Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

লন্ডনে বিশ্বের নানা দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘ভারত কি বাত সব কে সাথ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

লন্ডনে বিশ্বের নানা দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘ভারত কি বাত সব কে সাথ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

লন্ডনে বিশ্বের নানা দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘ভারত কি বাত সব কে সাথ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

লন্ডনে বিশ্বের নানা দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘ভারত কি বাত সব কে সাথ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য


যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘ভারত কি বাত সব কে সাথ’ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্ন মনযোগ দিয়ে শোনেন এবং তার উত্তরও দেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে কিছু কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হল।

রেল স্টেশনে যে মানুষটিকে দেখা গিয়েছিল তিনি ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। আর লন্ডনের রাজপ্রাসাদে যিনি আজ উপস্হিত রয়েছেন তিনি ১২৫ কোটি ভারতবাসীর সেবক।

রেল স্টেশনের সেই জীবন থেকে আমি অনেক কিছুই শিক্ষালাভ করেছি। তা ছিল আমার এক ব্যক্তিগত সংগ্রামের অধ্যায়। আপনারা যখন রাজপ্রাসাদের কথা বলবেন তখন কিন্তু আমার সম্পর্কে কিছু বলবেন না, বলবেন ১২৫ কোটি ভারতবাসী সম্পর্কে।

মানুষের উচ্চাশা বা উচ্চাকাঙ্খা কিন্তু কোন দিক দিয়েই মন্দ কিছু নয়। কোনও ব্যক্তির যদি একটি সাইকেল থাকে তাহলে খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁর একটি স্কুটার কেনার বাসনা হতে পারে। আবারযদি কোনও ব্যক্তির একটি স্কুটার থাকে তাহলে তার একটি মোটরগাড়ি কেনার ইচ্ছা হতেই পারে। কারণ উচ্চাশা বা আশা-আকাঙ্খা মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। একটি দেশ হিসাবে ভারতও এইভাবে উত্তরোত্তর উচ্চাকাঙ্খী হয়ে উঠছে।

রেল স্টেশন আমার জীবনে সোনালী পৃষ্ঠা যা আমাকে বাঁচতে এবং লড়াই করে বাঁচতে শিখিয়েছে।

যে মূহুর্তে আমাদের মনে আত্মসন্তুষ্টি জন্ম নেয়, জীবন আর সামনে এগোয় না। যুগে যুগে বাঁচার লড়াই জীবনের প্রত্যেক পর্যায়ে কিছু না কিছু নতুন প্রাপ্তির উৎসাহ যোগায়।

ইতিহাসের বইতে স্হান পাওয়ার জন্য কিন্তু আমি জন্মগ্রহণ করি নি। তাই আমি আপনাদের সকলের কাছে অনুরোধ জানাই যে আমাদের দেশকে আপনারা মনে রাখুন, মোদীকে নয়। কারণ আমি আর সকলের মতোই ভারতের এক সাধারণ নাগরিক মাত্র।

আমরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি বলেই মানুষের মনে আমাদের প্রতি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অধৈর্য্য আমার জন্য প্রাণশক্তি। আর আপনারা যখন ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’ সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যান তখন নিরাশার প্রশ্নই ওঠে না।

স্বাধীনতার আন্দোলনকালে মহাত্মা গান্ধী এমন কিছু করেছিলেন যা ছিল সবদিক থেকেই স্বতন্ত্র। স্বাধীনতা সংগ্রামকে তিনি একটি জন-আন্দোলেনর রূপ দিয়েছিলেন। প্রত্যেক ব্যক্তিকে তিনি এ কথাই বলেছিলেন যে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীন আপনারা যে যতটুকুই করবেন সেই অবদানে উত্তরণ ঘটবে ভারতীয় স্বাধীনতার।

আজকের দিনে যা সবথেকে বেশি প্রয়োজন তা হল উন্নয়নকে একটি জন-আন্দোলনে রূপান্তরিত করা।

সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে তা সু-প্রশাসনকেই সম্ভব করে তোলে।

আগের সরকার ও আমাদের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে কারণ যখন স্পষ্ট নীতি, স্বচ্ছ চিন্তাভাবনা এবং সৎ-উদ্দেশ্য থাকে তখন একই ব্যবস্হাকে সঙ্গে নিয়েও আপনারা ইপ্সিত পরিণাম পেতে পারেন।

ভারতের ইতিহাসের দিকে একবার ফিরে তাকান। অন্য দেশের ভূখন্ড নিজের বলে ভারত কখনই দাবি করে না। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল আমাদের সৈন্যরা। তা ছিল এক বড় ধরণের জীবনোৎসর্গের সময়। রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে আমাদের ভূমিকার কথাই এর বড় প্রমাণ।

আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু যারা সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে চায় তাদের আমরা কোনভাবেই বরদাস্ত করব না। প্রয়োজনে আমাদের প্রত্যুত্তর এতটাই কঠোর হবে যা তারা বেশ ভালোভেবেই বুঝতে পারবে। সন্ত্রাসকে কখনই মদত দেওয়ার বিষয়টিতে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।

সন্ত্রাস যারা ছড়িয়ে দিতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই যে, ভারত কিন্তু এখন অনেকটাই বদলে গেছে। তাই তাদের ঐ সমস্ত কৌশল এখন আর কোনভাবেই কাজে লাগবে না।

