে নিয়ে এসো।
আমরা সকাল ১১টা থেকে তাঁদের ফোন করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তাঁরা ফোন ধরছিলেন না। আমি এদিকে সাংবাদিক সম্মেলন আহ্বান করে রেখেছিলাম, আমাদের সেনা আধিকারিকরা দাঁড়িয়ে ছিলেন, সাংবাদিকরা অবাক হচ্ছিলেন যে, তাঁদের কেন ডাকা হয়েছে কিন্তু কিছু বলা হচ্ছে না।
কিন্তু আমরা তবু অপেক্ষা করেছি, ১২টায় তাঁরা টেলিফোন তোলার পর পাকিস্তানী সেনাকে খবর জানিয়ে তবেই আমরা ভারতের সংবাদ মাধ্যমকে এবং বিশ্ববাসীকে জানিয়েছি। এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ভারতীয় সৈনিকদের পরাক্রম, এদেশে সন্ত্রাসবাদীদের পাঠানো দেশকে বুঝিয়ে দেয় যে, এখন ভারত বদলে গেছে।
প্রসূন – মোদিজি, আপনি বীরত্বের কথা বললেন, সেনার কথা বললেন, সেনার এত ত্যাগ সত্বেও আমরা সেই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি হতে দেখি, সেনার বীরত্ব নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তুলতে দেখি – এই বিষয়টা আপনি কিভাবে দেখেন?
প্রধানমন্ত্রী – দেখুন, আমি এই মঞ্চকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনার জন্য ব্যবহার করতে চাই না। এটুকুই বলতে চাই যে, ঈশ্বর তাঁদের সৎবুদ্ধি দিন।
প্রসূন – মোদীজি, আমরা পরিবর্তন এবং অধৈর্য্য নিয়ে কথা বলেছি। বলা হয় যে, যেখানে রবির কিরণ পৌঁছয় না, সেখানে কবি পৌঁছে যান। একজন কবি হিসাবে বলছি না, সত্যিকরের উন্নয়ন সেটাই, যা সবার কাছে পৌঁছয়। যেভাবে আপনি প্রবীণদের কথা বলেছেন, ব্যঙ্গের কথা বলেছেন, কোনও সভ্যতা যতক্ষণ সমাজের ভঙ্গুর দিকগুলিকে রক্ষা করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে, ততক্ষণ নিজেকে নিয়ে গর্ব করতে পারে না। আমি এখন সেই দুর্বলদের কথা বলতে চাই, অনেক বড় প্রকল্পের হল্লায় যাঁদের উন্নয়ন হারিয়ে যায়। ঢোলের আওয়াজে যেমন বাঁশির শব্দ মন্থর হয়। আসুন কয়েকটি ছবি দেখি।
মোদীজি, আপনিই প্রথম শৌচাগারের মতো বিষয় নিয়ে লালকেল্লার প্রাকার থেকে কথা বলেছেন। এই যে অগ্রাধিকার পরিবর্তন করলেন, এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আপনি কিভাবে নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী – দেখুন, আমি একথা বলব না যে, স্বাধীনতার পর এত বছরে কোনও সরকার এদিকে নজর দেয়নি। একথা বলা অন্যায় হবে। আমি লালকেল্লার প্রাকার থেকেই বলেছি, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজ আমরা যেখানে পৌঁছেছি, তাতে প্রত্যেক প্রধানমন্ত্রী, সমস্ত রাজ্য সরকার, সকল মুখ্যমন্ত্রী এবং সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের কোনও না কোনও অবদান রয়েছে। কিন্তু এত প্রকল্প বাস্তবায়নের পর, এত অর্থ ব্যয়ের পরও সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন কেন আসেনি।
মহাত্মা গান্ধী আমাদের একটা উপায় বাতলেছিলেন। আমি মনে করি, যে কোনও উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে এর চেয়ে বড় আর উপায় হতে পারে না। তিনি বলেছিলেন, যে কোনও নীতিকে সমাজের শেষ প্রান্তে বসে থাকা মানুষের জীবনধারণের নিরিখে মাপতে হবে। আমি সেই নীতিই অনুসরণ করছি।
