পিএমইন্ডিয়া
নমস্কার, শুভ নববর্ষ, ভাতৃ দ্বিতীয়ার অনেক অনেক শুভেচ্ছা,
শুভ সন্ধ্যা ওয়েম্বলি। আজ একটি ঐতিহাসিক দিন, দুটি মহান জাতির হৃৎস্পন্দন, দুটি জীবন্ত গণতন্ত্রের দুই মহান জাতির সম্পর্কের মিলন মুহূর্ত। ভারতের বন্ধুদের সঙ্গে বিশেষ করে, মহামান্য প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন-এর উপস্থিতিতে এই সুন্দর স্টেডিয়ামে আমরা সেই মিলন মুহূর্তকে উদযাপন করছি। আমাকে বলা হয়েছিল যে, লন্ডন খুব শীতল হবে। শীত হয়তো আছে কিন্তু আপনাদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি আপ্লুত। মনে হচ্ছে ভারতেই আছি। প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন আমাকে উদ্দেশ্য করে এবং ভারত সম্পর্কে যে কথাগুলি বললেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
প্রায় ১২ বছর পর আমি আপনাদের কাছে এসেছি। ১২ বছরে অনেক কিছু বদলে গেছে। তখন আমি মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। আর এখন দেশের মানুষ আমাকে নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন, আর আমি সেই দায়িত্ব পালনের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আমার প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, যে স্বপ্ন আপনারা দেখেছেন, যে স্বপ্ন প্রত্যেক ভারতবাসী দেখেছেন, সে স্বপ্ন সাকার করার সামর্থ্য ভারতের রয়েছে, তা আমি খুব ভালোভাবে অনুভব করতে পারছি।
আমার বিগত ১৮ মাসের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ভারতের আর গরিব থাকার কোনও কারণ নেই। আমরা অকারণে দারিদ্র্যকে লালন-পালন করছি। ভারতের সামর্থ্য রয়েছে ১২৫ কোটি মানুষের ২৫০ কোটি হাত, আর যে দেশের ৬৫ শতাংশ জনসংখ্যার বয়স ৩৫ বছরের কম, অর্থাৎ প্রায় ৮০ কোটি মানুষ নবীন প্রজন্মের। সেই দেশ কেমন করে পিছিয়ে থাকবে। সেদেশের উন্নয়ন যাত্রাকে আর আটকে রাখা যাবে না।
দু’দিন হল এদেশে এসেছি, যুক্তরাজ্যের সরকার, প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন যে উষ্ণতা নিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন, সংবর্ধিত করেছেন সেজন্য আমি অন্তর থেকে তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাই। কিন্তু, তিনি এই সম্মান কোনও ব্যক্তিবিশেষকে করেননি। এই সম্মান ১২৫ কোটি ভারতবাসীর সম্মান। ভারতের মহান গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের সঙ্গে আগেও অনেকবার দেখা হয়েছে, তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার সুযোগ হয়েছে। একটি জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি, তাঁর সঙ্গে যখনই দেখা হয়েছে তিনি ব্রিটেনে বসবাসকারী ভারতীয়দের খুব প্রশংসা করেছেন, এতো প্রশংসা করেছেন যে বোঝা যায় তিনি ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত মেলামেশা করেন, তাঁদের প্রতি সংবেদনশীল। এই ভালোবাসার জন্য তাঁকে আমি অভিনন্দন জানাই। আজ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি স্থাপিত হয়েছে। প্রত্যেক ভারতীয় এজন্য গর্ববোধ করবেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন যিনি তাঁর মূর্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রত্যেক