দারিদ্র কি তা উপলব্ধি করার জন্য আমার এখন আর কোনও বই পড়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ আমি জন্মগ্রহণ করেছি এক দরিদ্র পরিবারে। তাই দারিদ্র কি এবং সমাজের অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষ হওয়ার জ্বালা কতখানি তা আমি বেশ ভালোভাবেই জানি। এই কারণেই দরিদ্র, প্রান্তিক এবং পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য আমি কাজ করে যেতে আগ্রহী।

দেশের ১৮ হাজার গ্রামে কোনও বিদ্যুৎ ছিল না, শৌচাগারের সুযোগ-সুবিধা ছিল না দেশের অসংখ্য মহিলার জীবনে! এই কঠোর বাস্তবের কথা চিন্তা করে বিনিদ্র রাত কাটিয়েছি আমি। তাই দেশের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সংকল্প আমি গ্রহণ করেছি।

আমি আর পাঁচজন সাধারণ নাগরিকের মতোই। একজন সাধারণ স্বাভাবিক মানুষের যেমন ভুলভ্রান্তি, ত্রুটি বিচ্যুতি থাকে আমার মধ্যেও তা রয়েছে।

গণতন্ত্র কোনও চুক্তিপত্র নয়। এটি অংশীদারিত্বের কাজ। সাধারণ মানুষের অনেক শক্তি থাকে আর তাদের ওপর যতো বেশি আস্হা রাখবেন পরিণামও তত ভালো আসবে।

আমার মূলধন হলো- কঠোর পরিশ্রম, প্রমাণ সাপেক্ষ কাজ আর ১২৫ কোটি মানুষের ভালোবাসা। আমি ভারতবাসীর মনে আস্হা সৃষ্টি করেছি যে আমি ভুল করতে পারি, কিন্তু বাজে উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও কাজ করবো না।

আমাদের সমস্যা হয়তো রয়েছে লক্ষ লক্ষ। কিন্তু তা সমাধান করার জন্য রয়েছেন দেশের কোটি কোটি মানুষ।

ভগবান বাসবেশ্বর গণতন্ত্রের স্বার্থে সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন। আর সমাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্বার্থে অভুতপূর্ব কাজ করেছেন।

লন্ডনে অন্যান্য কাজের মধ্যে আর একটি কাজ আমি করেছি, তা হল ভগবান বাসবেশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।

গণতন্ত্র, সামাজিক চেতনা এবং নারী ক্ষমতায়ণের জন্য স্বার্থে ভগবান বাসবেশ্বর সকলের জন্য প্রেরণার উৎস।

আমরা এমন একটি বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলতে চাই, যা সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে।

আজ আমরা কৃষক কল্যাণের জন্য কাজ করছি, তা সে ২০২২ সালের মধ্যে কৃষি থেকে আয় দ্বিগুন বৃদ্ধি করা হোক, কিংবা নিম কোটিং-এর মাধ্যমে ইউরিয়ার যোগান সুনিশ্চিত করা হোক- আমরা একটি নিশ্চিত লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

যে কোনও মাপকাঠি অনুসারে আমরা দেশের জন্য ভালো কাজ করার ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি রাখিনি।

আজ আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বসবাস করছি। আর নিজেদের প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে পারি না।

ভারতের ১২৫ কোটি মানুষকে আমি আমার একান্তই স্বজন বলে মনে করি।

ভারত চোখ নামিয়ে নয়, চোখ রাঙিয়ে নয়, সকলের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলায় বিশ্বাস করে।

এর আগে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইজরায়েল সফর করেননি। কিন্তু আমি যেমন ইজরায়েল সফরে যাব তেমনি আবার প্যালেস্টাইনেও সফর করব। একদিকে আমি যেমন ভারতের জ্বালানী চাহিদার প্রয়োজনে সৌদি আরবের সঙ্গে সহযোগিতার প্রসার ঘটাবো, অন্যদিকে তেমনই সহযোগিতা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব ইরানের সঙ্গেও।

ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখে যাওয়া আমার লক্ষ্য নয়, আমার দেশের ১২৫ কোটি মানুষের মতোই আমি একজন সাধারণ মানুষ।

গঠনমূলক সমালোচনা ছাড়া কোনও গণতন্ত্রই সফল হতে পারে না।

আমি চাই যে আমাদের সরকার প্রয়োজনে সমালোচিত হোক, কারণ আমি মনে করি যে সমালোচনাই গণতন্ত্রকে আরও বলিষ্ঠ করে তোলে।

সমালোচনা হলেও তাতে আমার কোনও আপত্তি বা সমস্যা নেই। তবে সমালোচনার জন্য অবশ্যই সবকিছু খুঁটিয়ে দেখে আসল তথ্য বের করা প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখের বিষয় তা কিন্তু বর্তমানে ঘটছে না। বরং যা ঘটছে তা হল শুধু অভিযোগ।

ইতিহাসের বই-এ স্হান পাওয়ার জন্য আমি জন্মগ্রহণ করিনি। তাই আমি আপনাদের সকলের কাছে আবেদন জানাবো যে আমাদের দেশকে আপনারা মনে রাখুন, মোদীকে নয়। আমি আপনাদের আর সকলের মতই ভারতের একজন সাধারণ নাগরিক মাত্র।

CG/SKD/SB/NS/…