আমি জানি যে, এটা খুব কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছি। এরজন্য আমাকে হয়তো অনেক নেতির শিকার হতে হবে। কিন্তু তাই বলে, যে দায়িত্ব নিয়েছি, সেটা ছেড়ে যাব না। দরিদ্র জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাব। কোনও বালিকাকে ধর্ষণ করা কত মর্মান্তিক ঘটনা। কিন্তু আমরা কি বলব যে, তোমরা যখন সরকারে ছিলে, তখন এতগুলি হ’ত আর এখন এতগুলি হয়। আমার মনে হয়, এরচেয়ে ভুল আর কিছু হতে পারে না। ধর্ষণ ধর্ষণই হয়। একটি কন্যার ওপর এই অত্যাচার আমরা কেমন করে মেনে নেব। সেজন্য আমি লালকেল্লার প্রাকার থেকে এই নতুন বিষয় উত্থাপন করেছিলাম। মেয়ে সন্ধ্যার পর দেরী করে বাড়ি ফিরলে মা-বাবা নানারকম খোঁজখবর করেন। কিন্তু ছেলেদেরকে জিজ্ঞেস করেন না – এই কথাটাই আমি লালকেল্লা থেকে বলেছিলাম। আমার মতে, দোষ সমাজের, ব্যক্তির, দোষ মানসিক বিকৃতির। তা সত্বেও দেশের জন্য চিন্তার বিষয়। এই পাপ যারা করে, তারাও তো কারও ছেলে তাদের বাড়িতেও তো মা রয়েছেন।
তেমনি, স্বাধীনতার এত বছর পর ভারতে ৩০-৪০ শতাংশ মানুষ শৌচালয় ব্যবহার করতেন। অধিকাংশ মা-বোনদেরই প্রাকৃতিক কারণে খোলা মাঠে যেতে হ’ত। দেখুন আমি বই পড়ে দারিদ্র্য শিখিনি, টিভি দেখে অনুভব করিনি। আমি জন্ম থেকেই দারিদ্র্য ও পশ্চাদপদতার যন্ত্রণা অনুভব করে এসেছি।
সেজন্য মন থেকে ভাবি। রাজনীতি নিজের জায়গায়। আমার সমাজ নীতি, রাষ্ট্রনীতি আমাকে বলে এদের জীবনে পরিবর্তন আনতে হবে। সেজন্য আমি লালকেল্লার প্রাকার থেকে বলেছিলাম, দেশের ১৮ হাজার গ্রামে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি, তার মানে বাকি গ্রামগুলিতে পৌঁছেছে। যাঁরা পৌঁছে দিয়েছিলেন, তাঁদেরকে শত শত প্রণাম। কিন্তু ৭০ বছর পরও ১৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ না পৌঁছনোর দায়িত্ব আমাদের নেওয়া উচিৎ। সেজন্য আমি সরকারি আধিকারিকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, কতদিন নেবেন? তাঁরা বলেছিলেন, সাত বছর। আমি বললাম, এতদিন অপেক্ষা করতে পারব না। আর আমি লালকেল্লা থেকে ঘোষণা করে দিলাম যে, ১ হাজার দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করতে চাই। কঠিন কাজ ছিল। অঞ্চলগুলি দুর্গম, অনেক জায়গায় উগ্রবাদী মাওবাদীদের এলাকা ছিল। কিন্তু তবুও আমরা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই এইসব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পেরেছি। এখন ১৫০-১৭৫টি গ্রাম বাকি আছে। কাজ চলছে।
এখন আমরা লক্ষ্য ঠিক করেছি যে, প্রত্যেক বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেব। দেশে মোট ২৫ কোটি পরিবার রয়েছে। তার মধ্যে ৪ কোটি পরিবার এখনও বিদ্যুতের আওতার বাইরে। স্বাধীনতার ৭০ বছর পরও এতগুলি পরিবার অষ্টাদশ শতাব্দীর জীবন কাটাচ্ছে।
আমরা ঠিক করলাম, সৌভাগ্য যোজনার মাধ্যমে বিনামূল্যে ঐ ৪ কোটি পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেব। তাঁদের শিশুরা বিদ্যুতের আলোতে পড়াশুনা করবে। কম্প্যুটার চালাবে, মোবাইল রিচার্জ করবে এবং বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হবে। টিভি কেনার পয়সা থাকলে টিভি কিনবে, পরিবর্তিত বিশ্বকে দেখবে। এই বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্খা তাঁদের মনে চাগিয়ে তুলতে চাই। তাঁরাও যদি অধৈর্য্য হয়ে আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন, সেটাকেই আমি ক্ষমতায়ন বলি। আমি এভাবেই গরিবদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি নতুন ফৌজ গড়ে তুলতে চাই। তবেই দারিদ্র্য মিটবে।
প্রসূন – মোদীজি, আপনি অনেক পরিশ্রম করছেন। কিন্তু আপনি একা দেশ বদলাতে পারবেন?