ভারতীয়র মনে গর্ব হবে। এই লন্ডনের মাটি থেকে যে মহাপুরুষরা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে শক্তি জুগিয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শ্যামজী কৃষ্ণ বর্মা, ব্যারিস্টার ছিলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন করেছিলেন বলে তাঁকে এখানকার বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বহিষ্কৃত করা হয়েছিল। ১৯৩০ সালে তিনি মারা যান। আজ প্রায় ১০০ বছর পর, এদেশের প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ঘড়ির কাঁটাকে উল্টে দিয়েছেন, সেজন্য তাঁকে ধন্যবাদ। গতকালই তিনি আমাকে শ্যামজী কৃষ্ণ বর্মার বার সদস্যপদ ফিরিয়ে দেবার কাগজ আমার হাতে তুলে দিয়েছেন।
গতবার যখন এখানে এসেছিলাম ২০০৩ সালে, আমি এখান থেকে জেনেভায় গিয়েছিলাম, পণ্ডিত শ্যামজী বর্মার অস্থি নেবার জন্য। লন্ডনে থেকেও তিনি বীর সাভারকারের মতো মহাপুরুষদের মদনলাল ঢিংরার মতো তেজস্বী বিপ্লবীদের উৎসাহ দিতেন, মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল, তাঁর অস্থি যেন স্বাধীন ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, ১৯৩০ সালের পর ২০০৩ পর্যন্ত কেউ-ই আমাদের দেশ থেকে তাঁর অস্থি নিতে আসেননি। ভারতমাতার এই সুসন্তানের অস্থি নিয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। আমি সেই অস্থি তাঁর জন্মস্থান গুজরাটের কচ্ছ মান্ডওয়ি’তে নিয়ে গিয়ে একটি সুদৃশ্য স্মৃতিসৌধ স্থাপন করেছি। আজ তাঁর বার সদস্যপদ ফেরৎ পেয়েছি, এই স্বীকৃতিপত্রও আমি নিয়ে গিয়ে গুজরাট সরকারের হাতে তুলে দেব, যাতে এটিও সেই স্মৃতিসৌধের সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত হয়। সেজন্য বলছিলাম, প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ঘড়ির কাঁটাকে উল্টে দিয়েছেন, সেজন্য তাঁকে ধন্যবাদ।
ভারত যে গতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, বিশ্বের কাছে তা আশ্চর্যের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী হবার পর, বিশ্বের অনেক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ-এর সৌভাগ্য আমার হয়েছে। একটি কথা প্রত্যেকেই জিজ্ঞেস করেন, কারণ, প্রত্যেক দেশই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত, তাঁরা জিজ্ঞেস করেন, মোদীজী আমাদের দেশ এত ছোট সেখানে এত সমস্যা, অমুক সম্প্রদায় এরকম করছে তো তমুক সম্প্রদায় অন্যরকম। সবার মন রাখতে হিমসিম খেতে হয়, আপনার দেশে ১২৫ কোটি মানুষ কিভাবে এই রকম মিলেমিশে থাকে, এত বৈচিত্র্যের মধ্যে এই শান্তির আবহ কিভাবে বজায় রাখেন? তাঁরা অবাক, যে দেশে ১০০টি ভাষা, দেড় হাজারটি উপ-ভাষা, হাজার প্রকারের খাদ্যাভাস আর দক্ষিণ থেকে উত্তরে কয়েকশো বেশভূষা; কত বিবিধের মাঝে আমাদের দেশ মিলন মহান, এটাই আমাদের বৈশিষ্ট্য, এই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই আমাদের আসল শক্তি।
