পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর, ২০২৪
লাও প্রজাতন্ত্রের ভিয়েনতিয়েনে ১০ অক্টোবর, ২০২৪ – এ ২১তম আসিয়ান – ভারত শিখর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে আসিয়ান গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীও যোগদান করেন। ভারতের পুবে তাকাও নীতির এক দশক পূর্তি উপলক্ষে আসিয়ান – ভারত সর্বাঙ্গীন কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যালোচনা করেন তাঁরা। এছাড়াও, ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখাও তৈরি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এই নিয়ে এগারো বার শিখর সম্মেলনে অংশগ্রহণ করলেন।
২. তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আসিয়ান গোষ্ঠীর ঐক্য, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে আসিয়ানকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ভারত – প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আসিয়ান গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গীকে ভারত সমর্থন জানায় বলে উল্লেখ করেন। একবিংশ শতাব্দীকে এশিয়ার শতাব্দী বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারত – আসিয়ান জোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের পুবে তাকাও নীতির প্রাণবন্ত দিকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে ভারত ও আসিয়ান গোষ্ঠীর দেশগুলির মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এখন এই পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে; আজ ভারতের বৃহত্তম ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অংশীদার হয়ে উঠেছে আসিয়ান; আসিয়ান গোষ্ঠীর ৭টি রাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে; এই অঞ্চলে আর্থিক প্রযুক্তি বা ফিনটেক সংক্রান্ত সহযোগিতার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে; আসিয়ান গোষ্ঠীর ৫টি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আসিয়ান – ভারত মুক্তি বাণিজ্য চুক্তি (এআইটিআইজিএ)-র নির্দিষ্ট সময়ে পর্যালোচনার কাজটি শেষ করার উপর প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দেন। এর ফলে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার দিকে অগ্রসর হওয়া যাবে। আসিয়ান – ভারত জোটের সকলেই এর সুফল পাবে। প্রধানমন্ত্রী নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্রগুলির যুবসম্প্রদায়ের জন্য বৃত্তির মাধ্যমে ভারত – আসিয়ান প্রজ্ঞা সংক্রান্ত অংশীদারিত্বে অগ্রগতির বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
৩. এই সম্মেলনের মূল ভাবনা যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধি। এই ভাবনার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে প্রধানমন্ত্রী ১০ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এগুলি হ’ল –
ক) ২০২৫ সালকে আসিয়ান – ভারত পর্যটন বর্ষ হিসেবে উদযাপন করা হবে। এই উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে বিভিন্ন যৌথ কর্মসূচীতে ভারত ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার ব্যয় করবে।
খ) পুবে তাকাও নীতির এক দশক পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন জনমুখী কর্মসূচী পালন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে – যুব শীর্ষ সম্মেলন, স্টার্টআপ উৎসব, হ্যাকাথন, সঙ্গীত সম্মেলন, আসিয়ান – ভারত জোটের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় এবং দিল্লি আলোচনা।
গ) আসিয়ান – ভারত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত উন্নয়ন তহবিলের আওতায় আসিয়ান – ভারত জোটের মহিলা বিজ্ঞানীদের সম্মেলনের আয়োজন।
ঘ) নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বৃত্তির সংখ্যা দ্বিগুণ করা। ভারতের বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন নতুন বৃত্তির ব্যবস্থা করা।
ঙ) ২০২৫ সালের মধ্যে আসিয়ান – ভারত পণ্য সংক্রান্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের চুক্তির পর্যালোচনা।
চ) বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে। এক্ষেত্রে ভারত ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলারের সংস্থান করবে।
ছ) স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের নিয়ে একটি নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলা হবে।
জ) ডিজিটাল ও সাইবার জগতের বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলার জন্য একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আসিয়ান – ভারত সাইবার নীতি আলোচনার জন্য একটি নিয়মিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে।
ঝ) পরিবেশ-বান্ধব হাইড্রোজেন জ্বালানী সংক্রান্ত কর্মশালা এবং
ঞ) জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য ‘মায়ের নামে একটি বৃক্ষ রোপণ’ কর্মসূচিতে আসিয়ান গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দকে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৪) বৈঠকে নেতৃবৃন্দ ২০২৬-২০২৩ এর মধ্যে একটি নতুন আসিয়ান – ভারত কর্মপরিকল্পনা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছেন। এর ফলে, আসিয়ান – ভারত অংশীদারিত্বের সম্পূর্ণ সম্ভাবনাকে কার্যকর করে তুলতে উভয় পক্ষই একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে পারবে। এই লক্ষ্যে দুটি যৌথ বিবৃতি গৃহীত হয়েছে।
ক) ভারতের পুবে তাকাও নীতির সহায়তায় ভারত – প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আসিয়ান গোষ্ঠীর অবস্থানের প্রেক্ষিতে শান্তি, স্থিতাবস্থা ও সমৃদ্ধির জন্য আসিয়ান – ভারত সর্বাঙ্গীন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করে তুলতে যৌথ বিবৃতি: নেতৃবৃন্দ ভারত ও আসিয়ান গোষ্ঠীর মধ্যে অংশীদারিত্বকে আরও প্রসারিত করার ক্ষেত্রে ভারতের পুবে তাকাও নীতির অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ সংক্রান্ত যৌথ বিবৃতিটি পড়তে হলে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন – https://www.mea.gov.in/bilateral-documents.htm?dtl/38396/Joint_Statement_on_Strengthening_ASEANIndia_Comprehensive_Strategic_Partnership_for_Peace_Stability_and_Prosperity_in_the_Region_in_the_context_of_the
খ) ডিজিটাল জনপরিকাঠামোর জন্য ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানিয়ে এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে ভারতীয় নেতৃবৃন্দের উদ্যোগের প্রশংসা করে নেতৃবৃন্দের আসিয়ান – ভারত যৌথ বিবৃতি। এই যৌথ বিবৃতিটি পড়তে হলে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন – https://www.mea.gov.in/bilateral-documents.htm?dtl/38397/ASEANIndia_Joint_Statement_on_Advancing_Digital_Transformation
৫. ২১তম আসিয়ান – ভারত শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, লাও প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি তাঁর উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার প্রশংসা করেন। গত তিন বছর ধরে ভারতের সমন্বায়ক হিসেবে সিঙ্গাপুর যে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ভারতের নতুন সমন্বায়ক হিসেবে ফিলিপিন্সের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
PG/CB/SB…
Sharing my remarks at the India-ASEAN Summit.https://t.co/3HbLV8J7FE
— Narendra Modi (@narendramodi) October 10, 2024
The India-ASEAN Summit was a productive one. We discussed how to further strengthen the Comprehensive Strategic Partnership between India and ASEAN. We look forward to deepening trade ties, cultural linkages and cooperation in technology, connectivity and other such sectors. pic.twitter.com/qSzFnu1Myk
— Narendra Modi (@narendramodi) October 10, 2024
Proposed ten suggestions which will further deepen India’s friendship with ASEAN. pic.twitter.com/atAOAq6vrq
— Narendra Modi (@narendramodi) October 10, 2024