প্রধানমন্ত্রী – দেখুন, আমি পরিশ্রম করি, এটা কোনও বিষয় নয়, না করলে বিষয় হ’ত। আমার পুঁজি হ’ল ১০০ কোটি দেশবাসীর ভালোবাসা আর সেজন্য আমার অত্যধিক পরিশ্রম করা উচিৎ। কিন্তু আমি দেশবাসীকে বলতে চাই যে, আমি আপনাদের মতোই সাধারণ নাগরিক। সাধারণ মানুষের মতো আমারও ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। কিন্তু আমার ভেতরে একটি ছাত্র আছে। আমি আমার সমস্ত শিক্ষকদের কাছে কৃতজ্ঞ, ছোটবেলা থেকে আমার ভেতরের ছাত্রটিকে মরতে দেননি। যে দায়িত্ব পাই, তা থেকেই শিখতে ও বুঝতে চেষ্টা করি। নির্বাচনের আগে দেশবাসীকে বলেছিলাম যে, আমার অভিজ্ঞতা নেই, ভুল হতে পারে কিন্তু তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলাম যে, আমি ভুল করতে পারি কিন্তু বাজে উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও কাজ করব না।
আমি গুজরাটের সর্বাধিক দীর্ঘমেয়াদী মুখ্যমন্ত্রী। আর গত চার বছর ধরে আমি দেশের প্রধান সেবকের দায়িত্ব পেয়েছি। কিন্তু দেশকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, বাজে উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও কাজ করব না।
আমি কখনই ভাবিনি যে, একা দেশ বদলে দেব। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে, দেশে লক্ষ লক্ষ সমস্যা থাকলে ১২৫ কোটি সমাধানও আছে। এই ১২৫ কোটির শক্তি আমি অনুভব করি। সেজন্য বিমুদ্রাকরণের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলাম। আমার বন্ধু আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি এরপর বলেছিলেন যে, আমার সিদ্ধান্ত শুনে তাঁরা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী ভয় পেয়েছিলেন। তাঁরা ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞতা থেকে ভয় পেয়েছিলেন। ৮৬ শতাংশ মুদ্রা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে গেলে ভয় তো হবেই। তখন টিভির পর্দায় নিয়মিত সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল আক্রমণ চলছিল। কিন্তু দেশবাসীর প্রতি আমার আস্থা ছিল, কারণ আমার দেশ সততার স্বার্থে লড়ছে। এখন এর পরিণাম আপনাদের সামনে। মোদী নিমিত্ত মাত্র। এখানেই মোদীর প্রয়োজন। পাথর ছুঁড়তে হলে, নোংরা ফেলতে হলে, গালি দিতে হলে – কাউকে তো চাই!
আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে, আমার ১২৫ কোটি দেশবাসীর ওপর কেউ পাথর ছোঁড়া, নোংরা ফেলা কিংবা গালি দিতে পারছে না। আমি একা সব সহ্য করছি। আর আমি আপনার মতো কবিও নই। কিন্তু প্রত্যেক যুগে কেউ না কেউ তো লিখতেই থাকেন। আমরা সবাই কবি হতে পারি না। প্রসূনরাই হতে পারে। তবে আমি কখনও লিখতাম।
প্রসূন – ঠিক।
প্রধানমন্ত্রী – আমি এমন জীবন কাটিয়ে এসেছি যে, সবকিছু সহ্য করতে অভ্যস্ত। ঠোকর খেয়ে খেয়ে এগিয়েছি। আমি একটা কবিতায় লিখেছিলাম, ঠিক ঠাক শব্দগুলি মনে নেই, পরে আপনি আমার বইয়ে দেখে নেবেন, আমি লিখেছিলাম, ‘যাঁরা আমাকে পাথর ছোঁড়ে, আমি সেই পাথরগুলোই জুড়ে পক্থী বানিয়ে নিই’। আর সেই পক্থীতে চরে এগিয়ে যাই’। সেজন্য আমি ‘টিম ইন্ডিয়া’ তত্ত্বে বিশ্বাস করি। শুধু সরকার নয়। আমলাতন্ত্র, রাজ্য সরকার, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আমি অগ্রাধিকার দিই। সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আমি প্রতিযোগিতামূলক, সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রূপান্তরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সম্প্রতি আমি দেশের ১১৫টি জেলাকে অভিলাষী জেলা হিসাবে চিহ্নিত করেছি। আমি তাদেরকে প্রেরণা যোগাচ্ছি যে আপনারা নিজেদের রাজ্যে গড় উন্নয়নের মান পর্যন্ত উঠে আসুন, আমি পাশে আছি। মহাত্মা গান্ধী স্বাধীনতাকে গণআন্দোলনে পরিণত করেছিলেন। আমি উন্নয়নকে গণআন্দোলনে পরিণত করে তুলছি।
মোদী একা কিছু করবে না। কিন্তু দেশবাসী করবে এবং মোদীও। যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম তখনও বলতাম। সরকারের কাজের বিরোধিতা হ্রাস করতে পারলে দেশ এগিয়ে যেতে পারে। আমি মৌলিক ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আপনাকে একটা কবিতা শোনাতে চাই –
‘সাপ এত সতর্ক কেন? সাপ এত সতর্ক কেন? আমি দংশনে অভ্যস্ত।
সাপ এত সতর্ক কেন? আমি দংশনে অভ্যস্ত, যুগ যুগ ধরে বিষ পান করছি, আমি সত্য, আশ্বস্ত।
সাপ এত সতর্ক কেন? আমি দংশনে অভ্যস্ত, যুগ যুগ ধরে বিষ পান করছি, আমি সত্য, আশ্বস্ত।
এই আমার মাটি, আমার রক্তের গন্ধ শুকেছে, যা ব্যক্ত করছে মৌনকে, অভিব্যক্তকে
আমি অভয় নিয়ে চলব, বিচলিত নই, ত্রস্ত নই
সাপ এত সতর্ক কেন? আমি দংশনে অভ্যস্ত।
আমার উৎস কোথায় আর কোথায় গন্তব্য?
আমি দেখতে পাচ্ছি সত্যকে, রূপ যার দেদীপ্যমান!