আপনারা দেখুন, আমাদের পাঞ্জাবের শিখ ভাইরা দেশের জন্য কত ত্যাগ ও আত্মবলি দিয়েছেন। দেশের স্বার্থে নিজের মস্তক উৎসর্গ করতেও তাঁরা দ্বিধা করেননি। দেশ রক্ষার জন্য তাঁরা যেমন রক্ত দিয়েছেন, তেমনই স্বাধীন ভারতের জনগণের উদরপূর্তির জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সবুজ বিপ্লব নিয়ে এসেছেন। গতকাল যখন এখানে এসেছি, এখানকার শিখ সমাজের বরিষ্ঠ মানুষেরা আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, অনেকক্ষণ আমরা একসঙ্গে বসে সুখ-দুঃখের কথা বলেছি। আমি তাঁদের সমস্যাগুলি বুঝতে পারি। আপনারা যা চান, সেসব কিছু বাস্তবায়িত করার জন্যই আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামীদিনে আপনারা তার সুফল পাবেন।
ভারতের মাটি, জনগণ, কবীর আর রহিমের থেকে প্রেরণা পায়। সুফী পরম্পরা …. আজ গোটা বিশ্বে যে সন্ত্রাসবাদের বিভীষিকা মানব জাতিকে সঙ্কটগ্রস্ত করে তুলেছে, আমার মনে হয়, ইসলাম ধর্মে সুফী পরম্পরা প্রভাবশালী হলে আমাদের এই রকম দিন দেখতে হত না। যাঁরা সুফী পরম্পরায় বিশ্বাস রাখেন, তাঁরা কখনো হাতে বন্দুক তুলে নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন না। বিশ্বের প্রায় সকল প্রধান সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতের মাটিতে বসবাস করেন। আমাদের দেশের প্রকৃতিতে ঋতুর সংখ্যা যেমন বেশি, বৈচিত্র্যও তেমন বেশি। গাছপালা লতা-গুল্মের বৈচিত্র্য থেকে শুরু করে ঈশ্বর সৃষ্ট প্রায় সকল প্রাণীর সমস্ত প্রজাতি ভারতে রয়েছে। এই বিবিধতাই আমাদের বৈশিষ্ট্য। আপনারা যাঁরা এখানে রয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই ভারতের রাষ্ট্রদূত। ভারতীয়রা বিশ্বের যেখানেই গেছেন, সেখানে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকার সংস্কার সঙ্গে নিয়ে গেছেন। জন্ম থেকেই ভারতের প্রতিটি সন্তান বৈচিত্র্যের মাঝে বেঁচে থাকার জীবনশৈলী রপ্ত করে নেন। নিজের ঐতিহ্যকে সযত্নে রক্ষা করেও পরিবেশের সঙ্গে মিশে যাবার এই গুণই ভারতীয়দের সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয় করে তোলে। প্রতিবেশি কাউকে কোনওভাবে আঘাত না করে নিজের অগ্রগতি কিভাবে সম্পন্ন করা যায়, নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়া যায়, তা ইতিমধ্যেই আপনারা বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করে দিয়েছেন, এটাই ভারতের আসল পরিচয়, আসল শক্তি। সারা বিশ্ব আজ একটি প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এখন যে কোনও বিদেশির সঙ্গে দেখা হলে তাঁরা আপনাদের একটি ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেন, সেই গরিমা, সেই গৌরব আপনারাও হয়তো অনুভব করেন। সবাই এখন আগের থেকে অনেক বেশি উষ্ণতা নিয়ে আপনাদের সঙ্গে করমর্দন করেন, এই পরিবর্তনই আমাদের সাফল্যের নিদর্শন।
বিশ্ব আজ ভারত’কে একটি শক্তি রূপে, একটি সম্ভাবনাপূর্ণ দেশ হিসেবে দেখছে। আমরা চেষ্টা করছি সকলের সমকক্ষ হয়ে ওঠার। আমরা কারও দয়া-দাক্ষিণ্য চাই না। আমি বিগত ১৮ মাসের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ভারত এখন ‘উইন-উইন ফরমুলায়’ সকলের সঙ্গে সমকক্ষের মতো যুক্ত হতে চায়, পায়ে পা মিলিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। এই দৃষ্টিভঙ্গীকে আমি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সংকেত হিসেবে দেখি।