আমি নিজের খোঁজে কত যুগ ধরে ব্যস্ত।
সাপ এত সতর্ক কেন? আমি দংশনে অভ্যস্ত।
আমি সজ্ঞানে এর বুদবুদ সৃষ্টিতে,
আমি সজ্ঞানে এর বুদবুদ সৃষ্টিতে।
একটি ক্ষুদ্র বিন্দু আমি একটি ক্ষুদ্র বিন্দু আমি, এক শাশ্বত বৃষ্টির
সাগর পাব না, আমি নদী গতিময়
সাপ এত সতর্ক কেন? আমি দংশনে অভ্যস্ত।
প্রধানমন্ত্রী – প্রসূনজি আমরা আপনার ভাবনাকে সমাদর করি। কিন্তু আমাদের ধমনীতে সেই ভাবই প্রবাহিত – অমৃতস্য পুত্রা বয়ং।
এই মনোভাব নিয়ে আমরা প্রতিপালিত হয়েছি আর সেজন্য আমাদের দেশে সবাই দংশন সহ্য করেছেন, বিষপান করেছেন, যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, অপমানেও ভুগেছেন। কিন্তু স্বপ্নগুলিকে কখনও মরতে দেননি। আর এই উৎসাহই দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার শক্তি রাখে। আর আমি একে অনুভব করি।
প্রসূন – এখানে কিছু প্রশ্ন নিচ্ছি। শ্রী শ্যামুয়েল ডাউজট আপনাকে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে চান। আর যাঁরা প্রশ্ন করতে চান, তাঁরা লিখে দিন। আমি একে একে ডাকব।
শ্যামুয়েল – শুভ সন্ধ্যা প্রধানমন্ত্রীজি, মোদী কেয়ার সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী? সবাই এটা নিয়ে বলছেন। ধন্যবাদ।
প্রসূন – মনে হয় ওবামা কেয়ারের মতোই মোদী কেয়ার! সম্ভবত তিনি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আপনার পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চান।
প্রধানমন্ত্রী – দেখুন, তিনটি বিষয়ে আমি আগ্রহী। আমি বড় বড় কথা বলতে চাই না। আমার জীবনের প্রেক্ষাপটই এমন। এখানে মেঘনাথ ভাই বসে আছেন। তিনি জানেন, কিন্তু তিনটি জিনিস শিশুদের পড়াশুনা, যুবকদের কর্মসংস্থান আর বৃদ্ধদের ওষুধ – এই তিনটি জিনিস ঠিক হলে আমরা একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে পারি। রোগ এমন জিনিস যে যে কোনও পরিবারকে শেষ করে দিতে পারে। এসব কথা ভেবেই আমরা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একটি সংহত পরিকল্পনা নিয়েছি, যা এখন মোদী কেয়ার রূপে জনপ্রিয় হচ্ছে, সেই প্রকল্পের নাম হ’ল আয়ুষ্মান ভারত। সেখানে আমরা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য রক্ষা, সুলভ স্বাস্থ্য রক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা শৃঙ্খল সুনিশ্চিত করার কাজ করছে।
এর দুটো উপাদান রয়েছে। ১) দেশে প্রায় দেড় লক্ষেরও বেশি ওয়েলনেস সেন্টার গড়ে তুলতে চাই, যাতে আশপাশের ১২-১৫টি গ্রামের মানুষ এগুলির দ্বারা উপকৃত হন। আর এগুলি সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তিনির্ভর হয়। বড় হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। যাতে বিপজ্জনক কোনও রোগীকে বড় হাসপাতালে পাঠাতে পারে।
২) প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, যোগাসন এবং জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে পুষ্টি সুনিশ্চিত করা। আমরা নারী ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রেও এই উপাদানের আশ্রয় নিচ্ছে।
বিশ্বের সমৃদ্ধ দেশগুলিও মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে এতটা উদার নয়, যতটা আমরা দায়িত্ব নিয়ে শুরু করেছি। মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে ২৬ সপ্তাহ করে দিয়েছি।
তাছাড়া, সরকার দেশের প্রায় ১০ কোটি পরিবার বা ৫০ কোটি দরিদ্র মানুষকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ বিমা কোম্পানির মাধ্যমে যোগাবে।
অদূর ভবিষ্যতে ১ হাজারেরও বেশি ভালো নতুন হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার ব্যবস্থা হচ্ছে।
তেমনই, ওষুধের প্যাকিং উন্নত করার মাধ্যমে জেনেরিক মেডিসিনের উৎকর্ষ বৃদ্ধি সুনিশ্চিত করা হবে যে, ওষুধ ১০০ টাকায় পাওয়া যেত, তা আজ জেনেরিক মেডিকেল স্টোরে পাওয়া যায়। আমরা এরকম প্রায় ৩ হাজার জনঔষধালয় গড়ে তুলছি। তা যাতে সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারে, সেজন্য সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।
CG/SB/SB…
Your life began from a Railway Station, and you are coming to this programme from the Royal Palace. What do you have to say about your life journey, asks Prasoon Joshi to PM @narendramodi. Watch. https://t.co/uhwZ5577gM #BharatKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
My life at the Railway Station taught me so much. It was about my personal struggles. When you said Royal Palace, it is not about me but about the 125 crore people of India: PM @narendramodi #BharatKiBaat pic.twitter.com/JeCvkGUOtg
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
The person in the Railway Station was Narendra Modi. The person in the Royal Palace in London is the Sevak of 125 crore Indians: PM @narendramodi #BharatKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
रेलवे स्टेशन मेरे जीवन का स्वर्णिम पृष्ठ जिसने मुझे जीना और जूझना सीखाया: PM @narendramodi https://t.co/uhwZ5577gM
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
Prashant Dixit asks- yes work is happening, but still there is still some degree of impatience. What do you have to say to this. #BharatKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
'Besabri' is not a bad thing. If a person has a cycle, a person aspires a scooter. If a person has a scooter, a person aspires a car. It is nature to aspire. India is getting increasingly aspirational: PM @narendramodi https://t.co/uhwZ5577gM
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
जिस पल संतोष का भाव पैदा हो जाता है, जीवन फिर आगे नहीं बढ़ता। हर आयु, हर युग में कुछ न कुछ नया पाने को गति देता है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
जज्बा होना सबसे ज़रूरी है... मुझे ख़ुशी है कि आज सवा सौ करोड़ लोगों के मन में एक उमंग, आशा और संकल्प का भाव है और लोग मुझसे अपेक्षा कर रहे हैं: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
जज्बा होना सबसे ज़रूरी है... मुझे ख़ुशी है कि आज सवा सौ करोड़ लोगों के मन में एक उमंग, आशा और संकल्प का भाव है और लोग मुझसे अपेक्षा कर रहे हैं: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
लोगों की मुझसे अपेक्षा इसलिए है कि उन्हें विश्वास है कि हम करके जरूर दिखाएंगे: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
बेसब्री मेरे लिए ऊर्जा है और जब आप ‘सर्वजन हिताय, सर्वजन सुखाय’ के संकल्प को लेकर चलते हैं तो निराशा की बात ही नहीं उठती: PM @narendramodi pic.twitter.com/3U9uS2Fmyy
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
‘तब और अब’ में जमीन आसमान का अंतर क्योंकि जब नीति स्पष्ट हो, नीयत साफ़ हो, और इरादे नेक हों तो उसी व्यवस्था के साथ आप इच्छित परिणाम ले सकते हैं: PM @narendramodi pic.twitter.com/k0O8OII99I
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
Priyanka Verma from Delhi has a question for the PM- we select a Government that works for us. You have tried to change systems, but my question is should all this not have been done earlier. #BharatKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
During the freedom struggle Mahatma Gandhi did something very different.
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
He turned the freedom struggle into a mass movement. He told every person that whatever you are doing will contribute to India's freedom: PM @narendramodi
Today the need of the hour is to make development a mass movement: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
Participative democracy makes good governance possible: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
लोकतंत्र कोई कॉन्ट्रैक्ट एग्रीमेंट नहीं, ये भागीदारी का काम; जनता-जनार्दन की ताकत बहुत होती है और उन पर जितना भरोसा होगा, उसके परिणाम देखने को मिलेंगे: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
There is a question from the audience on the surgical strikes. https://t.co/uhwZ5577gM
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
Look back at India's history. India has never desired anyone else's territory. During World War 1 and 2 we had no stake but our soldiers took part in the Wars. These were big sacrifices. Look at our role in UN Peacekeeping Forces: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
We believe in peace. But we will not tolerate those who like to export terror. We will give back strong answers and in the language they understand. Terrorism will never be accepted: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
Those who like exporting terror, I want to tell them that India has changed and their antics will not be tolerated: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
I do not need to read books to understand poverty. I have lived in poverty, I know what it is to be poor and belong to the backward sections of society.