বিশ্ব আজ যে সমস্যাগুলির সম্মুখীন তার মধ্যে দুটি সমস্যা মারাত্মক। প্রথমটি – সন্ত্রাসবাদ, আর দ্বিতীয়টি – বিশ্ব উষ্ণায়ন। মানবজাতিকে এই দুই বিপত্তির হাত থেকে রক্ষার দায়িত্ব সকল দেশের। বিশ্বে যাঁরা মানবতায় বিশ্বাস করেন, তাঁদের সকলকে ভারত রাস্তা দেখাতে পারে। মহাত্মা গান্ধীর জীবন, তাঁর উপদেশ, তাঁর অহিংসার মন্ত্রে যে শক্তি রয়েছে, আজকের পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীর উচিত মহাত্মা গান্ধীর মত ও পথকে ভালো করে বোঝা। মহাত্মা গান্ধীর দর্শনই বিশ্বকে একাধারে সন্ত্রাসবাদ ও বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে মুক্তির পথ দেখাতে পারে।
ভারত আজ যে গতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, আমি বিশ্বাস করি, আপনারা দ্রুত সুফল দেখতে পাবেন। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও আজ দেশের ১৮ হাজার গ্রামে একটি বিদ্যুৎ-এর খুঁটি বসেনি। আপনারা বলুন, এই কাজটিকে আমার অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত কি না? আমি একে অগ্রাধিকার দিয়েছি, আপনারা আশীর্বাদ করুন। রাজ্যগুলিকে বলেছি, আমাদের সাহায্য করুন, আগামী ১ হাজার দিনের মধ্যে ঐ ১৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবার সংকল্প আমি নিয়েছি।
প্রথমবার লালকেল্লার প্রাকার থেকে ভারতের তেরঙ্গা পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে দেশকে সম্বোধিত করার সুযোগ যখন পেয়েছি, আমি কোনও দিন স্বপ্নেও ভাবিনি, এক চা বিক্রেতা দরিদ্র পরিবারের সন্তান আমি। প্রথমবার লালকেল্লার প্রাকার থেকে ভারতের তেরঙ্গা পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে দেশের সামনে ‘স্বচ্ছ ভারত আভিযান’-এর প্রস্তাব রেখেছিলাম। অনেকে অবাক হয়েছিলেন, লালকেল্লার প্রাকার থেকে তো বড় বড় বিষয় নিয়ে কথা বলা উচিত, যা খবরের কাগজে হেডলাইন হবে। কিন্তু, এই মোদী কোথা থেকে এসেছে যে প্রথমবার লালকেল্লার প্রাকার থেকে ভারতের তেরঙ্গা পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে দেশকে সাফাই অভিযানের কথা বলে। অনেকেরই খারাপ লেগেছে, কিন্তু আমার খুব ভালো লেগেছে। দেশ পরিচ্ছন্ন হলে, দেশে ফিরে যদি দেশকে আবর্জনামুক্ত দেখেন, তা হলে কি আপনাদের ভালো লাগবে না! আমি সে কাজ শুরু করে দিয়েছি, সেটাই আমার প্রথম কাজ। সারা দেশে অসংখ্য গণ-শৌচাগার নির্মাণ করেছি, প্রত্যেক গ্রামে গণ-শৌচাগার নির্মাণের জন্য অনেক প্রবাসী বন্ধুরাও অর্থ সাহায্য করেছেন।
আমাদের দেশে কন্যা সন্তানরা তিন বছর, পাঁচ বছর, ছয় বছর, আট বছর, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় কক্ষে পড়তে পড়তেই বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এই স্কুলছুট ছাত্রীদের পড়াশুনা বন্ধ হ ওয়ার কারণ স্কুলে আলাদা শৌচালয় না থাকা। একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের মেয়েরা এই সামান্য কারণে পড়াশুনা ছেড়ে দেবে, এটা অন্যায় নয়? আমরা কাজ শুরু করেছি এবং আপনারা শুনলে খুশি হবেন, ইতিমধ্যেই দেশের সকল বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য আলাদা শৌচালয়ের ব্যবস্থা করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। এই কাজটা তো অনেক আগেই হয়ে যাওয়া উচিত ছিল তাই না!