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
I want to work for the poor, the marginalised and the downtrodden: PM @narendramodi
18,000 villages did not have electricity. So many women do not have access to toilets. These realities of our nation did not let me sleep. I was determined to bring about a positive change in the lives of India's poor: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
Prasoon Joshi asks the Prime Minister- you are working hard but can you change the nation alone?
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
I am like any common citizen. And, I also have drawbacks like normal people do: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
मेरी पूँजी है – कठोर परिश्रम, प्रमाणिकता और सवा सौ करोड़ लोगों का प्यार: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
मैंने देशवासियों को भरोसा दिलाया था कि मैं गलतियाँ कर सकता हूँ लेकिन गलत इरादे से कोई काम नहीं करूँगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
We have a million problems but we have a billion people who can solve them: PM @narendramodi #BharatKiBaat
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
सवा सौ करोड़ देशवासियों की शक्ति पर मेरा भरोसा और आज जितने बदलाव देश में देखने को मिल रहे हैं, ये उसी का परिणाम है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
सवा सौ करोड़ देशवासियों की शक्ति पर मेरा भरोसा और आज जितने बदलाव देश में देखने को मिल रहे हैं, ये उसी का परिणाम है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
बच्चों को पढ़ाई, युवा को कमाई और बुजुर्गों को दवाई – इन तीनों पर ही हमने विशेष ध्यान दिया: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
देश में वेलनेस सेंटर हो या प्रिवेंटिव हेल्थकेयर हो, हम हर भारतीय के स्वास्थ्य के लिए काम कर रहे हैं: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
Santosh Patil from Karnataka asks a question to PM @narendramodi on how Bhagwan Basaveshwara has influenced him.
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
भगवान बसवेश्वर ने लोकतंत्र के लिए अपना पूरा जीवन खपा दिया और समाज को जोड़ने का अभूतपूर्व काम किया : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
लोकतंत्र, सामाजिक चेतना और नारी सशक्तिकरण के लिए किया गया भगवान बसवेश्वर का प्रयास हम सभी के लिए प्रेरणास्त्रोत : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
हम एक ऐसा इको-सिस्टम बना रहे हैं जहाँ सभी के लिए अवसर हो: PM @narendramodi pic.twitter.com/Rit4Pzu5oK
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
आज हम किसान कल्याण के लिए काम कर रहे हैं चाहे वो 2022 तक कृषि से होने वाली आय को दोगुनी करनी हो, यूरिया की आसान उपलब्धता हो या यूरिया की नीम-कोटिंग हो, हम एक निश्चित लक्ष्य के साथ आगे बढ़ रहे हैं: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
चाहे कोई पैरामीटर हो, देश के लिए अच्छा करने में हमने कोई कमी नहीं रखी है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
The 125 crore people of India are my family: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
आज हम आर्टिफिसियल इंटेलिजेंस के युग में जी रहे हैं और हम टेक्नोलॉजी से अलग नहीं रह सकते: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
What prevented Indian Prime Ministers from going to Israel.
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
Yes, I will go to Israel and I will even go to Palestine.
I will further cooperation with Saudi Arabia and for the energy needs of India I will also engage with Iran: PM @narendramodi
भारत आँख झुकाकर या आँख उठाकर नहीं बल्कि आँख मिला कर बात करने में विश्वास करता है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
Democracy cannot succeed without constructive criticism: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
I want this Government to be criticised. Criticism makes democracy strong: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
My problem is not against criticism. To criticise, one has to research and find proper facts. Sadly, it does not happen now. What happens instead is allegations: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
इतिहास में नाम अंकित करना मेरा लक्ष्य नहीं, मैं उसी तरह जैसे मेरे सवा सौ करोड़ देशवासी: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
I was not born with an aim to be in history books.
— PMO India (@PMOIndia) April 18, 2018
I request you all- remember our country and not Modi. I am just like you all, a common citizen of India: PM @narendramodi