ভাই ও বোনেরা, আমাদের দেশে ৪০ শতাংশ মানুষের কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল না। এই আধুনিক সময়ে কোনও দেশের এই বিশাল সংখ্যক নাগরিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকা একটি লজ্জার বিষয়। সেজন্য আমরা একটি অভিযান চালিয়েছি। ১০০-১৫০ দিনের মধ্যে ১৯ কোটি নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আমরা দেশকে আধুনিক করতে চাইলে দেশ সেই পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে কতটা উন্মুখ, আমাদের সাফল্য তার প্রমাণ।
ভাই ও বোনেরা, পুরনো সমস্যার সমাধান তো করতেই হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি, দেশকে আধুনিক করে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক পুরনো। যে গতিতে তার আধুনিকীকরণ হওয়া উচিত ছিল তা হয়নি। আমাদের আধুনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চাই। সেজন্য ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের দরজা খুলে দিয়েছি। এই প্রথমবার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ভারতীয় রেল ‘রুপি বন্ড’ চালু করেছে। ‘বন্ড’ শব্দটি ভাবলে আমাদের জেমস বন্ড-এর কথা মনে পড়ে। বিনোদনের দুনিয়ায় জেমস বন্ড যে রকম পরিচিত পানীয়র দুনিয়ায় তেমনই বিশ্বখ্যাত ব্রুক বন্ড চা। জেমস বন্ড-এর মনোরঞ্জন, ব্রুক বন্ড-এর আমেজ, তেমনই উন্নয়নের পথে ভারতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের দরজা খুলে দিতে ভারতীয় রেল চালু করেছে ‘রুপি বন্ড’। ‘এফ ডি আই’ বলতে সবাই বোঝেন ‘ফরেন ডায়রেক্ট ইনভেস্টমেন্ট’, আমি বুঝি, ‘ফাস্ট ডেভেলপ ইন্ডিয়া’। এই দুয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য এনে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ইতিমধ্যেই ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের প্রতি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাগুলি আস্থা বৃদ্ধির এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
আজ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার যুদ্ধ সরঞ্জাম কিনতে হয়। কিন্তু আমরা চাই, ভারতের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে যেসব যুদ্ধ সরঞ্জাম প্রয়োজনীয় সেগুলি ভারতীয় বীররাই প্রস্তুত করুক। তা সে সাবমেরিন হোক কিংবা হেলিকপ্টার, যুদ্ধ বিমান হোক কিংবা ট্যাঙ্ক, এমনকি ছোট খাটো অস্ত্র ভারতেই নির্মিত হওয়া উচিত, সেই দক্ষতা ও প্রযুক্তি আমরা আমদানি করতে পারলে আমাদের দেশের সৈনিকরাই তাঁদের মতো করে অভিনব যুদ্ধ সরঞ্জাম করতে পারবেন। আমি বিশ্ববাসীকে বলতে চাই, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারত যদি আত্মনির্ভর হয়ে ওঠে, অর্থাৎ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ছয় ভাগের এক ভাগের নিরাপত্তা যদি সুনিশ্চিত হয়, তা হলে গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা নতুন শক্তি পাবে। আমরা নিজেদের উন্নতির মাধ্যমে বিশ্বের উপকার সাধনের চেষ্টা করছি।
বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে ভারত দুটি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথমটি হল – বিশ্বের যে দেশগুলিতে অধিক সূর্যালোক থাকে সেই সূর্যপুত্র রাষ্ট্রগুলির একটি সংগঠন গড়ে তোলার পথে আমরা অনেকটা এগিয়েছি। গোটা বিশ্বে ১০২টি এই রকম সূর্যপুত্র দেশ রয়েছে। বিশ্বে এর আগে পেট্রোল উৎপাদনকারী দেশগুলির সংগঠন ছিল জি-৭, জি-২০, আসিয়ান। আমরা প্রথমবার সূর্যপুত্র দেশগুলিকে একত্রিত করে সৌরশক্তি নিয়ে গবেষণা, পুনর্নবীকরণযোগ্য বিকল্প শক্তি বিষয়ক গবেষণায় জোর দিতে চাই। এই গবেষণা যে দেশের বৈজ্ঞানিকরাই সাফল্য পান না কেন, তা গোটা বিশ্বের প্রকৃতিকে রক্ষা করবে। আমি ঐ সূর্যপুত্র দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। এভাবেই ভারত আজ বিকল্প শক্তি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবার পথে পা বাড়িয়েছে। দ্বিতীয়টি হল – ভারতের প্রত্যেক গ্রামে ১২ মাস ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। ২০১৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর জন্ম সার্ধশত বার্ষিকীতে ‘স্বচ্ছ ভারত’ আর বিকল্প শক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে ভারতের প্রত্যেক গ্রামে ১২ মাস ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন আমরা সাকার করবোই। আমারা ১৭৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছি। এই লক্ষ্যমাত্রার কথা শুনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতারা অবাক হয়েছেন। কিন্তু, আমার দেশবাসীদের আশীর্বাদে ভারত একটি সৌরশক্তি-সম্পন্ন রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে গোটা বিশ্বের ছোট ছোট দ্বীপ দেশগুলির মানুষ এখন আতঙ্কিত। উষ্ণায়নের ফলে, হিমবাহ গলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পেলে ঐ দ্বীপদেশগুলির মানুষরা কোথায় যাবেন? কয়েকশো দ্বীপদেশে বসবাসকারী মানুষকে ভয়ের হাত থেকে রক্ষা করার কাজ আমরা করছি।
আজ বিশ্বের যে কোনও রেটিং সংস্থা, বিশ্ব ব্যাঙ্ক কিংবা আই এম এফ স্বীকার করে নিয়েছে যে, ভারত বিশ্বের বড় দেশগুলির মধ্যে সর্বাধিক দ্রুতগতিতে অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশ।
তেমনই আরেক ধরণের রেটিং করে ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল’ তারা দুর্নীতির নিরিখে সকল দেশের একটি তালিকা তৈরি করে। আমরা জানি, এই একটি ক্ষেত্রে আমাদের দেশের কত বদনাম! এই দুর্নীতি নামক ঘূনের হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর প্রতিষেধক খুঁজে বের করা উচিত। সাধারণ মানুষের কষ্টের উপার্জন থেকে দেওয়া কর-এর প্রতিটি টাকার হিসেব থাকা উচিত। এক্ষেত্রে আমরা যে কিছুটা সাফল্য পেয়েছি তার প্রমাণ ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল’-এর এবছরের তালিকায় আমরা ১০ পয়েন্ট এগিয়ে গেছি। এমনকি এবার আমরা চিন থেকেও এগিয়ে গেছি। ভারতে ব্যবসা করা সবচেয়ে কঠিন ছিল। আমরা এই ক্ষেত্রেও যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি তার ফল দ্রুত পাওয়া যাবে।
আমার বলার তাৎপর্য হল ‘স্বচ্ছ ভারত’, ‘দক্ষ ভারত’, ‘ডিজিটাল ভারত’ ইত্যাদি অভিযানের মাধ্যমে আধুনিক ভারত গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।
কিন্তু ভাই ও বোনেরা, আপনারা টিভির পর্দায় যে ভারত’কে দেখেন, আসল ভারত সে রকম নয়। খবরের কাগজের হেডলাইন দেখে ভারত’কে বোঝার চেষ্টা করবেন না। ভারত অনেক বড়। টিভির পর্দার বাইরে ১২৫ কোটি দেশবাসীর ভারত অনেক বড়।
ভাই ও বোনেরা, রাজস্থানের আলোয়ারে ইমরান খান নামে একজন শিক্ষাণুরাগী মানুষ রয়েছেন। তিনি ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে মোবাইল ফোনে ৫০টি অ্যাপস্ বানিয়েছেন। তিনি ছাত্রছাত্রীদের এই অ্যাপস্গুলি বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমার ভারত, ঐ আলোয়ারবাসী ইমরান খান-এর ভারত।
ভাই ও বোনেরা, কিছুদিন আগেও হরিয়ানায় কন্যাসন্তানদের ভিন্ন নজরে দেখা হতো। সেজন্য পুরুষদের অনুপাতে মহিলাদের সংখ্যা ছিল অনেক কম। আমি ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ অভিযান শুরু করলে হরিয়ানার এক গ্রামপ্রধান তাঁর কন্যার সঙ্গে সেলফি নিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাঁর প্রিয়জনদের পাঠিয়ে দেন। দেখতে দেখতে প্রথমে হরিয়ানায়, তারপর গোটা দেশে, এখন এমনকি বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্রনেতারা, শিক্ষা ও অর্থনীতির জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও তাঁদের কন্যার সঙ্গে ছবি তুলে ‘সেলফি উইথ ডটার’ গণ-আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। তেমনই, মা ও মেয়ের গৌরব বৃদ্ধির অভিযানও শুরু হয়েছে।
আমাদের দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ রয়েছেন, যাঁরা আদিবাসী অঞ্চলে এবং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য নিঃস্বার্থ সেবা করে যাচ্ছেন, উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তাঁদের তপস্যার সামর্থ্য নিয়েই আমরা ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
আজ লন্ডনে আমার প্রবাসী ভাই ও বোনেরা রয়েছেন। তাঁদের ও সি আই সংক্রান্ত কিছু সমস্যার কথা আমি শুনেছি। সেই প্রক্রিয়াকে সরল করার প্রতিশ্রুতি আমি দিচ্ছি। আমরা ও সি আই এবং পি আই ও’কে একত্রিত করে দিয়েছিলাম। কিন্তু এতে অনেকের আপত্তি রয়েছে। সেজন্য আমি উভয় প্রক্রিয়াকেই সরল করে গড়ে তোলার আদেশ দিয়েছি। ততদিন আপনারা যাতে কোনও সমস্যার সম্মুখীন না হন, তার ব্যবস্থা করেছি। ভিসার সমস্যা দূর করার জন্য ‘ইলেক্ট্রনিক ট্র্যাভেল অথারাইজেশন’ চালু করেছি। ‘মদদ’ নামক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছি, যেখানে গিয়ে আপানারা ভিসা, ও সি আই, পি আই ও সংক্রান্ত সকল সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে পাবেন। একটি ‘ই-মাইগ্রেশন পোর্টাল’ চালু করা হয়েছে। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাবার জন্য ব্যক্তির যে প্রাথমিক তথ্যের প্রয়োজন হয়, তা এই পোর্টালে রয়েছে।
আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের জীবনে যে কোনও অপ্রত্যাশিত সংকটে তাঁদেরকে সাহায্য করার জন্য একটি ‘ইন্ডিয়ান কম্যুনিটি ওয়েলফেয়ার ফান্ড’ চালু করেছি। আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সি বি প্যাটেল এখান থেকে গিয়ে আমাকে নানা পরামর্শ দিতেন। তখন তেমন কিছুই করতে পারিনি, কিন্তু ২০০৩ সালে এখান থেকে ফিরে লন্ডন থেকে আমেদাবাদ সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করতে পেরেছিলাম। তখন অটলজী ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তারপর কী হয়েছে তা আপনারা জানেন, কেন হয়েছে তা আমি বলতে চাই না। এখন প্রধানমন্ত্রী হবার পর আমি তাঁর পরামর্শগুলি মনে রেখেছি। ভাই ও বোনেরা, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে আবার লন্ডন আমেদাবাদ সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হবে।
আপনারা প্রত্যেকে হাতঘড়ি খুলুন, কটা বাজে? …… পৌনে সাতটা! এবার ঘড়িটাকে উল্টো করুন, এখন যে সময়টা দেখতে পাচ্ছেন, সেটা ভারতের সময়। আপনারা কি কখনও এই জিনিষটা ভেবে দেখেছেন? ভারত ও ইংল্যান্ডের সম্পর্ক এমনই বিশেষ যে, যতদিন চন্দ্র-সূর্য থাকবে, যতদিন সভ্যতা সময়ের ধারণা পোষণ করবে, ততদিন ভারত ও ইংল্যান্ডের সম্পর্ক থাকবে। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দু’দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
ভাই ও বোনেরা, আপনারা আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন। ১২ বছর পর এসেছি। আপনাদের এই উৎসাহ, আপনাদের মনের ইচ্ছা ও স্বপ্নের প্রতীক। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, আপনাদের মাধ্যমে গোটা বিশ্বে বসবাসকারী ভারতীয়দের আশ্বস্ত করছি, আপনাদের পাসপোর্টের রং যাই হোক না কেন, ভারতের ওপর নরেন্দ্র মোদীর যতটা অধিকার, আপনাদেরো ততটাই অধিকার। ভারতমাতা আমাদের সকলের। তাই আমরা পরস্পরের জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকার, আমাদের মিলিত শক্তি ও সামর্থ্যকে দেশের কাজে লাগানোর কথা আমরা ভাববো।
দেশ আপনাদের প্রতীক্ষায় রয়েছে।
আপনারা পাশে থাকলে, ভারতের দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তির উন্নয়নে আমাদের পাশে দাঁড়ালে এই দেশ আপনাদের স্বপ্নের বটবৃক্ষ হয়ে উঠতে পারে। সেই বটবৃক্ষ আপনাদের স্বপ্নকে সাকার করতে একটি উর্বরা পৃথিবী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। আপনারা এগিয়ে আসুন।
আমার সঙ্গে বলুন, ভারতমাতা কি জয়! ভারতমাতা কি জয়! ভারতমাতা কি জয়!
ধন্যবাদ।
PG/SB/SB
Reached @wembleystadium for the community programme. https://t.co/jzzDvIdM9R
— Narendra Modi (@narendramodi) November 13, 2015
My message to the diaspora- India awaits you! Amazing positivity at @wembleystadium. Gratitude to all. pic.twitter.com/YD7ctLqbh4
— Narendra Modi (@narendramodi) November 13, 2015
A special thanks to PM @David_Cameron. And I fully agree with him, Team India & Team UK are a winning combination. https://t.co/D6pJXnng3p
— Narendra Modi (@narendramodi) November 13, 2015
Mrs. Cameron and PM @David_Cameron welcome PM @narendramodi to @wembleystadium for the community programme. pic.twitter.com/ZRRiGcoBSc
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
PM @narendramodi meeting Mrs. & Mr. Cameron & @ZacGoldsmith the @Conservatives candidate for Mayor of London. pic.twitter.com/JkqGBI5ikx
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
Namaste Wembley, says @PM @David_Cameron as he begins his speech. https://t.co/Iy8hu3Nre5 @wembleystadium @Number10gov
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
Watch PM @David_Cameron speak at @wembleystadium. https://t.co/U9AXPTrIRj
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
India-UK ties are about people and about prosperity: PM @David_Cameron at the @wembleystadium https://t.co/U9AXPTrIRj
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
PM Modi & I govern in challenging times but we are united by the scale of our ambition: PM @David_Cameron https://t.co/U9AXPTrIRj
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
When it comes to UN we know what needs to happen- India with a permanent seat at the UN Security Council: PM @David_Cameron
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
Team India and Team UK, together we are a winning combination: PM @David_Cameron
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
They said a Chaiwallah can't govern the largest democracy & he proved them wrong: PM @David_Cameron on PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
This is a historic day for a great partnership: PM @narendramodi begins his speech https://t.co/U9AXPTrIRj
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
Grateful to PM @David_Cameron for his kind words: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
India has no reason to remain poor. I can say that after my experience during the last 18 months: PM @narendramodi https://t.co/U9AXPTrIRj
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
Such a youthful nation like India cannot lag behind in development: PM @narendramodi https://t.co/U9AXPTrIRj
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
Whenever I meet PM @David_Cameron, I find that he is very proud of the Indian community in UK: PM @narendramodi https://t.co/U9AXPTrIRj
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
I want to thank PM @David_Cameron and acknowledge the affection he has towards India: PM @narendramodi https://t.co/U9AXPTrIRj
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
India is full of diversity. This diversity is our pride and it is our strength: PM @narendramodi https://t.co/U9AXPTrIRj
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
I met the Sikh community. We shared our thoughts on various subjects. I understand their pain on some issues as well: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
World is seeing India as a land of many opportunities: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
The pace and direction of progress in India is such that the fruits of development will be seen very soon: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
Two dreams that we are working towards- a clean India and India with 24/7 electricity: PM @narendramodi https://t.co/U9AXPTrIRj
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
There is a place Alwar in Rajasthan. There, someone called Imran made 50 Apps for mobile & that too focussed on education: PM
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
The state of Haryana, known for adverse gender ratio, from there a Sarpanch started a campaign #SelfieWithDaughter: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
There are lakhs of people working among the tribal communities and helping them in fields of education, health: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015
From 15th December, there will be direct flights between London and Ahmedabad: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 13, 2015